03/02/2017
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর পরিশ্রমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপ!!
মাত্র ৫ বছর আগেও নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা জাহাজ্জ্যার চর ছিল দুর্ধর্ষ সব জলদস্যুদের সশস্ত্র আস্তানা। বিভিন্ন নৌ-যান ও আশেপাশে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে সন্ত্রস্ত জনপদে পরিণত করা হয় চরটিকে। সমতল থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন জাহাজ্জ্যার চরের দু’পাশে থাকা সুবর্ণচর ও সন্দ্বীপের মানুষের মুখে মুখে রয়েছে জলদস্যুদের নিয়ে নানা গল্প, নানা রটনা। কোনো
এককালে এখানে জাহাজডুবি হয়েছিল সেজন্য স্থানীয়রা নাম দিয়েছিলেন জাহাজ্জ্যার চর। তবে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই চরটি ছিল আতঙ্কের চর নামে পরিচিত। প্রায় আড়াই হাজার জলদস্যুর অবাধ বিচরণ ভূমি ছিল এই চরে। তবে এ মুহূর্তে সেসবই অতীত। চরটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন স্বপ্ন। নতুন আশা। রূপ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মানে। নামকরণও করা হয়েছে নতুন ‘স্বর্ণদ্বীপ’। এখানেই গড়ে উঠছে সেনাবাহিনীর জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এ কারণে আতঙ্কের চর থেকে এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে স্বর্ণদ্বীপের নাম। ২০১৩ সালে সরকারের পক্ষ থেকে চরটিকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর থেকেই চরটিকে নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে সেনাবাহিনী। নানা প্রতিকূলতা আর বাধার মুখোমুখি হন তারা। আতঙ্কের চর থেকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে মূলত ৩ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে সেনাবাহিনী। এগুলো হচ্ছে-সেনা প্রশিক্ষণের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চর রক্ষা করতে বনায়ন ও আশেপাশে থাকা স্থানীয় জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন। এর বাইরেও রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের জহির ঘাট থেকে ট্রলারে স্বর্ণদ্বীপে যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। নদীপথ ছাড়া চরে পৌঁছানোর বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। যোগাযোগের এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই অনেকটা দুর্বার গতিতে স্বর্ণদ্বীপকে গড়ে তোলার কাজ করছে সেনাবাহিনী। এরইমধ্যে সেখান থেকে প্রায় ২০ হাজার সেনা সদস্য উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। স্বর্ণদ্বীপের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর চলাচল ও বাসস্থান (এমঅ্যান্ডকিউ) পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুন অর রশীদ বলেন, নিঃসন্দেহে স্বর্ণদ্বীপকে প্রস্তুত করা আমাদের কাছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেছেন। সেনাবাহিনীর উৎকর্ষতা বাড়াতে চরটিকে বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সরকারের দিকনির্দেশনা মেনে এখানে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদিকে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দুর্গম এ দ্বীপে তাঁবুতে অবস্থানের মাধ্যমে সেনা সদস্যরা তাদের যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অস্থায়ী ও স্থায়ী আবাসনের কাজ শুরু হয়। সেনাবাহিনী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের যৌথ সহায়তায় এরইমধ্যে স্বর্ণদ্বীপে ২টি সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হয়েছে। এসব শেল্টারে ২০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং গ্রিন এনার্জির উৎস হিসেবে সোলার বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রতিটি সাইক্লোন শেল্টারে আনুমানিক ৫শ’ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এগুলো চরে বসবাসরত ও অবস্থানরত সকলের জন্য উন্মুক্ত। গত বছরের মে মাসে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় বাথান শ্রমিক ও জেলেসহ স্থানীয় জনগণ নবনির্মিত এ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিলো। শিগগিরই আরো তিনটি সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হবে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ২টি লেক খনন করা হয়েছে। সুপেয় পানির জন্য ১ হাজার মিটার গভীর সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প খনন এবং বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এদিকে স্বর্ণদ্বীপকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীর ভাঙা-গড়ার হাত থেকে রক্ষা করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সেনাবাহিনী। এ জন্য ৭২ হাজার একর স্বর্ণদ্বীপে বড় পরিসরে বনায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ। স্বর্ণদ্বীপকে এসব থেকে রক্ষা করতে সেনাবাহিনীর সীমিত বাজেট দিয়ে বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এরইমধ্যে ৬ হাজার ঝাউ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে সিড বোম্বিংয়ের মাধ্যমে ২ টন কেওড়ার বীজ বপন করা হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম থেকে আনা ডুয়ার্ফ প্রজাতির ১৫শ’ নারিকেল গাছের চারার সমন্বয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কারিগরি সহায়তায় আদর্শ নারিকেল বাগান করা হয়েছে। এ বাগানের সঙ্গে মাছের খামার ও সবজি চাষ করা হচ্ছে। স্বর্ণদ্বীপ ঘিরে সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ হলো আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য এরইমধ্যে স্থানীয় জনগণ ও সেনাবাহিনী সম্প্রীতি নামে একটি সমবায় গঠন করেছে। চরের বিভিন্ন স্থানে ছড়ানো-ছ