08/08/2026
বিমান বাংলাদেশের একই ফ্লাইটে প্রায় ২৫০-২৬০ জন যাত্রী কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। যাদের মধ্যে প্রায় ১৭০ জনের বাংলাদেশী সবুজ পাসপোর্ট। আর বাকি ৮০-৯০ জনের আমেরিকা বা কানাডিয়ান পাসপোর্ট। নিয়ম অনুযায়ী ৯ ঘন্টা ওড়ার পর রিফুয়েলিংয়ের জন্য ফ্লাইটটি ইতালির রোমে নামার পর ক্রু’রা বিমানটিতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখতে পেলেন। তারা যাত্রীদের বললেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেড় ঘন্টার জায়গায় আড়াই ঘন্টা তাদের অপেক্ষা করা লাগতে পারে রোমের রানওয়েতে। রিফুয়েলিংয়ের এই সময়টাতে যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটের মধ্যেই অপেক্ষা করতে হয়। যাই হোক আড়াইশ যাত্রী অপেক্ষা করতে লাগলেন।
এদিকে আড়াই ঘন্টার জায়গায় ৩, ৪, ৫,৬ ঘন্টা পেরিয়ে ৯ ঘন্টা চলে গেলো। বিমান ঠিক হয় না। এর মধ্যে বেশ কয়েকঘন্টা ধরে নাকি বিমানের এসিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাইরে তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত অনুযায়ী, এই সময়ে ক্রু’রাও নাকি যাত্রীদের সঠিক আপডেট দিতে পারছিলেন না। এভাবে টানা ৯ ঘন্টা ঐ ছোট্ট ইঞ্জিন বন্ধ ও বদ্ধ বিমানের মধ্যে থাকতে হলো শিশু, বৃদ্ধসহ সকলকে। পরে জানানো হলো আরো সময় লাগবে যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক করতে। উপায় না পেয়ে সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে বিমানবন্দরে ভিতরে নেয়া হলো। এবার শুরু আসল সমস্যা। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো সবুজ পাসপোর্টের অবস্থান কোথায়!! ইতালির ইমিগ্রেশন স্পষ্ট জানিয়ে দিলো, ১৭০ জন সবুজ পাসপোর্টধারী ( বাংলাদেশি পাসপোর্ট) ইমিগ্রেশন ক্রস করতে পারবেন না। তাদেরকে বিমানবন্দরের ভিতরেই ট্রানজিট এরিয়ায় থাকতে হবে। আর যাদের আমেরিকা/কানাডার (৮০-৯০) পাসপোর্ট আছে, তারা ইমিগ্রেশন থেকে বের হয়ে বাইরে হোটেলে থাকতে পারবেন। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। নিয়ম অনুযায়ী আমেরিকা/কানাডার পাসপোর্টধারীরা চলে গেলেন হোটেলে। আর লাল-সবুজে পাসপোর্টের মালিকরা রয়ে গেলেন ট্রানজিট এরিয়ার মধ্যেই। রোমের বিমানবন্দরে গত ৩০-৩৫ ঘন্টা বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী সেই ১৭০ জন যাত্রী মেঝেতে শুয়ে বসে সময় কাটাচ্ছেন। বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ খাবার সরবরাহ করছে কিনা, সেটা কোন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করে লেখে নি। যদিও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, ১৭০ জন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীকে বিমানবন্দরে থাকা লাউঞ্জে রাখা হয়েছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যাত্রীদের বক্তব্যে তার প্রমাণ মেলে নি।
যারা কানাডা আমেরিকা যাওয়া আসা করেন, তারা জেনে থাকবেন মূলত সরাসরি বিমান হওয়ায় টরন্টো-ঢাকা রুটের বিমান বাংলাদেশের এই ফ্লাইটটিতে ৭০-৮০ শতাংশ যাত্রীই থাকেন বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা। অনেক ক্ষেত্রে তারা একারাই যাতায়াত করে থাকেন। সরাসরি ফ্লাইট হওয়ায় ও সকল স্ক্র’রা বাংলাদেশী হওয়ায় সন্তানরা নিশ্চিন্ত মনে বাবা-মা’কে ফ্লাইটে তুলে দেন। একবার ভেবে দেখেন, ৩০-৩৫ ঘন্টা ধরে বিমানবন্দরের মধ্যে কি অবস্থায় আছেন সেই বাবা-মায়েরা। অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন, যারা হয়তো জানেন না বিমানবন্দরের ট্রানজিটে কোথায় থাকতে হয়, কিভাবে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হয়, কিভাবে লাউঞ্জ ব্যবহার করতে হয়, কিভাবে ওয়াইফাই কানেক্ট করতে হয়, কিভাবে মোবাইল চার্জ দিতে হয়!! আবার সবার কাছে যে ক্রেডিট কার্ড কিংবা ক্যাশ ডলার রয়েছে তারই বা নিশ্চয়তা কি! আবার এতোক্ষণে অনেকের ওষুধ হয়তো শেষ হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চার খাবারও নিশ্চয়ই ৩/৪ দিনের জন্য নিয়ে কেউ ফ্লাইটে ওঠেন না!! এসব কথা কেন আসলো জানেন, রোম বিমানবন্দরে আটকে পড়া এই সবুজ পাসপোর্টধারী ১৭০ যাত্রীর খোঁজ খবর নিতে নাকি বিমান বাংলাদেশের কোন কর্মকর্তাকে বেশির ভাগ সময়ই বিমানবন্দরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!! গণমাধ্যমের খবরে এমনই শুনলাম। অথচ এমিরেটস/টার্কিশ/কাতার কিংবা অন্য যে কোন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বেশির ভাগ সময় বিমানবন্দরে ফাইভ স্টার মানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেটা যতো সময়ই থাকা লাগুক না কেন। আমার কথা হলো যান্ত্রিক ত্রুটি হতেই পারে, কিন্তু সেটা ম্যানেজের তো প্রস্তুতি থাকা উচিত!
গণমাধ্যম ও বিমান বাংলাদেশের বিবৃতিতে যতদূর জানা গেছে, রোমের বিমানবন্দরে এই যাত্রীদের আরো ২০-২৫ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন টুলস নিয়ে নাকি কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়াররা ইতিমধ্যেই রোমের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।