15/10/2020
█▒▒▒ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ▒▒▒█
বিষয় - ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের নাগরিকের বিবাহ, বিবাহ নিবন্ধন, ভিসা ও নাগরিকত্ব। পুংখানুপুংখ বিবরণ - তাই সময় নিয়ে পড়লে উপকৃত হবেন।
এই বিষয় নিয়ে সবাই খুবই চিন্তিত ও ভুল তথ্য পেয়েছেন। অনেকে আমাকে পার্সোনালি নক করেছেন, যথা সম্ভব উত্তর দিয়েছি বা কল রিসিভ করেছি। সব সময় তা সম্ভব হচ্ছে না। যার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : দালালদের ফাঁদে পড়বেন না। একটু ধৈর্য রেখে নিজে সব কিছু করার চেষ্টা করবেন, অত্যন্ত দ্রুত ও শুধুমাত্র সরকারী ফি প্রদান করলেই হয়ে যাবে।
দালাল তো বটেই এমনকি অনেক উকিলবাবু সহ কিছু কর্মকর্তারাও হয়ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারেন। কারণ তাদের নিজেদের কাছেই হয়তো সম্পূর্ণ বিষয়ে সঠিক তথ্য নেই। ভুল হলে আপনাকেই তার খেসারত দিতে হবে।
--------------------------------------------------------------
পাত্র বা পাত্রী যে ভারত বা বাংলাদেশ কোনো দেশেরই নাগরিক হতে পারে। আবার যে কোনো ধর্ম অবলম্বন করতে পারে। এমনকি দুজনে আলাদা ধর্মেরও হতে পারে, ধর্ম পরিবর্তন না করেও বিবাহ সম্ভব (ভারতের ক্ষেত্রে) । বিবাহ যে কোনো দেশেই সম্পন্ন করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই আইনি ভাবে বিবাহের রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের সঠিক পদ্ধতি জানানোর চেষ্টা করছি... স্টেপ বাই স্টেপ প্রসেস ফলো করুন, আশা করি অসুবিধা হবে না।
বিবাহ নিবন্ধন/রেজিস্ট্রেশন যে কোনো দেশেই করা সম্ভব। তবে আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী, ভারতে বিবাহ নিবন্ধন করাটাই শ্রেয়। কারণ একটাই, কাগজপত্রের ব্যাপারে, ভারতের পদ্ধতি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং দালাল ছাড়া যে কোনো কাজ তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।
পাত্র ও পাত্রী এর দুজনেরই পাসপোর্ট রয়েছে এবং বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ভবিষ্যতে ভারতে হবে, ধরে নিয়ে লেখাটা শুরু করলাম।
বিবাহের আগে যা যা করণীয় (যিনি বাংলাদেশী নাগরিক তার জন্য) :
যা কাগজ সংগ্রহ করবেন সবটাই যেন ইংরাজি ভাষায় হয়
১) পৌরসভা থেকে অবিবাহিত সনদ (বা বর্তমান বিবাহের স্ট্যাটাস - ডিভোর্স বা বিধবা/বিপত্নিক) সংগ্রহ করতে হবে।
২) পৌরসভা থেকে নাগরিকত্ব এর সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
৩) পৌরসভা থেকে জন্ম সার্টিফিকেট নিতে হবে - যদি না থাকে (অবশ্যই ইংরাজি ভাষায়)
৪)* *এটাই প্রধান কাজ ** জেলার ডি.সি অফিস বরাবর অবিবাহিত সনদ (বা বর্তমান বিবাহের স্ট্যাটাস - ডিভোর্স বা বিধবা/বিপত্নিক) এর জন্যে দরখাস্ত করতে হবে। (এই চূড়ান্ত সার্টিফিকেট বাংলাদেশ সরকার এর বিদেশ মন্ত্রক প্রদান করবে)।
আবেদন/দরখাস্ত এর সাথে দেবেন
কোর্ট পেপার এ মিনিমাম ১০০ টাকার স্ট্যাম্প এ পাত্র/পাত্রীর বাবা-মা তাদের ছবি, ন্যাশনাল আইডি কার্ড/জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট (যদি থাকে) নাম্বার সহ বয়ান দেবেন, যে এনারাই আইনত ও বায়োলজিকাল বাবা মা, এখনো কারো সাথে বিয়ে হয় নি (বা বর্তমান বিবাহের স্ট্যাটাস - ডিভোর্স বা বিধবা/বিপত্নিক) এবং ভবিষ্যতেও সন্তান বিদেশে বিবাহ করলে আপত্তি নেই।
সাথে পাত্র /পাত্রীর পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয় পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত সনদ দিতে হবে। সরকারি ফি ব্যাংক এ জমা করে দেবেন। (আনুমানিক ৭৫০ বাংলাদেশী টাকার)
কিছুদিন পরে বাড়িতে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। ডকুমেন্ট চেক হবে। ক্লিয়ার রিপোর্ট ডিসি অফিসে গেলে ওখান থেকে মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স (MOFA) এর উদ্দেশ্য পাঠিয়ে দেবে। ওখান থেকে ফাইনাল অবিবাহিত সনদ দেবে। সেটা ডিসি অফিসে আসবে। ওখান থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
সাধারণ ভাবে ঘুষ ছাড়া সব মিলিয়ে ৬-৭ মাসের মত লাগতে পারে। (মামা খালু থাকলে বা আন্ডার দ্যা টেবিল ব্যাবস্থা করলে আরো তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে)
** অনেকে জানতে চাইছেন এটা তো শুধু মাত্রই সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য। বাকিদের প্রয়োজন নাই।
উত্তর - আমার মতে সমস্ত নাগরিকদের করানো উচিত
কারণ - যেমন একজন বাংলাদেশী নাগরিকের (সরকারী কর্মকর্তা নয় এমন) বাংলাদেশেই অলরেডি বিয়ে হয়ে গেছে, পাসপোর্ট এ নাম তোলা নেই বা ডিভোর্স মামলা বা অন্য কোনো বিবাহ সংক্রান্ত লিটিগেশন মামলা চলছে। (সবার হবে এমন কোনো কথা নেই) সে অন্য দেশে গিয়ে বিয়ে করে নিল। পরে দুই দেশের মধ্যে ও কয়েকটা পরিবারের মধ্যে আইনি জটিলতা হয়ে যাবে, কবে মিটবে জানা নেই।
সেই জন্যে ম্যারেজ স্ট্যাটাস বা অবিবাহিত সনদ প্রয়োজন। আর কোনো দেশের নাগরিকের বিবাহের স্ট্যাটাস একমাত্র তার দেশই দিতে পারে। নিজে দেওয়া যায় না।
তাছাড়া ভারতের কিছু কিছু জায়গায় অবিবাহিত সনদ বা ম্যারেজ স্ট্যাটাস সার্টিফিকেট ছাড়া বিবাহ এর রেজিস্ট্রেশন করে না, আবার কোথাও কোথাও করে। তাই আগে থেকে করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫) এবার সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে চলে আসুন।
৬) এসে কমপক্ষে ১ মাস ভারতে থাকতে হবে। (এই সময়ে, যেখানে থাকবেন FRRO তে ফরম-সি ফিলআপ করবেন, ভাড়া থাকলে বাড়ি ভাড়ার ডিড বানাবেন)
৭) তারপর ভারতীয় পাত্র/পাত্রী যে এলাকায় থাকেন, সেখানে বিবাহ রেজিস্টার এর কাছে বিবাহের জন্য আবেদন করবেন। ( মনে রাখবেন, ধর্ম অনুযায়ী হিন্দু বা মুসলিম কোনো ম্যারেজ অ্যাক্ট এ নয়, শুধুমাত্র স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট এর ১৩ নাম্বার ধারায় আবেদন করবেন), সাথে অবশ্যই পাসপোর্ট, ভিসা, ফরম সি / (বাড়ি ভাড়ার ডিড) বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক প্রদত্ত অবিবাহিত সনদ দেবেন।
৮) আবেদন করার পরে, আরো এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি জমা করবেন। (আনুমানিক ২০০০ ইন্ডিয়ান রুপি)
৯) তারপর নির্দিষ্ট দিনে রেজিস্ট্রি বিবাহ সম্পন্ন হলে, বিবাহের ২ কপি সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন। (প্রয়োজনে এক্সট্রা সার্টিফিকেট নিতে পারেন, সরকারি ফি দিয়ে) আনুষ্ঠানিক বিবাহ রেজিস্ট্রি ম্যারেজ এর দিনেও সেরে ফেলতে পারেন বা পরেও ইচ্ছামত দিনে করতে পারেন।
----------------------------------------------
বিবাহের পরে করণীয়
পাত্র কিংবা পাত্রী দুজনেই এক্স/এন্ট্রি ভিসা পাবার যোগ্য। ভারতে থাকা অবস্থাতেও ফরেন রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) থেকে এক্স/এন্ট্রি ভিসা পরিবর্তন করা যায়। তবে বাংলাদেশ ফিরে গিয়ে এক্স ভিসা নেওয়াটাই সহজ।
এন্ট্রি ভিসা নিতে হলে, অন্যান্য সাধারণ নথিপত্রের সাথে যেগুলো লাগবে,
১)বৈধ ম্যারেজ সার্টিফিকেট / নিকাহনামা (বাংলাদেশে বিবাহ এর ক্ষেত্রে)
২)ভারতীয় নাগরিক যিনি, তার ভোটার কার্ড বা পাসপোর্ট, (ভোটার কার্ড বা পাসপোর্ট ছাড়া শুধুমাত্র একক ভাবে আঁধার কার্ড জমা দিলে গন্য হয় না, কারণ একা আঁধার কার্ড নাগরিকত্ব এর প্রমাণ নয়)
৩) ভারতীয় স্বামী/স্ত্রী এর ১ বছরের ব্যাংক এবং/অথবা ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট (টাকার পরিমাণ যতটা পারবেন বেশি দেবেন ), না দিতে পারলে নিজের বাংলাদেশী ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ডলার এনডোর্সমেন্ট দেবেন।
**ভারতীয় পাসপোর্ট এ বাংলাদেশী স্বামী / স্ত্রী এর নাম নথিভুক্ত থাকা সমীচীন এবং বাংলাদেশী পাসপোর্ট এও ভারতীয় স্ত্রী/স্বামী এর নাম নথিভুক্ত থাকা সমীচীন।
একটানা ৫ বছর অবদি মাল্টিপল ভিসা পেতে পারেন। ভারতে আসার ১৮০ দিনের মধ্যে FRRO রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক (শুধুমাত্র এন্ট্রি ভিসার জন্য যদি ১৮০ দিনের বেশী থাকার প্রয়োজন হয়, অন্য ক্ষেত্রে ১৪ দিনের মধ্যে) ।
এন্ট্রি ভিসা তে আপনি শুধুমাত্র ভারতে থাকতে পারবেন। চাকরি, ব্যবসা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে।
-----------------------------------------------------
এছাড়া হয় লং টার্ম ভিসা - পুরুষরা পাবেন না,
এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশী বিবাহিত মেয়েদের জন্য (যে কোনো ধর্মের), যারা ভারতীয় নাগরিককে বৈধভাবে বিবাহ করেছেন ।
আর এই ভিসা পাবেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এর সংখ্যালঘুরা (হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, পারসি ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ) যারা ধর্মীয় কারণে নিজের দেশে প্রতারিত হয়েছেন।
একবারে ৫ বছর অব্দি মেয়াদ পাবেন। এন্ট্রি ভিসার মত পরে মেয়াদ বৃদ্ধি করা যায়। এক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা সহ জমি বাড়ি কেনা, আঁধার কার্ড, প্যান কার্ড, এনআরও ব্যাংক একাউন্ট সহ সুবিধা পাবেন বৈধ ও সরকারি ভাবে। শুধুমাত্র ভারতীয় ভোটার কার্ড ও রেশন পাবেন না, নাগরিকত্ব না নেওয়া পর্যন্ত।
-------------------------------------------------------
বিবাহসূত্রে রেজিস্ট্রেশন এর মাধ্যমে ভারতে নাগরিকত্বের আবেদন হলে -
প্রথম ৭ বছরের মধ্যে সব মিলিয়ে অন্তত ৬ বছর ভারতে থাকতেই হবে (বাংলাদেশ বা অন্য দেশে যাওয়া বাদ দিয়ে)
৮ ম বছরে ১ দিনের জন্যেও ভারতের বাইরে যাওয়া যাবে না।
তাহলে কমপক্ষে ৬+১=৭ বছর থাকার পর আপনি ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন করতে পারবেন।
------------------------------------------------------
একই ভাবে, বিবাহ সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতে হলে ৫ বছর থাকার পর আবেদন করা যায়।
ভারত এক নাগরিকত্বে বিশ্বাসী । ভারতের নাগরিকত্ব নিতে হলে, বাংলাদেশী নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করতে হবে অথবা বাংলাদেশী নাগরিকত্ব নিতে হলে, ভারতের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করতে হবে।
লেখায় কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হলে ক্ষমা করবেন। কোনো বক্তব্য থাকলে কমেন্ট বক্সে লিখুন। বা অন্য কারোর একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা থাকলে সেটাও শেয়ার করুন।
ধন্যবাদ
মোঃ হাসান মাহমুদ দিপু
আরাবি টুরস এন্ড ট্রাভেলস
টেংকেরপাড়, জেল রোড
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
মোবাইল +৮৮ ০১৭১১৩১৩৮৩০
+৮৮ ০১৫১১৩১৩৮৩০, +৮৮ ০১৬১১৩১৩৮৩০,
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
ভারত