11/09/2026
অবশ্যই। নিচে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ওমরাহ পালনের সম্পূর্ণ ধাপ একটি সহজ গাইডের মতো সাজিয়ে দিচ্ছি।
🕋 পবিত্র ওমরাহ পালনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম
১. মীকাত থেকে ইহরামের প্রস্তুতি
মীকাতে পৌঁছানোর আগে—
গোসল করা।
নখ ও প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত লোম পরিষ্কার করা।
পুরুষরা দুই টুকরা ইহরামের কাপড় পরবেন।
মহিলারা স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরবেন।
পুরুষ ইহরাম পরার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন।
দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া উত্তম।
এরপর ওমরাহর নিয়ত করবেন।
নিয়ত
اللَّهُمَّ إِنِّي أُرِيدُ الْعُمْرَةَ فَيَسِّرْهَا لِي وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল উমরাতা ফায়াসসিরহা লী ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি ওমরাহর ইচ্ছা করেছি। আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।
এরপর তালবিয়া পড়বেন:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ:
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।
অর্থ:
আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।
২. মক্কায় প্রবেশ
মক্কায় পৌঁছে সম্ভব হলে গোসল/ওজু করে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবেন।
ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে মসজিদের প্রবেশের দোয়া পড়া সুন্নত।
কাবা শরিফ প্রথম দেখার সময় নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী মন খুলে দোয়া করবেন।
৩. 🕋 তাওয়াফ
কাবা শরিফের চারপাশে ৭ চক্কর দিতে হবে।
তাওয়াফ শুরু
হাজরে আসওয়াদের বরাবর দাঁড়িয়ে তাওয়াফ শুরু করবেন।
সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করবেন। ভিড় হলে কাউকে কষ্ট দিয়ে সামনে যাওয়া যাবে না; দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করে "بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ" বলা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ
কাবা থাকবে বাম পাশে।
৭ চক্কর সম্পূর্ণ করতে হবে।
পুরুষদের জন্য ইহরামের চাদরের ডান কাঁধ খোলা রাখা (ইদতিবা) তাওয়াফের সময় সুন্নত।
প্রথম তিন চক্করে রমল করা সুন্নত—যেখানে প্রযোজ্য।
তাওয়াফে নির্দিষ্ট কোনো একটি দোয়া প্রতিটি চক্করের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। নিজের ভাষায়ও দোয়া করা যায়।
রুকনে ইয়ামানি
সম্ভব হলে স্পর্শ করবেন; ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করবেন না।
রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে পড়া উত্তম:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ:
রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান নার।
অর্থ:
হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
৪. তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত
৭ চক্কর শেষ করার পর সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়বেন।
জায়গা না পাওয়া গেলে মসজিদুল হারামের অন্য কোনো স্থানে পড়বেন।
এরপর জমজমের পানি পান করবেন এবং দোয়া করবেন।
৫. 🏃 সাফা-মারওয়ার সাঈ
তাওয়াফ শেষে সাফার দিকে যাবেন।
সাফার কাছে এসে কাবার দিকে মুখ করে আল্লাহর জিকির ও দোয়া করবেন।
তারপর:
সাফা → মারওয়া = ১ বার
মারওয়া → সাফা = ২ বার
এভাবে:
৭ম বার মারওয়ায় গিয়ে সাঈ শেষ হবে।
সবুজ বাতির মাঝখানে
পুরুষরা দুই সবুজ চিহ্নের মাঝখানে সামর্থ্য অনুযায়ী একটু দ্রুত হাঁটবেন/দৌড়াবেন।
মহিলারা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন।
সাঈ চলাকালীন নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক নয়। জিকির, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও নিজের ভাষায় দোয়া করতে পারেন।
৬. ✂️ চুল কাটা — ওমরাহ সম্পন্ন
সাঈ শেষ করার পর পুরুষরা:
হালক
পুরো মাথা মুণ্ডানো — উত্তম।
অথবা
কসর
চুল ছোট করা।
মহিলারা মাথা মুণ্ডাবেন না। চুলের আগা থেকে শরিয়তসম্মত পরিমাণ কাটবেন।
এরপর ইহরামের বিধিনিষেধ শেষ হয়ে যাবে এবং ওমরাহ সম্পন্ন হবে।
⭐ খুব গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ইহরাম অবস্থায় বিশেষ করে—
সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।
চুল/নখ কাটা যাবে না।
পুরুষ সেলাই করা পোশাক পরবেন না।
পুরুষ মাথা ঢাকবেন না।
ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীল কথা ও গুনাহ থেকে বিশেষভাবে বেঁচে থাকতে হবে।
ভিড়ের মধ্যে কাউকে ধাক্কা দিয়ে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা ঠিক নয়।
তাওয়াফে মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচতে হবে।
📌 এক লাইনে পুরো ওমরাহ
ইহরাম → নিয়ত → তালবিয়া → মক্কায় প্রবেশ → তাওয়াফ ৭ চক্কর → ২ রাকাত → জমজম → সাফা-মারওয়া সাঈ ৭ বার → চুল কাটা/মুণ্ডানো → ওমরাহ সম্পন্ন।
বিশেষ নোট: ওমরাহর ফরজ/ওয়াজিবের সংখ্যা ও কিছু বিস্তারিত বিধানে মাজহাবভেদে পার্থক্য আছে।
দিদারে মোস্তফা সাঃ ট্রাভেলস্