05/01/2026
বিমানবন্দর মানেই এক বুক উত্তেজনা আর নতুন গন্তব্যে যাওয়ার আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নেয় যখন লাউডস্পিকারে ভেসে আসে— "Your flight has been cancelled." গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ করে উমরাহ ফেরত যাত্রী, প্রবাসী এবং ইউরোপগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
অনেকেই অভিযোগ করছেন, এমনকি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি— জেদ্দা থেকে ফেরার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (US-Bangla) ফ্লাইটগুলো (BS361/362) গত কয়েকদিন ধরে বারবার ক্যান্সেল ও রি-শিডিউল হয়েছে। উমরাহ পালন করে ক্লান্ত বয়স্ক মানুষগুলো ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত এয়ারপোর্টে আটকে ছিলেন। একই চিত্র দেখা গেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে মালয়েশিয়া থেকে ফেরার পথে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শুধু তাই নয়, যারা ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন বা কানেক্টিং ফ্লাইট ধরবেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গতকাল ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের প্রধান হাবগুলোতে (লন্ডন, আমস্টারডাম, মিউনিখ, প্যারিস) প্রায় ৫৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। KLM, SAS, এবং Ryanair-এর মতো এয়ারলাইন্সগুলো তুষারঝড়ের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
টাকা দিয়ে টিকিট কেটে কেন এই নাজেহাল অবস্থা? এর পেছনে কিছু রূঢ় বাস্তব কারণ আছে:
১. ইউরোপের প্রবল তুষারপাত ও 'উইন্টার ক্যাওস'
ইউরোপের দেশগুলোতে এখন ভয়াবহ তুষারঝড় (Snowstorm) চলছে। আমস্টারডাম শিপল বা লন্ডন হিথ্রোর মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরে রানওয়ে পরিষ্কার করা এবং প্লেনের বরফ ছাড়ানো (De-icing) অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে শত শত ফ্লাইট গ্রাউন্ডেড করা হচ্ছে। এর ইমপ্যাক্ট পড়ছে সারা বিশ্বের কানেক্টিং ফ্লাইটগুলোর ওপর।
২. এয়ারক্রাফট সংকট ও টেকনিক্যাল গ্লিচ
ইউএস-বাংলা বা বিমানের মতো এয়ারলাইন্সগুলো এখন এয়ারক্রাফট সংকটে ভুগছে। একটি বিমান যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়লে বিকল্প বিমান ম্যানেজ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে, যা জেদ্দা বা কুয়ালালামপুরের মতো ব্যস্ত রুটের পুরো শিডিউলকে তছনছ করে দিচ্ছে।
৩. ঘন কুয়াশা ও রানওয়ে অপারেশন 🌫️
বাংলাদেশেও এখন কুয়াশার সিজন। ভিজিবিলিটি কমে যাওয়ায় ফ্লাইট নামতে না পারা বা ছাড়তে দেরি হওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক। এই 'ব্যাকলগ' তৈরি হওয়ার কারণেই মূলত ফ্লাইট ক্যান্সেল হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আপনার জন্য কিছু অতি জরুরি টিপস:
ইউরোপ যাত্রীদের অধিকার (EU 261): মনে রাখবেন, ইউরোপ থেকে বা ইউরোপগামী কোনো ফ্লাইটে যদি এয়ারলাইন্সের দোষে ৩ ঘণ্টার বেশি দেরি হয়, তবে আপনি নিয়ম অনুযায়ী ৬০০ ইউরো (প্রায় ৮০ হাজার টাকা) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। এছাড়া হোটেল ও খাবারের খরচ বহন করা এয়ারলাইন্সের আইনি বাধ্যবাধকতা।
যাওয়ার আগে আপডেট নিন: এয়ারপোর্টে রওনা হওয়ার আগে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা আগে এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ফ্লাইটের স্ট্যাটাস চেক করুন।
মানসিক প্রস্তুতি ও ধৈর্য: বিশেষ করে যারা উমরাহ থেকে ফিরছেন, সাথে বয়স্ক মানুষ থাকলে ব্যাগে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং কিছু শুকনো খাবার অবশ্যই রাখবেন।
ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করুন: ফ্লাইট ডিলে হলে আপনার বোর্ডিং পাস এবং অতিরিক্ত খরচের সকল রসিদ (Receipt) যত্ন করে রাখুন। পরে ক্লেইম করার জন্য এগুলো প্রয়োজন হবে।
ভ্রমণ মানেই কিছু অনিশ্চয়তা থাকবে, কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি সত্যিই কষ্টের। আল্লাহ সবাইকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দিন এবং নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছার তৌফিক দান করুন।
Post from Mohammad saiful islam saif..
যেকোনো ভ্রমণ–সংক্রান্ত তথ্য ও আপডেটের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, WHATSAAP 01842667800।
আমাদের সেবাসমূহঃ
✈️ এয়ার টিকেট (দেশি ও আন্তর্জাতিক)
🕋 ওমরাহ প্যাকেজ
🛂 সৌদি ভিসা প্রসেসিং
Noori Travels & Tours, Hazz Kafela