29/04/2017
সি এন এন গতবছর একটা অদ্ভুত স্টাডি করেছিল।তাদের স্টাডির বিষয় ছিল মৃত্যুর আগে মানুষ কোন বিষয় নিয়ে বেশী কথা বলে। সি এন এন একটা ক্যান্সার হাসপাতালের চ্যাপলিনদের মাঝে জরিপ টা চালিয়েছিল। চ্যাপলিনদের কাজ হলো মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের পাশে বসে তাদের সাথে গল্প করা ,একটু সময় কাটানো। চ্যাপলিনদের জিজ্ঞেস করা হলো
মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ কি নিয়ে বেশী কথা বলে!
তারা কি মারা যাবে এটা নিয়ে আফসোস করে?
চ্যাপলিনরা বলেছিল না।
প্রশ্ন করা হয়েছিল
তাহলে তারা কি জীবনের অপূর্ণতা নিয়ে আফসোস করে?
চ্যাপলিনরা বলেছিল ,কেউ কেউ করে কিন্তু তাদের সংখ্যা খুব কম।
তাহলে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ কি নিয়ে বেশী কথা বলে?
উত্তরটা হলো পরিবার, আপনজন। বেশীরভাগ মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ আপনজনের সাথে কাটানো স্মৃতিচারণ করে।
চিন্তা করেন একজন ক্যান্সার পেশেন্ট। যার মৃত্যু হবে কিছুদিন পর্। তার মৃত্যু নিয়ে তেমন কোন টেনশন নাই। তিনি সুখী সুখী চেহারায় পাশে বসা একজন চ্যাপলিন কে বলছেন
আমার ছেলেটা ছোট থাকতে খুব দুষ্টু ছিল। আমার স্বামী আবার মেজাজী মানুষ ছিল। প্রতিদিন অফিসের ফাইল কোথায় গেছে বলে বাড়ি মাথায় করত ,তারপর দেখা যেত নিজেই ফাইল ভুলে পোশাকের ওয়ারড্রোবে ঢুকিয়ে রেখেছে। ছেলেটা আমার খুব ন্যাওটা ছিল।
কিংবা আমাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকীর ঘটনা। ওর মনে ছিলনা আমাদের ম্যারেজ ডে...
কি অদ্ভুত দৃশ্যটা। তখন মনে হয় মৃত্যু কুতসিত নয়। মৃত্যু প্রচন্ড শান্তির।
আচ্ছা আমরা কি জানি আমাদের মধ্যে প্রতি ১০০০ মানুষে ৮ জন ২০১৭ সালেই মারা যাবে। ২০১৮ সাল দেখতে পারবে না। প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রতি হাজারে আটজন মানুষ মারা যায়। কেউ জানেনা কোন আটজন। ব্যাপারটা অনেকটা লটারির মত। ৮ জনের লটারি লাগবে এ বছর্। ( cia world factbook)
প্রতিবছর ৫৫ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন কারণে মারা যায়। প্রতিদিন ১ লক্ষ ৬৫ হাজার জন।
মানে আপনার জন্মদিন যেদিনই হোক সেদিন ১ লাখ ৬৫ মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কেউ এক্সিডেন্টে ,কেউ রোগে ভুগে ,কেউ সুইসাইড করে
প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বের কোন না কোন জায়গায় কেউ না কেউ একজন হতভাগা জীবনের কোন মানে খুঁজে না পেয়ে আত্মহত্যা করে।
আমরা এইডস নিয়ে কথা বলি।
অতচ প্রতিবছর এইডসে আক্রান্ত হয়ে যত মানুষ মারা যায় তার চাইতে দুই গুণ বেশী মানুষ মারা যায় আত্মহত্যা করে। যার প্রধান কারণ ডিপ্রেশন
সুইসাইডে মৃত্যু কে আমি বলি বেহিসেবী মরণ। যে মানুষটা জীবনের কোন হিসেব মেলাতে পারেনা সে মানুষটাই আত্মহত্যা করে।
কিন্তু এই হিসেবটাই সব কিছু নয়। আরেকটা পরিসংখ্যান বলি। প্রতি একজন সুইসাইডের কারণে মৃত্যু হওয়া মানুষ ৬ জন মানুষের জীবন কে প্রভাবিত করে।
কারা এই ৬ জন?
বাবা ,মা ,ভাই বোন ,পরিবার্। যে মারা গিয়েছে সে বেঁচে গিয়েছে। কিন্তু যারা বেঁচে রয়েছে তাদের কি হাল হবে।
সেই বাবা আর কোনদিন হাসিমুখে বাজার থেকে বড় রুইমাছ কিনে ফিরতে পারবে না কারণ তার যে মেয়েটা বড় রুইমাছ পছন্দ করত সে মেয়েটা নিজেকে নিজে খুন করেছে আর বাবা হিসেবে তিনি কিছুই করতে পারেননি। সে মা টা কোনদিন বাজারের খরচ থেকে এক হাজার টা টাকা আলাদা করে রাখবেন না কারণ যাকে এই টাকাটা দিতেন তার ছেলে কোন এক মেয়েকে ভালোবেসে নিজের জীবন নিজেই কেড়ে নিয়েছে। সে ভাইটা কোনদিন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না এই ভেবে যে আমি যদি আমার বোনটার দিকে আরেকটু নজর দিতাম তাহলে হয়ত বোনটা আজ বেঁচে থাকত।
এই আফসোস সেই পরিবারের মানুষগুলোকে প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে মারছে ,মারবে।
আত্মহত্যা করার আগে ভেবে নিবেন আপনজনদের এমন শাস্তি দিয়ে যাবেন কিনা?
আপনজন। এই শব্দটা অনেক দামী একটা শব্দ। পৃথিবীর আয়তন কত? সত্যি বলতে আমাদের কাছে পৃথিবীটা ততটুকুই বড় যতটুকুতে ছড়িয়ে আছে আমার আপনজনেরা। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় পৃথিবীতে দেশ কয়টা আমি বলব
আমার বাবা ,আমার মা ,আমার ভাই ,আমার ভালোবাসার মানুষ ,আমার বন্ধু। আমার কাছে দেশ এ কয়টাই।
আমাদের পৃথিবীর আয়তন ততটুকু আমাদের আপনজন আছে যতজন। এরাই আমাদের পৃথিবী।
এ কারণে মরার আগে আপনজনদের যা ভালোবাসার বেসে নেন। আপনার আজকে বাবাকে বলতে ইচ্ছে করছে মিস ইউ বাবা। বলে দেন। মা কে বলতে ইচ্ছে করছে ভালোবাসি মা। বলে দেন। ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে খালি পায়ে সমুদ্র সৈকতে হাটতে ইচ্ছে করছে। হেটে নেন। কালকের জন্য ফেলে রাখবেন না
এই আধুনিক যুগে আমরা কাজটাকে আগে রাখি ,ভালবাসাকে পরে রাখি। সেটা বাবার জন্য হোক ,মায়ের জন্য হোক কিংবা প্রেমিকার জন্য। আজ ব্যস্ত কাল ভালোবাসব। আর যদি মাঝরাতেই মারা যান?
এই আফসোস নিয়ে মরবেন ,আহারে ওদেরকে কত ভালোবাসার ছিল ভালোবাসা হলনা।
আজকে আপনি মারা গেলে এইটা ফ্যাক্ট হবেনা যে আপনি আর বিরিয়ানি খাইতে পারবেন না ,গাড়ি চালাইতে পারবেন না ,টাকা উড়াইতে পারবেন না। আপনি আজ মারা গেলে ফ্যাক্ট হবে এইটা ,আপনি আর আপনজনদের সাথে সময় কাটাতে পারবেন না।
ভালোবাসা এ পৃথিবীর জিনিস। মরে গেলে ভালোবাসতে পারবেন না। বেঁচে থাকতেই যা ভালোবাসার বেসে নেন।
ঘড়ির কাটাটাকে থামিয়ে রেখে আপনজনদের নিজের পৃথিবী বানান। দেখবেন পৃথিবীটা আসলেই সুন্দর .
-Collected.