29/04/2016
কি ঘটেছিল সেদিন?
আল্লামা বাবুনগরীকে হুমকি!
চারিদিকে তোলপাড়, রুহিকে খোজছে প্রতিবাদী জনতা!
হেফাজতে ইসলামের সংগ্রামী মহাসচিব, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মুহাদ্দিস ও সবচেয়ে জনপ্রিয় ওস্তাদ, বীর ফটিকছড়ির গর্বিত সন্তান কায়েদে আজম, মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সাহেবকে বিখ্যাত বাটপার মঈনুদ্দিন রুহি বহিরাগত লোকনিয়ে হাটহাজারি মাদরাসায় ঢুকে দেখে নেওয়ার হুমকিতে চারিদিকে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানাযায়, গতকাল (২৮/০৪/১৬ইং, বৃহস্পতিবার) সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাথে একাত্বতা ঘোষণাকারী ইসলামি ঐক্যজোট (একাংশ) মফতি ফয়জুল্লাহ গং মাদরাসার সম্মুখে এবি কমিউনিটি সেন্টারে আযাদী আন্দোলন শীর্ষক আলোচনা সভা করেন।
প্রোগ্রামের দুইদিন পূর্ব থেকে বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব প্রধান অতিথি এবং মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী, মুফতি ওয়াক্কাস, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ এবং আমিনী রহঃ এর ছেলে আবুল হাসনাত আমিনী সাহেবদের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে প্রচার করেন।
সমন্বয়হীণতা, রাজনীতি সংশ্লিষ্টতা এবং স্থানীয় আলেম ওলামাদের অবমূল্যায়নের কারণে এলাকার সমস্ত আলেম ওলামা মইনুদ্দিন-ফয়জুল্লাহর সেই প্রোগ্রাম বয়কট করে।
অপরদিকে আমিরে হেফাজত এবং মহাসচিব সাহেবদ্বয়ের পূর্ব প্রোগ্রাম থাকায় তাদের প্রোগ্রামে উপস্থিত হতে পারেনি। ইত্যবসরে- মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মুফতি ওয়াক্কাস, আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, আবুল হাসনাত আমিনীসহ হঠাৎ আমন্ত্রিত কোন মেহমান আসেনি।
ব্যাপক প্রচার চালানো প্রোগ্রামে কোন অতিথি না আসায় চরম লজ্জার মুখে পড়ে সভার আয়োজক মইনুদ্দিন রুহিরা। শেষ পর্যন্ত হাটহাজারি মাদরাসার বোখারি খতমে আসা মুফতি আমিনীর জামাতা মুফতি সাখাওয়াতকে মাদরাসা থেকে জোরজবরদস্তি পূর্বক নিয়ে কোনমতে প্রোগ্রাম সামাল দেয় তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং উপস্থিত ছাত্রদের বক্তব্য থেকে জানাযায়- মাগরিবের পর মুফতি সাখাওয়াত বক্তব্য দানকালে মইনুদ্দিন রুহি হাটহাজারি মাদরাসার শিক্ষক শামসুল আলম সাহেবের ছেলে আলমগীরসহ ৪০/৫০ জনের বহিরাগত ছাত্র নিয়ে আসেন হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরি হুজুরের রুমে আসে।
এসেই রুহি হুজুরের নিকট জানতে চাই কেনো তার প্রোগ্রামে জাননি। এসময় রুহি উচ্চবাক্যের মাধ্যমে হুজুরকে বলেন, আপনাকে নেতা বানাইছি আমি, আপনার জন্য আমি অনেক কিছু করেছি, আমার প্রোগ্রামে না গিয়ে আপনি চরমভুল করেছেন, কাজটা আপনি ঠিক করেননি।
এসময় হুজুর তাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন যে, আমার পূর্বে ওয়াদা দেওয়া প্রোগ্রাম সেরে যথা সময়ে আসতে পারিনি বলে অংশ গ্রহণ করতে পারিনি, এজন্য হুজুর দুঃখ ও প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু বেয়াদব-গাদ্দার, চিটিংবাজ, ধান্ধাবাজ রুহি হুজুরের কোন কথায় কানে নেয়নি। হুজুরের সাথে অসূভ আচরণ করতেই থাকে। একপর্যায়ে হুজুর, পরিস্থিতি উত্তপ্ত এবং ছাত্রদের মাঝে জানাজানি হওয়ার ভয়ে রুহিকে অনুরোধ করেন, তুমি যা বলবা আস্তে বলো। তখন রুহি জবাব দেয়, কেনো আস্তে বল্ব? এভাবে অনেক্ষণ চিল্লাচিল্লি করে হুজুরের রুম থেকে বের হয়ে যায়।
উপস্থিত ছাত্ররা বলেন, সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে রুহি বলে- আমার সাথে এমন গাদ্দারির পরিণাম ভালো হবেনা😃 দেখে নেবো আমি😃 আমি নেতা বানাইছি😃 আজকে আমার সাথে এমন চালাকি😃 কোথাকার স্থানীয়? রাজনীতি আমাদের শেখাতে হবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি আ-বকা বকে মাদরাসা ত্যাগ করে।
এদিকে- এখবর বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় আলেম সমাজের নিকট। তাৎক্ষণাত হাটহাজারি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মীর ইদ্রিস, মাওলানা ইমরান সিকদার, কামরুল কাসেমী, তকিউদ্দিন আজিজ, মাওলানা হোসাইন আহমদ, হাফেজ এনায়েত ও ফোরকান সিকদার সহ ২০/৩০ জনের এলাকার যুব সমাজ গিয়ে উপস্থিত হন আল্লামা বাবুনগরীর রুমে। প্রতিবাদে ফেটে পরে সবাই। হুজুর রুমের দরজা বন্ধ করে সবাইকে শান্ত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়।
হুজুর বলেন, আমি মাফ করে দিয়েছি, তোমরাও মাফ করে দাও। কাল মাদরাসার বোখারি খতম, যাতে করে কোন ধরণের শৃঙ্খলা র অবনতি না ঘটে! এসয় হুজুর বার বার করে প্রতিবাদী যুব সমাজের প্রতি অনুরোধ করেন, যেনো কোন ধরণের উচ্চবাক্য কেউ না করেন। হুজুর বলেন- সে বিয়াদব তাই আমার কথা না শুনে চিল্লাইছে! তোমরা তো সবাই ভদ্র তাই কেউ রুমের বাহিরে গিয় উচ্চ আওয়াজ করবেনা।
আলেম সমাজের কলংক, বহুরূপী এই চিহ্নিত বিয়াদবের এহেন কাণ্ডে রীতিমত হতভাগ হয়েগেছে সচেতন তৈহিদী জনতা।
চারিদিকে এক আওয়াজ রুহিরে ধরে জুতা দিয়ে পিটা!
খবর নিয়ে জানতে পারলাম, বোখারি খতম শেষে রুহিসহ যে সব দালালরা হুজুরের রুমে গেছে সবাইকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে এমন পিপারেশন নিয়েছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, আল্লামা বাবুনগরীর সাথে এমন বিয়াদবির ঘটনায় ছাপা ক্ষোভে পুড়ছে হুজুরের সমস্ত ভক্তকূল। এনিয়ে যে কেনো মুহুর্তে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।