12/12/2021
বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর মাত্র দুইটি পাহাড়ি দ্বীপের একটি হলো মহেশখালী। বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিতে মহেশখালীর রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র।
শেফালী ঘোষের গান :
"যদি সুন্দর একখান মুখ ফাইতাম
যদি নতূন একখান মুখ ফাইতাম
মহেশ খালীর পানের খিলী তারে
বানাই খাওয়াইতাম
যদি সুন্দর একখান মুখ ফাইতাম
যদি নতূন একখান মুখ ফাইতাম
মহেশ খালীর পানের খিলী তারে
বানাই খাওয়াইতাম"।
রামায়ণে বলা আছে,
"মৈনাক নামেতে গিরি সমুদ্র ভিতর
শোভিছে তাহার শৃঙ্গ অতি মনোহর।
এথায় শিবের বাস ইচ্ছে হল মনে ,
চাপিল রাবণে বাম অঙ্গুলি চালানে।
তথবধি আদিনাথ রহিল তথায়
ভারত প্রসিদ্ধ দেব নিজ মহিমায়"।
মোহিনী এই দ্বীপমালার পুরোটাই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুন্দর। বিশেষ করে উত্তাল রোমাঞ্চিত সাগর,ম্যানগ্রোভ বন, পাহাড়, আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ পল্লী, প্যাগোড়া, লবণের মাঠ, চিংড়ি ঘের, পানের বরজ, ফসলের মাঠ, বিস্তীণ ধানের ক্ষেত- দৃশ্য বিনোদনের জন্য অপার উৎস।
সেইসাথে লোকজ সংস্কৃতি ও প্রান্তিক উৎপাদন প্রণালীর দৃশ্য অবলোকন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জ্ঞানপিপাসুদের কাছে এটি বার্ষিক ভ্রমণের লক্ষ্যস্থল হিসেবে সমাদৃত। জলজ ও প্রাণিজ বৈচিত্রের নমুনা সংগ্রহ ও উপকূলীয় ডাব, শুটকি উপভোগের জন্য মহেশখালীর বিকল্প নেই।
মহেশখালীর জনগণ লবণ চাষ চিংড়ি উৎপাদন পান চাষ সাগর হতে মৎস্য আহরণ এবং ধান চাষ করে নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
পূর্ণিমার সময় জোছনা স্নান ও নৈসর্গিক রুপালি রাত উদযাপন সাগরের গর্জন বালিয়াড়ি লাল কাঁকড়া শামুক ঝিনুক কেয়াবন সৈকত লতা সামুদ্রিক পাখি উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন হাঁস ও জীববৈচিত্র দেখার আদর্শ জায়গা হল সোনাদিয়া
আদিনাথ দেশীয় ও অভ্যন্তরীণ পর্যটক এবং পুণ্যার্থীদের পদচারণায় সারাবছর মুখরিত থাকে। পুণ্যার্থীরা মন্দিরে প্রার্থনা করি করে সৌন্দর্য পিপাসুরা পাহাড় চূড়ায় উঠে মহেশখালীর প্যানোরামিক দৃশ্য অবলোকন করে। পাহাড় চূড়া হতে দিগন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য নদী পাহাড় এক অদ্ভুত ভালো লাগা ছুঁয়ে যায় মন ও শরীরে।আদিনাথ মন্দির ছাড়াও মৈনাক পাহাড়ের পশ্চিম পাশে সিংহ মূর্তি বিস্তৃত একটি বৌদ্ধ প্যাগোড়া আছে। আদিনাথ স্পট থেকে ভোরে পূর্বদিকে সূর্যোদয় দেখাও আকর্ষণীয় ব্যাপার। প্রতিবছর আদিনাথের মেলা বসে।
মহেশখালীতে একসময় প্রচুর গর্জন বাগান ছিল । মানুষ গর্জনে তেল দিয়ে কুপি জ্বালাতেন আর কাঠ দিয়ে নৌকা ও ঘর নির্মাণ করতো। সেই ঐতিহ্য স্মৃতিচিহ্ন রাখাইনরা ধরে রেখেছেন তাদের বাড়ি নির্মাণের সংস্কৃতি ও শিল্পকলায়।
মহেশখালীতে মানুষ আদিনাথ মন্দির দেখার পর যে জিনিসটা দেখার জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে তা হল রাখাইন পল্লী ও বৌদ্ধ কেয়াং।
গোরকঘাটার চরপাড়ায় ঝাউ বাগান সৃজন করা হয়েছে।ঝাউ বাগান এর সাথে লাগোয়া বেলা ভূমিতে জোয়ারের সময় বেড়াতে যে কারোরই ভালো লাগবে।