05/05/2026
মদীনা মুনাওয়ারার মসজিদে কুবা-এর পাশে অবস্থিত বিরে আরিস (بئر أريس)।
এই কূপের ধারে মুহাম্মদ ﷺ বসেছিলেন। তিনি কূপের পাড়ে বসে তাঁর পবিত্র পায়ের কাপড় উন্মোচন করে দুই পা কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।
তার পাশে বসেছিলেন দুই মহান সাহাবি—
আবু বকর সিদ্দীক এবং উমর ইবন খাত্তাব (রাযি.), এবং তারাও রাসূল ﷺ যেমন করেছিলেন তেমনই করেছিলেন। এরপর উসমান ইবন আফফান (রাযি.) এসে তাঁদের বিপরীত পাশে বসেন এবং তাঁরাও একইভাবে করেন।
এই কূপের কাছেই রাসূল ﷺ, আবু বকর ও উমর (রাযি.)-কে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। আর উসমান (রাযি.)-কেও জান্নাতের সুসংবাদ দেন, তবে এমন এক পরীক্ষার (বিপদের) কথা জানান যা তাঁর ওপর আসবে।
এই কূপের আরেক নাম “বিরে খাতাম” (আংটির কূপ)। কারণ, রাসূল ﷺ-এর আংটি এখানে পড়ে গিয়েছিল। আংটিটি প্রথমে রাসূল ﷺ-এর হাতে ছিল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত। এরপর তা ছিল তাঁর খলিফা আবু বকর (রাযি.)-এর হাতে, তারপর উমর (রাযি.)-এর হাতে, এরপর উসমান (রাযি.)-এর হাতে তাঁর খেলাফতকালে। তখন সেটি তাঁর হাত থেকে এই কূপে পড়ে যায়। তিনি তিন দিন পর্যন্ত কূপ খালি করার নির্দেশ দেন, কিন্তু আংটি পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে অনেকেই শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা ও ফিতনার সূচনার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো—একজন সাহাবি জায়েদ ইবন খারিজা (রাযি.)-এর থেকে একটি অলৌকিক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি মৃত্যুর পর কথা বলেছিলেন। উপস্থিত লোকেরা তাঁর বুকে শব্দ শুনতে পান, তারপর তিনি বলেন:
“আহমদ, আহমদ—প্রথম কিতাবে সত্য, সত্য।
আবু বকর সিদ্দীক—নিজে দুর্বল কিন্তু আল্লাহর কাজে শক্তিশালী—প্রথম কিতাবে সত্য, সত্য।
উমর ইবন খাত্তাব—শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত—প্রথম কিতাবে সত্য, সত্য।
উসমান ইবন আফফান—তাঁদের পথেই আছেন।
চার বছর কেটে গেছে, দুই বছর বাকি।
ফিতনা এসে গেছে, শক্তিশালী দুর্বলকে গ্রাস করছে, কিয়ামত নিকটবর্তী।
তোমাদের কাছে বিরে আরিসের খবর আসবে—বিরে আরিস কী!”
এই ঘটনা উসমান (রাযি.)-এর খেলাফতের চার বছর পর ঘটেছিল এবং আংটি হারানোর দুই বছর আগে।
এই কূপ একসময় দৃশ্যমান ছিল। পরে এর উপর কুবা মসজিদের খাদেমের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়, এরপর একটি গম্বুজ তৈরি হয়। পরে মসজিদে কুবার সম্প্রসারণের সময় এগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। কূপটি ভরাট করা হয়নি, বরং মার্বেল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এর স্থান পুনরায় চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে একটি পরিচিতিমূলক ফলক স্থাপন করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।