05/08/2026
তায়েফবাসী যেখানে নবীজী (সাঃ)-কে পাথর মেরেছিল, সেখানে আদ্দাস (রাঃ) নতজানু হয়ে ভালোবাসায় ও ভক্তিতে নবীজী (সাঃ)-এর মাথা মোবারক, হাত এবং রক্তে রঞ্জিত পা মোবারকে চুমু খেতে লাগলেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে তায়েফে গেলে সেখানকার গোত্রপ্রধানরা তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে। শুধু তা-ই নয়, তারা শহরের বখাটে ও দুষ্ট ছেলেদের নবীজী (সাঃ)-এর পিছে লেলিয়ে দেয়।
তারা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-কে লক্ষ্য করে পাথর মারতে থাকে। পাথরের আঘাতে তাঁর পবিত্র শরীর ক্ষতবিক্ষত হয় এবং জুতো মোবারক রক্তে জমাট বেঁধে যায়।
তাঁর প্রিয় সঙ্গি হযরত জায়েদ ইবনে হারেসা (রাঃ) নিজের শরীর দিয়ে নবীজী (সাঃ)-কে রক্ষা করার চেষ্টা করেন এবং তিনিও মারাত্মকভাবে আহত হন।
শারীরিক যন্ত্রণায় অত্যন্ত ক্লান্ত ও রক্তে রঞ্জিত অবস্থায় নবীজী (সাঃ) তায়েফের কায়স গোত্রের দুই ভাই—উৎবা ও শাইবা-র একটি আঙুর বাগানে আশ্রয় নেন। চরম কষ্টের মাঝেও তিনি তায়েফবাসীদের অভিশাপ দেননি; বরং পরম করুণাময়ের দরবারে নিজের বিনয় ও দাসত্ব প্রকাশ করে মোনাজাত করেন:
হে আল্লাহ! আমি কেবল তোমারই কাছে আমার শক্তিহীনতা, উপায়হীনতা এবং মানুষের নিকট আমার মর্যাদা হীনতার অভিযোগ জানাচ্ছি... তুমি যদি আমার ওপর অসন্তুষ্ট না হও, তবে আমি কোনো দুঃখ-কষ্টের পরোয়া করি না।
এই মোনাজাত মুমিনের জন্য শিক্ষা দেয় যে, বিপদ যত বড়ই হোক না কেন, চূড়ান্ত আশ্রয় কেবল আল্লাহ তাআলা।
তায়েফবাসী যেখানে নবীজী (সাঃ)-কে পাথরে ক্ষতবিক্ষত করেছিল, সেখানে ওই আঙুর বাগানে আদ্দাস (রাঃ) নতজানু হয়ে পড়লেন।
তিনি অত্যন্ত ভালোবাসায় আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর মাথা মোবারক, হাত এবং রক্তে রঞ্জিত পা মোবারকে চুমু খেতে লাগলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করলেন। বাগান মালিকেরা দূর থেকে তা দেখে অবাক হয়ে যায়।
তায়েফের কাফেরদের দেওয়া পাথরের আঘাতের বিপরীতে আল্লাহ তাআলা সেই আঙুর বাগানেই নবীজী (সাঃ)-কে আদ্দাসের মতো এক অনুগত বান্দার ভালোবাসা ও ঈমানের তোহফা উপহার দেন।
এই বাগানে অবস্থানকালেই পাহাড়ের ফেরেশতা এসে তায়েফবাসীকে দুই পাহাড়ের মাঝে পিষে মারার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু রহমাতুল্লিল আলামীন তা প্রত্যাখ্যান করে দোয়া করেছিলেন, "আমি আশা করি আল্লাহ এদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন সন্তান বের করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।