29/05/2026
মিনার তাবু থেকে একটি জীবন্ত উপলব্ধি
নিজেকে অনেক ধিক্কার দিচ্ছিলেন বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য ডাক্তার (সরাকারি মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন।
পবিত্র মিনার তাবু। চারদিকে লাখো লাখো আল্লাহর মেহমানের লাব্বাইক ধ্বনি। হজের এই ক্লান্তিকর কিন্তু আত্মিক প্রশান্তির সফরে আমার ডান পাশে বসে আছেন বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত স্বনামধন্য ও সদ্য রিটায়ার্ড সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল। পেশাগত জীবনে যিনি হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, ব্যস্ততম সময় পার করেছেন মানবসেবায়। আরা বাম পাশের বিছানায় ৭২ বছর বয়সী এক আংকেল।
হঠাৎ করেই দেখি ডাক্তার সাহেবের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। নিজেকে নিজে ধিক্কার দিয়ে, ভীষণ অনুতপ্ত হয়ে তিনি বলছিলেন— "আমার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আরও আগে কেন হজে আসলাম না!"
গতকাল আমাদের হজের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল মুজদালিফা থেকে হেঁটে জামারাতে এসে বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর মারা। আমার ঘড়ির হিসেবে প্রায় ১৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ।
৪৪ বছর বয়সী একজন সুস্থ, সুঠাম দেহের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আমার আর আমার স্ত্রীর (লুবনা) পা দুটো যখন আর চলছিল না, যখন মনে হচ্ছিল একটু বসতে পারলে পরম শান্তি পেতাম— তখন মনের কোণে একটা প্রশ্ন উঁকি দিল:
আমার এই বয়সেই যদি এত কষ্ট হয়, তবে যারা ৬০, ৭০ বা ৭৫োর্ধ্ব, কিংবা যারা অসুস্থ— তাদের কী অবস্থা হচ্ছে?
জামারার কাজ শেষ করে যখন মিনার তাবুতে ফিরলাম, তখন আমার ডান পাশের সেই প্রিন্সিপাল স্যারকে দেখলাম উনার বিসানায় বসে কাঁদছেন।
ফুসফুসের জটিল রোগ (ILD)-এ আক্রান্ত হওয়ার কারণে গত ৬ মাস ধরে উনাকে প্রায়ই অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে হয়। তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে তিনি নিজে হেঁটে বা হুইল চেয়ারে করে জামারাতে পাথর মারতে যেতে পারেননি।
তিনি আফসোস করে বলছিলেন, "সারাদিন শুধু রোগী আর রোগী! একবার সরকারি হাসপাতাল, আবার প্রাইভেট চেম্বার— এই নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। অথচ এই হজ যদি আরও আগে, শরীরে শক্তি থাকতে আসতাম, তবে আজ আমার এই অবস্থা হতো না।"
আমি উনাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, "স্যার, আপনি তো মানবসেবাই করেছেন।"
উনি যা উত্তর দিলেন, তা আমার চোখ খুলে দিল। উনি বললেন
— "ইফতি ভাই, এই হজ করাটা আমার ওপর 'ফরজ' ছিল, আর রোগী দেখা ছিল আমার 'নফল' ইবাদত। ফরজের আগে নফলকে প্রাধান্য দেওয়া যে আমার ভুল ছিল, এই বোধটা আসা আজ বড্ড জরুরি ছিল।"
আমার বাম পাশে আছেন ৭২ বছর বয়সী আরেকজন প্রবীণ আঙ্কেল। বার্ধক্য আর অসুস