13/05/2026
আলপনা গ্রাম: মাটির ক্যানভাসে স্বপ্নের কারুকাজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম টিকইল। তবে গ্রামটি এখন আর কেবল মানচিত্রের কোনো সাধারণ নাম নয়, বরং সারা দেশের মানুষের কাছে এটি এক অনন্য ‘আলপনা গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রামের বিশেষত্ব হলো এর মাটির বাড়িগুলো, যেগুলোর পরতে পরতে মিশে আছে শিল্পের ছোঁয়া।
বংশপরম্পরায় এই গ্রামের নারীরা তাদের বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে শোবার ঘর, এমনকি রান্নাঘরের দেয়ালকেও রাঙিয়ে তোলেন বৈচিত্র্যময় আলপনায়। এটি কেবল সাজসজ্জা নয়, বরং একটি জীবন্ত লোকশিল্প যা যুগ যুগ ধরে টিকে আছে।
গ্রামটি নিয়ে কিছু মজার তথ্য:
নিপুণ কারিগর: এই শিল্পের মূল কারিগর হলেন গ্রামের গৃহিণী ও কন্যারা। অবাক করার মতো বিষয় হলো, তারা বাজার থেকে কেনা রঙ নয়, বরং নিজেদের হাতে তৈরি প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে এই কাজগুলো করেন।
নকশার বৈচিত্র্য: মাটির দেয়ালে সাদা আর লাল রঙের প্রাধান্য থাকলেও সেখানে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার প্রকৃতি। ফুল, লতাপাতা আর পাখির নিপুণ কারুকাজে প্রতিটি বাড়ি একেকটি ক্যানভাস হয়ে ওঠে।
ঐতিহ্যের শেকড়: মূলত পূজা-পার্বণ কিংবা বিয়ের মতো উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে এই আলপনা আঁকার রীতি শুরু হয়েছিল, যা আজ গ্রামটির পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।
পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য: গ্রামের এই নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করতে এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের পর্যটকরাও নিয়মিত ভিড় জমান টিকইলে।
কীভাবে যাবেন?
টিকইল গ্রাম দেখার পরিকল্পনা থাকলে আপনি খুব সহজেই সড়কপথে সেখানে পৌঁছাতে পারেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর কিংবা নাচোল উপজেলা সদর থেকে বাস বা সিএনজিচালিত অটোতে করে সরাসরি এই স্বপ্নিল গ্রামে যাওয়া যায়।
এক নজরে: টিকইল গ্রাম আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে মাটির ঘ্রাণ আর রঙের এই মিতালি আপনাকে অন্যরকম এক প্রশান্তি দেবে।