24/08/2024
এমন স্বার্থবাজ প্রতিবেশী একটা থাকলেই আপনার সংসারের শান্তি শেষ। দক্ষিণ এশিয়ার সবাই ছেড়ে দিছে তাদের এবার বাংলাদেশের পালা......
ইন্ডিয়া পানিকে হাইড্রো ওয়েপনস হিসেবে ব্যবহার করছে...........দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ভাষায় বলতে হবে – "নদীর পানি কখনো দুর্যোগ ডেকে আনে না, বরং মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত পারে বিপর্যয়কর বন্যার সৃষ্টি করতে"; ইংরেজিতে হবে: "Disasters are not natural, it's a choice"!
ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহমান ৫৪ টি প্রধান এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ নদীর প্রায় সবগুলো নদীতেই ভারত একাধিক বাঁধ কিংবা নানাবিধ পানির গতিপথ পরিবর্তনের স্থাপনা তৈরী করেছে। আপনি যদি গুগল-আর্থ এ গিয়ে অনুসন্ধান করেন তবে খেয়াল করে দেখবেন যে এই স্থাপনাগুলো বাংলাদেশ বর্ডারের খুবই নিকটে অবস্থিত; যদিও এই নদীগুলোর উৎস আরও বহু দূরের কোনো পর্বত বা হিমবাহ থেকে। যেমন ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে; যদিও এই ঐতিহাসিক গঙ্গা নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যর গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে যা কিনা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১,১০০++ কিলোমিটার রৈখিক দূরত্বে অবস্থিত। আবার গঙ্গা নদী আঁকাবাঁকা ঘুরে প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হলেও প্রশ্ন থেকে যায় কেন এই ফারাক্কা বাঁধ বাংলদেশের এতো নিকটে নির্মাণ করতে হবে, কেন আরও ১০০-২০০ কিলোমিটার ভিতরে বানানো হলো না, যদি আসলেই উদ্দেশ্য থাকে জলবিদ্যুত উৎপাদন করা। তিস্তা নদী, উৎপত্তিস্থল সিকিমের তিস্তা খংতাসে হিমবাহ (বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৮০+ কিলোমিটার রৈখিক দূরত্বে অবস্থিত), এর উপর দেখলাম একাধিক বাঁধ, বাংলাদেশের সবচেয়ে নিটকবর্তী বাঁধ মাত্র ৫৭ কিলোমিটার দূরে নির্মিত। অপরদিকে গোমতী নদীর উপর মহারানী বাঁধ, এটা কুমিল্লা থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত; আবার এই মুহূর্তের সবচেয়ে আলোচিত গোমতী নদীর উপর ডুম্বুর বাঁধ কুমিল্লা থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাকি নদীর বাঁধগুলোর অবস্থাও একই; সবকিছু বিবেচনা করে বলা যায় যে বর্ষাকালের বাংলাদেশের সকল ধরণের বন্যা বহুলাংশে মানবসৃষ্ট এবং এর একটা বড়ধরণের দায় ভারতকে অবশ্যই বহন করতে হবে।
ভারতের দায়গুলো হবে ভাটির প্রান্তের বাংলাদেশের সাথে কোনোরকম গঠনমূলক পরামর্শ না করে যত্রতত্র আন্তঃদেশীয় নদীগুলোতে বাঁধ নির্মাণ; প্রয়োজনের সময় পানি আটকে রেখে কিংবা ছেড়ে দিয়ে কৃত্রিম খরা বা বন্যা সৃষ্টি করা; পূর্বাভাস না দিয়ে বাঁধের গেটগুলো খুলে দেয়া কিংবা বন্ধ করা; সঠিক সময়ে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত শেয়ার না করা; কার্যকর যৌথ নদী কমিশন কিংবা বন্যা পূর্বাভাস পদ্ধতি চালু না করা; এবং সর্বোপরি এইসকল নিয়ম না মানার মাধ্যমে চরম মাত্রার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা।
©Bayes Ahmed