07/06/2026
উটের গোশত খেলে অজু ভেঙে যায় — ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা!!
উটের গোশত খেলে অজু ভেঙে যায়। তাই সালাত আদায় বা কুরআন স্পর্শ করতে চাইলে নতুন করে ওযু করা আবশ্যক।
হাদীস দ্বারা প্রমাণিত
জাবের বিন সামুরা (রাঃ) বলেন:
“রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো —
‘ছাগলের গোশত খেলে কি অজু করতে হবে?’
তিনি বললেন: ‘ইচ্ছা করলে করো।’
পরে জিজ্ঞেস করা হলো —
‘উটের গোশত খেলে কি অজু করতে হবে?’
তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, করো।’
(সহীহ মুসলিম)
অতএব, উটের যেকোনো অংশ—মাংস, নাড়িভুঁড়ি, কলিজা, চর্বি ইত্যাদি খেলে ওযু ভেঙে যাবে। কারণ রাসূল (সা.) এতে কোনো ব্যতিক্রম করেননি।
এ বিষয়ে মত প্রদান করেছেন বহু ইমাম ও সাহাবাগণ:
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম ইসহাক, ইমাম বায়হাকী, ইবনে খুজাইমা, আবু বকর ইবনে মুনজির এবং আরও অনেক মুহাদ্দিসগণ।
[সহীহ মুসলিম, ইমাম নববীর ব্যাখ্যা ৪/৪৮-৪৯]
উটের গোশত খাওয়ার পর ওযুর কারণ কী?
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
“উট শয়তান থেকে সৃষ্টি হয়েছে।”
📚 [ইবনু মাজাহ: ৭৬৯]
“প্রত্যেক উটের পৃষ্ঠে শয়তান থাকে। তাই তাতে আরোহণের সময় বিসমিল্লাহ বল।”
[আহমাদ: হাদীস ২২৭১]
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রঃ) বলেন:
“উটের গোশত খাওয়ার ফলে দেহে শয়তানী প্রভাব সৃষ্টি হয়। আর ওযু সেই প্রভাব দূর করে।”
শাইখ উছাইমীন (রঃ) বলেন:
“উটের গোশত দেহে স্নায়ুবিক উত্তেজনা তৈরি করে। ওযু করলে তা হ্রাস পায়।”
[শারহুল মুমতেঃ ১/৩০৮]
⸻
তাই, এ বিষয়ে কোনো মুসলিমের প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সহীহ মুসলিম, মিশকাত: ৩০৫]
লিখকঃমুফতি নুর মোহাম্মাদ বারাকাতী