08/11/2025
তারিখ: ২৯.১০.২০২৫,
প্রসঙ্গ : উমরা করতে কি পরিমাণ হাঁটাহাটি করা লাগে?
কপি পোস্ট
আমরা অনেকেই জানি না উমরা করতে গেলে প্রথম দিন কি পরিমাণ হাটঁতে হবে। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে প্রথমে সরাসরি মক্কা গিয়ে উমরা করতে চান তাহলে আপনার কি পরিমাণ হাঁটতে হবে সেটার একটা আইডিয়া এখানে দিচ্ছি।
প্রথমে বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট ছোট হওয়াতে খুব বেশি হাঁটা নেই। তবে জেদ্দা এয়ারপোর্টে প্লেন থেকে নামার পর থেকে এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়া পর্যন্ত বেশ ভালো পরিমাণই হাঁটতে হবে।
এরপর হোটেলের দূরত্ব নির্ধারণ করে মসজিদুল হারামের ভেতর কাবা পর্যন্ত পৌঁছাতে আপনার কতটুকু হাঁটতে হবে। আপনার হোটেল যদি ক্লক টাওয়ারেও হয় তাও আপনার ২০০ মিটার হাঁটতে হবে কাবা পর্যন্ত হেঁটে যেতে। আর এজেন্সিরা যেসব মাঝারি মানের প্যাকেজে হোটেলের দূরত্ব ৬০০-৭০০ মিটার বলে থাকে সেক্ষেত্রেও কাবা পর্যন্ত যেতে কম হলেও ১ কিলো হাঁটতে হবে।
তাওয়াফ: মাতাফে কাবার চারপাশে ১ বার তাওয়াফে কত মিটার হাঁটতে হয় এটা নির্ভর করে কাবা থেকে কত দূরে থেকে আপনি তাওয়াফ করছেন। অন এভারেজ ধরা যায় ১.৫ কি.মি হাটঁতে হবে টোটাল ৭ বার তাওয়াফ করতে কাবার চারপাশে গ্রাউন্ড ফ্লোরে।
সায়ী: সাফা থেকে মারওয়া দূরত্ব ৪৫০ মিটার। ৭ বার সায়ী করতে ৪৫০*৭= ৩.১৫ কি.মি নিম্নে হাঁটতে হবে।
সুতরাং তাওয়াফ+ সায়ী তে অন এভারেজ ৫ কিলো হাঁটতে হয়। এছাড়া এয়ারপোর্টের ভেতর, হোটেল থেকে কাবা আসা-যাওয়া সবমিলিয়ে প্রথম দিন আপনাকে ৮-১০ কিলোমিটার হাটঁতে হবে উমরা শেষ করা পর্যন্ত। আপনাকে এই পরিমাণ হাঁটার মানুষিক প্রস্তুতি নিয়েই যেতে হবে।
টিপস:
1. যারা উমরার নিয়ত করছেন তারা এখন থেকেই প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন।
2. খুব ভালো মানের ২ ফিতার জুতা ব্যবহার করুন। উমরাতে যাওয়ার আগে থেকেই সেই জুতা পরে হেঁটে কম্ফরটেবল কিনা যাচাই করে নিন।
3. কাধের ব্যাগে ভারী কিছু নিবেন না। ফিতা সিস্টেম কাধে ঝুলানো ব্যাগ যেগুলো একদম পাতলা হয় সেগুলো নিবেন জুতা, মোবাইল রাখার জন্য।
4. উমরার সকল স্টেপ বিরতি দিয়ে করুন। সরাসরি মক্কাতে গেলে হোটেলে যাওয়ার পর আগে হালকা নাস্তা রেস্ট করুন এবং এরপর মসজিদুল হারামে উমরার উদ্দ্যেশে বের হোন। তাওয়াফ শেষ করার পর বসে রেস্ট নিয়ে সায়ী করতে যান। এমনকি সায়ী করার সময়ও বয়স্ক যারা আছেন দাঁড়িয়ে অথবা বসে রেস্ট নিয়ে সায়ী করুন।
5. যারা বয়স্ক আছেন ও হেঁটে তাওয়াফ ও সায়ী করতে চান তারা এয়ারপোর্টের ভেতর ও হোটেল থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত হুইল চেয়ার সার্ভিস নিতে পারেন যাতে শুধু তাওয়াফ ও সায়ী করতে যতটুকু হাঁটতে হয় ততটুকু হাঁটলেন।
6. প্রথম দিনের ফ্লাইটের জার্নির পর যাতে ভালোভাবে রেস্ট নেয়া যায় এইজন্য আগে মক্কা না গিয়ে মদিনা যেতে পারেন। কারণ মদিনা গেলে আপনাকে আগে থেকে ইহরাম বেঁধে যেতে হয় না। একটু এডজাস্ট হওয়ার টাইম পাবেন।
7. সবশেষে আল্লাহর কাছে সর্বদা সুস্থতা কামনা করুন। দোয়ার বরকতে এতো হাঁটার কষ্ট ভুলে যাবেন ইনশাআল্লাহ।