Biskut Pagla

Biskut Pagla

সুন্দরবন সংলগ্ন একটি গ্রামের এক বিধবা নারী সেদিন আমাকে বুঝিয়েছিল বাঘ না থাকলে সুন্দরবন থাকবে না। তার মতো একজন প্রান্তিক ...
18/03/2026

সুন্দরবন সংলগ্ন একটি গ্রামের এক বিধবা নারী সেদিন আমাকে বুঝিয়েছিল বাঘ না থাকলে সুন্দরবন থাকবে না। তার মতো একজন প্রান্তিক মানুষের জানা বোঝার কাছে আমাদের মতো শহুরে মানুষের জীবন বোধ ম্লান হয়ে যায়। আসলে সব শিক্ষায় আসে প্রকৃতি থেকে। যারা প্রকৃতির কাছে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন তাঁরাই প্রকৃত অর্থে জ্ঞান অর্জন করেন।

সেবার সুন্দরবন ঘুরতে গিয়ে , ভোরবেলা বন আর মানুষের সীমানাকে আলাদা করে রাখা খাড়ির পাশে পাশে চলতে থাকা বাঁধের রাস্তার উপর দিয়ে হাটছিলাম। দেখছিলাম বনের কোল ঘেঁষে এক টুকরো সুন্দরবন আর অপরদিকে মানুষের ঘর বাড়ি। সকাল বেলা জেলেরা ছোট ছোট নৌকায় মাছ ধরছেন। কিছু মহিলাকেও দেখলাম মাছ ধরতে।

একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লাম। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সকালের সুন্দরবনের অপরূপ সূধা পান করছি। এমন সময় দেখলাম এক মহিলা আমার পাশে দিয়ে নদীর পাড়ে নেমে যাচ্ছে। নিচে একটা ছোট ডিঙি নৌকা বাঁধা আছে। হাতে বেশ কিছু জিনিস পত্র ছিল। এর মধ্যে একটা বড় টিফিনকারি বাঁটি ছিল। আমি ওনাকে ডাক দিলাম, জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় যাবেন ? জঙ্গল করতে যাবে উত্তরে আমাকে জানালেন।

কখন ফিরবেন ? ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হবে। জিজ্ঞেস করলাম এই খাবার কি নিজের জন্য ? বনের মধ্যে কি যেন নাম ঠিক মনে নেই একটা খালে ওর ছেলে কাল রাতে মাছ ধরতে গিয়েছে, তার খাবার। শেষ রাতে গিয়ে জাল পাততে হয়। এখন উনি পৌছোলে দুজন মিলে জাল ওঠাবে। আস্তে আস্তে লোকালয় থেকে দূরে সরে আসতে থাকলাম। এখানে দুপাশেই গভীর জঙ্গল। বয়স ৫০ - ৫২ হবে। কিন্তু দেখতে বেশি বয়সী মনে হয়। জীবন যুদ্ধে বয়সের কাছে পরাজিত হয়েছে। উনি একজন বাঘ বিধবা। আজ থেকে ১৫ বছর আগে স্বামীকে বাঘে খেয়েছিল। তারপর থেকেই শুরু ওর জীবন যুদ্ধ ...

আগে ওনার স্বামীর বাঘে ধরার কাহিনী শুনে নিই, তারপর তার জীবন সংগ্রামের গল্পও শুনবো ...

ধরে নেই ওনার নাম মাধুরী (ছদ্মনাম)। তখন মাধুরীর বড় মেয়ের বয়স ছিলো ১০ বছর আর ছোট্ট ছেলেটির বয়স ৫ কি ৬ বছর হবে। নিত্যদিনকার মতো সেদিনও মাধুরীর স্বামী আলো ফোটার আগেই জাল দড়ি নিয়ে চলে যায়। সাথে ছিল পাশের গ্রামের নিরঞ্জন। দুজনে বন্ধু ছিল। অনেক বছর ধরে একসাথে জঙ্গল করে। সেদিন ও শেষ বারের মত গিয়েছিল।

খালটি খুব চাপা ছিল। পারশে আর চিংড়ি পাওয়া যায় এই খালে। পূর্ব দিকে সূর্য তখন উঠে গেছে। বনের ভেতর থেকে অন্ধকার এখনও বিদায় নেয়নি। এমনিতে চাপা খাল, আবছায়া অন্ধকার । কিছুক্ষণের মধ্যেই জল নেমে যাবে ভাটা শুরু হবে। নিরঞ্জন নৌকায় জাল ছাড়াতে থাকে আর মাধুরীর স্বামী খুঁটি পুঁততে নেমেছিল খাল পারে। এমন সময় নিরঞ্জন আবছা আলোয় দেখে জঙ্গলের ভেতর কি একটা ছায়ার মতো নড়াচড়া করছে, মাধুরীর স্বামী যেখানে খুঁটি পুঁতছে তার ঠিক মাথার উপরে ...

ওকে সাবধান করার সময়ও পাওয়া গেল না। ভয়ংকর গর্জন করে এক লাফে মানুষটার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাঘের থাবার আঘাতে খালের কিনারা থেকে ছিটকে পড়ে জলেতে। বাঘও টাল সামলাতে না পেরে কাদায় গেঁথে যায় অনেকখানি। এই সুযোগে নিরঞ্জন তার বন্ধুকে বাঁচাতে নৌকার বৈঠা দিয়ে আঘাত করে বাঘের পিঠে। একবার দুবার তিনবার। বাঘ বিপদ দেখে দুই লাফে বনের মধ্যে চলে যায়। নিরঞ্জন তাড়াতাড়ি বন্ধুকে নৌকায় তোলে। রক্তে সারা শরীর ভেসে যাচ্ছে। এক টানে ছিড়ে ফেলে গায়ের জামা আর ভালো করে বেঁধে দেয় ক্ষতস্থান।

কিন্তু সুন্দরবনের বাঘেরা এতো সহজে ছেড়ে দেয় না। তার লব্ধ শিকার তার সামনে থেকে নিয়ে যাবে এটা এতো সহজ নয়। বেকায়দায় পড়ে তখন পালিয়েছিল বটে কিন্তু দৃশ্যপট ছেড়ে যায়নি। দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল। আবারও গর্জন করে লাফিয়ে পড়ে নৌকার পাশে, এবার আর নিরঞ্জনকে অবকাশ দেয় না, সামনের দুই হাতে ভর করে একলাফে উঠে পড়ে নৌকার উপর। উপায়ান্তর না দেখে নিরঞ্জন লাফ দেয় জলেতে। নেতিয়ে পড়ে ছিল নৌকার উপর মাধুরীর স্বামী। তখনও জ্ঞান ছিল। মাজায় কামড়ে ধরে মুখে তুলে নেয়। লাফ দিয়ে নৌকা থেকে নেমে ধীরে ধীরে চলে যায় বনের ভেতর। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কে রুখবে এই বনের ভেতর তাকে !! শুধু নিরঞ্জনের আস্ফালন শোনা যেতে লাগল। একা একা ফিরে এসেছিল সেদিন নিরঞ্জন। মাধুরীর কাছে পৌছে দিয়েছিল রক্ত মাখা শার্টের টুকরো।

দাঁড় বাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল মাধুরী। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছছিল। এই গল্প এর আগেও অনেকবার তাকে শোনাতে হয়েছে। কিন্তু এর পরের জীবন সম্পর্কে আর কেউ কিছু শুনতে চায় না। আমি তাকে এর পরের জীবন যুদ্ধের কথা বলতে বলি।

শুরু হয় মাধুরীর জীবনের পরের অধ্যায়....

স্বামী মারা যাওয়ার পর মাধুরীর জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। ছোট ছোট দুটি বাচ্চা। দুবেলা দুমঠো খাবার ওদের মুখে তুলে দেয়া মাধুরীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো সহযোগিতা করে না। আরও বলতে থাকে তুই ডাইনি, তুই স্বামীকে খেয়েছিস এবার আমাদেরকে খাবি।

মানুষের বাড়িতে কাজ নেয়। প্রথম দিকে ভালোই চলছিল। বাড়ির গৃহকর্ত্রী ভালো মহিলা। মাধুরীকে যথেষ্ট সাহায্য করে। কিন্তু গৃহকর্তার আচরণ দিন দিন অসভ্য হয়ে ওঠে। একদিন মাধুরীকে একা পেয়ে হাত চেপে ধরে। ওকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে মাধুরী কিন্তু অমানুষটা আরও বেশি অসভ্যতা করতে চেষ্টা করছিল। মাধুরী কষে এক চড় বসিয়ে দেয় ওর গালে। তারপর এক দৌড়ে বেরিয়ে আসে ঐ বাড়ি থেকে। আর কোনোদিন যায়নি।

মানুষের বাসায় কাজের কথা আর কোনোদিন মাথায় আসেনি মাধুরীর। কিন্তু খাবে কি ? কিভাবে মানুষ করবে বাচ্চা দুটিকে। চিন্তায় চিন্তায় পাগল হয়ে যায়। কোনো কূল কিনারা করতে না পেরে গ্রামের মাতব্বরের সাথে দেখা করে। মাতব্বর বাবার বয়সী। সে তাকে আশ্বস্ত করে, সরকার থেকে ভাতা পাইয়ে দেবে। সেদিন গভীর রাতে মাধুরীর ঘরের কড়া নাড়ে মাতব্বর। এতো রাতে মাতব্বর চাচাকে দেখে অবাক হয় মাধুরী। চাচা মাধুরীকে বলে, তার কথা মতো চললে সরকারি সব সুবিধা পাইয়ে দেবে। মাধুরী মুখের উপরে দরজা বন্ধ করে দেয়। সেদিন রাতে মা বনবিবি মাধুরীর স্বপ্নে দেখা দেন ...

সকালে উঠে মাধুরী সিদ্ধান্ত নেয়, আর কোনো মানুষের কাছে সাহায্য চাইবে না। এই বনই ওদেরকে এতো দিন খাইয়েছে, পড়িয়েছে। ঐ বনের কাছেই ও ফিরে যাবে। মা বনবিবি ওকে স্বপ্নে নির্দেশ দেন, বনে ফিরে যেতে। স্বামী হয়তো মার কোনো নির্দেশ পালন করেনি তাই তাকে শাস্তি পেতে হয়েছে। নৌকা তো ছিলই। নিরঞ্জনের সঙ্গে দেখা করে স্বামীর জাল দড়ি নিয়ে আসে। তারপর থেকেই শুরু হয় মাধুরীর বন্য জীবন ...

প্রথম প্রথম বনের বেশি ভেতরে যেত না। বাড়ির পাশের নদীতে চিংড়ির পোনা ধরতো। এভাবেই যা আয় হচ্ছিল তাই দিয়ে কোনো রকমে চলে যাচ্ছিল। বনই ওদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। খাদ্য দিয়ে, অক্সিজেন দিয়ে, মমতা দিয়ে আগলে রাখছিল ওদের। ছেলেমেয়েরা বড় হতে থাকে পরম মমতায়। ওরা এখন মাকেও সাহায্য করে। একদিন ওরা মাধুরীকে বলে, মা আমরা তো এখন বড় হয়েছি, এখন তো আমরা জঙ্গল থেকে দামী দামী মাছ ধরতে পারি। মাধুরী রাজী হয়ে যায় ...

একদিন সত্যিই ওরা তিনজনে মিলে বড় নদী পার হয়ে ছোট ছোট নদী খাল দিয়ে বনের ভেতর প্রবেশ করে। অবাক বিস্ময়ে দেখছিল সুন্দরবনের সৌন্দর্য। সেদিন জাল পেতেছিল এক খাঁড়ির ভেতর। জাল পেতে বড় নদীতে অপেক্ষা করছিল ভাটার জন্য। খাঁড়িটা দুপাশের গভীর জঙ্গল ভেদ করে ওপারে গিয়ে নদীর সাথে মিলেছে। ভাটার টান শুরু হলে ওরা বড় নদী থেকে খাঁড়ির দিকে আসতে থাকে। যতক্ষণে ওরা খাঁড়ির মুখে ততক্ষণে জল নেমে গেছে। নৌকা নিয়ে আর ঢুকতে পারবে না। খাঁড়ির মাথায় নৌকা নোঙর করে রাখলো। তারপর তিনজনে নেমে পড়ে খাঁড়ির কাদায় ...

খাঁড়িটা সামনে কিছুটা এগিয়ে ডানে বাঁক নিয়ে চলে গেছে বনের গভীরে। ঐ বাঁকের মুখে ওরা জাল পেতেছিল। বাঁক ঘুরতেই একদম চোখাচোখি ...

এর আগে ওদের তিনজনের কেউই বাঘ দেখেনি। আজ দেখছে। একদম চোখের সামনে। কতো বড় জানোয়ার আর কি সুন্দর দেখতে। হলদে ডোরাকাটা পেশীবহুল শরীর। সূর্যের আলোতে চিক চিক করছিল। ওদের মাঝে ১৫ - ২০ হাতের ব্যবধান। দু পক্ষই অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে। দুজনেই দুজনকে দেখছে। ওদের তিনজনের কাছে লাঠি আছে। কিন্তু সেটা ওঠানোর কথা একবারও মনে হয় নি।

ওদের পাতা জাল থেকে মাছ ধরে খাচ্ছিল। জল নেমে গেলে সব মাছ জালে আটকা পড়েছে। জাল থেকে একটা একটা করে মাছ ধরছে আর মুখে চালান করে দিচ্ছে। কোনো দ্বিধা নেই, সংকোচ নেই। একটু ভয়ও পাচ্ছে না, কেনই বা পাবে, এই বনে কে আছে যে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। ঐ তিনটি মানুষ ? না এতো সাহস ওদের নেই। পেট ভরে গেলে আস্তে আস্তে জঙ্গলের ভেতর দিকে চলে যায়। চলে যায় তবে পলাতকের মতো করে নয়, রাজার মতো করেই প্রস্থান।

মাধুরী দুই ছেলে মেয়েকে দুই হাতে চেপে ধরে থাকে। ফিস ফিস করে বলে "চুপ করে এইকানে দাঁড়িয়ে থাক, নড়বিনে একফোঁটাও। ও আবারও ফিরে আসতি পারে, তোদের বাপজানকে এমন করেই ফিরে এসে নিয়ে গেছিলো।"

তিনজন এক হাতে লাঠি আর এক হাতে একে অন্যকে শক্ত করে ধরে আছে। নিলে ওদেরকে একসঙ্গেই নিতে হবে, এমন একটা ভাব। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে, বনের ভেতর থেকে কোনো নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না। এবার মাধুরী আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়ে জাল গোছাতে থাকে। মাছের ভারে জাল টেনে তোলাই মুস্কিল। ছেলেটা জাল থেকে মাছ ছাড়িয়ে খলুইতে রাখতে যাচ্ছিল। তাই দেখে মাধুরী হিস হিস করে ওঠে, "খবরদার অতো বাড়া বারিসনে বাজান। জাল ঔঠে একান থেইকে চল জলদি। শেয়াল বেশি দূর যায়নি গো, লুইকে লুইকে ঠিকই আমাদের দ্যাখছে গো।"

ওরা তাড়াতাড়ি জাল গুছিয়ে নৌকায় ফিরে আসে। মাধুরী নাও ভাসিয়ে দেয় জলে। খাঁড়ির মাথায় থেকে রওনা দিয়ে কিছুটা এগিয়ে গেলেই সামনে আরেকটি খাঁড়ির প্রবেশ মুখ। সেখানেই গলা উচিয়ে ওদের নৌকার দিকে তাকিয়ে আছে বনবিবির বাহন। মাধুরী চিৎকার করে ওঠে, "দেখেচিস আমি বলেছিলাম না ও ঠিকই আমাদের দ্যাখছে। নে, আর ভয় নেই মা বনবিবি ওকে পাঠিয়েচিলো তোদেরকে দেকে রাকার জন্যি। এর পর থেকে মাছ মারতি আসলি পারে কয়টা মাছ ওর জন্যি থুয়ে যাবি"।

নৌকাটা একটা খালের মুখে দাঁড়িয়ে গেল। দূরে খালের ভেতর একটা নৌকা দেখা যায়। মাধুরীর দিকে তাকালাম, মায়ের মমতা নিয়ে তাকিয়ে আছে দূরের নৌকার দিকে। নৌকাটা এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে। মাধুরী বললো, মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দিয়েছি, ও, ভালোই আছে, জামাই চাকরি করে। নৌকাটা আমাদের নৌকার পাশে এসে দাঁড়াল। বছর বিশেকের সুঠাম দেহের যুবক। মাধুরী আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল, তোর এই ভাই আমাদের নিয়ে গল্প নিখবেন। তোর বাপের মতন যাদের বাঘে খেয়েছে তাদের নিয়ে নেখেন।

সুন্দরবনের এই অঞ্চলে বনবিবিকে নিয়ে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে, আর তা জানতেই আপনাদের কে যেতে হবে বাদাবনে। মূলত সুন্দরবনের কোল ঘেসা মানুষের কাছে সুন্দরবনের নাম বাদাবন।

মনের মাঝে সুন্দরবন ঘোরার বাসনা থাকেনা এমন বাংলাদেশি খুঁজে পাওয়া কঠিন৷ কিন্তু সুন্দরবন মানেই অনেক টাকা খরচ। জাহাজে রাত থাকা। এ যাত্রায় সেই পথে না গিয়ে একটু ভিন্ন পথেই সুন্দরবন ঘুরতে তাই বেরিয়ে পড়েছিলাম দল বল পাকিয়ে। নিজে পায়ে হেটেই বাঘের নিয়মিত বিচরন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়ানোয় মাঝে আছে এক প্রকার গাঁ ছমছমে কিন্তু রোমাঞ্চকর অনুভূতি। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বাগেরহাট ঘুরে এসে পড়েছিলাম আমরা মংলায়।

আমরা মূলত যাব সুন্দরবন এর চাঁদপাঁই রেঞ্জের দক্ষিন চিলা গ্রামে। আর তাই মংলা পৌছেই আমাদের প্রথম কাজ পশুর নদী পাড়ি দেয়া। এক্ষেত্রে জন প্রতি ৫ টাকা নৌকা ভাড়া আর ১ টাকা ঘাটের টোল প্রদান করে নদী পার হলাম। যেতে হবে আরো পথ। তাই দামাদামি করে ২২০ টাকায় একটি অটো রিজার্ভ নিলাম। প্রায় ১২ কিলো পথ পাড়ি দিয়ে এবার আমাদের বৈদ্যমারী যাবার পালা, সেখানেই আছে বনের ধারে আমাদের রাত কাটানোর ঠাঁই। সুন্দরবনকে এখানকার স্থানীয়রা মূলত বাদাবন বলেই ডাকে। চিংড়ির ঘের ঘেরা গ্রামীন ব্যাপক ন্যাচারাল বিউটি গিলতে গিলতে আমাদের ছুটে চলা দক্ষিন চিলা পথে।

প্রায় ৩০ মিনিট পথ চলার পর অতঃপর আমরা এসে পৌছুলাম দক্ষিন চিলায়। বেশ গহীনে এই গ্রাম হলেও আধুনিক জীবন যাত্রায় অনেক কিছুর ছোঁয়া পাবেন এখানে। এখানে আছে বিদ্যুৎ , আছে মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক ।

ঘরে বসে সুন্দরবনের পাক-পাখালির ডাক। পায়ে হেঁটে সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ। নিরাপত্তার সঙ্গে নিশিযাপন। মানসম্মত খাবার গ্রহণ। সেই সাথে স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে ভ্রমণ করেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন উপভোগের সুযোগ। এই সব কিছুই এক সাথে পেতেই মূলত আমরা ছুটে এসেছি এই বাদাবনে। স্থানীয় গ্রামীন পিছিয়ে পড়া জনগনের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পর্যটন বিকাশের স্বার্থে স্থানীয় কিছু এনজিও এর সহায়তায় কমিউনিটি ইকো ট্যুরিজম এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে চাঁদপাঁই ফরেস্ট রেঞ্জের আওয়ায় গড়ে তোলা হয় বেশ কিছু থাকার মত জায়গার। এই এলাকার স্থানীয় পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলোই মূলত কেউ দেবে থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে, কেউ করবে দুপুরের খাবারের বাজার সরবরাহ, কেউ বা করবে রান্না, কেউ আবার ক্যানেল ক্রুজিং করিয়ে নিয়ে আসবে আপনাদের কে। এমনি ভাবে স্থানীয় সকল মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতেই স্থানীয় এনজিও এর উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকটি কটেজ।

যাবার আগে অবশ্য দেখতে ভুলবেন না, সুন্দরবন নিয়ে অনেক গল্প ও আপনাদের মনের নানান প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে দেখতে পারেন যেখানে বিস্তারিত -

🌿 ম্যানগ্রোভে মাতামাতি । সুন্দরবন
📽 https://youtu.be/1POzqNbXnJs

বনে যাবার আগেই, ব্যাগ বস্তা রাখা দরকার তাই প্রথমেই কটেজে যাওয়া। কটেজে প্রবেশ পথের শুরুতেই পড়বে পুকুর আর তার পাড়ে রিসিপশন ও ডাইনিং এরিয়া। পুকুরের উপরেও রয়েছে বসে আড্ডা দেবার মতন সুন্দর ব্যবস্থা। এখানে রিসিপশন ও ডাইনিং রুমটির ও কিছু বিশেষত্ব আছে। এখানে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো সুন্দরী গাছের কংকাল দিয়েই তৈরি তাদের বসার সোফা। সেই সাথে প্রায় শত বর্ষী কিছু টালি ব্যবহার করা হয়েছে ছাদ তৈরীতে।

চিংড়ি ঘেরের উপর, সম্পূর্ণ ইকো ফ্রেন্ডলি ইকুইপমেন্ট দিয়েই বানানো দুটো কটেজ। যে দুটো আপাতত আজ রাতের জন্য আমাদের। যার একটির নাম শুশুক, আরেকটা ইরাবতী। মূলত দুটো কটেজের নামই ডলফিনের দুটি প্রজাতীর নামে। এই দুই প্রজাতির ডলফিনের দেখা পাবেন এখানে। উপরে গোলপাতার ছাদ৷ তার ভেতরে বাঁশ, বেত আর কাঠ দিয়ে তৈরি এই স্থাপনা।

এসেই ফ্রেস হতেই, চলে আসলো আমাদের জন্য দেশি স্থানীয় ফল। স্থানীয় গাছের আমড়া মাখানো। খেয়ে দেয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম। সেই সাথে রুমের সাথে লাগোয়া সিটিং এরিয়াতে বসে আড্ডা দিতে দিতে, আর চিংড়ি ঘেরে আনলিমিটেড নৌকা চালাতে চালাতেই ডাক পড়লো লাঞ্চের।

এ যাত্রায় দুপুরের খাবারের আয়োজন হিসেবে আছে ঘেরের চিংড়ি, আছে স্থানীয় দেশি মুরগির মাংস, আলু ভর্তা, ভারি ডাল, স্থানীয় বিষ মুক্ত অর্গানিক সবজি, সাথে স্থানীয় অসাধারণ স্বাদের মিস্টি দই। নানান সময় নানান রিসোর্ট বা কটেজে দল বেধে ঘুরলেও খানিকটা ব্যাতিক্রম এ যাত্রায়। এই প্রথম প্রতিটা সদস্যই মুগ্ধ খাবারের স্বাদে। খাবার খেয়ে এবার খানিক বিশ্রাম নেবার পালা। এখানে ঘেরের সাথে লাগোয়া আছে হ্যামক, আছে বিচ চেয়ার। সেগুলোতে বসে বা শুইয়ে কাটিয়ে দেয়া সম্ভব পুরো একটা বেলা। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম। কারন বিকেল হলেই বেড়িয়ে পড়বো ক্যানেল ক্রুজিং এ।

বিকেল ৫ টা ছুই ছুই, ছোট দিনের বেলা এখন তাই বেড়িয়ে পরলাম লিটন ভাই সাথে আমরা। মোঃ লিটন জমাদ্দার ভাইয়ের মূলত স্বপ্নের প্রজেক্ট এই বাদাবন ইকো কটেজ। তিনি একজন প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড ও। মাত্র ৫ মিনিট এর পথ হেটেই আমরা ঢুকে পরলাম সুন্দরবন এর চাঁদপাঁই রেঞ্জের বৈদ্যমারী বন বিট অফিসে। এখান থেকেই মূলত সংরক্ষিত বন এর শুরু। আমাদের ভাগ্য কিছুটা খারাপ কারন এখন চলছে ভাটা। জোয়ার আসবে গভীর রাতে। আর তাই নৌকা নিয়ে ক্যানেল ক্রুজিং আর কপালে নেই এই যাত্রায়। তাই পায়ে হেটেই ঢুকে পড়লাম আমরা সুন্দর এর ভেতরে সেই সাথে লিটন ভাই এর কাছ থেকে শুনতে থাকলাম বাঘ নিয়ে তাদের নানান বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা। বন এর খানিক ভেতরে ঢুকতেই প্রথমেই দেখা পেলাম এক বন বিড়ালের পায়ের ছাপ যা পেরিয়ে একটু সামনেই একটি বট গাছ, এই গাছের একটা বিশেষত্ব আছে, এই গাছের গোড়াতে মুসলিম মৌয়াল বা বাউয়ালরা কালু গাজীর নামে সিন্নি মানত করে।

আধ্যাত্মিক কালু গাজীর প্রসঙ্গ যখন উঠে তখন সুন্দরবনের মানুষ জানায় তারা কালু গাজীকে সাধক ও দরবেশ মনে করে এবং দাবী করে যে তিনি বনে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে পথ দেখিয়ে লোকালয়ে নিয়ে আসতেন, বাঘের মুখ থেকে বাঁচাতেন, বন্য শুকরের কবল থেকে উদ্ধার করতেন। তারা এটাও বলে, তাকে চাইলেই দেখা যায় না, তার ঘর বাড়ী কেউ দেখেনি তবে বিপদে পড়া মানুষকে তিনি উদ্ধার করতেন। সাত আট বছর আগে চার যুবক এক বাঘের কবলে পরে, বাঘ তাদের উপর ঝাপিয়ে পরার ঠিক আগে কোথা থেকে যেন কালু গাজী এসে হাজির হন এবং যুবকদের বলেন 'আমার পেছনে দাড়া', এরপর তিনি এক অপলকে তাকিয়ে থাকেন বাঘের চোখের দিকে, এক সময় বাঘ পিছু হটে যায়; তিনি তারপর যুবকদের লোকালয়ে পৌছিয়ে দেন কিন্তু যুবকরা তাকে ধন্যবাদ দেবার আগে সন্ধ্যা -আলোয় মিলিয়ে যান। তাকে বহুদিন দেখা যায় না তবে সন্ধ্যে নামার সময় বা বিশাল ঝড় উঠার আগে কাকে যেন এখনো দেখা যায় সেজদা দিচ্ছে; স্থানীয়রা ধারনা করে নেয় কালু গাজী নামাজ পরছেন।

কালু গাজীকে সুন্দরবন এর হিন্দু - মুসলিম উভয় সম্প্রদায় বিশ্বাস করে ও মেনে চলে। কালু গাজীর মতন হিন্দু সম্প্রদায় আরেকজনের পূজা করেন তিনি- বন বিবি। কালু গাজীর মানতের গাছ পেরিয়ে দল বল ছেড়ে কাঁদা মারিয়ে আমি আরো গহীনে ঢুকে পরলাম বন বিবির পূজা হবার গাছের সন্ধানে। খানিক ভিতরে মৃত প্রায় আরেক বট গাছ। আর সেই গাছের গোড়াতেই হয় মূলত বন বিবির পূজা।

বনবিবি হলেন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত সুন্দরবন অঞ্চলে মৎস্যজীবী, মধু-সংগ্রহকারী ও কাঠুরিয়া জনগোষ্ঠীর দ্বারা পূজিত এক লৌকিক দেবী তথা পিরানি। উক্ত জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বনবিবির পূজা করে। বনবিবি, বনদেবী, বনদুর্গা, ব্যাঘ্রদেবী বা বণচণ্ডী নামেও পরিচিত। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের সুন্দরবন অঞ্চলেই হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঘের হাত থেকে রক্ষা পেতে বনবিবির পূজা করেন।

ইতিহাস গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সুন্দরবন এলাকায় দক্ষিণরায়, বণিক ধোনাই ও মোনাই এবং গাজীর অস্তিত্বের কথা জানা যায়। বনবিবি ছিলেন ইব্রাহিম (মতান্তরে বেরাহিম) নামে এক আরবের কন্যা। ইব্রাহিমের স্ত্রী গুলাল বিবি সতীনের প্ররোচনায় সুন্দরবনে পরিত্যক্ত হলে সেখানেই বনবিবির জন্ম হয়। কথিত আছে, গুলাল বিবি মদিনা এবং ইব্রাহিম মক্কা হতে আগত ছিলেন।

সুন্দরবনের এই অঞ্চলে বনবিবিকে নিয়ে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে,

এক সওদাগরের দুই সুন্দরী স্ত্রী ছিলেন। ছোটো বউয়ের চক্রান্তে সন্তানসম্ভবা বড়ো বউ গুলালবিবি সুন্দরবনে নির্বাসিতা হন। কয়েকদিন পর সেখানেই যমজ পুত্র-কন্যার জন্ম দিয়ে তার মৃত্যু হয়। সদ্যোজাত শিশু দু'টির কান্না শুনে বনের বাঘ, কুমির, হরিণ, অজগর, বানর সবাই ছুটে আসে। তারাই দুই ভাইবোনকে লালনপালন করে বড়ো করে তোলে। ছেলেটি বড়ো হয়ে বাঘের রাজা এবং মেয়েটি বনবিবি নামে পরিচিত হয়। স্থানীয় বিশ্বাসে এই বনবিবি হলেন মানুষের রক্ষাকর্ত্রী। তারা মনে করেন, বনের বাওয়ালি-মৌয়ালেরা বাঘের মুখে পড়লে বনবিবির নাম স্মরণ করে মন্ত্র পড়ে আর সঙ্গে সঙ্গে বাঘও দৌড়ে পালিয়ে যায়। অদ্যাবধি স্থানীয় মানুষ বনে কাজে যাওয়ার আগে তাই বনবিবির পূজা করে।

প্রতি বছর মাঘ-ফাল্গুন মাস নাগাদ বনবিবির বাৎসরিক পূজা হয়। এই পূজায় ব্রাহ্মণেরা পৌরোহিত্য করেন না, করেন নিম্নবর্ণীয় হিন্দুরা। বনবিবির পূজায় নিরামিষ নৈবেদ্য নিবেদনের রীতি আছে, বলি হয় না। কখনও বা তাঁর নামে জীবন্ত মুরগি ছেড়ে দেওয়া হয়। দেবীর পূজায় মন্ত্রতন্ত্রের কোনও বিধি নেই, নামাজের কলমা পড়ে ভক্তদের জন্য ‘দোয়াদরিত মাঙা’ হয়। হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এখানে পূজা-হাজত দেন ও ‘দোয়াদরিত’ প্রার্থনা করেন। দুটি ভিন্ন ধর্ম যেন মিলেমিশে গেছে সুন্দরবন এর এসে বনবিবি ও কালু গাজীর মাঝেই।

চাঁদপাঁই রেঞ্জের এই এরিয়াতে বাঘের আনাগোনা একটু বেশিই। কাঁদা মারিয়ে আমরা পথ চলছি এমন সময় জানা গেল বৈদ্যমারীর টহল ফাঁড়ির দক্ষিনে তাজা বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে৷ পথ ঘুরে সাঁকো পেরিয়ে বনের কোল ঘেষা পথ ধরে ছুটলাম আমরা। খাল পেরিয়ে খানিক গহীনে ঢুকার মুখেই বাঘের পায়ের ছাপ। অভিজ্ঞ জনরা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বললো এই বাঘের পায়ের ছাপ কয়েকঘন্টা আগের। কারন এখনও জোয়ার আসেনি। জোয়ার আসলে ছাপ মুছে যেত কিংবা একটা পলি অন্তত পড়তো ছাপের উপরে। কিন্তু এই ছাপে কোন পলি নেই। পায়ের ছাপ ধরে আরেকটু আগাতেই দেখি ছাপ চলে গেছে বনের আরো গহীনে। এই পথে প্রবেশ একদমি নিষেধ। তাই ফিরতী পথ ধরলাম। লিটন ভাই এর সাথে গল্প করতে করতে শুনছিলাম তার অভিজ্ঞতার কথা, নিজ চোখে বাঘ দেখা কিংবা বাঘে ধরা মানুষ এর বিভৎস লাশ উদ্ধার এর কথা। বৈদ্যমারির এই স্থানের পূর্বে সেই শরনখোলা রেঞ্জ আর দক্ষিনে চাঁদপাই রেঞ্জ সুন্দরবনের। ঘুরে ফিরে সন্ধ্যা হতে চললো যখন তখন ফিরলাম আমরা কটেজে। ফ্রেস ট্রেস হয়েই দেখি সন্ধ্যার স্ন্যাকস হিসেবে হাজির গরম গরম পিঁয়াজু আর ধোঁয়া উঠা গরম চা। সুন্দর করে পরিবেশন করা যে খাবার স্বাদের সাথে সাথে রুপেও আপনাকে মুগ্ধ করবে। সন্ধ্যার অসাধারণ নীলচেলাল আকাশের নিচে ঘেরের ধারে সিটিং এরিয়াতে বসে চা খেতে খেতে হারিয়ে যাবেন অসাধারণ অনুভুতি মাঝে সেই গ্যারান্টি এ যাত্রায় আমি দিতে পারি।

সন্ধ্যার পর আমরা আড্ডা গল্প গানে পার করলাম সেই সাথে করলাম মাছ ধরার বৃথা চেস্টা। কেউ কেউ আবার রাতের আধারেই নৌকা নিয়ে নেমে পড়লাম ঘেরে। অসাধারণ রাত অসাধারণ অনুভূতি। এদিকে শুরু হয়ে গেছে আমাদের বার-বি-কিউ এর আয়োজন। চিকেন সাথে সাথে স্থানীয় কাঁকড়া, পরাটা আর কোল্ড ড্রিংক্স এর আয়োজন ছিল ডিনারে। ডিনার করে পুকুরের উপর বসে চললো আমাদের আড্ডা। কখনো পুকুরের উপর কখনো হ্যামকে ঝুলে গান, কখনো বা কটেজের বারান্দায় বসে আমাদের আগের ট্রিপ গুলোর মজার মজার স্মৃতি চারন ও দুস্টামি। আর তাই করতে করতে হয়ে এলো গভীর রাত। এবার যে ঘুমাতে যাবার পালা। কারন উঠতে হবে অনেক সকালে, বেড়িয়ে পড়তে হবে সুন্দরবন এর আরো গহীনে হারিয়ে যাবার জন্য। চলবে.....

দেশবাসী, ট্যুরে যান, ট্রেকিং এ যান। যেখানে মন চায় যান যেভাবে মন চায় যান। কিন্তু প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছুই করবেন না প্লিজ।

টিমঃ ঘুরুঞ্চি
রিসোর্টঃ বাদাবন ইকো রিসোর্ট, সুন্দরবন
কৃতজ্ঞতা স্বীকার - তৌহিদাস সালাম

04/02/2026

ঢাকার পূর্বাচল থেকে মাত্র ২০০০ টাকায় প্রিমিয়াম এসি হাউজবোটে ডে লং ট্রিপ ⛵

17/01/2026

ঢাকার পূর্বাচল ৩০০ ফিটে'ই এখন টাঙ্গুয়ার হাওরের আতিথেয়তা দ্যা হাউজবোটে। যার ডে লং প্যাকেজ মাত্র ২০০০ টাকা থেকেই শুরু🌿

You can’t buy happiness, but you can buy plane tickets, which is kind of the same thing 🌿
03/01/2026

You can’t buy happiness, but you can buy plane tickets, which is kind of the same thing 🌿

Make a comeback,before returning to the pavilion 🌿Nikon D7000 | 50mm | Rangpur
03/01/2026

Make a comeback,
before returning to the pavilion 🌿
Nikon D7000 | 50mm | Rangpur

শুভ নববর্ষ 💛 নতুন বছর সকলেই জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
31/12/2025

শুভ নববর্ষ 💛 নতুন বছর সকলেই জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

আসুন জানি, বাংলাদেশের নদ-নদী নিয়ে 😁
31/12/2025

আসুন জানি, বাংলাদেশের নদ-নদী নিয়ে 😁

27/12/2025

মানুষ খেকো সব পাহাড়ের গল্প

Address

Dhaka

Telephone

+8801676502072

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Biskut Pagla posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Biskut Pagla:

Shortcuts

Share