02/05/2026
মিনা: হজের সেই উপত্যকা, যেখানে রাত কাটে, আর ভেতরের মানুষটা বদলাতে শুরু করে।
মক্কা থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে
একটা উপত্যকা, মিনা।
হজের দিনগুলোতে এখানেই এসে থামে লাখো মানুষের সফর।
৮ জিলহজে হাজিরা এখানে আসেন,
আর থাকেন ১১, ১২…
অনেকে ১৩ তারিখ পর্যন্তও।
এই কয়েকটা দিন
এই জায়গাটাই হয়ে ওঠে তাদের অস্থায়ী ঠিকানা।
মিনার নামটা শুধু একটা জায়গার নাম না,
এর ভেতরেই একটা ইতিহাস, একটা অর্থ লুকিয়ে আছে।
“মিনা” শব্দের মূল অর্থের সাথে জড়িয়ে আছে
পরীক্ষা, চাওয়া, আশা।
হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সেই কঠিন পরীক্ষা
প্রিয় সন্তানকে কুরবানি করার নির্দেশ
এই মাটির সাথেই সেই স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
আবার এই জায়গাতেই
কুরবানির রক্ত প্রবাহিত হয়
ঈদুল আযহার দিন,
হাজার হাজার কুরবানির মাধ্যমে।
বিদায় হজে রাসূল ﷺ-ও
এখানেই কুরবানি করেছিলেন
নিজ হাতে ৬৩টি উট,
আর বাকি ৩৭টি কুরবানি করেছিলেন হযরত আলী (রা.)।
এই মিনাতেই আছে জামারাত,
তিনটি স্তম্ভ,
যেখানে হাজিরা পাথর নিক্ষেপ করেন।
দেখতে সহজ
কিন্তু এর ভেতরে আছে এক গভীর প্রতীক
নিজের ভেতরের শয়তানকে প্রত্যাখ্যান করা।
কুরআনে আল্লাহ বলেন,
“আর তোমরা গোনা দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নেই এবং যে ব্যক্তি বিলম্ব করে আসে তারও কোন পাপ নেই। এটা তার জন্য যে তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ যে, তোমাদেরকে তাঁর নিকট সমবেত করা হবে।”
~ সূরা আল-বাকারা (২:২০৩)
এই “নির্দিষ্ট দিন”—
সেটাই এই মিনার দিনগুলো।
এই উপত্যকায় আছে আরেকটা নীরব স্মৃতি
“গারে মুরসালাত”,
যেখানে অবস্থানকালে
রাসূল ﷺ-এর ওপর নাযিল হয়েছিল সূরা আল-মুরসালাত।
ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও
ঘটেছিল এই মিনাতেই—
মদিনা থেকে আসা ১২ জন সাহাবা
এখানেই প্রথম বায়আত করেছিলেন
শিরক না করা,
চুরি-ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা,
সত্যের ওপর অটল থাকা।
এই প্রতিশ্রুতিই বদলে দিয়েছিল ইয়াসরিবকে
যা পরে হয়ে ওঠে মদিনা।
আজকের মিনাকে দেখলে
পুরোটা একটা তাঁবুর শহরের মতো লাগে।
প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায়
এক লাখেরও বেশি এয়ার-কন্ডিশন্ড তাঁবু—
যেখানে প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন হাজি অবস্থান করেন।
সবকিছু মিলিয়ে
মিনা শুধু হজের একটি স্টপ না।
এটা এমন একটা জায়গা,
যেখানে ইবাদত, ইতিহাস আর ব্যক্তিগত অনুভূতি
একসাথে মিশে যায়।
এই কয়েকটা দিনেই
মানুষ শুধু আমল করে না
নিজের ভেতরের দিকেও তাকাতে শুরু করে।
+