01/01/2026
🌅 সেদিন সূর্য ওঠার কয়েক ঘণ্টা পর—
মদিনায় নেমে এলো অন্ধকার।
একটি প্রশ্ন…
যা বদলে দিল ইতিহাস।
একটি প্রশ্ন…
যা প্রত্যেক নবীকেই করা হয়েছিল।
জিবরাঈল (আঃ) এসে সেই প্রশ্নই করলেন—
“আপনি কি অনুমতি দেন—
মৃত্যুর ফেরেশতা আপনার কাছে প্রবেশ করুক?”
রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন
তাঁর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ)-এর বুকে শুয়ে।
তিনি আকাশের দিকে ইশারা করলেন।
একটি শব্দ বললেন—
✨ “রাফীকুল আ’লা”
(সর্বোচ্চ সঙ্গী)
এই একটি শব্দেই বোঝা গেল—
তিনি ﷺ আল্লাহর কাছে ফিরে যাচ্ছেন।
আয়িশা (রাঃ) বলেন—
“আমি তাঁর ওজন আমার বুকে অনুভব করলাম।
তাঁর হাত ঢলে পড়ল।
আর তাঁর দেহ থেকে বের হতে লাগল এক অদ্ভুত সুবাস—
এমন সুগন্ধ, যা আমি কখনো ভুলতে পারিনি।”
হঠাৎ তিনি চিৎকার করে উঠলেন—
“রাসূলুল্লাহ ﷺ ইন্তেকাল করেছেন!”
এই একটি বাক্য—
মদিনার বুক চিরে বেরিয়ে গেল।
খবর ছড়িয়ে পড়ল।
মানুষ দৌড়ে এলো।
কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না।
তখন আবু বকর (রাঃ) এলেন।
নবী ﷺ-এর কপালে চুমু খেলেন।
বললেন—
“আপনি জীবনে যেমন পবিত্র ছিলেন,
মৃত্যুর পর আরও বেশি।
আপনি সেই মৃত্যু আস্বাদন করেছেন
যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছিলেন।
এখন আর কোনো কষ্ট নেই।”
তারপর তিনি মিম্বারে উঠে এমন কথা বললেন—
যা আজও আমাদের টিকিয়ে রেখেছে।
“যে মুহাম্মদ ﷺ-এর ইবাদত করত—
সে জেনে রাখুক, মুহাম্মদ ﷺ নেই।
আর যে আল্লাহর ইবাদত করে—
সে জানুক, আল্লাহ চিরন্তন।”
তারপর তিলাওয়াত করলেন—
📖 “মুহাম্মদ একজন রাসূল।
তাঁর আগেও বহু রাসূল এসেছেন…”
(সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪)
অনেকের পা কেঁপে উঠল।
অনেকের চোখ খুলে গেল।
তারপর প্রশ্ন উঠল—
নবী ﷺ-কে কোথায় দাফন করা হবে?
উত্তর এলো—
“যেখানে নবীদের মৃত্যু হয়—
সেখানেই তাদের দাফন করা হয়।”
আয়িশার (রাঃ) ঘরেই
বিছানা সরিয়ে কবর খোঁড়া শুরু হলো।
দুপুরে আবু বকর (রাঃ) বিলাল (রাঃ)-কে আজান দিতে বললেন।
কিন্তু যখন বিলাল বললেন—
🕌 “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ…”
তাঁর কণ্ঠ থেমে গেল।
আর এগোতে পারলেন না।
আজান সম্পূর্ণ করলেন
আবু বকর (রাঃ) নিজেই।
👉 কখনো ভেবেছেন—
এই একটি লাইন
মদিনার মানুষের বুক কীভাবে চিরে গিয়েছিল?
তিন দিন ধরে—
পুরুষ, নারী, শিশু—
এক এক করে এসে বিদায় জানাল।
শেষ রাতে,
যখন মাটির শব্দ শোনা গেল—
আয়িশা (রাঃ) বললেন—
“আমরা বুঝলাম—
শেষ সালাম শেষ হয়েছে।”
তিনি আলী (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন—
💔 “হে আলী,
কীভাবে তোমার হৃদয় মানল
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর মাটি ফেলতে?”
আলী (রাঃ) কোনো উত্তর দিতে পারলেন না।
কিছু প্রশ্নের উত্তর—
শব্দে আসে না।
এরপর মদিনা বদলে গেল।
কোনো শিশু জন্মালে মানুষ বলত—
“ইশ! রাসুলুল্লাহ ﷺ থাকলে এই শিশুটিকে দেখতেন…”
কেউ মারা গেলে বলত—
“এখন আর রাসুলুল্লাহ ﷺ নেই,
যিনি জানাজা পড়াতেন…”
প্রতিটি আজানে—
“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ”
বললে—
পুরো মদিনা কেঁপে উঠত কান্নায়।
আজও—
প্রতিটি শহরে,
প্রতিটি সালাতে,
প্রতিটি হৃদয়ে—
আমরা তাঁকে অনুভব করি।
🤍 আজও যখন মদিনায় আজান শুনি—
“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ…”
অন্তরটা কেঁপে ওঠে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে অনুভব করি।
হায়…
আমি যদি মদিনার ধুলায় মিশে থাকতাম।
আপনারও কি এমন অনুভূতি হয়?
মূল: Shaykh Yahya Ibrahim – The Final Moments of Prophets ﷺ
#রবের_কাছে_ফেরার_দিন