Travel Tales

Travel Tales A solo traveler who wishes to travel across the world

14/06/2025

প্রথম ট্রেকিং? না জেনেই চলে গেলে বিপদে পড়বেন!

পর্ব ১: প্লানিং ও প্রস্তুতি

ট্রেকিংয়ের জন্য প্রথমে দরকার ঠিকঠাক প্ল্যানিং আর প্রস্তুতি, নয়তো রোমাঞ্চের বদলে আজীবনের ট্রমা হয়ে যেতে পারে। দুর্ঘটনায় হতে পারে মৃত্যুও।

প্লানিং আর প্রস্তুতিতে যা মাথায় রাখবেন:

১. পাহাড়ে কেন যাচ্ছেন, সেটা নিজেকে জিজ্ঞেস করুন
শুধু ফেসবুক কভারের জন্য বা ট্রেন্ড ফলো করার জন্য হলে শুরুতেই ট্রেকিংয়ের প্লান বাদ দিন। গল্প-আড্ডা-গান, কিছু ছবি তোলা আর পাহাড় দেখা উদ্দ্যেশ্য হলে অনেকরকম অপশন আছে। নিজের কম্ফোর্ট জোনের বাইরে গিয়ে আউটডোর অ্যাক্টিভিটি এনজয় করার আগ্রহ থাকলেই কেবল ট্রেকিংয়ের প্লান করুন।

২. ডেস্টিনেশন এবং রুট নিয়ে বিস্তারিত জানুন
যে জায়গায় যেতে চাচ্ছেন সেই জায়গার সব তথ্য জোগাড় করুন। যেমন: যাওয়ার পথ কতটা কঠিন বা সহজ, প্রথম ট্রেকের উপযোগী কি না, কোন সিজনে যাওয়া যায়, থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা কী, সেখানে যাওয়ার অনুমতি আছে কি না, গাইড প্রয়োজন কি না ইত্যাদি। হেঁটে কেমন উচ্চতায় উঠতে এবং নামতে হবে, ঝিরি আছে কি না এসব তথ্যও জেনে নিন। ইউটিউবে এবং ফেসবুকে জায়গাটির ভিডিও দেখে নিন।

৩. আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখুন
ট্রেকে যাওয়ার আগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো আবহাওয়ার অবস্থা আগে থেকে পর্যবেক্ষণ করা। বৃষ্টি হলে পিচ্ছিল পথ এবং ফ্ল্যাশফ্লাড, প্রচন্ড গরমে হতে পারে ডিহাইড্রেশন বা হিটস্ট্রোক। তাই ট্রেকের দিন-তারিখ ঠিক করার জন্য আবহাওয়ার অবস্থা দেখতেই হবে। শুধু ট্রেকের দিনেরই নয়, আগে-পরের কয়েকদিনের আবহাওয়ার খেয়াল রাখতে হবে। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে সেভাবে। পাহাড়ের আবহাওয়া চেঞ্জ হতে পারে যখন-তখন, তার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।

৪. ট্রিপ ক্যালেন্ডার বানান
তারিখ, সময়, যাতায়াত ব্যবস্থা, রাতে থাকার জায়গা সব প্ল্যান করে নিন আগেই।

৫. ভ্রমণের সঙ্গী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ
আগে ট্রেক করার অভিজ্ঞতা এবং এই সম্পর্কে জানা আছে এমন কাউকে সঙ্গে নিন। যেখানে গাইড নেয়ার প্রয়োজন, গাইড নিন। গ্রুপের সবাই নতুন ট্রেকার হলে সেরকম গ্রুপ এড়িয়ে যান। এজেন্সি বা অনলাইন-ভিত্তিক গ্রুপের সাথে যাওয়ার আগে তাদের অভিজ্ঞতা এবং ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিন।

৬. জিনিসপত্র গুছিয়ে ফেলুন আগেভাগে
ট্রিপের আগের রাতে প্যাকিং = কিছু না কিছু ফেলে যেতেই হবে। আর সেটা হতে পারে সবচেয়ে দরকারি জিনিসটাই। আপনার ট্রেকিংয়ের জন্য কী কী প্রয়োজন তার একটা লিস্ট করুন। তাহলে সব প্রয়োজনীয় জিনিসই নিয়ে যেতে পারবেন।

৭. পরিবার বা বন্ধুদের জানিয়ে যান
না, এটা শুধুই 'দায়িত্ব' নয়—ফিরে না এলে অন্তত কোথায় খোঁজ করতে হবে তা তো জানা থাকবে কারও!

🟢 প্রথম ট্রেকে যাচ্ছেন? কমেন্টে আপনার প্ল্যান বা দুশ্চিন্তা শেয়ার করুন!
যারা ঘুরে এসেছেন, তারাও টিপস দিতে পারেন।

আবার চালু হচ্ছে রকেট স্টিমার। এ বছরের শেষ দিকে দুইটি স্টিমার চালু হওয়ার কথা ঢাকা-বরিশাল রুটে। প্রায় শত বছরের পুরোনো এই র...
13/05/2025

আবার চালু হচ্ছে রকেট স্টিমার। এ বছরের শেষ দিকে দুইটি স্টিমার চালু হওয়ার কথা ঢাকা-বরিশাল রুটে।

প্রায় শত বছরের পুরোনো এই রকেট সবশেষ চলাচল করত ঢাকা থেকে খুলনা আর মোড়লগঞ্জ পর্যন্ত। সাধারণ যাত্রী ছাড়াও টুরিস্টদের কাছে এই রকেট জনপ্রিয় ছিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, আর নদীপথে লম্বা পথ পাড়ি দেয়ার অভিজ্ঞতার জন্য।

ছবি: রকেট স্টিমারের সার্ভিস বন্ধ হওয়ার পর বাদামতলী রকেট ঘাটে (২০২২)

কয়েক বছর আগেও ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের ভিসা সহজেই পাওয়া যেত। এখন বাংলাদেশিদের জন্য দক্ষ...
11/05/2025

কয়েক বছর আগেও ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের ভিসা সহজেই পাওয়া যেত। এখন বাংলাদেশিদের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এসব দেশের ভিসা পাওয়া খুব জটিল। এমনকি আফ্রিকার দেশগুলোও বাংলাদেশিদের ভিসা দেয়া কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করেছে।

বাংলাদেশি ট্রাভেলারদের জন্য এখন শুধু নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ছাড়া আর সহজ কোনো অপশন নেই।

ধরুন প্লেনের টিকেট কিনতে গিয়ে দেখলেন কোনো একটা টিকেট পাচ্ছেন অন্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় অনেক কম বা প্রায় অর্ধেক দামে। খুশি...
08/05/2025

ধরুন প্লেনের টিকেট কিনতে গিয়ে দেখলেন কোনো একটা টিকেট পাচ্ছেন অন্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় অনেক কম বা প্রায় অর্ধেক দামে। খুশি হয়ে দ্রুত কিনেও ফেললেন বিস্তারিত না দেখেই। তারপর?

দিয়েছেন শুধু প্লেনে বসার ভাড়া।
ব্যাগ আনবেন? সেই ব্যাগ যদি ৭ কেজির চেয়ে ১০০ গ্রামও বেশি হয়, এয়ারলাইন্স ভাববে আপনি তাদের ঠকাইছেন। চেকড-ইন লাগেজ হিসেবে দিয়ে, চার্জ হিসেবে টিকিটের অর্ধেক দাম যোগ করে দেবে। পারলে আপনার ওজনও মেপে কিছু চার্জ বসাতো।

পানি খাবেন? পয়সা দেন। তবে মাথায় রাখবেন এই পানির দাম কিন্তু ‘পানির দাম’ না। খিদে পাইলে? প্লেনের মধ্যে ফাস্টিং করতেছেন ভেবে বসে থাকাই ভালো হবে।

সিট? আছে, তবে পেছনে হেলাতে পারবেন না মনে হয়। অবশ্য এই ভাড়ায় এর চাইতে বেশি আশা করাটাও অন্যায়ই হবে। সিট বাছতে চান? পয়সা দিলেই ফার্স্ট ক্লাস ভিউতে জানালার পাশে বসতে পারবেন।

ফোনে সিনেমা, গান ডাউনলোড করে আনতে পারেন। কারণ স্ক্রিন বলতে শুধু জানালাটা আছে। তবে ভাগ্য ভালো হলে সহযাত্রীদের লাইভ নাটক পেতে পারেন।

এবার আসি ভালো দিকে। অল্প টাকায় নতুন জায়গা ঘোরা সম্ভব। সময় ঠিক থাকলে (মানে যদি প্লেনটা টাইমমতো আসে), আপনার ছুটি টাইমমতো শুরু। অভিজ্ঞতা হবে থ্রিলিং — কম খরচে অ্যাডভেঞ্চার।

বাজেট এয়ারলাইন্স = বাজেটে স্বপ্ন পূরণ। ঘোরাঘুরির জন্য যদি মনের জোর থাকে আর জীবনে ধৈর্য বাড়াতে চান, তাহলে বাজেট এয়ারলাইন্স আপনার সেরা সঙ্গী হতে পারে।

03/05/2025

থোরং লা-এর পথে – ৩

পরদিন সকালে ঘুম ভেঙে জানালায় পেলাম মেঘে ঢাকা আকাশ আর ঠান্ডা বাতাস। বাইরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, চারপাশে ধোঁয়াটে পরিবেশ। ব্রিটিশ ম্যটের কাছে এই বৃষ্টি কোনো ব্যাপারই না, ও বের হয়ে গেল এর মাঝেই। আমি অপেক্ষা করলাম। বৃষ্টি থামলে চেক আউট করে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে শুরু করলাম ট্রেকিং। পরবর্তী গন্তব্য ঘিয়ারু। পথে প্রচুর চাইনিজ ট্রেকার চোখে পড়ল। কথা বলে জানতে পারলাম, তাদের কোনো বড় ছুটি চলছে, তাই চাইনিজদের এত ভিড়। একটা কাপল নিজে থেকেই আমাকে ডেকে ছবি তুলে দিতে চাইল।

কিছুক্ষণ হাঁটার পর দূর থেকে একইসাথে আপার পিসাং আর লোয়ার পিসাং দেখতে পেলাম। পাহাড়জুড়ে শরতকালের লালচে-বাদামি রং হয়ে যাওয়া পাতার পাইন গাছ, উপর দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে শাদা মেঘ– অসাধারণ সুন্দর দৃশ্য। আপার পিসাং গ্রামকে দেখে মনে হলো পাহাড়ের গায়ে কেউ আঠা দিয়ে কয়েক সারি পাথরের বাড়ি বসিয়ে দিয়েছে। যদি আরও দুটো দিন ওখানে থেকে যেতে পারতাম!

আধাঘণ্টা হাঁটার পর পৌঁছালাম গ্রিন লেকে। লেকের পানির দেখতে সবুজ কাঁচের মতো লাগল, শান্ত আর স্বচ্ছ। লেকপাড়ের পাহাড়ের প্রতিচ্ছবিতে পানি আরও বেশি সবুজ লাগে। অনেক ট্রেকার এখানে বসে জিরিয়ে নিচ্ছে।

লেকের পাশে একটা ছোট টি হাউজ। এর ঘরগুলোর পেছনে বিশাল অন্নপূর্ণা পাহাড়ের এক ঝলক দেখা যায় মেঘের ফাঁকে। সেই দৃশ্য পেছনে রেখে টি-হাউজে থাকা তিনজন চাইনিজ ট্রেকার আমাকে অনুরোধ করল ওদের ছবি তুলে দিতে। আমার ছবিও তুলে দিলো। এরপর একসাথে চা খেতে বসলাম, ওরা খেলো ব্রেকফাস্ট। খেতে খেতে গল্প জমে উঠল, তৈরি হলো নতুন বন্ধুত্ব। ওদের নাম জানলাম– এরিক, জুন আর ক্যাথিন। এরিকের বাবা বছর পাঁচেক বাংলাদেশে একটা প্রজেক্টে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ছিল জানালো।

খাওয়া শেষ করে আমরা একসাথে ট্রেক শুরু করলাম ঘিয়ারুর পথে। এই অংশটা সবচেয়ে কঠিন ছিল। লেক থেকে ঘিয়ারু পর্যন্ত পথটা খাড়া, জিগজ্যাগ; একবারে অনেকখানি উপরে উঠতে হয়। উঠতে উঠতে কথা হলো চায়না নিয়ে, বাংলাদেশ নিয়ে। মাঝে মাঝে থেমে বিশ্রাম নিলাম বেশ কয়েকবার। থামছি কেবল আমি, এরিক আর জুন। গ্রুপের আরেকজন, ক্যাথিন, রেগুলার ম্যারাথনে যায়। ও একটানা উঠেই যাচ্ছে।

এমনই একবার বিশ্রামের সময় ছায়ায় বসে আছি। আরেকটা গ্রুপও এলো, সাথে গাইড আছে। আমাদের গাইড নেই। ওদের গাইড আমাদের কিছু বাদাম, খেজুর, আপেল দিলো। পুরো ট্রেকেই গাইডদের দেখেছি খুবই আন্তরিক। আমি তার ক্লায়েন্ট কি না, সেই চিন্তা করে না। ট্রেকারদের দরকার মতো হেল্প করার চেষ্টা করে ওরা।

খাড়া পথে প্রায় ৪৫০ মিটার উচ্চতা পার করে পৌঁছালাম ঘিয়ারু। গ্রামে ঢুকতেই শুরুতে একটা স্তুপা। সেখানে বসে আবার কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আজকের রাতটা এখানেই থেকে যাব। বাকি তিনজন চেষ্টা করবে ওইদিনই মানাং পর্যন্ত যাওয়ার। পোখারায় দেখা করবে জানিয়ে বিদায় নিলো ওরা।

থোরং লা-এর পথে  - ২দুপুরের খাওয়া শেষ করে উঠে পড়লাম গাড়ীতে। সন্ধ্যার আগে পৌঁছাতে চাইলে সময় বেশি নেই হাতে। একইরকম  অফরোডে ...
01/03/2025

থোরং লা-এর পথে - ২

দুপুরের খাওয়া শেষ করে উঠে পড়লাম গাড়ীতে। সন্ধ্যার আগে পৌঁছাতে চাইলে সময় বেশি নেই হাতে। একইরকম অফরোডে চলতে চলতে এসে পৌঁছাই চামে। গাড়ি থামে কিছু মালপত্র নামাতে।

চামে অনেকখানি উচ্চতায়, তাই বৃষ্টি তেমন একটা নেই এখানে। ঠান্ডা বাতাস আর শীতও শুরু হয়েছে। জ্যাকেট গায়ে দিয়ে নেমে পড়ি গাড়ি থেকে। এখানে একটা দোকানে খুব ভালো স্বাদের সামোসা-চাট পাওয়া যায়। আমাদের দেশে সিঙ্গাড়া টুকরো করে কেটে তার উপর চটপটি ঢেলে দিলে যা হবে, খাবারটা তাই। সেই দোকানে গিয়ে দেখি দোকান বন্ধ। বিকেলের নাস্তার জন্য তাই পাকোড়া আর চা নিয়ে বসি অন্য এক দোকানে।

গাড়িতে ফিরে দেখি ৮-৯ জন স্থানীয় যাত্রী উঠবে, যার মধ্যে কয়েকজন আবার হাসপাতাল থেকে মাত্র ছাড়া-পাওয়া বৃদ্ধ। অগত্যা সিট ছেড়ে দিয়ে পিকাপের পেছনের খোলা অংশে এসে দাঁড়াই। বাকিপথ এভাবেই যেতে হবে। পেছনে সঙ্গী হয় আরও ৩ যাত্রী। তাদের সাথে আনা কয়েক বস্তা আপেল থেকে আমাকেও খেতে দেয় কয়েকটা।

পথের এই অংশটা আগের চেয়ে আলাদা। রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ। পাহাড় পুরোটাই পাথুরে। গাছ বলতে আছে শুধু পাইন। কৃষি জমিতে ধানের বদলে এখন আপেল গাছ। রাস্তার দুইপাশে ছোট ছোট আপেল বাগান।

অনেক বড় আপেল বাগান পেলাম ভ্রাতাং এসে। প্রচুর লাল আপেলে ভরা গাছ। এটা মূলত মানাং এগ্রো লিমিটেডের বাগান। এখানে তাদের একটা ফার্মস্টে আর ওয়াইনারি আছে। ‘মানাং ভ্যালি’ ব্রান্ডের ওয়াইন তৈরি হয় এখানেই। ট্রেকাররা এখানে থেমে ফ্রেশ জুস বা ওয়াইন খায়। একটু টাকাপয়সাওয়ালা টুরিস্ট হলে ফার্মস্টেতে থেকেও যায় দুয়েকদিন। অনেক এক্সপেন্সিভ জায়গা।

দুকুর পোখারি পার হওয়ার পর রাস্তা খানিকটা সমতল বলা যায়। এখান থেকে পিসাং এর দূরত্ব মিনিট বিশেকের। এটুকু পথই প্রথমবার একটু আরামে দাঁড়াতে পারি।

লোয়ার পিসাং এসে গাড়ি থামে। আমি নামি, আরও এক সহযাত্রীও এখানে নামে। দুইজনই যাব আপার পিসাং। লোয়ার পিসাং থেকে নদী পার হয়ে, পাহাড় বেয়ে দেড়শ মিটার উপরে উঠতে হবে। ওখানে গাড়ি যাওয়ার পথ নেই। হাঁটতে শুরু করি তাই।

ওই সহযাত্রী আমাকে নিয়ে আসে একটা হোটেলে, যেখানে মাউন্টেইন-ভিউ রুম পাওয়া যাবে। রুম দেখে চেক ইন করি দ্রুত। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে ততক্ষণে, দিনের আলো প্রায় নেই। পুরো অন্ধকার হওয়ার আগ পর্যন্ত জানালায় বসে অপেক্ষা করি যদি মেঘ সরে অন্নপূর্ণা-১ এর চূড়া দেখা যায় সেই আশায়। তবে তার আর দেখা পাওয়া যায় না সেদিন।

অন্নপূর্ণা দেখতে না পেলেও জানালা দিয়ে যে দৃশ্য দেখা যায় তা অসাধারণ; মনে হয় না কোনো বাস্তব দুনিয়ায় আছি। অনেক নিচে পাহাড়ি চিকন নদী। নদীর সমতল পাড় দিয়ে অল্প কিছু ঘরবাড়ি, দুচারটা দোকান– এই নিয়ে লোয়ার পিসাং গ্রাম দেখা যায়। তারপর শুরু পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে সবুজ-হলদে-লালচে রঙের পাইন বন। দূর থেকে এই বন দেখে মনে হয় মোলায়েম ঘাস।

সন্ধ্যার অন্ধকার নামলে কিচেনে যাই খাবার অর্ডার করতে। তখন খেয়াল করি আমার হাতমোজা ভুলে রেখে এসেছি গাড়িতে। দ্রুত যাই আপার পিসাং এর একমাত্র দোকানে, যদি কিনতে পাওয়া যায় এই আশায়। কিন্ত হতাশ হই, সেখানে হাতমোজা নেই।

হোটেলে ফিরে ডাইনিং রুমে বসি। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে এখানে সব হোটেলের ডাইনিং স্পেসেই ফায়ার প্লেস থাকে। তাই সবাই সন্ধ্যার পর থেকে ডিনার পর্যন্ত এখানেই বসে। আমিও রুমের একদম কোণায় একমাত্র ফাকা টেবিল পেয়ে বসি সেখানে। একা বসে থাকতে দেখে তাদের টেবিলে ডাকে এক কাপল; ব্রিটিশ সিটিজেন ম্যাট আর ওর ওয়াইফ। অল্প আলাপেই বেশ বন্ধুত্ব হয়ে যায়। হোটেলে বাকি সময় গল্প করে কাটাই ওদের সাথেই।

(ভিডিও কমেন্টে)

থোরং লা-এর পথে - ১অন্নপূর্ণা সার্কিটের গেটওয়ে বেসিসাহারে এসে পৌঁছাই প্রায় রাত আটটায়। পাহাড়ি ছোট্ট শহর যেমন হয় তেমনই। মেই...
09/02/2025

থোরং লা-এর পথে - ১

অন্নপূর্ণা সার্কিটের গেটওয়ে বেসিসাহারে এসে পৌঁছাই প্রায় রাত আটটায়। পাহাড়ি ছোট্ট শহর যেমন হয় তেমনই। মেইন রাস্তার দুপাশে দুই-তিনতলা বাড়ি। কিছু ছোট দোকান আর হোটেল।

রাত আটটা বাজতে বেশি দোকান খোলা নেই। কিছু মোমো-চায়ের দোকান আর কয়েকটা ট্রেকিং-গিয়ারের দোকান খোলা। মোমোর দোকানের কাস্টমার মূলত গাড়ির ড্রাইভাররা। পাহাড়ের প্রত্যন্ত-দুর্গম গ্রামগুলোতে দরকারি সব জিনিস নিয়ে যায় এসব গাড়ি, এই শহর থেকেই। সারাদিন গাড়ি চালানোর পর রাতে আড্ডা বসায় এই দোকানগুলোতে। আড্ডার সাথে চলে মোমো, আর ভাত থেকে বানানো স্থানীয় মদ।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ, ক্যালেন্ডারের হিসেবে নেপালের বর্ষাকাল চলে গেলেও প্রকৃতিতে বৃষ্টি থামেনি। সারাক্ষণ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি চলছেই। হোটেলে ব্যাগ রেখে বৃষ্টির মাঝেই বের হই রাতের খাবার খেতে, আর ট্রেকিং-এর জন্য দরকারি কিছু জিনিস কিনতে। হোটেলে ফেরার পর শুরু হয় প্রচণ্ড বৃষ্টি। ওয়েদার আপডেটে পরের কয়েকদিন অনেক বেশি বৃষ্টি হবে দেখে একটু চিন্তিত হই।

পরদিন সকালে উঠে চলে যাই গাড়ির স্ট্যান্ডে। এখান থেকে বোলেরো পিকাপ দুর্গম গ্রামগুলোতে সবরকম মালপত্র নিয়ে যায়। আমার উদ্দেশ্য তেমন কোনো একটা পিকাপে উঠে পড়া, নামব পিসাং নামের এক পাহাড়ি গ্রামে। সাধারণত চামে যাওয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। ট্রেকাররা চামে পর্যন্ত যায়, পরদিন হেঁটে পিসাং যায়। আমি যেহেতু আগেও একবার এই ট্রেকে গেছি, তাই ঠিক করি যে চামে না গিয়ে সরাসরি পিসাং যাব। সেখান থেকে হাঁটা শুরু করব। তাতে একদিন সময় বাঁচবে।

পিসাং যাওয়ার গাড়ি না পেয়ে বসে অপেক্ষা করতে থাকি। পরিচয় হয় এক গুর্খা আর্মির সাথে, সাথে স্থানীয় কয়েকজন মিলে বেশ গল্প জমে ওঠে। যখন ওরা জানতে পারে আমি পিসাং যাওয়ার গাড়ি খুঁজছি, একজন জানায় তার চেনা একজন মালপত্র নিয়ে ওখানেই যাচ্ছে। সেই ড্রাইভারের সাথে যোগাযোগও করে দেয়। তারপর আমি উঠে পড়ি সেই পিকাপেই।

ড্রাইভিং সিটে গুর্খা ড্রাইভার, প্যাসেঞ্জার সিটে আমি। অফরোডে চলতে থাকে গাড়ি, পাহাড়ের গায়ে পাথর ভেঙে কোনোরকম চলার মতো পথ তৈরি করা। বৃষ্টি আগের দিনের চেয়ে অনেক বেশি। আগে দেখা জায়গা, কিন্তু নতুন সৌন্দর্য প্রকৃতিতে। আগেরবার এসেছি ডিসেম্বরের শীতে, চারদিকে রুক্ষ, বাদামী সব। এবার সবকিছু সবুজ, কিছু পাহাড়ের গায়ে ধানগাছ সবুজ ভেলভেটের মতো দেখায় দূর থেকে। পথের পাশ দিয়ে যাওয়া মারসিয়ান্দি নদীতে ভীষণ স্রোত, এমন ভয়ানক সুন্দর রূপ আগে কোথাও দেখিনি।

কিছুদূর এগিয়ে পাহাড়ের আকার আরও বড়। যেদিকে তাকাই, বিশাল সবুজ পাহাড়ে দৃষ্টি আটকে যায়। আর সেই পাহাড়ের গা ঘেঁষে সাদা সাদা মেঘ। একটু পরপরই একেকটা ঝর্ণা। কোনোটা একেবারে পথের উপরই, গাড়ির মধ্যে পানি ঢুকে সব ভিজিয়ে দেয়৷ পথে এমন ঝর্ণা দেখতে পেয়েছি প্রায় ৪০টা।

আমার ভাঙা-ভাঙা হিন্দি, আর ড্রাইভারের ইংরেজি কিওয়ার্ডে আলাপ হয় অল্পই। যদিও আমাকে সবকিছু দেখিয়ে সেসবের বর্ণনা দেয়ার আন্তরিকতায় কমতি ছিল না তার।

কথার মাঝে ড্রাইভারকে জানিয়ে দিই কোন রেস্টুরেন্টে থামতে হবে লাঞ্চের জন্য। যাওয়ার পথে বুং ওয়াটারফলের পাশে এক দিদির রেস্টুরেন্ট আছে; সেখানেই থামব। আগেরবার এসে আমার সাথে পরিচয় হয়েছিল, সেই দিদি বাংলা বলতে পারে বলে। ড্রাইভার অবাক করে দিয়ে জানায় যে ওই দিদি তার আপন বোন! যাহোক, সেই রেস্টুরেন্টে পৌঁছে ভীষণ সুন্দর ঝর্ণার পাশে বসে লাঞ্চ সেরে নিই। খাবারের স্বাদ যেমনই হোক, এই বিশাল ঝর্ণার রূপ আর সব ভুলিয়ে দেবেই।

(কমেন্টে ভিডিও)

Heaven is myth, Nepal is real.
06/02/2025

Heaven is myth, Nepal is real.

📍  Saint Martin's Island
03/02/2025

📍 Saint Martin's Island

📍 Saint Martin's Island
02/02/2025

📍 Saint Martin's Island

03/11/2024

Sunset time in Himalayas

📍 Ledar, Annapurna circuit trekking, Nepal

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Travel Tales posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Travel Tales:

Share