07/06/2023
পর্ব ৬-৭
মানি এক্সচেঞ্জ এবং কাশ্মীরের ভ্রমণস্থান৷
মানি এক্সচেঞ্জ, বেনাপোলে কিছু মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। বর্ডারে প্রবেশের আগে মানি এক্সচেঞ্জ করে নেওয়া টাই শ্রেয়৷ শ টাকাতে ১রুপির হেরফের হয়ে থাকে।
এবার কাশ্মীরের ভ্রমণস্থান।
জাম্মুতে নামার পর, কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর যাওয়ার পথে পাহাড়ি দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে৷
সকাল ১০টার মধ্যেই ট্রেইন পৌছে যাবে। দ্রুত গাড়ি ঠিক করে, দেরি না করে যাত্রা শুরু করে দিলে দিনের মধ্যে কাশ্মীর পৌছানো সম্ভব। তবে সেখানে গিয়ে ট্যাক্সি ক্যাবের স্টেশন পাবেন। পূর্বপরিচিত যদি কেউ থাকে বা কারো নাম্বার নিয়ে গাড়ি ঠিক করে রাখা যায়। তবে নিজেরা গিয়ে, সেখানে সরকারী নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা দেখে, গাড়ির অবস্থা দেখে গাড়ি ঠিক করা যায়।
এক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হবে যদি ভালো কোনো গাড়ি পেয়ে যান, এবং সেই ড্রাইভারের সাথে আপনার ট্যুরের বাকিদিন গুলোর জন্য চুক্তি করে ফেলা, একেবারে জাম্মু টু জাম্মু।
৪/৮/১০ জন মানুষ হলে গাড়ির খরচ অনেকটা কমে যায়। ৮ সিটারের গাড়িরে ১০ জন অনায়াসে ঘুরাঘুরি করা যায়, সমস্যা হয় না৷
জাম্মু থেকে কাশ্মীরের দূরত্ব প্রায় ২৬০ কিলোমিটার। পাহাড়ি রাস্তার ধার ঘেষে, এশিয়ার অন্যতম বৃহতম দুটি টানেল এই পথে রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় ভূমিধসের কারণে কাশ্মীরের পথ বন্ধ থাকে। তাই সেসকল সমস্যা সমাধানের জন্য মেগা প্রজেক্টের কাজ হচ্ছে। ২০২৪ এর মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে শুনেছিলাম।
এখন জাম্মু থেকে কাশ্মীর যেতে ৯-১০ ঘন্টার প্রয়োজন হয়, তখন এই সময় কমে প্রায় ৪-৫ ঘন্টায় চলে আসবে।
পথিমধ্যে অনেক গুলো দর্শনীয় স্থানের মধ্যে একটি হচ্ছে Patnitop। কেউ চাইলে যাত্রা পথে এই স্থান ঘুরে যেতে পারেন, আর তখন ই দেখা পাওয়া যাবে ভারতের এবং এশিয়ার অন্যতম বড় রোড টানেল, ড সায়মা প্রসাদ মুখার্জি টানেল। এটি প্রায় ৯.৩ কিলো দীর্ঘ৷ পথিমধ্যে আরেকটি টানেল পরবে যেটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮.৫ কিলো, বানিহাল টানেল নামে পরিচিত৷
কাশ্মীর ভ্রমণের কেউ পরিকল্পনা করলে আমি উপদেশ দিবো, শ্রীনগর শুরুতে না গিয়ে প্রথমে পেহেলগামে যাওয়ার জন্য।
**শ্রীনগরের** ভ্রমণ স্থান গুলো তুলে ধরতেছি।
১. গার্ডেন
শ্রীনগের কিছু পুরাতন আমলের বাড়ি-ঘর কে ঘিরে পর্যটন এরিয়াতে রুপান্তর করা হয়েছে।
এদের মধে আছে, Chashma Shahi Garden, Pari Mahal, Shalimar Bagh Mughal Garden, Tulip Garden. এসব গার্ডেনে ২৫ রুপি করে এন্ট্রি ফি নিয়ে থাকে।
আপনাদের ভাড়া করা গাড়ি এসব স্থানের একেবারে নিকটে যেতে পারবে না। কাছাকাছি ২-৩ কিলো দূরত্বে নিয়ে যাবে সেখানে আবার অন্য ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায়। হেটেই যাওয়া যায়। কাশ্মীরে আবার এক এক স্থানে এক এক গাড়ির প্রচলন। সবস্থানে সব গাড়ির অনুমতিও নাই৷
২. ধর্মীয় স্থান
জামীয়া মসজিদ, হযরতবাল মসজিদ, শঙ্করচার্য মন্দির।
৩. ডাল লেক (Dal Lake)
ডাল লেক অনেক বিশাল। সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট করা ভাড়া অনুযায়ী প্রায় ২২ টি ঘাট রয়েছে৷ এসব ঘাটে গিয়ে আপনি খুবই কমের মধ্যে শিকারা (নৌকা) ভ্রমণ করতে পারবেন৷ প্রতি নৌকায় ৪ জন উঠা যায়। দামাদামি করতে পারলে প্রতি শিকারা ৩০০-১০০০ রুপির মধ্যে আনা যায়৷
তবে মাথায় রাখবেন, আপনার ই গাড়ির ড্রাইভার অসাধু হয়ে থাকলে ঘাটের বাইরের, লোকাল ঘাটে নিয়ে যাবে। সেখানে শিকারা প্রাইস অনেক বেশি নিবে। শিকারার ভাড়া খুবই কম। বেশি দামে উঠবেন না। শিকারায় উঠার পর অনেক ভাসমান দোকান বা বাজার এর দেখা মিলকে। অনেক হকারও আসবে। বেশি দাম চেয়ে থাকে এরা, সাবধানে দামাদামি করে খাওয়া দাওয়া, কেনাকাটা করবেন।
ডাল লেকের আশে-পাশে হোটেল নেওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। একটু লোকাল সাইডে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করলে দাম অনেক কম পরবে।
৪. মক্কা মার্কেট/ লাল চক (Lal Chawk)
অনেক কম প্রাইসে এখানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যাবে। আমরা এখান থেকেই কভার কোট পেয়েছিলাম ৬০০ রুপিতে। সাথে ওয়ার্ম ইনার ড্রেস ৫০০ রুপি আর পা মোজা ১৫০ রুপি। আরও দামাদামি করে কমে আনা সম্ভব।
এবার আসি **পেহেলগামে**
অসাধারণ এক জায়গা। অনেক অনেক সুন্দর জায়গা। এত এত প্লেস যে ৩/৪ দিন ঘুরেও শেষ হবে না।
তবে অন্যতম জায়গা গুলো হচ্ছে
১. বাইসারান ভ্যালি (মিনি সুইজারল্যান্ড)
এখানে ঘোড়া করে যাওয়া যায়। স্ক্যামের চান্স থাকে, তাই বাজেট ফ্রেন্ডলি দামাদামি করতে পারলে যাবেন নাহলে হেটেই যাত্রা শুরু করবেন যদি সময়ের স্বল্পতা না থাকে। তবে ঘোড়ায় গেলে যে খুব সময় বাচঁবে তাও না৷
২. বেতাব ভ্যালি
সুন্দর জায়গা। হিন্দী বেতাব মুভির শুটিং হয়েছিলো এখানে।
৩. চন্দনওয়ারি
হিন্দুদের ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানের যাত্রার জন্য বিখ্যাত এই স্থান।
পেহেলগামে অনেক সুন্দর সুন্দর রিসোর্ট আছে, পাহাড় হতে বয়ে যাওয়া পানির স্রোতের পাশেই। এসব স্থানে হোটেল নেওয়ার চেষ্টা করলে ভালো হবে।
**গুলমার্গ**
শ্রীনগর থেকে প্রায় ৫৫ কিলো এবং পেহেলগাম থেকে ১৪৫ কিলো দূরের স্থান গুলমার্গ। Gondola ride এর জন্য বিখ্যাত এই স্থান। ক্যাবল কার বলে যেটা আমরা চিনি, এটাই এখানে গন্ডোলা। দুইটি ধাপে এই রাইডটি হয়ে থাকে। ৭৪০, ৯৫০ টিকিট প্রাইস ধাপ দুটির আর এদের সময় লাগে ৯ মিনিট আর ১২ মিনিট যথাক্রমে। প্রায় ৪ কিলো উচ্চতার পথে নিয়ে যাবে, সেখানে তাপমাত্রা আরও কম থাকে। সাধারণত সারাবছর এখানে বরফের দেখা পাওয়া যায়। আর গন্ডোলা রাইড, অন্তত ধাপ ২ (সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৩৮০০ ফিট উচ্চতা) সবার জন্য সেইফ না। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অক্সিজেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এখানে দুইদিন থাকা যেতে পারে। একদিন গুলমার্গ ঘুরে পরের দিন গন্ডোলার জন্য। একদিন ই যথেষ্ট যদিও।
**সোনমার্গ**
অনেকটা গুলমার্গেই মতই, আরও সুন্দর বেশি লাগতেও পারে অনেকের কাছে। ঋতুভেদে এদের সৌন্দর্যের পরিবর্তন ঘটে৷ শ্রীনগর থেকে ৮২ কিমি (২ঘন্টা) আর পেহেলগাম থেকে ১৬০ কিলো (৪ঘন্টার) পথ।