29/01/2026
নীরব সমর্থন নয়, সরাসরি প্রশ্ন: যে রাজনীতি আমরা চেয়েছিলাম
আমি তরুণদের, বিশেষ করে এনসিপির তরুণদের নির্বাচনী প্রচারণা খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। এর পেছনে একটি স্পষ্ট কারণ আছে। পুরোনো, প্রবীণ রাজনীতিকদের প্রচারণা আমরা বহুবার দেখেছি। কী বলবেন, কতটুকু বলবেন, কোথায় থামবেন - এই হিসাবটা মোটামুটি জানা। সেখানে নতুন কিছু আর থাকে না।
কিন্তু তরুণদের মধ্যে আমি ভিন্ন একটি প্রবণতা দেখছি। তারা নিজেদের গড়ে তুলতে আন্তরিক চেষ্টা করছে, মানুষের সঙ্গে সরাসরি মিশছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো / মানুষকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে। শুধু শোনা নয়, মানুষের মতামত প্রকাশের জন্য একটি খোলা পরিসর তৈরি হচ্ছে।
এরই মধ্যে ঢাকা–৮ আসনে আমরা এর স্পষ্ট উদাহরণ দেখেছি। এই এলাকার মানুষ তাদের পছন্দ-অপছন্দ কোনো রাখঢাক না রেখেই জানাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রার্থী পাটোয়ারীর গায়ে ময়লা পানি ছিটানো হয়েছে, ডিম নিক্ষেপ হয়েছে। মানুষ প্রকাশ্যে বলছে তারা ভোট দেবে কি দেবে না। এখানেই বিষয়টি থেমে নেই। তারা প্রার্থীর আয়ের উৎস জানতে চাইছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে ত্রাণের টাকা সরকারের তহবিলে জমা আছে, সেই টাকার হিসাবও চাইছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রশ্নগুলোর সমর্থন করি। এগুলো খুবই জরুরি প্রশ্ন। আমার বিশ্বাস, যারা আজ এই প্রশ্নগুলো করছেন, তারা সামনে আরও দৃঢ়ভাবে তা চালিয়ে যাবেন। শুধু পাটোয়ারী নন, মির্জা ব্রাদার্স হোক কিংবা ‘বড় ভাইজান’ - সবার কাছেই আয়ের উৎস, ক্ষমতার ব্যবহার আর দায়বদ্ধতার হিসাব চাওয়া হবে। ঠিক এমনটাই তো আমরা চেয়েছি।
আমরা চেয়েছি এসি রুমের রাজনীতি ভেঙে পড়ুক। নেতা নামুক রাস্তায়। সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়াক। নাহিদ হাসনাতদের মতো কুলি-মজুরদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে কথা বলুক, তাদের ঘামে ভেজা শরীর জড়িয়ে ধরুক। এই দৃশ্যের মধ্যেই রাজনীতির সৌন্দর্য আছে।
এই পরিবর্তন দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। ধীরে ধীরে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের এমনভাবেই দেখতে পাবো - এই আশাটুকু এখন বাস্তব বলে মনে হচ্ছে।
আইলাভবেয়াদবস
গনভোটে হ্যাঁ দিন
রওশন হক
১/২৯/২৬
নিউইয়র্ক
#গনভোট
#রাজনীতি