14/07/2021
গতবছর নভেম্বরে আমরা একটা ড্রিম প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি। শুরুটা খেরোখাতায় আঁকিবুঁকি দিয়ে শুরু। রাতের পর রাত আলোচনা। সাধারণ কোন জলপথ হলে ইচ্ছেমতো নৌকা তৈরি করা যায়। কিন্তু ছয় কুড়ি কান্দা আর নয় কুড়ি বিলের টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌকা হতে হয় হাওরের বাতাস, আফাল (উঁচু ঢেউ), মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নামা পাহাড়ি ঢল, হুটহাট ডুবো চর আর পানিতে ডুবে থাকা ফেয়ার ওয়েদার রোড, আর নদীতে থাকা নীচু সেতুর মাপ হিসেব করে। নিজেদের ডিজাইন তো হলো, এবারে আসে স্থানীয় মিস্ত্রী কতটুকু কি পারে। তারা যেই গড়নের নৌকা বানাতে অভ্যস্ত, সেই ব্যাকরণের বাইরে আমরা চলে গেছি ততোক্ষণে। এবারে মিস্ত্রী খোঁজার পালা, তাকে ব্রিফ করা। শেষটায় মিস্ত্রী বললেন মূল কাঠামো বা খোল পর্যন্ত তিনি করবেন, কেবিন আর ইন্টেরিয়র এর কাজে আমাদের সার্বক্ষণিক থাকা চাই। একদিকে করোনা মহামারী, অপরদিকে লকডাউনের হাতছানি, সেই সাথে ঢাকায় কর্মব্যস্ত জীবন। নির্মাণ কাজ তখন অর্ধেক শেষ, আমাদের হাতে কাজ তদারকি করার সময় চলে এলো, তখন লকডাউনও শুরু। এর মাঝেই কৃষিশ্রমিকের গাড়িতে চেপে সুনামগঞ্জ যাত্রা, দিনরাত নৌকায় থাকি, কাজ চলছে এর মাঝেই। পুরো গল্পে না যাই, কাজ একসময় শেষ হয়, অপেক্ষার পালা শেষে নৌকা পানিতে ভাসানোর পর নিজেরাই চমকে যাই, যেমনটা চেয়েছি, তেমন রূপেই আমাদের সামনে Tanguar Avijatrik - টাঙ্গুয়ার অভিযাত্রিক
আমাদের পরবর্তী প্রজেক্টের নৌকাটা কিছুটা ছোট হবে, ৪টা কেবিন ও একটা ওপেন লাউঞ্জে থাকা বিছানাসহ মোট ১১ জন ধারণ ক্ষমতার একটি বোট তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি আমরা। এই ডিজাইনের একটি সিরিজ তৈরি হবে, আপাতত নাম দিচ্ছি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম-এর স্মৃতি বিজড়িত 'কালনী' নদীর নামে। কালনী সিরিজের বোটের একটা খসড়া নকশা শেয়ার করছি, আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন নৌপর্যটন বিকাশে আমাদের এই অভিযাত্রায়