18/08/2026
মসজিদের নববীর রিয়াজুল জান্নাহ'র বিশেষ ৬ পিলারের বিস্তারিত ।
মসজিদে নববির রিয়াজুল জান্নাহ অংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্তম্ভগুলো ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাস, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন এবং সাহাবায়ে কেরামের স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই স্তম্ভগুলোর ঐতিহাসিক পটভূমি, নামকরণ এবং সিরাতগ্রন্থের আলোকে বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
1. উসতুওয়ানা হান্নানা বা সুগন্ধি স্তম্ভ (কান্নার খুঁটি)
প্রাথমিক যুগে মসজিদের ছাদ তৈরি ছিল খেজুর গাছের কাণ্ডের ওপর। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার খুতবা দেওয়ার সময় একটি খেজুর গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বয়ান করতেন।
হিজরি অষ্টম বা নবম শতাব্দীতে যখন মুসলিমরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং মসজিদের জন্য একটি মিম্বর তৈরি করা হয়, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া শুরু করেন। মিম্বরে ওঠার পর হঠাৎ সেই খেজুর গাছের গুঁড়ি থেকে একটি শিশুর কান্নার মতো আওয়াজ পুরো মসজিদে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
বুখারি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বর থেকে নেমে এসে গাছটিকে জড়িয়ে ধরেন, তখন এটি শান্ত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "এটি কেঁদেছিল কারণ সে আল্লাহর জিকির (খুতবা ও বয়ান) থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।"
পরিচয় ও সুগন্ধি: এই স্তম্ভটি "উসতুওয়ানা আল-মুখাল্লাক" বা সুগন্ধিযুক্ত স্তম্ভ নামেও পরিচিত, কারণ পরবর্তীতে এই স্তম্ভে সুগন্ধি ও খুশবু লাগানোর ঐতিহ্য চালু হয়।
2. উসতুওয়ানা আয়েশা (আয়েশা স্তম্ভ)
:
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) এই স্তম্ভটির বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণনা করেছিলেন। তাই একে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়। এটি "উসতুওয়ানা আল-মুহাজিরিন" বা অভিবাসীদের স্তম্ভ নামেও পরিচিত।
সিরাত ও হাদিসের কিতাব অনুযায়ী, আয়েশা (রা.) একবার বলেছিলেন যে, যদি মানুষ এই স্থানটির অলৌকিক ফজিলত ও বরকত সম্পর্কে জানত, তবে এখানে নামাজ পড়ার জন্য মানুষ লটারি বা প্রতিযোগিতা করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই স্তম্ভের কাছাকাছি জায়গায় নামাজ আদায় করতেন এবং পরবর্তীতে এটি ইবাদতের জন্য অত্যন্ত বরকতময় স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়।
3. উসতুওয়ানা হরাস বা প্রহরীর স্তম্ভ (আলি ইবনে আবু তালিব স্তম্ভ)
"হরাস" শব্দের অর্থ প্রহরী বা পাহারা দানকারী। ইসলামের সূচনালগ্নে যখন মুনাফিক ও শত্রুদের পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের প্রতি নানা হুমকি আসত, তখন চতুর্থ খলিফা হজরত আলি ইবনে আবু তালিব (রা.) এই স্তম্ভের ঠিক পাশেই বসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে পাহারা দিতেন।
সুরা আল-মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াত ("আল্লাহ আপনাকে মানুষের নিরাপত্তা দেবেন") অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রহরীদের পাহারা দিতে নিষেধ করেন। তবে আলী (রা.)-এর এই স্থানে দাঁড়িয়ে পাহারা দেওয়ার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এই স্তম্ভটির নামকরণ করা হয় "উসতুওয়ানা আলি ইবনে আবু তালিব"।
4. উসতুওয়ানা তওবা (আবু লুবাবা স্তম্ভ)
বনু কুরাইজা গোত্রের অভিমুখে অভিযানের সময় সাহাবি আবু লুবাবা (রা.) একটি ভুল করে ফেলেন। তিনি বনু কুরাইজার এক ইহুদির ইশারায় তাদের পরিণতির কথা (হত্যা করা হতে পারে) বলে ফেলেন, যা সামরিক গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর রাসুলের নির্দেশের বরখেলাপ ছিল।
নিজের এই মারাত্মক ভুলের পর প্রচণ্ড অনুতপ্ত হয়ে আবু লুবাবা (সা.) মদিনায় ফিরে এসে সোজা মসজিদে নববিতে যান এবং নিজেকে এই স্তম্ভের সঙ্গে শক্ত করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। তিনি শপথ করেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার তওবা কবুল না করা পর্যন্ত তিনি এই বাঁধন খুলবেন না এবং কিছু খাবেনও না।
প্রায় ছয় বা সাত দিন একটানা অনাহারে থাকার পর আল্লাহ তায়ালা তাঁর তওবা কবুল করেন এবং আয়াত নাজিল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দেন। সেই থেকে এই স্তম্ভটি "তওবার স্তম্ভ" বা "উসতুওয়ানা আত-তওবা" নামে পরিচিত।
5. উসতুওয়ানা আল-উফুদ (প্রতিনিধিদের স্তম্ভ)
মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রের পরিধি যখন বিস্তার লাভ করে, তখন আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন গোত্র থেকে প্রতিনিধিদল (উফুদ) ইসলাম গ্রহণ করতে বা চুক্তি করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে আসত।
এই স্তম্ভটির নিকটবর্তী স্থানে বসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দূর-দূরান্ত থেকে আগত অতিথিদের বরণ করতেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতেন এবং ইসলামের বাণী শোনাতেন। এছাড়া সাহাবায়ে কেরামও বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সাক্ষাতের জন্য এই জায়গায় সমবেত হতেন।
6. উসতুওয়ানা আস-সরিয়ির বা বিছানার স্তম্ভ
"সরিয়ির" শব্দের অর্থ ছোট বিছানা বা খাট। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে যখন এতেকাফ করতেন, তখন তিনি এই স্তম্ভের গোড়ায় খেজুর পাতার মাদুর ও চামড়ার বালিশ দিয়ে নিজের সাধারণ বিছানা পেতে বিশ্রাম নিতেন।
এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্জন ইবাদত ও ইতেকাফের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। রাতের শেষ প্রহরে তিনি এখানেই ইবাদত ও তাহাজ্জুদ আদায় করতেন।
রিয়াজুল জান্নায় নামাজ পড়তে নুসুকের মাধ্যমে যে পারমিশন নিতে হয় তাতে সময় নির্ধারণ করার অপশন আসে, সেখানে আপনি যদি সুযোগ থাকে তাহলে নামাজের আগের স্লটটা সিলেক্ট করবেন ।
কারণ নামাজের সময়টাতে রিয়াজুল জান্নায় লোকজনের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয় । এ সময়টা কেউ যদি ওখানে প্রবেশ করে তাহলে সে কমসে কম এক ঘন্টা কাটাতে পারে ।
আর বেশি সময় না পেলে এ পিলারগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন । কোনটা কোন পিলার কিভাবে বুঝবেন সেটা বের করার একটা সহজ বুদ্ধি দেই । উপরে বর্ণিত প্রত্যেকটা পিলারের উপরে আরবিতে লেখা থাকে, ওই লেখাটা ছবি তোলে তারপরে গুগল ট্রান্সলেটরে ট্রান্সলেট করে নিলেই খুঁটির নাম দেখতে পাবেন । আর চ্যাটজিপিটি বা জেমেনআই আরও
উত্তম মাধ্যম ।
সংযুক্ত ছবিটি আয়েশা রাঃ পিলারের।