Abdul Kahar's Travelogue

Abdul Kahar's Travelogue Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Abdul Kahar's Travelogue, Tourist Information Center, Dhanmondi, Dhaka.

আল্লাহর সৃষ্টি ও নিদর্শন খোঁজার পথে... 🌍
প্রকৃতি, ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও ইসলামী ঐতিহ্যের সফরে কুদরতের সৌন্দর্য দেখি 🌿
“তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ যারা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করেছে তাদের পরিণাম কী হয়েছে।” (সূরা আন‘আম: ১১)
লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

 #ভাওয়ালের_বনে_এক_বিকেলের_আত্মদর্শন​আমরা আসলে ক্লান্ত হওয়ার অভিনয় করি না, আমরা সত্যিই ভেতরে ভেতরে ফুরিয়ে যাই। শরীর ক্লান...
21/05/2026

#ভাওয়ালের_বনে_এক_বিকেলের_আত্মদর্শন

​আমরা আসলে ক্লান্ত হওয়ার অভিনয় করি না, আমরা সত্যিই ভেতরে ভেতরে ফুরিয়ে যাই। শরীর ক্লান্ত হলে বিছানা খুঁজি, কিন্তু আত্মা পরিশ্রান্ত হলে আমরা কোলাহলে মেতে সেই ক্ষত ঢাকতে চাই। আমার সবসময়ই অরণ্য পছন্দ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যক' আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'অরণ্যের দিনরাত্রি' উপন্যাস দুটি পড়ার পর বনের প্রতি আমার আকুলতাটা যেন বাউণ্ডুলের মতো বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঢাকার খুব কাছাকাছি প্রকৃতির সতেজতা পেতে গাজীপুর সবসময়ই আমার অন্যতম প্রিয় জায়গা। তাই একদিন বন্ধু Nadim Patwary কে সাথে নিয়ে চেনা সেই অরণ্যের টানেই রওনা হলাম।

​গাজীপুর পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে গেল। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো সেখানে কর্মস্থলে থাকা আমার স্কুল বন্ধু Bitul Adhikari এর কথা। ফোন দিতেই আন্তরিক কণ্ঠে ঠিকানা বুঝিয়ে দিল। এরপর রিকশা নিয়ে সোজা চলে গেলাম ওর বাসায়। দেখা হতেই যেন এক টুকরো কৈশোর ফিরে পেলাম। অনেকদিন পর দেখা, তাই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর একে অপরের খোঁজখবর নেওয়ার ফাঁকে আমরা মেতে উঠলাম ক্যারামবোর্ড খেলার টেবিলে। গুটি আর স্ট্রাইকারের শব্দের সাথে চলল আমাদের আড্ডা। এরপর বিটুলের আন্তরিক আতিথেয়তায় চমৎকার এক মধ্যাহ্নভোজ সেরে আমরা রওনা হলাম ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশ্যে। গাজীপুর থেকে ভাওয়াল যাওয়ার পথটা ছিল দারুণ উপভোগ্য। বাসের জানালার পাশে বসে দেখছিলাম রাস্তার পাশে ফুটে থাকা লাল-হলুদ ফুল আর ঘন ঝাউবনের অপরূপ সৌন্দর্য, যা শহুরে ধূসরতার ক্লান্তি মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিচ্ছিল।

​বনে পা রাখতেই মনে হলো, প্রকৃতি তার হাজার বছরের পুরোনো নীরবতা নিয়ে আমাদের স্বাগত জানাল। পায়ের নিচে শুকনো পাতার মড়মড় শব্দ আর কানের কাছে বয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ বাতাস এক নিমেষেই আমাদের অন্তর শীতল করে দিল। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো শাল-গজারির ডালপালা থেকে ভেসে আসছিল পাখির কলকাকলি। বনের ভেতরের ওয়াচ টাওয়ারে যখন উঠলাম, ওপর থেকে পুরো বনের এই সবুজ ক্যানভাস দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল।

​সবচেয়ে জাদুকরী মুহূর্তটি এলো বিকেলে। বনের এক কোণে শান্ত লেকের পাড়ে যখন দাঁড়ালাম, তখন চারপাশটা একেবারে নিঝুম। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘন গাছের পাতার ফাঁক গলে সূর্যের শেষ সোনালী কিরণ এসে পড়ল মাটির পথটায়। এই আলো-ছায়ার মায়াবী দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে এক পরম সত্য উপলব্ধি করলাম। প্রকৃতির গাছেরা বড় হওয়ার জন্য কোনো শব্দ করে না, আকাশও সুন্দর হওয়ার জন্য প্রশংসা খোঁজে না; অথচ আমরা মানুষরা প্রতিটা কাজেই অবিরত স্বীকৃতি খুঁজে বেড়াই বলেই দিনশেষে এতো অশান্ত। আমরা সারাজীবন টাকা আর সফলতার পেছনে দৌড়েও ভেতরে এক চরম শূন্যতা অনুভব করি, কারণ এই আত্মা কখনো দুনিয়ার কোনো বস্তু দিয়ে পূর্ণ হতে পারে না। আমরা আসলে অবচেতন মনে এক পরম সত্ত্বাকেই খুঁজে বেড়াই। পবিত্র কুরআনেও স্পষ্ট বলা আছে— "নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি।" (সূরা রাদ : ২৮)।

​ভাওয়ালের শান্ত বুনো পথে এক বিকেলের এমন আত্মদর্শন শেষে সন্ধ্যার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আমরা আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ফেরার পথে মনে হলো, কিছু নীরবতা আসলে শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলে। মানুষ পৃথিবী জিতে ফেলছে ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে নিজেকেই হারিয়ে ফেলছে। ব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি নিয়ে মাঝে মাঝে প্রকৃতির এমন নির্জনতায় হারিয়ে যাওয়া বড্ড প্রয়োজন। কারণ কিছু পথ মানুষকে গন্তব্যে নয়, নিজের কাছেই ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

​লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

#ভাওয়াল_জাতীয়_উদ্যান #ভাওয়াল
#গাজীপুর #ভ্রমণ_বৃত্তান্ত #অরণ্যের_দিনরাত্রি #আরণ্যক #প্রকৃতির_টানে #শালবন #বাংলার_প্রকৃতি #আত্মদর্শন #ভ্রমণপ্রেমী #ঘুরে_দেখি_বাংলাদেশ

14/05/2026

সবকিছু থেকে কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে প্রকৃতির মাঝে এই নিঃশব্দে হেঁটে যাওয়াটাও আসলে এক ধরণের পাওয়া। জীবনের মাঝে মাঝে এমন স্থিরতা প্রয়োজন। 🌿

​ #হবিগঞ্জ #সাতছড়ি #প্রকৃতি ীবন #বাংলাদেশ ​ #ভ্রমণ #শান্তি #সবুজ #রিলস

এপ্রিল-মে মাসের এই সময়টা প্রকৃতির এক অদ্ভুত রূপান্তরের সাক্ষী। তপ্ত রোদের মাঝে যখন বর্ষার আগের এক চিলতে মেঘলা আকাশ উঁকি ...
07/05/2026

এপ্রিল-মে মাসের এই সময়টা প্রকৃতির এক অদ্ভুত রূপান্তরের সাক্ষী। তপ্ত রোদের মাঝে যখন বর্ষার আগের এক চিলতে মেঘলা আকাশ উঁকি দেয়, তখনই প্রকৃতি যেন তার সবটুকু রঙ ঢেলে সাজে। চন্দ্রিমা উদ্যানের কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা আর সোনালুর হলদে হাসির এই মায়াবী রূপ যে কাউকে মুগ্ধ করবেই। নাগরিক ব্যস্ততার মাঝে একটু শান্তির খোঁজে আপনারা চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই রঙিন উদ্যান থেকে।

​ফটোগ্রাফি নিয়ে খুব বেশি পথচলা আগে হয়নি, যার ফলে ফটোগ্রাফিতে আমার হাত এখনো তেমন পরিপক্ক নয়। তবে এখন মনে হয়—চোখ যা দেখে, লেন্স তা কেবল ধরে রাখে। তাই শখের এই কাজটিকে আগামীর দিনগুলোতেও সঙ্গী করে রাখার ইচ্ছে আছে। ​আমার কাছে— ​"ফটোগ্রাফি কেবল ছবি তোলা নয়, এটি নিজের অদেখা সত্তাকে লেন্সের ভেতর দিয়ে নতুন করে আবিষ্কার করা।"

​কিছু প্রিয় মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করার চেষ্টা করলাম। আপনাদের কেমন লাগলো জানাবেন।

📸 Abdul Kahhar (Siam)


#ফটোগ্রাফি #কৃষ্ণচূড়া #প্রকৃতি #ভ্রমণ #ঢাকা #সোনালু #চন্দ্রিমা_উদ্যান #জিয়াউদ্যান

 #গন্তব্যহীন_যাত্রা: যখন চুনারুঘাটের নির্জনতাই হলো গন্তব্যবাসায় ফিরছিলাম, কিন্তু মনটা ঠিক বাসায় ছিল না। মাস শেষ, পকেট প্...
28/04/2026

#গন্তব্যহীন_যাত্রা: যখন চুনারুঘাটের নির্জনতাই হলো গন্তব্য

বাসায় ফিরছিলাম, কিন্তু মনটা ঠিক বাসায় ছিল না। মাস শেষ, পকেট প্রায় ফাঁকা, অথচ মাথার ভেতর এক ধরনের অদ্ভুত ভার। একই রুটিন আর একই দেয়ালগুলো যেন ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল। তখনই মনে হলো—এই মুহূর্তে বের না হলে বোধহয় দম আটকে যাবে। বন্ধু সাইফুলকে বলতেই ও কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ব্যাগ গুছিয়ে নিল।

আমাদের কোনো ম্যাপ ছিল না, ছিল না কোনো গন্তব্য। বৃহস্পতিবারের রাতে ট্রেনের টিকিটের আশা করা বিলাসিতা, তাই সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে স্রেফ উঠে পড়লাম শ্রীমঙ্গলের বাসে। বাসের জানালায় মাথা রেখে যখন বাইরে তাকালাম, তখন প্রথমবারের মতো মনে হলো—যাক, অন্তত পালানো তো গেল!

শ্রীমঙ্গল আগেও গিয়েছিলাম, বাসে বসেই গুগল আর অভিজ্ঞতার ঝুলি হাতড়ে সিদ্ধান্ত নিলাম—শ্রীমঙ্গল নয়, এবার আমরা নামবো হবিগঞ্জে। কোথাও গেলে সেখানকার পরিচিত কাউকে খুঁজে বের করা আমার পুরোনো অভ্যাস, যাতে স্থানীয় পরামর্শে পরিকল্পনাটা সহজ হয়। সেই সূত্রেই মনে পড়ল কলেজ বন্ধু রনির কথা। রনি এলাকায় নেই, কিন্তু ফোনে ওর গাইডলাইন আমাদের জন্য বড় একটা ভরসা হয়ে দাঁড়ালো। আমার প্রাথমিক পরিকল্পনা আর ওর সাজিয়ে দেওয়া ছক অনুযায়ী আমাদের লক্ষ্য ঠিক হলো চুনারুঘাট।

ভোর সাড়ে চারটায় যখন মাধবপুরে বাস থেকে নামলাম, চারপাশটা একদম নিঝুম। পানসি হোটেলে ফ্রেশ হয়ে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদের ভেতর কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলাম। সেই ভোরবেলাটা অদ্ভুত ছিল—কোনো তাড়া নেই, কোনো ইমেইল বা কল আসার ভয় নেই। মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশের এক খোলা দোকানে মামার হাতের গরম গরম ডিম-খিচুড়ি দিয়ে সকালের নাস্তাটা সেরে নিলাম। সেই তৃপ্তির স্বাদ নিয়ে
সাড়ে ছয়টায় সিএনজি নিয়ে যখন সাতছড়ির পথে রওনা হলাম, দুপাশের চা বাগান আর ছোট টিলাগুলো যেন আমাদের স্বাগত জানাচ্ছিল।

সাতছড়ি ন্যাশনাল টি কোম্পানির বাগানে ঢোকার পর মনে হলো, আমরা বোধহয় সময়ের বাইরে কোথাও চলে এসেছি। ছুটির দিনে চা বাগান বললেই আমাদের চোখে যে পর্যটকদের ভিড় ভাসে, এখানে তার ছিটেফোঁটাও নেই। সরু রাস্তার দুপাশে চা গাছের সারি, উপরে বড় বড় ছায়াবৃক্ষ। কোথাও কোনো কৃত্রিমতা নেই।

আমরা হাঁটছি আর শুনছি কেবল বুনো পাখির ডাক। মাঝেমধ্যে কিছু বানরের চিৎকার ছাড়া পুরো পরিবেশটা একদম থমথমে নির্জন। এই নির্জনতাই আমি খুঁজছিলাম। শহরের সেই হাজারটা ডেডলাইন, ক্যারিয়ারের চিন্তা আর না পাওয়াগুলোর যে পাহাড় মাথার ভেতর জমে ছিল, এই তিন-চার কিলোমিটার হাঁটার পথে সেগুলো যেন একটু একটু করে আলগা হতে শুরু করল।

হাঁটতে হাঁটতে এক সময় দেশের একদম শেষ প্রান্তে, ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে এলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকাতেই মনে হলো—এতটা পথ কেবল সবুজের টানে আসিনি, এসেছি নিজের সাথে একটু সময় কাটাতে। স্মৃতির জন্য কিছু ছবি আর ভিডিও তোললাম ঠিকই, কিন্তু সেই বাতাসের অনুভূতিটা তো আর লেন্সে ধরা যায় না।

ফেরার পথে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানটা পাশেই পড়ল। ওটা নিয়ে নাহয় অন্যদিন বলব। তবে ওই দিন বুঝেছিলাম—সব সময় সব কিছু গুছিয়ে শুরু করতে হয় না। পকেট খালি থাকলেও মাঝেমধ্যে স্রেফ বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার জন্য হলেও অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়া দরকার।

লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

#ভ্রমণ #ভ্রমণকাহিনি #হবিগঞ্জ #চুনারুঘাট #সাতছড়ি #চা_বাগান #বাংলাদেশ #চাবাগাDa

26/04/2026

অবিরাম ছুটে চলাই জীবন নয়, মাঝে মাঝে প্রকৃতির এই নিস্তব্ধতায় থেমে গিয়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়াটাও জরুরি। সবুজের এই বিশালতার কাছে জীবনের সব জটিলতা আজ বড্ড গৌণ। 🌿

✍️ Abdul Kahhar (Siam)

​ #প্রকৃতি #জীবনদর্শন #প্রশান্তি #সবুজ #নিজের_সাথে_কিছু_সময় #চা_বাগান #বাংলাদেশ #একান্ত_মুহূর্ত #শান্তি

“অচেনা মানুষের আপন হয়ে ওঠার গল্প: ভ্রমণ, আস্থা আর একঝাঁক স্মৃতি”সাজেক থেকে সেন্টমার্টিন, কিংবা সিলেট থেকে বান্দরবান—গত দ...
20/04/2026

“অচেনা মানুষের আপন হয়ে ওঠার গল্প: ভ্রমণ, আস্থা আর একঝাঁক স্মৃতি”

সাজেক থেকে সেন্টমার্টিন, কিংবা সিলেট থেকে বান্দরবান—গত দুই বছরে ৩৫টিরও বেশি ট্যুরে আমার দিন-রাত কেটেছে পাহাড়ের ঢালে কিংবা সমুদ্রের বিশালতায়। ট্যুর গাইডিংয়ের সেই রোমাঞ্চ আর মানুষের সাথে মেশার প্রবল নেশা থেকেই আমার এই পথচলা। শুধু সাজেকেই গিয়েছি ৭ বার, কিন্তু প্রতিবার নতুন সব মানুষের সাথে যখন মেঘের রাজ্যে দাঁড়াতাম, প্রতিটা মুহূর্তই একদম প্রথমবারের মতো নতুন মনে হতো।

​প্রতিটি ট্যুর ছিল আমার জন্য ধৈর্যের এক একটি পরীক্ষা। একেকজন গেস্টের আবদার আর শত মানুষের দায়িত্ব সামলাতে গিয়েই নিজের লিডারশিপ এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল গেস্টদের সেই অটুট বিশ্বাস—যখন কেউ আস্থার সাথে বলতেন, 'ভাই, আমাদের পরের ট্যুরে কিন্তু হোস্ট হিসেবে আপনাকেই থাকতে হবে।' এই যে এক বা দুদিনের পরিচয়ে মানুষগুলো একদম নিজের পরিবারের মতো হয়ে উঠত, এটাই আমার আসল সার্থকতা। তাদের সেই ভালোবাসার কিছু পজিটিভ রিভিউ (যা আজ শেয়ার করলাম) আজও আমাকে নতুন কোনো কাজের উৎসাহ দেয়।

​বর্তমানে কর্মব্যস্ততায় হয়তো আগের মতো প্রতি সপ্তাহে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া হয় না, তবে ‘ভ্রমণ প্রিয় পর্যটক’ গ্রুপের এডমিন প্যানেলে থেকে সেই ভালোলাগার জায়গাটির সাথেই জড়িয়ে আছি। ট্যুরের সেই দৌড়ঝাঁপগুলো এখন হয়তো কিছুটা মিস করি, কিন্তু দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা এই অমূল্য স্মৃতিগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

​ব্যস্ততা কাটিয়ে আবারও কোনো একদিন দেখা হবে পাহাড়ের কোনো এক বাঁকে কিংবা সমুদ্রের কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই জমানো ভালোবাসাগুলোই হোক আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

​ #ভ্রমণপ্রিয়পর্যটক #৩৫টিট্যুর #ট্যুরগাইডলাইফ
#হোস্টিং #মানুষেরভালোবাসা #সাজেকথেকেসেন্টমার্টিন #ভ্রমণগল্প #অজানাআকর্ষণ #স্মৃতিচারণ #লিডারশিপ

 #ঐতিহ্য_আর_প্রকৃতির_মায়ায়_ঘেরা_রামু_ভ্রমণের_স্স্মৃতি২০২০ সালের আগস্ট মাস, চারদিকে তখন করোনাকালের নিস্তব্ধতা। পর্যটন কেন...
18/04/2026

#ঐতিহ্য_আর_প্রকৃতির_মায়ায়_ঘেরা_রামু_ভ্রমণের_স্স্মৃতি

২০২০ সালের আগস্ট মাস, চারদিকে তখন করোনাকালের নিস্তব্ধতা। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘুরে আমি রওনা হলাম ঐতিহাসিক রামু উপজেলার দিকে। আকাশজুড়ে মেঘ আর বর্ষার আবহাওয়া আমার এই একাকী ভ্রমণে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল।

আমার মূল গন্তব্য ছিল উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত গৌতম বুদ্ধের ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা মূর্তি। পর্যটকশূন্য এই এলাকায় বৃষ্টির শব্দে মন্দির প্রাঙ্গণটি বেশ শান্ত ছিল। ১৯৮৭ সালে নির্মিত এই বিশাল মূর্তিটি মূলত ড্রাগন পাহাড়ের ওপর অবস্থিত, যা বর্তমানে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। ভিড় না থাকায় আমি বেশ সময় নিয়ে মূর্তিটির কারুকার্য এবং আশপাশের পরিবেশ দেখতে পেরেছিলাম।

বৌদ্ধ বিহারের ঐতিহাসিক পরিবেশ দেখে আমি গেলাম রামুর বিস্তীর্ণ রাবার বাগানে। ১৯২০-এর দশকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ শুরু হওয়া এই বাগানগুলো রামুর অর্থনীতির একটি বড় অংশ। বৃষ্টির দিনে সারি সারি রাবার গাছের মাঝ দিয়ে হাঁটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। গাছের পাতা থেকে টুপটুপ করে বৃষ্টির জল পড়ার শব্দ আর ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশটা সতেজ লাগছিল। জনশূন্য এই পরিবেশে বিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব আর রাবার বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে আমি সেদিন এক অন্যরকম প্রশান্তি নিয়ে ফিরেছিলাম।

লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

#রামু #কক্সবাজার #ভ্রমণ #স্মৃতি #বৌদ্ধবিহার #রাবারবাগান #ভ্রমণবাংলাদেশ #ঐতিহ্য
#রামু_বৌদ্ধ_বিহার

 #আটরশি_দরবার_শরীফ: এক দর্শনার্থীর পর্যবেক্ষণ ও অন্তর্দৃষ্টিছোটবেলা থেকেই "আটরশি দরবার" নামটি আমার কানে এসেছে জিকিরের সু...
24/10/2025

#আটরশি_দরবার_শরীফ: এক দর্শনার্থীর পর্যবেক্ষণ ও অন্তর্দৃষ্টি

ছোটবেলা থেকেই "আটরশি দরবার" নামটি আমার কানে এসেছে জিকিরের সুরে, গজলের তালে। এলাকা থেকে বাসভর্তি ভক্তদের "হুক্কুর হুক্কুর" ধ্বনি, মাইকে বাজতে থাকা দরবারি গজল— সবকিছু মিলিয়ে ফরিদপুরের আটরশি আমার কল্পনায় ছিল রহস্যময় এক স্থান।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন কথাও শুনেছি— কেউ বলেছে এটি তরিক্বতের আলোকশিখা, কেউ বলেছে ভণ্ডামির আখড়া। এই দুই মেরুর মাঝে দাঁড়িয়ে আমার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরত— "যদি ভ্রান্ত হয়, তবে কেন লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে আকৃষ্ট হয়?" সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই, দীর্ঘদিনের কৌতূহল নিয়ে গেলাম এক শুক্রবার, ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে। সেখানকার কার্যক্রম সচক্ষে দেখা, জানা এবং পরখ করে দেখাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।

• বিশালতার এক নিজস্ব নগরী
ফরিদপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক বিশাল কমপ্লেক্স— যেন এক নিজস্ব নগরী। প্রায় ৬০ একর মূল এলাকা শক্ত মজবুত বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা, যার বৃহত্তর পরিসর প্রায় ৬০০ একর জুড়ে বিস্তৃত।

দরবারের ব্যবস্থাপনার মান ছিল অবাক করার মতো। চারতলা বিশিষ্ট সুসজ্জিত হাসপাতাল, হ্যালিপ্যাড, ব্যাংক, পোস্ট অফিস— সবই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার জাকের (সেবক) ও খাদেম দু'বেলা আহার করেন। নিয়মিত রান্নার জন্য রয়েছে শত শত চুলা এবং বিশাল জেনারেটরগুলো গর্জে চলছে বিদ্যুৎ সরবরাহে।

মানবসেবার দিকটিও এখানে উল্লেখযোগ্য। দরবারের হাসপাতালটিতে স্থানীয় দরিদ্র রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পান— এটি নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক উদ্যোগ। এছাড়াও, দরবার প্রাঙ্গণে রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক বিশাল জামে মসজিদ— যা আমার চোখে দেখা দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মসজিদ।

সমস্ত ব্যবস্থাপনা দেখে অবাক হতে হয়। কোনো সরকারি বা এনজিও-এর অনুদান ছাড়াই, সবই লক্ষ কোটি জাকের ও ভক্তদের দানে পরিচালিত। তাদের দাবি অনুযায়ী, চার দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরস মাহফিলে লক্ষাধিক মানুষ তাবু ফেলে অবস্থান নেয়— এক মহাসমাবেশ যেন। এই সময় হাজারো পশু কোরবানি হয়, যা এই বিশাল আয়োজনের প্রতিচ্ছবি।

• মাজারের নির্দেশনা ও অসঙ্গতির দ্বৈরথ
মরহুম হযরত পীর ছাহেব মাজার জেয়ারতের বিষয়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও শরীয়তসম্মত নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তাঁর নির্দেশনায় ছিল— মাজারে সেজদাহ করা, পুষ্পমাল্য, গিলাপ বা আলোকসজ্জা প্রদান, কিংবা উচ্চস্বরে বিলাপ— সবই হারাম ও নিষিদ্ধ। এমনকি "আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা যাবে না" লেখা বোর্ড চোখে পড়ল, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

কিন্তু এরপরেও মাজারকে কেন্দ্র করে কিছু অসঙ্গতি নজরে পড়ে, যা এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে:

১. সেজদা ও অতিভক্তি: মাজারে সেজদা নিষেধ থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ভক্তি-নির্ভর কিছু মুরীদ হরহামেশা সিজদাহ করে বসে। ২. হাঁটার নিয়ম: মাজার জিয়ারতের পর মাজারের দিকে ফিরে পিছন দিকে হাঁটতে বাধ্য করা হয়। আদবের নামে এমন কাজকে আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকেছে। ৩. দোয়ার দিক: নামাজের পর মোনাজাত কিবলামুখী না হয়ে মাজারের দিকে ফিরে ধরা হয়। ৪. খালি পায়ে হাঁটা: মাজার প্রাঙ্গণকে অতি পবিত্র ভেবে এর কংক্রিট ও ইটের রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়।

এসব দেখে মনে হলো— শরীয়তের সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলেও, তার বাস্তব প্রয়োগে এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। কিছু অন্ধভক্ত মুরীদের আচরণ পুরো দরবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

• খাদেম ও আলেমদের সঙ্গে আলোচনা
দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি মাজার ঘুরে যেসব অসঙ্গতি চোখে পড়েছিল, সেগুলোর উত্তর খুঁজতে প্রথমে মাজারের একজন খাদেমের কাছে গেলাম। তাঁর উত্তর শুনে বুঝলাম, তিনি পুরোটাই বিশ্বাস ও ভক্তির জায়গা থেকে যুক্তি দিচ্ছিলেন, যেখানে শরীয়তের সুস্পষ্ট কোনো দলিল ছিল না।

তিনি বুঝতে পারলেন যে, কেবল বিশ্বাসের যুক্তি দিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট করা যাবে না। তাই তিনি আমাকে দরবারের এক আলেমের কাছে পাঠালেন। আমি আমার পরিচয় দিলে তিনি আমাকে অতিথি কক্ষে নিয়ে গেলেন। মাগরিবের পর থেকে ইশার আগ পর্যন্ত, প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ধরে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলে।

একে একে মাজারের অসঙ্গতি, মুরীদদের কোরবানি এবং অন্যান্য বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললাম। আলেম হুজুরও প্রথমে শরীয়তের জায়গা থেকে দলিল দেওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি শরীয়তের আলোকে তাঁর যুক্তিগুলোর সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টা করি এবং পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিই। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি দরবারের কিছু অসঙ্গতি ও ত্রুটির কথা স্বীকার করে নিলেন। একইসাথে তিনি দাবি করেন যে, এসব ত্রুটি কিছু সংশোধন করা হয়েছে এবং আরও কিছু সংশোধনের কাজ চলছে।

আলেম হুজুরের যুক্তিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। তিনি বললেন, "আমরা শরীয়তসম্মত তরিক্বত চাই, কিন্তু কিছু মানুষ ভক্তির উচ্ছ্বাসে সীমা লঙ্ঘন করে ফেলে।" তাঁর কথায় সত্যের এক ঝলক পেলেও বাস্তব পরিস্থিতি দেখে মনে হলো— তরিক্বতের নামে শরীয়তের শৃঙ্খলা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আলোচনা শেষে খাদেম হুজুরের আন্তরিক আতিথেয়তা মন ছুঁয়ে যায়।

পরিশেষে বলবো, আটরশি দরবারে গিয়ে আমি বুঝেছি— এটি শুধু এক ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং এক সমাজ-বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এখানে যেমন ঈমান ও সেবার চিত্র দেখা যায়, তেমনি কিছু কুসংস্কারের ছায়াও রয়ে গেছে। আলেম হুজুরের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, আটরশি দরবারে মূলত দুই শ্রেণী রয়েছে— আলেম ও মাদ্রাসার ছাত্র এবং অতিরিক্ত ভক্তি-নির্ভর কিছু মুরীদ। এই মুরীদরাই মূলত অতিভক্তি ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে শরীয়ত-সাংঘর্ষিক কাজ করে, যা দরবারকে ঘিরে বিতর্কের অন্যতম কারণ।

এই দরবার, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হযরত শাহ সুফি খাজা হাসমত উল্লাহ (রহ.), ঐতিহ্যগতভাবে এই অঞ্চলের জন্য তরিক্বতের এক গুরুত্বপূর্ণ জংশন। শরীয়তের আলোয় তরিক্বতের পথকে আলোকিত করা— এটাই আজ দরবারটির সবচেয়ে জরুরি কর্তব্য।

ফিরে আসার পথে মনে হচ্ছিল, আমাদের সমাজে তরিক্বতের প্রয়োজন আছে, কিন্তু তরিক্বত যেন কখনো শরীয়তের সীমা অতিক্রম না করে— এটিই আসল চ্যালেঞ্জ।

মহান আল্লাহ পাক হযরত শাহ সুফি খাজা হাসমত উল্লাহ (রহ.)-এর উত্তরসূরিদেরকে সেই দাওয়াতি ভার বহনের তাওফিক দিন, আর আমাদেরকেও যেন সত্য ও ভ্রান্তির মাঝে পার্থক্য বুঝে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলার হিদায়াত দান করেন।

আমিন।

লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

 #তাজমহলের_ছায়ায়_গড়া_এক_মসজিদ:    দারুসসালাম কমপ্লেক্স ভ্রমণশুক্রবার মানেই আমার কাছে এক বিশেষ দিন। সময় থাকলে চেষ্টা করি ...
11/04/2025

#তাজমহলের_ছায়ায়_গড়া_এক_মসজিদ:
দারুসসালাম কমপ্লেক্স ভ্রমণ

শুক্রবার মানেই আমার কাছে এক বিশেষ দিন। সময় থাকলে চেষ্টা করি ঢাকার কোনো সুন্দর মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতে। কেবল নামাজই নয়, চোখ ও মন জুড়িয়ে যাওয়া একটি পরিবেশও যেন মনের গভীর প্রশান্তির উৎস হয়ে দাঁড়ায়। এমনই এক শুক্রবারে অনেক ঘাটাঘাটি করে খুঁজে বের করলাম এক অনন্য মসজিদ—দারুসসালাম মার্কাজে ইশাআতে ইসলাম কমপ্লেক্স।
ফুরফুরা দরবার শরীফ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম, কিন্তু এই স্থাপত্যমণ্ডিত মসজিদের রূপ এতদিন কেন চোখে পড়েনি—তা ভেবে নিজেই বিস্মিত হলাম। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে এত মনোমুগ্ধকর একটি স্থাপনা, অথচ শহরের অনেকেই হয়তো এর খবরই জানেন না। একে যেন বলা চলে—ব্যস্ত শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা এক আত্মিক সৌন্দর্যের ঠিকানা।

এই মনকাড়া মসজিদটি অবস্থিত ঢাকার মিরপুর রোডে, দারুসসালাম ২/২ নম্বর এলাকায়—কল্যাণপুর ও টেকনিক্যাল মোড়ের মাঝখানে। শহরের কোলাহলময় পরিবেশের মধ্যে এমন নীরব, নির্মল এক স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটি যেন নিজেই প্রশান্তির বার্তা বহন করে।

মসজিদ চত্বরে পা রাখতেই চোখে পড়ে প্রাচীন আমলের একটি বিশাল দেয়ালঘড়ি। যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে, আর আমরা এক অনন্ত ঐতিহ্যের দিকে এগিয়ে চলেছি। মসজিদের মূল ভবন সামনে আসতেই যেন চোখ আটকে যায়—চার কোনায় চারটি সুউচ্চ মিনার আর মাঝখানে বিশাল গম্বুজ; এর চারপাশে রয়েছে আরও চারটি ছোট গম্বুজ। সম্পূর্ণ কাঠামোটি ভারতের তাজমহলের অনুকরণে নির্মিত হলেও, প্রতিটি ইঞ্চিতে মিশে আছে এক স্বতন্ত্র ইসলামী রুচি ও স্নিগ্ধতা।

১৯৬২ সালে এই জমি দারুসসালামের নামে খরিদ করা হয় এবং ফুরফুরা দরবার শরীফের মরহুম পীর হযরত আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.)-এর পরিকল্পনায় মসজিদের মূল কাঠামো নির্মিত হয়। ৪৪,৪৬০ বর্গফুট আয়তনের এই বিস্তীর্ণ ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে ২২৮টি মজবুত পিলারের উপর। অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই—মেঝে মোজাইক ও রঙিন টাইলসে মোড়ানো, দৃষ্টিনন্দন খিলান ও কারুকাজে শোভিত পিলার, আর ছাদজুড়ে ঝুলন্ত ঝাড়বাতির ঝলকানি এক অপার্থিব আলোকমালার মতো।

সবচেয়ে মনকাড়া অংশটি হলো তিনতলা ভবনের উপর নির্মিত প্রধান গম্বুজটি। শ্বেতপাথরের অলংকরণে মোড়ানো গম্বুজটি চারপাশের ছোট গম্বুজগুলো নিয়ে এক অপূর্ব আকাশরেখা তৈরি করেছে। দূর থেকে তাকালেও চোখ জুড়িয়ে যায়—মনে হয়, যেন জান্নাতের কোনো মিনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

‘কমপ্লেক্স’ শব্দটি শুধু নামমাত্র নয়—এই মসজিদের পরিধি ও কার্যক্রম সত্যিই বিস্তৃত। এখানে রয়েছে দরসে নিজামী মাদ্রাসা, মহিলা মাদ্রাসা, কুরআন হেফজখানা, মক্তব, এতিমখানা, ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্র, পাঠাগার, লিল্লাহ বোর্ডিং, মেহমানখানা এবং নিয়মিত ইসালে সওয়াব ও মাসিক তালিম মাহফিল। এটি নিঃসন্দেহে ঢাকার অন্যতম একটি পরিপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষা ও ইবাদতের কেন্দ্র।

প্রতিদিন এখানে শত শত ছাত্র, শিক্ষক ও মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হন। আমিও সেই কাতারে দাঁড়িয়ে কিছু সময়ের জন্য যেন দুনিয়ার ব্যস্ততা ভুলে গিয়েছিলাম। নির্মল বাতাস, নিঃশব্দ প্রশান্তি আর ঈমানি আবহ—সবকিছু মিলিয়ে এই মসজিদ আমার হৃদয়ে এক গভীর ছাপ রেখে গেছে।

আপনারাও যদি সুযোগ পান, অন্তত একবার ঘুরে আসুন এই মসজিদ কমপ্লেক্সে। শুধু চোখ নয়—আত্মাও প্রশান্তিতে ভরে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।

লেখক : Abdul Kahhar ( Siam )

🌴  #নীলশয্যার_স্বর্গরাজ্যে_দ্বিতীয়বার: সেন্টমার্টিন সফরের অভিজ্ঞতাশহরের কোলাহল আর পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্তি পেতে আবারও ছু...
08/01/2025

🌴 #নীলশয্যার_স্বর্গরাজ্যে_দ্বিতীয়বার: সেন্টমার্টিন সফরের অভিজ্ঞতা

শহরের কোলাহল আর পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্তি পেতে আবারও ছুটে গিয়েছিলাম বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ—সেন্টমার্টিনে। আমার ভ্রমণ প্রিয় পর্যটক গ্রুপ থেকে দুই বাস ভর্তি পর্যটক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হারিয়ে গেলাম নীল শয্যার এই স্বর্গরাজ্যে। তবে এবারের ভ্রমণটা ছিল কিছুটা আলাদা, কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া নতুন উদ্যোগের কারণে যাতায়াতের রুট থেকে শুরু করে দ্বীপের অভিজ্ঞতা—সবকিছুতেই এসেছে নতুনত্ব।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমরা সায়েদাবাদ থেকে “সেন্টমার্টিন ক্লাসিক” বাসে রওনা দিই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। পথে একটি রেস্টুরেন্টে ২০ মিনিটের বিরতি। ভোরে যখন কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাটে পৌঁছাই, তখন ফজরের আযান শুরু। নামাজ শেষে ইনসানিয়াত হোটেল থেকে ডিম-খিচুড়ি প্যাকেট আনা হয়, আর সবার হাতে নাস্তা তুলে দিয়ে আমরা একসাথে জাহাজে উঠি।

এইবার বারো আউলিয়ার টিকিট না পাওয়ায় আমাদের যাত্রা হয় “কেয়ারি সিন্দাবাদ” জাহাজে। তুলনামূলক ছোট আর ধীরগতির হওয়ায়, জোয়ার-ভাটার কারণে দ্বীপে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সমুদ্রের বুকে দীর্ঘ সময় কাটানো—একদিকে অপরূপ সৌন্দর্যের সুযোগ, অন্যদিকে অনেকে শেষে এসে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

দ্বীপে পৌঁছে সরাসরি দুপুরের খাবার সারি “সেন্টমার্টিন ক্লাসিক” রেস্টুরেন্টে। এরপর ৮০ জন অতিথির থাকার ব্যবস্থা করি সুগন্ধা, সী-পয়েন্ট, সী-ক্রাউন ও সী-প্রবাল রিসোর্টে। ফ্রেশ হয়ে সকলে সৈকতে ঘুরতে যায়, আর রাত ১১টার দিকে জমে ওঠে দারুণ বারবিকিউ পার্টি। বিচে বসে খাওয়াদাওয়া, আড্ডা আর গান—সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত রাত কাটে গভীর রাত পর্যন্ত।

পরের দিন ভোরে অটোতে ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া। ছবি তোলা, হাঁটাহাঁটি শেষে সকাল ৯টার মধ্যে ফিরে সকালের নাস্তা। এরপর তরুণদের ফুটবল খেলা আর সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়া—শীতকালেও পানির উষ্ণতায় মেতে ওঠে সবাই। দুপুরে খাবার শেষে বিকেলে সাইক্লিং, সন্ধ্যায় জেঠি ঘাটে আড্ডা, আর রাতে যার যার মতো সময় কাটানো।

তৃতীয় দিনে যারা প্রথমদিন ছেঁড়াদ্বীপ যেতে পারেনি, তাঁদের নিয়ে আবারও ভোরে যাই। সূর্যোদয়ের দৃশ্য আর নীল সমুদ্রের ঢেউ—এ যেন এক স্বপ্নের মুহূর্ত। ঘন্টা দুই ঘুরে ফিরে সকালের নাস্তা, এরপর কেনাকাটা ও রিসোর্টের বিল পরিশোধের ব্যস্ততা। দুপুরে লাঞ্চ শেষে বিকেল তিনটায় শিপে ওঠা। ফেরার পথে সূর্যাস্তের দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে তোলে। রাতে শিপে বসে আড্ডা, গান আর গানের কলি খেলার মজার মুহূর্ত জমে ওঠে।

রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। মাঝপথে রামুর ভাইভাই হোটেলে সুস্বাদু হাঁসের মাংস আর গরুর নেহারির স্বাদ নেই, সত্যিই অসাধারণ ছিল। শেষ রাতে কুমিল্লায় একবার বিরতি দিয়ে ভোর ৯টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাই।

দু’দিনের ভ্রমণে পর্যটকদের দায়িত্ব পালন যেমন করেছি, তেমনি ব্যক্তিগতভাবেও সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। দীর্ঘদিন পরীক্ষার কারণে ঘরবন্দী থাকার পর এ সফর আমাকে দিয়েছে নতুন মানসিক প্রশান্তি আর প্রাণশক্তি।

আমাদের প্যাকেজ জনপ্রতি ৬৫০০ টাকা। এতে ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া, জাহাজের টিকিট, নয় বেলা খাবার আর দুই রাত তিনদিনের রিসোর্টে থাকা—সবই অন্তর্ভুক্ত।

তবে মনে রাখার বিষয় হলো—২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে সরকার সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। তাই যেতে চাইলে জানুয়ারির মধ্যেই যেতে হবে। আর ভ্রমণের জন্য মাথায় রাখুন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

১️⃣ পরিবর্তিত রুট: এখন টেকনাফ নয়, কক্সবাজার নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়ে। সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। তবে পথে মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

২️⃣ ট্রাভেল পাস: ভ্রমণের আগে সংগ্রহ করতে হবে। ট্যুর এজেন্সিগুলো টিকিটের সাথে দিয়ে থাকে, তাই আলাদা ঝামেলা নেই।

৩️⃣ ছেঁড়াদ্বীপ: সরকার সেখানে ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। তবে ভোরে গেলে অল্প সময়ের জন্য প্রবেশ করা যায়, সকাল ৮টার পর আর সুযোগ থাকে না।

লেখক : Abdul Kahhar ( Siam )

Address

Dhanmondi
Dhaka

Telephone

+8801311481514

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Abdul Kahar's Travelogue posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Abdul Kahar's Travelogue:

Share