Abdul Kahar's Travelogue

Abdul Kahar's Travelogue Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Abdul Kahar's Travelogue, Tourist Information Center, Dhanmondi, Dhaka.

আল্লাহর সৃষ্টি ও নিদর্শন খোঁজার পথে... 🌍
প্রকৃতি, ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও ইসলামী ঐতিহ্যের সফরে কুদরতের সৌন্দর্য দেখি 🌿
“তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ যারা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করেছে তাদের পরিণাম কী হয়েছে।” (সূরা আন‘আম: ১১)
লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

গন্তব্যহীন যাত্রা (২) : অরণ্যের নীরবতা, মানুষের গল্প​চা বাগানের শেষ সারিটা পেরোতেই হঠাৎ যেন চারপাশের আলো বদলে গেল। কয়েক ...
17/06/2026

গন্তব্যহীন যাত্রা (২) : অরণ্যের নীরবতা, মানুষের গল্প

​চা বাগানের শেষ সারিটা পেরোতেই হঠাৎ যেন চারপাশের আলো বদলে গেল। কয়েক সেকেন্ড আগেও যেখানে ছিল পরিচ্ছন্ন মখমলে সবুজের এক সুশৃঙ্খল বিস্তার, সেখানে এখন চোখের সামনে দাঁড়িয়ে এক আদিম, রহস্যময় অরণ্য—সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান।
​তবে অরণ্যের এই আদিমতায় পা রাখার আগেই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো, জনপ্রতি ১১৫ টাকা করে এন্ট্রি টিকিট কাটলাম। প্রাকৃতিক পরিবেশের তুলনায় ভেতরে অবকাঠামোগত সুবিধা বা রক্ষণাবেক্ষণ কিছুটা সীমিত হওয়ায় প্রবেশমূল্যটা আমার কাছে সামান্য বেশি বলেই মনে হয়েছে। যাই হোক, টিকিট কেটে ভেতরে পা রাখতেই যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতে হারিয়ে গেলাম। চা বাগানের মানুষের তৈরি সাজানো সবুজ একপাশে রেখে এই ঘন, বুনো পরিবেশে ঢোকার অনুভূতিটাই আলাদা। চারপাশের গাছপালা এত ঘন আর নিবিড় যে বনের অনেক জায়গায় সূর্যের আলো ঠিকঠাক পথ খুঁজে পায় না।

​আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল বনের ওয়াচ টাওয়ার। বেশ কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভেঙে যখন ওপরে উঠলাম, চোখের পলক যেন থমকে গেল। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ গাছপালার সেই বিশাল চাদর চোখের নিমিষেই শহরের সব ক্লান্তি ধুয়ে দিয়ে এক অদ্ভুত শীতলতা এনে দিল। টাওয়ারে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা বুক ছুঁয়ে গেছে, তা হলো চারপাশে শত শত বুনো পাখির কিচিরমিচির শব্দ। ঠিক তখনই দেখা হলো ঢাকা থেকে আসা একঝাঁক প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের সাথে। তারা কোনো ফ্রেমবন্দী ছবির জন্য নয়, বনের এই গহীনে এসেছেন শুধু বিচিত্র সব পাখির ডাক রেকর্ড করতে আর তাদের জীবনযাত্রার ফটোগ্রাফি করতে। জানলাম, রঘুনন্দন পাহাড়ের এই বনে নাকি প্রায় ১৪৯ প্রজাতির পাখি এবং উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমা হনুমানের মতো ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বাস।

​টাওয়ার থেকে নেমে সাইফুলের সাথে বনের আরও গভীরে ট্রেইলের দিকে এগোতে লাগলাম। লোকমুখে শুনেছি বনের নির্জন পথগুলোয় মাঝেমধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। চারপাশটা এতই নিঝুম যে মনের ভেতর হালকা একটা আশঙ্কার ছায়া ফেলছিল বৈকি। কিন্তু প্রকৃতির সেই আদিম টান আর বুনো ঘ্রাণের কাছে ভয়টা কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সাহস নিয়ে আমরা বনের গহীন পথ ধরে কিছুটা পথ হেঁটে চললাম। জঙ্গল যেন আমাদের ফিসফিস করে বলছিল—শহরের সব কোলাহল আর ব্যস্ততা ভুলে এই নীরবতাটুকু গায়ে মেখে নাও।

​বন ঘোরা শেষ করে যখন আমরা চুনারুঘাট উপজেলা সদরের দিকে রওনা হলাম, তখনো দুপাশের চা বাগানের দৃশ্য আমাদের চোখ জুড়িয়ে দিচ্ছিল। সত্যি বলতে, এই চুনারুঘাট এলাকাটার সাথে আমাদের জেনারেশনের বড় একটা অংশের পরিচয় মূলত সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কাজগুলোর কল্যাণে। কৌতূহল সামলাতে না পেরে রাস্তার পাশে, দোকানে স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণের সঙ্গে কথা বললাম। তাদের সাথে কথা বলে বুঝলাম, ব্যারিস্টার সুমনের প্রতি মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ ও শ্রদ্ধা এখনো বেশ প্রবল। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকেই তাঁর কাজের প্রশংসা করছিলেন। তাদের কথার মাঝেই উঠে এলো তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি সেই বিখ্যাত কাঠের ব্রিজ আর এমপি থাকাকালীন বানানো ভিউ পয়েন্টগুলোর গল্প। রাজনীতি বা বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে একজন মানুষ কীভাবে সাধারণের হৃদয়ে নিজের কাজের ছাপ রেখে যেতে পারেন, চুনারুঘাটের মানুষের কথায় সেই সম্মান স্পষ্ট দেখতে পেলাম।

​চুনারুঘাট সদরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুরের খরতাপ চারদিকে। সেখানে একটা স্থানীয় হোটেলে দুপুরের খাওয়া শেষ করে জুম্মার নামাজ আদায় করলাম মসজিদে। নামাজের পর শরীর আর মন দুটোই বেশ হালকা লাগল। বিকেলে যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে হাইওয়ের দিকে এগোচ্ছি, জানালার বাইরে তখনো চা বাগানের শেষ সবুজটুকু আমাদের বিদায় জানাচ্ছিল।
​ঢাকামুখী বাস তখন অন্ধকার গিলতে গিলতে ছুটে চলেছে। পকেট প্রায় খালি, কিন্তু মন ভরে আছে সাতছড়ির বুনো ঘ্রাণ, চুনারুঘাটের মানুষের আন্তরিকতা আর এক টুকরো মুক্তির অনুভূতিতে। গন্তব্যহীন সেই যাত্রা আমাকে আবার মনে করিয়ে দিল—সবচেয়ে সুন্দর ভ্রমণগুলোর কোনো পূর্বপরিকল্পনা থাকে না। কখনো কখনো পথই আমাদের এমন গল্প উপহার দেয়, যা কোনো পরিকল্পনা করেও পাওয়া যায় না।

​যারা সাতছড়ির এই আন্ডাররেটেড বুনো সৌন্দর্য নিজের চোখে দেখতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ব্যবহারিক তথ্য নিচে তুলে দিলাম—

​📌 সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান: কুইক ট্রাভেল গাইড

• ​কী দেখবেন: এটি মূলত রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত ২৪৩ হেক্টর জায়গার একটি উদ্যান। এখানে সাতটি পাহাড়ি ছড়া বা ঝর্ণা আছে (যা থেকে 'সাতছড়ি' নাম)। বনের ভেতরে আধ-ঘণ্টা (টিপরাপাড়া আদিবাসী গ্রাম), ১ ঘণ্টা এবং ৩ ঘণ্টার (পাখি প্রেমীদের জন্য ও আগরের বন) তিনটি ট্রেইল আছে।

• ​প্রবেশ ফি: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১১৫ টাকা, শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫৭ টাকা। ছোট গাড়ি পার্কিং ১১৫ টাকা।

• ​কীভাবে যাবেন:
​বাসে: ঢাকা থেকে সিলেটগামী যেকোনো বাসে উঠে মাধবপুরের পর তেলিয়াপাড়া বিশ্বরোড (তেইল্লাপাড়া) মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে নামবেন। সেখান থেকে সিএনজি বা ম্যাক্সিতে সরাসরি সাতছড়ি গেট।

​ট্রেনে: ঢাকা থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনি বা উপবন এক্সপ্রেসে শায়েস্তাগঞ্জ বা নোয়াপাড়া স্টেশনে নামুন। শায়েস্তাগঞ্জ থেকে লোকাল সিএনজিতে চুনারুঘাট হয়ে (ভাড়া ২০+২০ টাকা) অথবা সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করে সাতছড়ি যাওয়া যায়।

• ​খাওয়া ও থাকা: উদ্যানের ভেতরে কেবল মুদি দোকান আছে, ভালো খাবারের জন্য চুনারুঘাট বা মাধবপুর ভরসা। রাতে থাকার জন্য বনে ক্যাম্পিং বা রেস্টহাউজের জন্য বন বিভাগের অনুমতি লাগবে। নতুবা হবিগঞ্জ শহরের সাধারণ হোটেল (৪০০-২৫০০ টাকা) কিংবা শ্রীমঙ্গলের কটেজে থাকতে পারেন। বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার জন্য কাছেই আছে 'দ্যা প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট'।

​⚠️ জরুরি পরামর্শ: বনে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না, তাই ঢোকার আগে পরিবারকে জানান। গহীন বনে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে তথ্য কেন্দ্র থেকে ২০০-৫০০ টাকায় গাইড নিন। বর্ষায় জোঁকের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন এবং সন্ধ্যার আগেই উদ্যান ত্যাগ করুন।

লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

​📌 গল্পের প্রথম পর্ব (পর্ব ১) প্রথম কমেন্টে! 👇

​ #গন্তব্যহীন_যাত্রা #সাতছড়ি_জাতীয়_উদ্যান #চুনারুঘাট #হবিগঞ্জ #ভ্রমণবৃত্তান্ত #অরণ্যের_ডাক #বাংলাদেশ

27/05/2026

প্রকৃতির এই শান্ত রূপ আর বয়ে চলা নদীর বুকে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটা গভীর উপলব্ধি হলো—একদিন আমাদের এই সুন্দর পথ চলা, এই সব ব্যস্ততা ঠিক এভাবেই থেমে যাবে... খুব সাধারণ কোনো মুহূর্তে।

​আমাদের ছাড়াই এই দুনিয়া চলবে তার নিজস্ব নিয়মে। সবাই একদিন হারিয়ে যাবে, রয়ে যাবে শুধু আমাদের রেখে যাওয়া আমল। 🌿

​তাই ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার মোহ ছেড়ে, নিজের আসল গন্তব্য আখিরাতকে সাজিয়ে নিন। 🤲

​ #জীবন_উপলব্ধি #দ্বীন_ও_দুনিয়া

 #ভাওয়ালের_বনে_এক_বিকেলের_আত্মদর্শন​আমরা আসলে ক্লান্ত হওয়ার অভিনয় করি না, আমরা সত্যিই ভেতরে ভেতরে ফুরিয়ে যাই। শরীর ক্লান...
21/05/2026

#ভাওয়ালের_বনে_এক_বিকেলের_আত্মদর্শন

​আমরা আসলে ক্লান্ত হওয়ার অভিনয় করি না, আমরা সত্যিই ভেতরে ভেতরে ফুরিয়ে যাই। শরীর ক্লান্ত হলে বিছানা খুঁজি, কিন্তু আত্মা পরিশ্রান্ত হলে আমরা কোলাহলে মেতে সেই ক্ষত ঢাকতে চাই। আমার সবসময়ই অরণ্য পছন্দ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যক' আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'অরণ্যের দিনরাত্রি' উপন্যাস দুটি পড়ার পর বনের প্রতি আমার আকুলতাটা যেন বাউণ্ডুলের মতো বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঢাকার খুব কাছাকাছি প্রকৃতির সতেজতা পেতে গাজীপুর সবসময়ই আমার অন্যতম প্রিয় জায়গা। তাই একদিন বন্ধু Nadim Patwary কে সাথে নিয়ে চেনা সেই অরণ্যের টানেই রওনা হলাম।

​গাজীপুর পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে গেল। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো সেখানে কর্মস্থলে থাকা আমার স্কুল বন্ধু Bitul Adhikari এর কথা। ফোন দিতেই আন্তরিক কণ্ঠে ঠিকানা বুঝিয়ে দিল। এরপর রিকশা নিয়ে সোজা চলে গেলাম ওর বাসায়। দেখা হতেই যেন এক টুকরো কৈশোর ফিরে পেলাম। অনেকদিন পর দেখা, তাই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর একে অপরের খোঁজখবর নেওয়ার ফাঁকে আমরা মেতে উঠলাম ক্যারামবোর্ড খেলার টেবিলে। গুটি আর স্ট্রাইকারের শব্দের সাথে চলল আমাদের আড্ডা। এরপর বিটুলের আন্তরিক আতিথেয়তায় চমৎকার এক মধ্যাহ্নভোজ সেরে আমরা রওনা হলাম ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশ্যে। গাজীপুর থেকে ভাওয়াল যাওয়ার পথটা ছিল দারুণ উপভোগ্য। বাসের জানালার পাশে বসে দেখছিলাম রাস্তার পাশে ফুটে থাকা লাল-হলুদ ফুল আর ঘন ঝাউবনের অপরূপ সৌন্দর্য, যা শহুরে ধূসরতার ক্লান্তি মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিচ্ছিল।

​বনে পা রাখতেই মনে হলো, প্রকৃতি তার হাজার বছরের পুরোনো নীরবতা নিয়ে আমাদের স্বাগত জানাল। পায়ের নিচে শুকনো পাতার মড়মড় শব্দ আর কানের কাছে বয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ বাতাস এক নিমেষেই আমাদের অন্তর শীতল করে দিল। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো শাল-গজারির ডালপালা থেকে ভেসে আসছিল পাখির কলকাকলি। বনের ভেতরের ওয়াচ টাওয়ারে যখন উঠলাম, ওপর থেকে পুরো বনের এই সবুজ ক্যানভাস দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল।

​সবচেয়ে জাদুকরী মুহূর্তটি এলো বিকেলে। বনের এক কোণে শান্ত লেকের পাড়ে যখন দাঁড়ালাম, তখন চারপাশটা একেবারে নিঝুম। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘন গাছের পাতার ফাঁক গলে সূর্যের শেষ সোনালী কিরণ এসে পড়ল মাটির পথটায়। এই আলো-ছায়ার মায়াবী দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে এক পরম সত্য উপলব্ধি করলাম। প্রকৃতির গাছেরা বড় হওয়ার জন্য কোনো শব্দ করে না, আকাশও সুন্দর হওয়ার জন্য প্রশংসা খোঁজে না; অথচ আমরা মানুষরা প্রতিটা কাজেই অবিরত স্বীকৃতি খুঁজে বেড়াই বলেই দিনশেষে এতো অশান্ত। আমরা সারাজীবন টাকা আর সফলতার পেছনে দৌড়েও ভেতরে এক চরম শূন্যতা অনুভব করি, কারণ এই আত্মা কখনো দুনিয়ার কোনো বস্তু দিয়ে পূর্ণ হতে পারে না। আমরা আসলে অবচেতন মনে এক পরম সত্ত্বাকেই খুঁজে বেড়াই। পবিত্র কুরআনেও স্পষ্ট বলা আছে— "নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি।" (সূরা রাদ : ২৮)।

​ভাওয়ালের শান্ত বুনো পথে এক বিকেলের এমন আত্মদর্শন শেষে সন্ধ্যার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আমরা আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ফেরার পথে মনে হলো, কিছু নীরবতা আসলে শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলে। মানুষ পৃথিবী জিতে ফেলছে ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে নিজেকেই হারিয়ে ফেলছে। ব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি নিয়ে মাঝে মাঝে প্রকৃতির এমন নির্জনতায় হারিয়ে যাওয়া বড্ড প্রয়োজন। কারণ কিছু পথ মানুষকে গন্তব্যে নয়, নিজের কাছেই ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

​লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

#ভাওয়াল_জাতীয়_উদ্যান #ভাওয়াল
#গাজীপুর #ভ্রমণ_বৃত্তান্ত #অরণ্যের_দিনরাত্রি #আরণ্যক #প্রকৃতির_টানে #শালবন #বাংলার_প্রকৃতি #আত্মদর্শন #ভ্রমণপ্রেমী #ঘুরে_দেখি_বাংলাদেশ

14/05/2026

সবকিছু থেকে কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে প্রকৃতির মাঝে এই নিঃশব্দে হেঁটে যাওয়াটাও আসলে এক ধরণের পাওয়া। জীবনের মাঝে মাঝে এমন স্থিরতা প্রয়োজন। 🌿

​ #হবিগঞ্জ #সাতছড়ি #প্রকৃতি ীবন #বাংলাদেশ ​ #ভ্রমণ #শান্তি #সবুজ #রিলস

এপ্রিল-মে মাসের এই সময়টা প্রকৃতির এক অদ্ভুত রূপান্তরের সাক্ষী। তপ্ত রোদের মাঝে যখন বর্ষার আগের এক চিলতে মেঘলা আকাশ উঁকি ...
07/05/2026

এপ্রিল-মে মাসের এই সময়টা প্রকৃতির এক অদ্ভুত রূপান্তরের সাক্ষী। তপ্ত রোদের মাঝে যখন বর্ষার আগের এক চিলতে মেঘলা আকাশ উঁকি দেয়, তখনই প্রকৃতি যেন তার সবটুকু রঙ ঢেলে সাজে। চন্দ্রিমা উদ্যানের কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা আর সোনালুর হলদে হাসির এই মায়াবী রূপ যে কাউকে মুগ্ধ করবেই। নাগরিক ব্যস্ততার মাঝে একটু শান্তির খোঁজে আপনারা চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই রঙিন উদ্যান থেকে।

​ফটোগ্রাফি নিয়ে খুব বেশি পথচলা আগে হয়নি, যার ফলে ফটোগ্রাফিতে আমার হাত এখনো তেমন পরিপক্ক নয়। তবে এখন মনে হয়—চোখ যা দেখে, লেন্স তা কেবল ধরে রাখে। তাই শখের এই কাজটিকে আগামীর দিনগুলোতেও সঙ্গী করে রাখার ইচ্ছে আছে। ​আমার কাছে— ​"ফটোগ্রাফি কেবল ছবি তোলা নয়, এটি নিজের অদেখা সত্তাকে লেন্সের ভেতর দিয়ে নতুন করে আবিষ্কার করা।"

​কিছু প্রিয় মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করার চেষ্টা করলাম। আপনাদের কেমন লাগলো জানাবেন।

📸 Abdul Kahhar (Siam)


#ফটোগ্রাফি #কৃষ্ণচূড়া #প্রকৃতি #ভ্রমণ #ঢাকা #সোনালু #চন্দ্রিমা_উদ্যান #জিয়াউদ্যান

 #গন্তব্যহীন_যাত্রা: যখন চুনারুঘাটের নির্জনতাই হলো গন্তব্যবাসায় ফিরছিলাম, কিন্তু মনটা ঠিক বাসায় ছিল না। মাস শেষ, পকেট প্...
28/04/2026

#গন্তব্যহীন_যাত্রা: যখন চুনারুঘাটের নির্জনতাই হলো গন্তব্য

বাসায় ফিরছিলাম, কিন্তু মনটা ঠিক বাসায় ছিল না। মাস শেষ, পকেট প্রায় ফাঁকা, অথচ মাথার ভেতর এক ধরনের অদ্ভুত ভার। একই রুটিন আর একই দেয়ালগুলো যেন ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল। তখনই মনে হলো—এই মুহূর্তে বের না হলে বোধহয় দম আটকে যাবে। বন্ধু সাইফুলকে বলতেই ও কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ব্যাগ গুছিয়ে নিল।

আমাদের কোনো ম্যাপ ছিল না, ছিল না কোনো গন্তব্য। বৃহস্পতিবারের রাতে ট্রেনের টিকিটের আশা করা বিলাসিতা, তাই সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে স্রেফ উঠে পড়লাম শ্রীমঙ্গলের বাসে। বাসের জানালায় মাথা রেখে যখন বাইরে তাকালাম, তখন প্রথমবারের মতো মনে হলো—যাক, অন্তত পালানো তো গেল!

শ্রীমঙ্গল আগেও গিয়েছিলাম, বাসে বসেই গুগল আর অভিজ্ঞতার ঝুলি হাতড়ে সিদ্ধান্ত নিলাম—শ্রীমঙ্গল নয়, এবার আমরা নামবো হবিগঞ্জে। কোথাও গেলে সেখানকার পরিচিত কাউকে খুঁজে বের করা আমার পুরোনো অভ্যাস, যাতে স্থানীয় পরামর্শে পরিকল্পনাটা সহজ হয়। সেই সূত্রেই মনে পড়ল কলেজ বন্ধু রনির কথা। রনি এলাকায় নেই, কিন্তু ফোনে ওর গাইডলাইন আমাদের জন্য বড় একটা ভরসা হয়ে দাঁড়ালো। আমার প্রাথমিক পরিকল্পনা আর ওর সাজিয়ে দেওয়া ছক অনুযায়ী আমাদের লক্ষ্য ঠিক হলো চুনারুঘাট।

ভোর সাড়ে চারটায় যখন মাধবপুরে বাস থেকে নামলাম, চারপাশটা একদম নিঝুম। পানসি হোটেলে ফ্রেশ হয়ে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদের ভেতর কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলাম। সেই ভোরবেলাটা অদ্ভুত ছিল—কোনো তাড়া নেই, কোনো ইমেইল বা কল আসার ভয় নেই। মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশের এক খোলা দোকানে মামার হাতের গরম গরম ডিম-খিচুড়ি দিয়ে সকালের নাস্তাটা সেরে নিলাম। সেই তৃপ্তির স্বাদ নিয়ে
সাড়ে ছয়টায় সিএনজি নিয়ে যখন সাতছড়ির পথে রওনা হলাম, দুপাশের চা বাগান আর ছোট টিলাগুলো যেন আমাদের স্বাগত জানাচ্ছিল।

সাতছড়ি ন্যাশনাল টি কোম্পানির বাগানে ঢোকার পর মনে হলো, আমরা বোধহয় সময়ের বাইরে কোথাও চলে এসেছি। ছুটির দিনে চা বাগান বললেই আমাদের চোখে যে পর্যটকদের ভিড় ভাসে, এখানে তার ছিটেফোঁটাও নেই। সরু রাস্তার দুপাশে চা গাছের সারি, উপরে বড় বড় ছায়াবৃক্ষ। কোথাও কোনো কৃত্রিমতা নেই।

আমরা হাঁটছি আর শুনছি কেবল বুনো পাখির ডাক। মাঝেমধ্যে কিছু বানরের চিৎকার ছাড়া পুরো পরিবেশটা একদম থমথমে নির্জন। এই নির্জনতাই আমি খুঁজছিলাম। শহরের সেই হাজারটা ডেডলাইন, ক্যারিয়ারের চিন্তা আর না পাওয়াগুলোর যে পাহাড় মাথার ভেতর জমে ছিল, এই তিন-চার কিলোমিটার হাঁটার পথে সেগুলো যেন একটু একটু করে আলগা হতে শুরু করল।

হাঁটতে হাঁটতে এক সময় দেশের একদম শেষ প্রান্তে, ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে এলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকাতেই মনে হলো—এতটা পথ কেবল সবুজের টানে আসিনি, এসেছি নিজের সাথে একটু সময় কাটাতে। স্মৃতির জন্য কিছু ছবি আর ভিডিও তোললাম ঠিকই, কিন্তু সেই বাতাসের অনুভূতিটা তো আর লেন্সে ধরা যায় না।

ফেরার পথে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানটা পাশেই পড়ল। ওটা নিয়ে নাহয় অন্যদিন বলব। তবে ওই দিন বুঝেছিলাম—সব সময় সব কিছু গুছিয়ে শুরু করতে হয় না। পকেট খালি থাকলেও মাঝেমধ্যে স্রেফ বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার জন্য হলেও অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়া দরকার।

লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

#ভ্রমণ #ভ্রমণকাহিনি #হবিগঞ্জ #চুনারুঘাট #সাতছড়ি #চা_বাগান #বাংলাদেশ #চাবাগাDa

26/04/2026

অবিরাম ছুটে চলাই জীবন নয়, মাঝে মাঝে প্রকৃতির এই নিস্তব্ধতায় থেমে গিয়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়াটাও জরুরি। সবুজের এই বিশালতার কাছে জীবনের সব জটিলতা আজ বড্ড গৌণ। 🌿

✍️ Abdul Kahhar (Siam)

​ #প্রকৃতি #জীবনদর্শন #প্রশান্তি #সবুজ #নিজের_সাথে_কিছু_সময় #চা_বাগান #বাংলাদেশ #একান্ত_মুহূর্ত #শান্তি

“অচেনা মানুষের আপন হয়ে ওঠার গল্প: ভ্রমণ, আস্থা আর একঝাঁক স্মৃতি”সাজেক থেকে সেন্টমার্টিন, কিংবা সিলেট থেকে বান্দরবান—গত দ...
20/04/2026

“অচেনা মানুষের আপন হয়ে ওঠার গল্প: ভ্রমণ, আস্থা আর একঝাঁক স্মৃতি”

সাজেক থেকে সেন্টমার্টিন, কিংবা সিলেট থেকে বান্দরবান—গত দুই বছরে ৩৫টিরও বেশি ট্যুরে আমার দিন-রাত কেটেছে পাহাড়ের ঢালে কিংবা সমুদ্রের বিশালতায়। ট্যুর গাইডিংয়ের সেই রোমাঞ্চ আর মানুষের সাথে মেশার প্রবল নেশা থেকেই আমার এই পথচলা। শুধু সাজেকেই গিয়েছি ৭ বার, কিন্তু প্রতিবার নতুন সব মানুষের সাথে যখন মেঘের রাজ্যে দাঁড়াতাম, প্রতিটা মুহূর্তই একদম প্রথমবারের মতো নতুন মনে হতো।

​প্রতিটি ট্যুর ছিল আমার জন্য ধৈর্যের এক একটি পরীক্ষা। একেকজন গেস্টের আবদার আর শত মানুষের দায়িত্ব সামলাতে গিয়েই নিজের লিডারশিপ এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল গেস্টদের সেই অটুট বিশ্বাস—যখন কেউ আস্থার সাথে বলতেন, 'ভাই, আমাদের পরের ট্যুরে কিন্তু হোস্ট হিসেবে আপনাকেই থাকতে হবে।' এই যে এক বা দুদিনের পরিচয়ে মানুষগুলো একদম নিজের পরিবারের মতো হয়ে উঠত, এটাই আমার আসল সার্থকতা। তাদের সেই ভালোবাসার কিছু পজিটিভ রিভিউ (যা আজ শেয়ার করলাম) আজও আমাকে নতুন কোনো কাজের উৎসাহ দেয়।

​বর্তমানে কর্মব্যস্ততায় হয়তো আগের মতো প্রতি সপ্তাহে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া হয় না, তবে ‘ভ্রমণ প্রিয় পর্যটক’ গ্রুপের এডমিন প্যানেলে থেকে সেই ভালোলাগার জায়গাটির সাথেই জড়িয়ে আছি। ট্যুরের সেই দৌড়ঝাঁপগুলো এখন হয়তো কিছুটা মিস করি, কিন্তু দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা এই অমূল্য স্মৃতিগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

​ব্যস্ততা কাটিয়ে আবারও কোনো একদিন দেখা হবে পাহাড়ের কোনো এক বাঁকে কিংবা সমুদ্রের কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই জমানো ভালোবাসাগুলোই হোক আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

লেখক : Abdul Kahhar (Siam)

​ #ভ্রমণপ্রিয়পর্যটক #৩৫টিট্যুর #ট্যুরগাইডলাইফ
#হোস্টিং #মানুষেরভালোবাসা #সাজেকথেকেসেন্টমার্টিন #ভ্রমণগল্প #অজানাআকর্ষণ #স্মৃতিচারণ #লিডারশিপ

Address

Dhanmondi
Dhaka

Telephone

+8801311481514

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Abdul Kahar's Travelogue posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Abdul Kahar's Travelogue:

Shortcuts

Share