Vocal Buzz

Vocal Buzz What to watch? What to eat? Where to visit? From the actors of the cinematic universe to the most happening restaurants - VocalBuzz got it all covered.
(1)

We talk much.

নব্বই দশকে সত্যি বলার সুযোগ মিলত না সব সময় 🤚২০১৯ সালের এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে ফিরে তাকালে যেন নব্বইয়ের বলিউডের আরেকটা চেহ...
03/06/2026

নব্বই দশকে সত্যি বলার সুযোগ মিলত না সব সময় 🤚

২০১৯ সালের এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে ফিরে তাকালে যেন নব্বইয়ের বলিউডের আরেকটা চেহারা দেখা যায়—যেখানে আলো ছিল, গ্ল্যামার ছিল, কিন্তু নিজের কথা বলার মঞ্চ ছিল না। সেই সাক্ষাৎকারে রাভিনা ট্যান্ডন খুব খোলামেলাভাবে বলেছিলেন, নব্বইয়ের দশকে তারকাদের জীবন আজকের মতো ছিল না। তখন সোশ্যাল মিডিয়া বলে কিছু ছিল না। ফলে কোনও গুজব ছড়ালে, কোনও নেতিবাচক খবর ছাপা হলে, তার জবাব দেওয়ার সরাসরি পথ ছিল না অভিনেতাদের সামনে।

রাভিনা জানান, সেই সময়ে পত্রিকা বা সংবাদপত্রে যা ছাপা হত, সেটাকেই মানুষ সত্যি বলে মেনে নিত। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিজেদের বক্তব্য জানানোর আলাদা কোনও প্ল্যাটফর্ম ছিল না। আজকের মতো এক ক্লিকে পোস্ট করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ তখন ছিল কল্পনারও বাইরে। ফলে ভুল বোঝাবুঝি, অপপ্রচার বা একপেশে গল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। রাভিনার ভাষায়, এটাই ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে দুঃখের দিকগুলোর একটি—নিজের সত্যিটা নিজের মুখে বলার সুযোগ না থাকা।

তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, যদি তখন সোশ্যাল মিডিয়া থাকত, বলিউডের অনেকের মুখোশ খুলে যেত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থাকলে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অনেক বিষয় আরও স্বচ্ছ হতো, জবাবদিহি বাড়ত। এমনকি তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, সুযোগ পেলে তিনি নিজেই অনেককে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করতেন, অনেককেই “কল আউট” করতেন। তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, নব্বইয়ের গ্ল্যামারের আড়ালে কত না বলা গল্প চাপা পড়ে ছিল।

নব্বইয়ের দশকে রাভিনা ট্যান্ডন ছিলেন বলিউডের অন্যতম সফল নায়িকা। ‘দুলহে রাজা’, ‘শূল’, ‘আন্দাজ আপনা আপনা’, ‘মোহরা’, ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘লাডলা’—একটার পর একটা জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শীর্ষ নায়িকাদের কাতারে। পর্দায় তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত, কখনও রোমান্টিক, কখনও তীব্র। কিন্তু ক্যামেরার বাইরের লড়াইটা ছিল অন্যরকম—সেখানে নিজের কণ্ঠস্বরটাই ছিল সীমাবদ্ধ।

পেছনে তাকিয়ে রাভিনার মন্তব্য আসলে একটা সময়ের প্রতিচ্ছবি। সোশ্যাল মিডিয়া আজ যেমন তারকাদের সরাসরি দর্শকের সঙ্গে যুক্ত করেছে, তেমনি তাদের নিজেদের গল্প নিজেরাই বলার ক্ষমতাও দিয়েছে। মিডিয়া, সেলিব্রিটি আর দর্শকের সম্পর্কটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে গল্প তৈরি হত একপাক্ষিকভাবে, এখন সেখানে বহু কণ্ঠ একসঙ্গে শোনা যায়।

রাভিনার কথায় তাই শুধু ব্যক্তিগত আক্ষেপ নেই, আছে এক যুগের বাস্তবতা। নব্বইয়ের ঝলমলে পর্দার আড়ালে যে নীরবতা ছিল, আজকের ডিজিটাল যুগ সেই নীরবতাকে ভেঙে দিয়েছে। আর সেই পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সেই সময়ের তারকারাই।

জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই 🗣স্থানীয় বা মাতৃভাষার ভাল স্কুল কিন্তু এখনও কম। আসলে বাবা-মায়েরা মনে করেন, ছেলে বা মেয়ে ইংলিশ...
03/06/2026

জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই 🗣

স্থানীয় বা মাতৃভাষার ভাল স্কুল কিন্তু এখনও কম। আসলে বাবা-মায়েরা মনে করেন, ছেলে বা মেয়ে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লেই সেটা ক্যারিয়ারের জন্য ভাল। আর ইংরেজি ভাষায় পড়া মানেই একটা সুপিরিয়রিটি চলে আসে বাচ্চাদের মনে।

কারণ এটা তো একটা আন্তর্জাতিক ভাষা। দেখবেন, এমন অনেকেই আছেন যাঁরা ইংরেজি না-জানার গ্লানি নিয়ে নিজেরাই নিজেদের শূলে চড়ান! দে ফিল ইনফিরিয়র। জানি না, কেন! আর এখানেই আমার চরিত্রটা ইন্টারেস্টিং। লোকটা ইংরেজি জানে না। এবং তাতে তার কোনও সমস্যার বালাই নেই। বাকিরা সারাক্ষণ তাই নিয়ে লোকটাকে টিটকিরি মারে। কিন্তু ওই লোকটা এসব পাত্তাই দেয় না!

সন্তানদের জন্য আমি ‘আদর্শ’ স্কুল পেয়েছি। সেখানেই ওদের ভর্তি করিয়েছি। জানেন, ওখানে ওরা বিষয়গুলো যেন বাস্তবে বুঝে নিতে পারে সেভাবেই পড়ানো হয়। থিওরি কপচে কাজ সাড়া হয় না। থিওরিটিক্যাল শিক্ষাটা আমার মোটেই পছন্দ নয়। শিক্ষাটা হৃদয়ে পৌঁছাতে হবে। বুঝতে হবে।

স্কুলজীবনে আমার বেশি আগ্রহ ছিল খেলাধুলায়। যত এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ হতো, সবকিছুতে আমি থাকতাম। পড়ুয়া তো কোনওদিনই ছিলাম না। কাজেই একটা সময় আবার স্কুলটা জেলখানার মতো মনে হতে শুরু করেছিল। স্কুলজীবনটা একেবারেই উপভোগ করিনি। ভাবতাম, কবে এসব শেষ হবে!

ওটাই তো একটা লার্নিং এক্সপিরিয়েন্স ছিল আমার কাছে, যে আমরা যেটা ভোগ করলাম, আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন সেই একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে না যায়। ওই শিক্ষাটা কাজে লেগেছিল।

ইংরেজিটা জানলে তবেই না হলিউডে যাওয়া যায়! এটা তো মানতে হবে। আর এজন্যই তো জোরগলায় বলছি, আরে ভাই হিন্দি আর ইংরেজির মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই। যত বেশি পারো অন্য ভাষা শেখো। এটা তোমার চিন্তাভাবনার জগৎকে প্রসারিত করবে। অন্যভাবে ভাবতে পারবে। তবে নিজের ভাষাটা নিয়েও লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। এর থেকে পালিয়ে যেও না। এই কথাটাই পরিচালক ছবিতে বলতে চেয়েছেন।

অস্কার-টস্কারের স্বপ্ন দেখাটা অভিনেতাদের জন্য খুবই স্বাভাবিক। যে পুরস্কারটা এত সম্মানজনক এবং যেটা তোমার সম্পর্কে একটা পারসেপশন তৈরি করে দিতে পারে, সেই পুরস্কার জেতার চিন্তা তো মাথায় আসবেই। অভিনেতারা তো স্বীকৃতিটাই চান। তবে, যখন পুরস্কারটা নিজেই ঠাট্টায় পরিণত হয়, তখন সে নিয়ে না ভাবাই ভাল।

আমার মতে, আজকাল যে কাউকেই চাইলে পাওয়া যায়! স্টারডমে তো এখন কোনো রহস্যই নেই। মিডিয়া তাঁদের হিরো বানায়। কেউ কেউ যেটা দেখে বিশ্বাস করেন, তাঁরা বুঝি সত্যিই হিরো। কিন্তু আমার কাছে আসল হিরো তাঁরাই, যাঁরা অন্যের জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আমরা তো মিডিয়ার তৈরি হিরো। আমার মনে হয় না যে, এটা আমরা ডিজার্ভ করি।

জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই। ক্যান্সার আমার জীবনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। আমার মন যেন সব সময় কানের কাছে ফিসফিস করে বলছে, তোমার এই রোগ হয়েছে। যে কোনও সময় মৃত্যু হবে। কিংবা মাঝে মাঝে এই চিন্তাটা জাস্ট উড়িয়ে দিয়ে জীবন যেমন আছে, সে ভাবেই উপভোগ করছি। আমি বিশ্বাস করি, আমার ধৈর্যের কাছে ক্যান্সার হেরে যাবে।
____________________________

তাঁর বিশাল কোনো ফ্যানবেজ ছিল না, আবার তাঁর সমালোচকও সেই অর্থে কোনো কালে পাওয়া যায়নি। তাই তো, মস্তিষ্কের বিরল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন, তখন তাঁর জন্য পার্থনা করে গোটা উপমহাদেশ। খানদের সাথে তাঁকে কেউ মেলাতে যায় না, কারণ সবাই জানে নিজের জায়গাটায় ইরফানই অনন্য, ইরফানই সেরা।

বাকি খানদের জন্য লড়াইটা ২০২০ সালে এসে সহজ হয়ে গেল। সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীটাই যে সবার আগে চলে গেলেন জীবন নদীর ওপারে। এভাবে লড়াইয়ের ইতি হবে, সেটা নিশ্চয়ই বাকি খানরাও চাননি। চলে যাওয়ার আগে লন্ডনের এক হাসপাতালে বসে কথাগুলো বলে গেছেন।

প্রযোজকের সাথে অনেক রকম গুঞ্জন ছিল শাবনূরের 💔রূপালি পর্দার তারকাদের জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। দর্শক যেমন তাঁ...
03/06/2026

প্রযোজকের সাথে অনেক রকম গুঞ্জন ছিল শাবনূরের 💔

রূপালি পর্দার তারকাদের জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। দর্শক যেমন তাঁদের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়, তেমনি পর্দার বাইরের জীবন নিয়েও কৌতূহলের শেষ থাকে না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমনই এক জনপ্রিয় নাম শাবনূর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সফল সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেত্রীর শুরুর দিনগুলো নিয়েও চলচ্চিত্রপাড়ায় কম গল্প ছড়ায়নি।

১৯৯৩ সালে ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে শাবনূরের। ছবিটির পরিচালক ছিলেন বরেণ্য নির্মাতা এহতেশাম। তখন শাবনূরের বয়স মাত্র পনেরো-ষোলো বছর। আর এহতেশামের বয়স প্রায় ষাট। চলচ্চিত্রে পথচলার শুরুতে শাবনূর তাঁকে ‘দাদু’ বলেই ডাকতেন। তবে সেই সময় এফডিসির ভেতরে ভেতরে নানা ধরনের কানাঘুষাও শোনা যেত। অনেকের দাবি ছিল, পরিচালক ও নবীন এই অভিনেত্রীর মধ্যে সাধারণ পেশাগত সম্পর্কের বাইরেও এক ধরনের সখ্যতা তৈরি হয়েছিল।

শাবনূরকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসার পেছনেও বড় ভূমিকা ছিল এহতেশামের। ফলে বিভিন্ন কাজে তাঁর সঙ্গে যাতায়াতও ছিল নিয়মিত। সে সময় চলচ্চিত্র জগতের পরিবেশও ছিল আজকের চেয়ে অনেক আলাদা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগ তখনো আসেনি।

তাই কোনো গুঞ্জন মুহূর্তে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও ছিল না। কিন্তু এফডিসির করিডরজুড়ে ফিসফাস চলত। কেউ কেউ বলতেন, দাদুর স্নেহের আড়ালে অন্য এক রসায়নের গল্প লুকিয়ে আছে। যদিও এসব কখনোই প্রমাণিত হয়নি, তবু দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল চলচ্চিত্রপাড়ার অলিগলিতে।

এই অধ্যায়ের পর আসে শাবনূরের প্রথম নায়ক সাব্বিরের নাম। ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছিলেন দুজন। পরে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘প্রেম’ সিনেমাতেও একসঙ্গে অভিনয় করেন তাঁরা। দুটি সিনেমায় কাজ করতে করতেই তাঁদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল বলে সে সময় শোনা যেত। গুঞ্জন ছিল, দুজন নাকি নিয়মিত ডেটিংও করতেন। এমনকি কেউ কেউ দাবি করতেন, তাঁরা গোপনে বিয়েও করে ফেলেছেন। যদিও এসব কথার কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা কখনো পাওয়া যায়নি।

কিন্তু পর্দার রসায়ন বাস্তব জীবনের আলোচনার জন্ম দিলেও সিনেমা দুটি ব্যবসায়িকভাবে খুব একটা সাফল্য পায়নি। ‘চাঁদনী রাতে’ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ‘প্রেম’-এর অবস্থাও ছিল প্রায় একই। ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতেই কিছুটা ধাক্কা খেতে হয় শাবনূরকে।

তবে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে সময় লাগেনি। আমিন খানের সঙ্গে ‘দুনিয়ার বাদশা’ সিনেমায় অভিনয় করার পর বদলে যায় সব হিসাব। ছবিটি সুপারহিট হয়। সেই এক সাফল্যই যেন শাবনূরের সামনে খুলে দেয় নতুন দিগন্ত। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং শীর্ষ নায়িকা।

শাবনূরের ক্যারিয়ারের শুরুর এই গল্পগুলো আজও চলচ্চিত্রপাড়ায় নানা রূপে ঘুরে বেড়ায়। প্রথম পরিচালক, যাকে তিনি ‘দাদু’ বলে ডাকতেন, তাঁর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে গুঞ্জনে। আবার প্রথম নায়কের সঙ্গেও উঠেছে প্রেমের আলোচনা। রূপালি পর্দার ঝলমলে আলোর আড়ালে এমন অসংখ্য গল্পই ছড়িয়ে থাকে, যার কিছু সত্য, কিছু অর্ধসত্য, আর কিছু হয়তো নিছক কল্পনা।

তবে একটি বিষয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সব আলোচনা, সব গুঞ্জন আর সব গল্পের ঊর্ধ্বে উঠে শাবনূর শেষ পর্যন্ত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে। আর সেই কারণেই তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের শুরুর এই গল্পগুলো আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

হৃতিক ও কঙ্গনা — যে সম্পর্কের পুরোটাই রহস্য 💑বলিউডের ইতিহাসে কিছু গল্প আছে, যেগুলো সিনেমার চেয়েও বেশি নাটকীয়। কঙ্গনা রান...
03/06/2026

হৃতিক ও কঙ্গনা — যে সম্পর্কের পুরোটাই রহস্য 💑

বলিউডের ইতিহাসে কিছু গল্প আছে, যেগুলো সিনেমার চেয়েও বেশি নাটকীয়। কঙ্গনা রানাউত এবং হৃতিক রোশন–কে ঘিরে যে অধ্যায়টি তৈরি হয়েছিল, তা ঠিক তেমনই এক গল্প—অর্ধেক ফিসফাস, অর্ধেক বিস্ফোরণ।

শুরুটা নাকি খুব ব্যক্তিগত ছিল। ২০১৩–১৪ সালের দিকে, যখন কৃষ ৩–এর কাজ চলছিল, তখন তাঁদের ঘনিষ্ঠতার খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেটের ভেতরের কিছু মুহূর্ত, কিছু অনির্দিষ্ট ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয় এক গোপন সম্পর্কের। পরে কঙ্গনা দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হৃতিক বরাবরই তা অস্বীকার করেছেন। তাঁর অবস্থান পরিষ্কার—রোমান্টিক কোনো সম্পর্ক ছিল না কখনও।

গল্পটা মোড় নেয় ২০১৬ সালে। এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা হৃতিককে উল্লেখ করেন ‘সিলি এক্স’ বলে। একটি শব্দ, আর সেখান থেকেই শুরু হয় আইনি লড়াই। হৃতিক আইনজীবীর মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে নোটিশ পাঠান।

পাল্টা জবাবে কঙ্গনা তোলেন আরও গুরুতর অভিযোগ—তাঁদের মধ্যে ইমেইল আদান-প্রদান হয়েছিল, ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। কিন্তু হৃতিক দাবি করেন, যেসব ইমেইলের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো নাকি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো। তিনি সাইবার অপরাধ দপ্তরে অভিযোগও করেন।

এরপর বিষয়টি আর ব্যক্তিগত রইল না। টেলিভিশন বিতর্ক, ফাঁস হওয়া বিবৃতি, পরপর সাক্ষাৎকার—মিডিয়া যেন এই দ্বন্দ্বকে প্রতিদিন নতুন করে সাজিয়ে তুলতে লাগল। দুই তারকার দুই বিপরীত বক্তব্য, আর মাঝখানে কৌতূহলী দর্শক।

কে সত্য বলছেন? আদৌ কি ছিল কোনো সম্পর্ক, নাকি ভুল বোঝাবুঝির পাহাড়? নাকি পুরো ঘটনাই গণমাধ্যমের বাড়াবাড়িতে বিশাল আকার নিয়েছে?

বছরের পর বছর বিতর্ক চলল। তদন্ত হলো, আলোচনা হলো, অনুমান চলল—কিন্তু প্রকাশ্যে কখনও স্পষ্ট কোনো আইনি সিদ্ধান্ত এল না, যা নিশ্চিতভাবে সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারণ করে। যেন প্রশ্নটা ঝুলে রইল আকাশে।

এরই মধ্যে জীবন থেমে থাকেনি। হৃতিক ব্যস্ত হয়েছেন বড় বাজেটের ছবিতে, বক্স অফিসে নিজের জায়গা মজবুত করেছেন। কঙ্গনা নিজের মতো করে এগিয়েছেন—স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী-প্রযোজক হিসেবে, পরে রাজনীতিতেও পা রেখেছেন। দু’জনই নিজ নিজ পথে হেঁটেছেন, কিন্তু তাঁদের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হলেই সেই পুরোনো অধ্যায়ের ছায়া ফিরে আসে।

এই কাহিনিকে আলাদা করে তোলে একটি জিনিস—ব্যক্তিগত আর প্রকাশ্য জীবনের সীমারেখা এখানে মুছে গিয়েছিল। দু’জন সফল তারকা, এক ঘটনাকে ঘিরে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই বয়ান। আর দর্শক? তারা হয়ে গেল বিচারক, নিজেদের বিশ্বাস বেছে নেওয়ার দায়িত্ব তাদের ওপর।

এখন প্রশ্নটা আপনার দিকে ছুঁড়ে দেওয়া যায়—এটি কি নিছক ভুল বোঝাবুঝি? ব্যক্তিগত সম্পর্কের তিক্ত পরিণতি? নাকি আলোচনার ক্ষুধার্ত মিডিয়ার হাতে বড় হয়ে ওঠা এক বিতর্ক? সত্য হয়তো কোথাও মাঝখানে লুকিয়ে আছে, কিংবা দু’পক্ষের বয়ানের ফাঁকেই।

সমালোচকেরা হয়তো এই ছবির অনেক জায়গায় লজিক খুঁজে পাবেন না 🎥নব্বইয়ের দশকের বলিউডের একটা আলাদা গন্ধ ছিল। সেই সময়ের সিনেমাগুল...
03/06/2026

সমালোচকেরা হয়তো এই ছবির অনেক জায়গায় লজিক খুঁজে পাবেন না 🎥

নব্বইয়ের দশকের বলিউডের একটা আলাদা গন্ধ ছিল। সেই সময়ের সিনেমাগুলোতে লজিকের চেয়ে আবেগ বেশি ছিল, বাস্তবতার চেয়ে বিনোদনের গুরুত্ব ছিল বেশি। নায়ক একা দশজনকে মারছে, ভিলেনের আস্তানা উড়িয়ে দিচ্ছে, মাঝখানে দু-চারটা জমজমাট গান আর শেষে পরিবারের মিলন—সব মিলিয়ে ছিল এক ধরনের নির্ভেজাল আনন্দ। ১৯৯৬ সালের ‘মাসুম’ ঠিক সেই ঘরানারই একটা ছবি, যেটা আজও অনেক দর্শকের কাছে নস্টালজিয়ার নাম।

১৯৯৬ সালের ২৪ মে মুক্তি পেয়েছিল মহেশ কোঠারে পরিচালিত ‘মাসুম’। ইন্দর কুমার, আয়েশা জুলকা, রেণুকা শাহানে, মোহন যোশী, টিনু আনন্দ এবং লক্ষ্মীকান্ত বের্দের মতো শিল্পীদের নিয়ে তৈরি এই ছবিটি মুক্তির পর অপ্রত্যাশিতভাবেই বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়।

মাত্র ১ কোটি ৭৫ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ রুপির বাজেটে নির্মিত ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮ কোটি ৯৫ লাখ রুপির গ্রস আয় করে। শুধু ভারতেই এর নেট কালেকশন ছিল প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ রুপি। সেই সময়ের হিসাব অনুযায়ী এটি ছিল একটি বড় হিট, বরং অনেকের মতে সুপারহিট। বক্স অফিস ইন্ডিয়ার রেকর্ডেও ছবিটি সফল ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল।

এই ছবির মাধ্যমে বলিউডে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয়েছিল প্রয়াত অভিনেতা ইন্দর কুমারের। চকোলেট বয় ইমেজ, চটপটে অ্যাকশন আর প্রাণবন্ত স্ক্রিন প্রেজেন্স দিয়ে তিনি প্রথম ছবিতেই নজর কাড়েন। তার বিপরীতে আয়েশা জুলকা ছিলেন নিজের চেনা মিষ্টি আর প্রাণবন্ত রূপে। আর জিমির মায়ের চরিত্রে রেণুকা শাহানের অভিনয় দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে গিয়েছিল।

তবে সত্যি বলতে, ‘মাসুম’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন ছোট্ট ওমকার কাপুর। ছবিতে তার চরিত্রের নাম ছিল কিষাণ, ডাকনাম জিমি। এক দুষ্টু, বুদ্ধিমান আর সাহসী শিশুর গল্পকে ঘিরেই এগিয়েছে পুরো সিনেমা। ভয়ঙ্কর অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য তার লড়াই, বুদ্ধি আর উপস্থিত বুদ্ধিই ছবির প্রাণ হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ের দর্শকদের কাছে ওমকার কাপুর রাতারাতি পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছিলেন।

ছবির আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল এর চরিত্রগুলো। টিনু আনন্দের হাবিলদার ভীম সিং এবং লক্ষ্মীকান্ত বের্দের জিতু চরিত্র দুটো দর্শকদের হাসতে হাসতে কাঁদিয়েছে। অন্যদিকে মোহন যোশীর ‘বারুদ’ ছিল সেই সময়কার আদর্শ বলিউডি খলনায়ক—নিষ্ঠুর, ভয়ঙ্কর এবং স্মরণীয়।

সিনেমাটির গানও ছিল তুমুল জনপ্রিয়। আনন্দ রাজ আনন্দের সুরে তৈরি গানগুলো সে সময় রেডিও আর ক্যাসেটের দোকানগুলোতে প্রায় নিয়মিত বাজত। বিশেষ করে আদিত্য নারায়ণের কণ্ঠে ‘ছোটা বাচ্চা জান কে হামকো না সমঝানা রে’ গানটি এমন জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে অনেকেই একে সেই সময়ের শিশুদের জাতীয় সংগীত বলেও মজা করতেন। আজও গানটি শুনলে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতি ভিড় করে আসে।

তবে ‘মাসুম’কে ঘিরে কিছু অজানা গল্পও রয়েছে। ছবিতে ‘টুকুর টুকুর দেখতে হো ক্যায়া’ নামে একটি গান ছিল, যার শুটিংও সম্পূর্ণ হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিনেমা হলে মুক্তির সময় গানটি বাদ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ডিভিডি সংস্করণ থেকেও গানটি সরিয়ে ফেলা হয়। শোনা যায়, গানটিতে ইন্দর কুমার ও আয়েশা জুলকার কিছু সাহসী দৃশ্য ছিল। সেই সময় মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে আয়েশার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছিল। কোনো বিতর্কে জড়াতে না চাওয়ায় নাকি আয়েশা নিজেই গানটি বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

আরেকটি মজার তথ্য হলো, ‘মাসুম’ আসলে জনপ্রিয় মারাঠি ছবি ‘মাঝা চাকুলা’-র হিন্দি রিমেক। মূল মারাঠি সংস্করণে শিশু শিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পরিচালক মহেশ কোঠারের নিজের ছেলে আদীনাথ কোঠারে। কিন্তু হিন্দি সংস্করণে সেই চরিত্রের জন্য বেছে নেওয়া হয় ওমকার কাপুরকে, যিনি তখনকার অন্যতম জনপ্রিয় শিশু শিল্পী ছিলেন।

তবে দুই সংস্করণের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্রও ছিল। কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা লক্ষ্মীকান্ত বের্দে একমাত্র ব্যক্তি, যিনি মারাঠি মূল ছবি এবং হিন্দি রিমেক—দুই জায়গাতেই একই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। জিতু চরিত্রে তার পারফরম্যান্স দুই ভাষার দর্শকদেরই সমানভাবে আনন্দ দিয়েছিল।

ছবির মুক্তির দিনটিও ছিল বিশেষ। ১৯৯৬ সালের ২৪ মে মুম্বাইয়ের বিখ্যাত গেইটি গ্যালাক্সি সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘মাসুম’-এর জাঁকজমকপূর্ণ প্রিমিয়ার। আর সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেই সময়ের সুপারস্টার অক্ষয় কুমার। তার উপস্থিতি ছবির টিমকে যেমন উচ্ছ্বসিত করেছিল, তেমনি মিডিয়ারও বাড়তি নজর কেড়েছিল।

চিত্রনাট্যের দিক থেকেও ‘মাসুম’ ছিল আদর্শ নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক সিনেমা। প্রথমার্ধজুড়ে ছিল হাসি, মজা, পারিবারিক আবেগ আর হালকা কমেডি। কিন্তু ইন্টারভেলের পর গল্পের মোড় ঘুরে যায়। মোহন যোশীর ভয়ঙ্কর বারুদ যখন ছোট্ট জিমিকে অপহরণ করে, তখন সিনেমা ঢুকে পড়ে পুরোপুরি অ্যাকশন ঘরানায়। শুরু হয় ধাওয়া, মারামারি, বিস্ফোরণ আর উত্তেজনায় ভরা সেই চেনা নব্বইয়ের দশকের বলিউডি অ্যাডভেঞ্চার।

সমালোচকেরা হয়তো ছবির অনেক জায়গায় লজিক খুঁজে পাবেন না। কিন্তু ‘মাসুম’ কখনোই লজিকের সিনেমা ছিল না। এটি ছিল বিনোদনের সিনেমা। একজন সৎ অনুসন্ধানী সাংবাদিক, এক সাহসী শিশুর বুদ্ধি আর ভয়ঙ্কর অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প। সেই গল্পে ছিল হাসি, কান্না, গান, অ্যাকশন আর পারিবারিক আবেগের নিখুঁত মিশ্রণ।

তাই তিন দশক পরেও ‘মাসুম’ শুধু একটা সিনেমা নয়, নব্বইয়ের দশকের বলিউডকে মনে করিয়ে দেওয়া এক টুকরো স্মৃতি। এমন এক স্মৃতি, যেটাকে আজও অনেক সিনেমাপ্রেমী নির্দ্বিধায় নিজের ‘গিল্টি প্লেজার’ বলে স্বীকার করবেন।

রূপালি পর্দা থেকে কর্পোরেট বোর্ডরুম 💃একসময় দক্ষিণী সিনেমা আর বলিউডে নিয়মিত মুখ ছিলেন দীক্ষা শেঠ। ক্যামেরার সামনে গ্ল্যাম...
03/06/2026

রূপালি পর্দা থেকে কর্পোরেট বোর্ডরুম 💃

একসময় দক্ষিণী সিনেমা আর বলিউডে নিয়মিত মুখ ছিলেন দীক্ষা শেঠ। ক্যামেরার সামনে গ্ল্যামার, গান, আলো—সবই ছিল তাঁর দখলে। অথচ সেই দীক্ষাই একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন, রূপালি পর্দা ছেড়ে তিনি হাঁটবেন কর্পোরেট দুনিয়ার পথে।

১৯৯০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া দীক্ষা শেঠ প্রথমে পরিচিতি পান মডেল হিসেবে। ২০০৯ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় তিনি ছিলেন টপ টেন ফাইনালিস্ট, জেতেন ‘ফ্রেশ ফেস’ খেতাবও। সেখান থেকেই তাঁর প্রতি নজর যায় নির্মাতাদের।

পরিচালক কৃষ তাঁকে আবিষ্কার করেন এবং ২০১০ সালে তেলেগু চলচ্চিত্র ‘ভেদাম’-এ নায়ক আল্লু অর্জুনের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। প্রথম ছবিই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়, আর দীক্ষার জন্য খুলে যায় নতুন দরজা।

এরপর তিনি থেমে থাকেননি। তেলেগু, তামিল, কন্নড় ও হিন্দি—চার ভাষায় মিলিয়ে দশটির বেশি ছবিতে অভিনয় করেন। ‘মিরাপাকায়’, ‘রেবেল’, ‘রাজাপাট্টাই’—একটির পর একটি ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বলিউডে তাঁর অভিষেক হয় ‘লেকার হাম দিওয়ানা দিল’ ছবির মাধ্যমে। অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন চেনা মুখ। সর্বশেষ ২০২১ সালে ‘সাত কাদাম’ ছবিতে কাজ করেন।

কিন্তু প্রায় এক দশক আলোয় থাকার পর হঠাৎই বদলে যায় দীক্ষার জীবনযাত্রা। সিনেমা ছেড়ে তিনি মন দেন পড়াশোনায়। উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ইউরোপে এবং আইইএসই বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ধীরে ধীরে তিনি প্রযুক্তি ও গেমিং খাতে পা রাখেন।

২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গেমিং কোম্পানিতে ডিরেক্টর অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস পদে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আর পেশাগত বিকাশকে তিনি বেছে নিয়েছেন চলচ্চিত্র তারকাখ্যাতির চেয়ে।

দীক্ষার শেকড় দিল্লিতে। তবে শৈশব কেটেছে ভারতের নানা শহর ও নেপালে, কারণ তাঁর বাবা আইটিসিতে কাজ করতেন। পড়াশোনা করেছেন আজমেরের মেয়ো কলেজ গার্লস’ স্কুলে, পরে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রূপালি পর্দা থেকে কর্পোরেট বোর্ডরুম—দীক্ষা শেঠের যাত্রা যেন এক অন্যরকম গল্প। যেখানে খ্যাতি ছিল, আলো ছিল, তবু তিনি বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক স্থির পথ। এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, সাফল্যের সংজ্ঞা সবার কাছে এক নয়; কেউ তা খুঁজে পান ক্যামেরার সামনে, কেউ আবার খুঁজে নেন কর্পোরেট জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জে।

নো ওয়ান ডাজ ইট বেটার দ্যান শাহরুখ খান 🌹বলিউডে অনেক নায়ক এসেছে, অনেক সুপারস্টার এসেছে। কেউ অ্যাকশনে মাতিয়েছে, কেউ নাচে, ক...
03/06/2026

নো ওয়ান ডাজ ইট বেটার দ্যান শাহরুখ খান 🌹

বলিউডে অনেক নায়ক এসেছে, অনেক সুপারস্টার এসেছে। কেউ অ্যাকশনে মাতিয়েছে, কেউ নাচে, কেউ আবার সংলাপে। কিন্তু প্রেমকে পর্দায় এতটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পেরেছেন খুব কম মানুষ। আর সেই তালিকার একদম ওপরের দিকেই থাকবেন শাহরুখ খান।

শাহরুখ খানকে শুধু একজন অভিনেতা বললে ভুল হবে। তিনি আসলে একটা অনুভূতির নাম। বিশেষ করে যখন প্রেমের গল্পের কথা আসে। কারণ শাহরুখ কখনো শুধু প্রেম করেন না, তিনি প্রেমে বিশ্বাস করতে শেখান।

দুই হাজার দশকের শুরুতে বলিউডের রোমান্টিক সিনেমাগুলোর দিকে তাকালে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শাহরুখের পাশে যে নায়িকাই থাকুক না কেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই দর্শক বিশ্বাস করে ফেলত যে এই দুজন একে অপরের জন্যই তৈরি। এটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় জাদু।

প্রীতি জিন্টার সঙ্গে তার জুটিটা সেই জাদুরই সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণগুলোর একটি। ‘কাল হো না হো’-তে নায়না আর আমানের সম্পর্ক ছিল অসম্পূর্ণ ভালোবাসার গল্প। সেখানে শাহরুখের চোখের ভাষা, ছোট ছোট হাসি আর না বলা কথাগুলো দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। সিনেমা শেষ হওয়ার পরও মানুষ চরিত্র দুটিকে ভুলতে পারেনি।

আবার ‘বীর-জারা’-তে তিনি ছিলেন বীর প্রতাপ সিং। এমন একজন প্রেমিক, যে নিজের ভালোবাসার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে পারে। যে ভালোবাসাকে পাওয়া নয়, অনুভব করার বিষয় মনে করে। প্রীতি জিন্টার জারার দিকে তার তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি আজও বলিউডের রোমান্টিক ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

মজার ব্যাপার হলো, শাহরুখের রোমান্স কখনোই শুধু সংলাপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকত না। তার শরীরী ভাষা, চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি—সবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন একটা আবহ তৈরি করতেন, যেখানে দর্শক নিজেই প্রেমে পড়ে যেত। তিনি নায়িকাকে ভালোবাসতেন ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে দর্শকদেরও বিশ্বাস করিয়ে দিতেন যে পৃথিবীতে এখনও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বলে কিছু আছে।

এ কারণেই শাহরুখ খানের রোমান্টিক দৃশ্যগুলো সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না। নতুন প্রজন্ম আসে, সিনেমার ভাষা বদলায়, প্রেমের সংজ্ঞা বদলায়, কিন্তু শাহরুখের সেই চিরচেনা দৃষ্টি, দুহাত ছড়িয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গি কিংবা প্রিয় মানুষটিকে দেখার মুহূর্তগুলো এখনও একই রকম জাদুকরী লাগে।

হয়তো এ কারণেই এত বছর পরও মানুষ পুরোনো দৃশ্যগুলো দেখে থেমে যায়। আবারও ফিরে যায় সেই সময়ে, যখন প্রেম মানে ছিল অপেক্ষা, ত্যাগ, সম্মান আর অনুভূতি।

বলিউডে অনেকেই প্রেমের গল্প বলেছেন। অনেকেই প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু প্রেমকে একটা অনুভূতিতে পরিণত করার ক্ষমতা সবার থাকে না।

সেখানেই শাহরুখ খান আলাদা। আর তাই আজও যখন পর্দায় শাহরুখ খানকে প্রিয় মানুষটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়, তখন অজান্তেই মনে হয়—প্রেমের এই খেলাটা, সত্যিই, তার চেয়ে ভালো আর কেউ খেলতে পারেনি। নো ওয়ান ডাজ ইট বেটার দ্যান শাহরুখ খান।

প্রিন্স মাহমুদ — এক প্রজন্মের সুরস্রষ্টা 🎼নব্বইয়ের দশকে যাদের কৈশোর কিংবা যৌবন, তাঁদের কাছে এক নাম মানেই উন্মাদনা—প্রিন্...
03/06/2026

প্রিন্স মাহমুদ — এক প্রজন্মের সুরস্রষ্টা 🎼

নব্বইয়ের দশকে যাদের কৈশোর কিংবা যৌবন, তাঁদের কাছে এক নাম মানেই উন্মাদনা—প্রিন্স মাহমুদ।

‘প্রিন্স মাহমুদের সুরে’ — এই লাইনটাই ছিল যেন এক যাদুকরী ট্যাগলাইন। কোনো অ্যালবামের কাভারে এই কথাটি দেখলেই তা না কেনা পর্যন্ত শান্তি মিলতো না।

মনে পড়ে, তাঁর অ্যালবাম ‘দাগ থেকে যায়’ বের হওয়ার সময় ঢাকার কলেজপাড়ায় কী হৈচৈই না হয়েছিল! চৌরঙ্গী মার্কেটের দোকানে টাঙানো পোস্টারে লেখা — প্রিন্স মাহমুদের সুরে অ্যালবাম ‘দাগ থেকে যায়’! বুকের ভেতর কেমন জানি আলোড়ন জাগতো।

৩৫ টাকায় কেনা সেই ক্যাসেট এখনো স্মৃতির নরম কোণে বাজে—বাচ্চুর ‘বেলাশেষে’, জেমসের ‘কিছু ভুল ছিল তোমার’, শাফিন আহমেদের ‘আজ জন্মদিন তোমার’, আজম খানের ‘দূরে আছি’ কিংবা খালিদের ‘হয়নি যাবার ও বেলা’—সবই যেন সময়ের সেরা গানে পরিণত হয়েছিল।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের স্বর্ণযুগ বলতে যা বোঝায়, তার বড় অংশটাই গড়ে উঠেছিল এই মানুষটার সুরে ও কথায়। জেমসের ‘মা’, ‘বাবা’, ‘বাংলাদেশ’, হাসানের ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’, বাচ্চুর ‘বেলাশেষে’—এসব গান শুধু জনপ্রিয় নয়, এগুলো হয়ে উঠেছিল এক প্রজন্মের আবেগের অনুবাদ।

প্রিন্স মাহমুদের সঙ্গীতযাত্রা শুরু স্কুলজীবন থেকেই। পরিবারের অমতে, নিভৃতে তিনি গান শেখা ও গাওয়া শুরু করেন। ‘দি ব্লুজ’ ব্যান্ডে ছিলেন ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট হিসেবে। পরবর্তীতে নিজের ব্যান্ড ‘ফ্রম ওয়েস্ট’ গঠন করেন, যার একেকটি গান ছিল প্রতিবাদের স্লোগানের মতো।

অসংখ্য অ্যালবাম—শক্তি, ওরা এগার জন, ঘৃণা, দেয়াল দুই হৃদয়ের মাঝে, পিয়ানো, দাগ থেকে যায়, বাজনা, প্রতারণা, দেবী—প্রতিটিই তাঁর সৃষ্টিশক্তির প্রমাণ। ত্রিশ বছরের সুরভ্রমণে তিনি যেন সময়কে পেরিয়ে গেছেন।

তাঁর অনেক গানই ব্যক্তিজীবনের অনুভূতি থেকে জন্ম নিয়েছে। বাবা-মায়ের মৃত্যু থেকে এসেছে ‘মা’ ও ‘বাবা’। আবার কৈশোরের প্রেমভাঙার বেদনা থেকেই এসেছে ‘বেলাশেষে’ বা ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’।

২০০০ সালের দিকে মুক্তি পাওয়া ‘পিয়ানো’ অ্যালবামের ‘বাংলাদেশ’ গানটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দেয় তাঁকে। সেই গানটি ঘিরেই ঘটে আরেক ঘটনা—গায়ক নোবেলের বিতর্কিত মন্তব্য। নোবেল বলেছিলেন, ‘প্রিন্স মাহমুদের লেখা বাংলাদেশ গানটি রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সংগীতের চেয়েও দেশকে ভালোভাবে এক্সপ্লেইন করে।’

দেশে-বিদেশে ঝড় ওঠে। কিন্তু বিতর্ক থেমে যায় এক কথাতেই—প্রিন্স মাহমুদ শান্তভাবে বলেন, ‘জাতীয় সংগীত আমাদের অস্তিত্বের নাম।’

নোবেল তাঁর সারেগামাপা মঞ্চে প্রিন্স মাহমুদের গান—‘বাবা’, ‘মা’, ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’—গেয়ে সাড়া ফেলেছিলেন, কিন্তু গীতিকারের নাম উচ্চারণ করেননি কখনো। পরে প্রিন্স মাহমুদ নিজের ফেসবুকে ঠিকই স্মরণ করিয়ে দেন—“এই গানগুলো আমার লেখা ও সুরে।”

তাঁর সৃষ্টির পরিধি শুধু গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মিউজিক ভিডিওতেও ছড়িয়েছে সেই ছোঁয়া। রুমির ‘মাটি হবো মাটি’ ছিল তাঁর প্রিয় ভিডিও, যা একসময় দেশময় ছড়িয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তপু–ন্যান্সির ‘সোনার মেয়ে’, তাহসান–কনার ‘ছিপ নৌকো’—এসব গানেও আছে তাঁর সুরের গভীরতা।

ব্যক্তিজীবনে দুই সন্তানের বাবা তিনি—প্রথম ও পৃথুল। কিন্তু তাঁর সন্তানদের মতোই এক প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে তাঁর গান শুনে।

প্রিন্স মাহমুদকে ঘৃণা করা যায় না। তাঁর গানকে অপছন্দ করা যায় না। কারণ তিনি শুধু একজন গীতিকার নন, এক আবেগের নাম, এক প্রজন্মের আত্মপরিচয়। তাঁর হাতে গড়া সুরগুলোই আজও বন্ধুদের আড্ডায়, গাড়ির স্পিকারে কিংবা একলা সন্ধ্যায় মন ভরিয়ে রাখে।

প্রিয় প্রিন্স মাহমুদ, আপনি ফিরে আসুন আরেকবার—‘ক্ষমা’, ‘ঘৃণা’ বা ‘এখনও দু’চোখে বন্যা’ নিয়ে। আমরা অপেক্ষায় থাকব—আপনার নতুন সুরের, নতুন কাব্যের, নতুন প্রজন্মের ‘প্রিন্স মাহমুদ’-এর জন্য।

তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির নায়ক কখনও বুড়ো হন না 🥊তেলেগু সিনেমার পর্দায় একটা দৃশ্য বছরের পর বছর ধরে প্রায় একই রকম থেকে গেছে। নায়...
03/06/2026

তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির নায়ক কখনও বুড়ো হন না 🥊

তেলেগু সিনেমার পর্দায় একটা দৃশ্য বছরের পর বছর ধরে প্রায় একই রকম থেকে গেছে। নায়ক বয়সে ষাট কিংবা সত্তর ছুঁয়ে ফেললেও পর্দায় তিনি এখনও তরুণ। প্রেমে পড়ছেন, প্রেম করাচ্ছেন, পাহাড়ের চূড়ায় নাচছেন, খলনায়কদের উড়িয়ে দিচ্ছেন। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকছে এমন একজন নায়িকা, যার বয়স অনেক সময় তার মেয়ের কাছাকাছিও হতে পারে। দর্শকরাও ব্যাপারটা এমনভাবে দেখে এসেছে যে অনেকের কাছেই এটি অস্বাভাবিক নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক নিয়ম।

সমস্যাটা শুরু হয় তখন, যখন একই নিয়ম নায়িকাদের ক্ষেত্রে আর কাজ করে না।

তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে নায়কদের বয়স বাড়া মানে অভিজ্ঞতা, স্টারডম, ‘ম্যাস’ ইমেজ আরও শক্ত হওয়া। কিন্তু একজন নায়িকার বয়স ৩৫ পেরোতেই যেন অন্য এক হিসাব শুরু হয়। ধীরে ধীরে তিনি মূল নায়িকার জায়গা হারাতে থাকেন। কেউ চলে যান পার্শ্বচরিত্রে, কেউ মা কিংবা ভাবির ভূমিকায়, আবার কেউ বাধ্য হন নিজের চেয়ে অনেক বেশি বয়সী নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করতে।

এই বাস্তবতার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণদের একজন কাজল আগরওয়াল। একসময় রাম চরণের সঙ্গে তার জুটি ছিল তেলেগু সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি। ‘মাগাধীরা’ এখনও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম কাল্ট রোমান্টিক চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই কাজলকেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মূলধারার নায়িকার তালিকা থেকে ধীরে ধীরে সরে যেতে হয়েছে। এমনও সময় এসেছে, যখন তাকে ‘কাইদি নম্বর ১৫০’ সিনেমায় জুটি বাঁধতে হয়েছে রাম চরণের বাবা চিরঞ্জীবীর সঙ্গে। যে নায়িকার সঙ্গে একসময় ছেলে রোমান্স করতেন, কিছু বছর পর সেই একই অভিনেত্রীকে দেখা গেছে বাবার বিপরীতে।

তামান্না ভাটিয়ার গল্পটাও খুব আলাদা নয়। সৌন্দর্য, জনপ্রিয়তা কিংবা স্ক্রিন প্রেজেন্স—সবকিছু মিলিয়ে এখনও তিনি অনেক নতুন নায়িকার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির অদৃশ্য নিয়ম যেন বলে দেয়, একজন নায়িকার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছালে তিনি আর মূলধারার নায়িকা নন। তার জায়গা নিতে শুরু করে নতুন প্রজন্মের মুখ।

ভাগ্যশ্রী, শ্রীলীলা কিংবা আরও অনেকে এসে দাঁড়ায় সেই জায়গায়। তামান্না নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই পর্যায়ে এসে তাকে ‘আজ কি রাত’ কিংবা ‘গাফুর’-এর মতো আবেদনময়ী গানে পারফর্ম করতে হচ্ছে। কারণ তিনি যদি নিজেকে সেইভাবে উপস্থাপন না করেন, তাহলে ইন্ডাস্ট্রি খুব দ্রুত তাকে মা কিংবা ভাবির চরিত্রে পাঠিয়ে দেবে। অথচ এই তামান্নাই একসময় ‘রাচা’ সিনেমায় রাম চরণের নায়িকা ছিলেন। পরে আবার ‘ভোলা শঙ্কর’-এ তাকে দেখা গেছে চিরঞ্জীবীর বিপরীতে।

শ্রুতি হাসানের ক্যারিয়ারেও একই ছবির পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। ‘ইয়েভাডু’তে রাম চরণের সঙ্গে তার রসায়ন দর্শকদের দারুণ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মূল নায়িকার জায়গা থেকে। আজ ‘পেড্ডি’তে তিনি আইটেম গানে উপস্থিত, আর মূল নায়িকা হিসেবে জায়গা পেয়েছেন জানভি কাপুর। এর মধ্যেই তিনি নন্দামুরি বালাকৃষ্ণের বিপরীতে অভিনয় করেছেন, আবার ‘ওয়ালটেয়ার বীরাইয়া’তে রোমান্স করতে হয়েছে চিরঞ্জীবীর সঙ্গে, যিনি বয়সের দিক থেকে প্রায় তার বাবা কমল হাসানের সমসাময়িক।

সবচেয়ে মজার, আবার সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপারটা হলো চিরঞ্জীবীকে ঘিরেই। নব্বইয়ের দশকে যেসব অভিনেত্রী তার সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছিলেন, তাদের অনেকেই আজ মা, চাচি কিংবা শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করছেন। রাম্যা কৃষ্ণন তার অন্যতম উদাহরণ। একসময় তিনি ছিলেন চিরঞ্জীবীর নায়িকা।

আজ বয়স অনুযায়ী চরিত্র পাচ্ছেন। অথচ অন্যদিকে প্রায় সত্তর বছর বয়সেও চিরঞ্জীবী এখনও মূল নায়ক। এখনও তরুণ নায়িকাদের সঙ্গে নাচছেন, প্রেম করছেন, অ্যাকশন দৃশ্যে ঝড় তুলছেন। সিনেমার গল্পও তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেন তিনি এখনও ত্রিশ কিংবা পঁয়ত্রিশ বছরের যুবক।

তবে বিষয়টাকে শুধু বয়সের সমীকরণে ফেললে পুরো ছবিটা দেখা হয় না। এখানে আরও কিছু বাস্তবতা আছে। অনেক নায়িকা একটা পর্যায়ের পর আর শুধুমাত্র প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করতে চান না। অনেকে ভিন্নধর্মী চরিত্র বেছে নেন, কেউ ওটিটি কিংবা নারীপ্রধান গল্পে কাজ শুরু করেন। আবার বাণিজ্যিক সিনেমার লিড হওয়ার সুযোগও নায়িকারা তুলনামূলক কম সময় পান। ফলে ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে যায় স্বাভাবিকভাবেই।

তারপরও প্রশ্নটা থেকে যায়। কেন একজন পুরুষ তার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও আকর্ষণীয়, আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন, অথচ একজন নারীকে একই বয়সে এসে ‘মার্কেট শেষ’ তকমা শুনতে হয়? কেন নায়কদের বয়স বাড়াকে অভিজ্ঞতা আর স্টারডম হিসেবে উদযাপন করা হয়, কিন্তু নায়িকাদের বয়স বাড়াকে দেখা হয় অবসরের সংকেত হিসেবে?

তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির এই বয়সের ব্যবধান নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরে এটি চলে আসছে। দর্শকরাও অনেকাংশে এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নও বাড়ছে। কারণ সমস্যাটা আসলে বয়স নয়, সমস্যাটা দৃষ্টিভঙ্গি।

একজন সত্তর বছরের নায়ক যদি এখনও প্রেমিক হতে পারেন, তাহলে চল্লিশ বছরের একজন নায়িকা কেন প্রেমিকা হতে পারবেন না—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে পায়নি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোর একটি।

শিশু শিল্পী থেকে বলিউড ডিভা 💃‘ঘুমিয়ে আয়ে যে শিশুর পিতা সকল শিশুর অন্তরে’ – বহুল ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে যাওয়া এই প্রবাদটি বল...
02/06/2026

শিশু শিল্পী থেকে বলিউড ডিভা 💃

‘ঘুমিয়ে আয়ে যে শিশুর পিতা সকল শিশুর অন্তরে’ – বহুল ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে যাওয়া এই প্রবাদটি বলিউডের ক্ষেত্রে ‍খুব প্রযোজ্য। বিশেষ করে, এক গাদা নায়িকা আছেন, যাদের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল শিশু শিল্পী হিসেবে। আর আজ তাঁরা রীতিমত বলিউড ডিভা। তাঁদের নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

১৯৯৯ সালের ক্রাইম থ্রিলার ‘সংঘর্ষ’-এ প্রীতি জিনতার শিশুকালের চরিত্রে ছিলেন আলিয়া ভাট। পরিচালক মহেশ ভাটের কন্যা ২০১২ সালে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে আসেন বলিউডে। এরপর ‘টু স্টেটস’, ‘হাই ওয়ে’. ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘রাজি’র মত সিনেমায় তিনি আলোচিত হন। এই সময় তিনি সেরাদের একজন।

হান্সিকা মোতওয়ানি আসলে শিশুবেলাতেই বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। ২০০৩ সালে হৃতিক রোশানের ‘কই… মিল গ্যায়া’তে কাজ করেন, ২০০৪ সালে ‘জাগো’ সিনেমায় শিশু রেপ ভিক্টিমের চরিত্র করেন। এছাড়া বিস্তর টেলিভিশন সিরিজে কাজ করেন। এরপর ‘আপ কা সুরুর’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে তার আবির্ভাব হয়। বলিউডে স্থায়ী না হলেও দক্ষিণী ছবিতে তিনি নিয়মিত মুখ।

২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ারের আবেদনময়ী তানিয়া ইসরানি চরিত্রটি সকলের নজর কেড়েছিল। কে এই মেয়েটি? তিনি হলেন ১৯৯৮ সালে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমায় শাহরুখ খান ও রানী মুখার্জীর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করা সানা সাঈদ। এরপর ‘বাবুল কি আঙ্গান ছুটে না’. ‘লো হো গায়ি পুজা ইস ঘার কি’ সিরিয়ালে কাজ করেন। ‘ঝালাক দিখলাজার ষষ্ট সিজনেও ছিলেন তিনি। টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত তিনি।

১৯৯৫ সালের বিখ্যাত সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমায় কাজলের বোন চুটকি চরিত্রের জন্য পুজা রুপারেল পরিচিতি পান। এরপর থিয়েটার ও টেলিভিশন সিরিয়ালে কাজ করেন। অনিল কাপুরের বিখ্যাত সিরিজ ‘২৪’-এর ভারতীয় ভার্সনেও কালার্স টেলিভিশনে তাঁকে দেখা যায়।

নব্বইয়ে দশকে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ‘আই অ্যাম অ্যা কমপ্ল্যান গার্ল’ – এই কথাটি জনপ্রিয় হয়েছিল আয়েশা টাকিয়ার কল্যানে। পরবর্তীতে তিনি ‘বি-টাউন’-এর উজ্জ্বল তারায় পরিণত হন। যদিও, এখন সংসারে ব্যস্ত হয়ে বলিউড থেকে দূরে আছেন তিনি।

১৯৮৩ সালের সিনেমা ‘মাসুম’। ক্লাসিক এই সিনেমায় শাবানা আজমী ও নাসিরউদ্দিন শাহ’র মেয়ের চরিত্রে ছিলেন উর্মিলা মাতণ্ডকার। এর ১২ বছর পর ১৯৯৫ সালে ‘রঙ্গিলা’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে তিনি ঝড় তোলেন।

১৯৮৩ সালের বাংলা সিনেমা ‘ইন্দিরা’য় কাজ করেন চার বছর বয়সী কঙ্কনা সেন শর্মা। সিনেমাটিতে তার মা অপর্ণা সেনও ছিলেন। মজার ব্যাপার হল, ছবিটিতে তিনি ক্ষুদে রাজকুমার-এর চরিত্র করে। আর এখন কঙ্কনা বলিউডের অন্যতম গুণী অভিনয় শিল্পীদের একজন।

২০০১ সালের আলোচিত সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গম’-এ কারিনা কাপুরের শৈশবের চরিত্রে দেখা যায় মালভিকা রাজকে। এরপর তিনি ২০১০ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগীতায় অংশ নেন। এখন তিনি পুরোদস্তর মডেল ও জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার।

‘হাম নওজোয়ান’, ১৯৮৫ সালের সিনেমাটিতে কিংবদন্তি দেব আনন্দের তরুণ কন্যার চরিত্রে কাজ করেন টাবু। নব্বইয়ের দশক কিংবা এখনো টাবু বলিউডের ‘হাইলি রেটেড’ অভিনয় শিল্পীদের একজন।

কমল হাসানের মেয়ে শ্রুতি হাসান ২০০০ সালে বাবার বিতর্কিত সিনেমা ‘হে রাম’-এ সর্দার বল্লভভাইয়ের মেয়ের ছোট্ট একটা চরিত্র করেন। এরপর ২০০৯ সালে লাক সিনেমায় তার অভিষেক। এখন বলিউডের সাথে দক্ষিণী সিনেমাতেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়।

মাকড়ি ও ইকবাল – যথাক্রমে ২০০২ ও ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া দু’টি সিনেমা। এখানে শিশুশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করার সুবাদে রীতিমত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্ম ফেয়ার, আইফা, জি সিনে – সব জিতে যান শ্বেতা প্রসাদ বসু। এখন তিনি দক্ষিণী ছবি ও টেলিভিশনে কাজ করেন।

Address

Dhaka
1213

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Vocal Buzz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Vocal Buzz:

Share