03/06/2026
নব্বই দশকে সত্যি বলার সুযোগ মিলত না সব সময় 🤚
২০১৯ সালের এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে ফিরে তাকালে যেন নব্বইয়ের বলিউডের আরেকটা চেহারা দেখা যায়—যেখানে আলো ছিল, গ্ল্যামার ছিল, কিন্তু নিজের কথা বলার মঞ্চ ছিল না। সেই সাক্ষাৎকারে রাভিনা ট্যান্ডন খুব খোলামেলাভাবে বলেছিলেন, নব্বইয়ের দশকে তারকাদের জীবন আজকের মতো ছিল না। তখন সোশ্যাল মিডিয়া বলে কিছু ছিল না। ফলে কোনও গুজব ছড়ালে, কোনও নেতিবাচক খবর ছাপা হলে, তার জবাব দেওয়ার সরাসরি পথ ছিল না অভিনেতাদের সামনে।
রাভিনা জানান, সেই সময়ে পত্রিকা বা সংবাদপত্রে যা ছাপা হত, সেটাকেই মানুষ সত্যি বলে মেনে নিত। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিজেদের বক্তব্য জানানোর আলাদা কোনও প্ল্যাটফর্ম ছিল না। আজকের মতো এক ক্লিকে পোস্ট করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ তখন ছিল কল্পনারও বাইরে। ফলে ভুল বোঝাবুঝি, অপপ্রচার বা একপেশে গল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। রাভিনার ভাষায়, এটাই ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে দুঃখের দিকগুলোর একটি—নিজের সত্যিটা নিজের মুখে বলার সুযোগ না থাকা।
তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, যদি তখন সোশ্যাল মিডিয়া থাকত, বলিউডের অনেকের মুখোশ খুলে যেত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থাকলে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অনেক বিষয় আরও স্বচ্ছ হতো, জবাবদিহি বাড়ত। এমনকি তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, সুযোগ পেলে তিনি নিজেই অনেককে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করতেন, অনেককেই “কল আউট” করতেন। তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, নব্বইয়ের গ্ল্যামারের আড়ালে কত না বলা গল্প চাপা পড়ে ছিল।
নব্বইয়ের দশকে রাভিনা ট্যান্ডন ছিলেন বলিউডের অন্যতম সফল নায়িকা। ‘দুলহে রাজা’, ‘শূল’, ‘আন্দাজ আপনা আপনা’, ‘মোহরা’, ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘লাডলা’—একটার পর একটা জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শীর্ষ নায়িকাদের কাতারে। পর্দায় তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত, কখনও রোমান্টিক, কখনও তীব্র। কিন্তু ক্যামেরার বাইরের লড়াইটা ছিল অন্যরকম—সেখানে নিজের কণ্ঠস্বরটাই ছিল সীমাবদ্ধ।
পেছনে তাকিয়ে রাভিনার মন্তব্য আসলে একটা সময়ের প্রতিচ্ছবি। সোশ্যাল মিডিয়া আজ যেমন তারকাদের সরাসরি দর্শকের সঙ্গে যুক্ত করেছে, তেমনি তাদের নিজেদের গল্প নিজেরাই বলার ক্ষমতাও দিয়েছে। মিডিয়া, সেলিব্রিটি আর দর্শকের সম্পর্কটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে গল্প তৈরি হত একপাক্ষিকভাবে, এখন সেখানে বহু কণ্ঠ একসঙ্গে শোনা যায়।
রাভিনার কথায় তাই শুধু ব্যক্তিগত আক্ষেপ নেই, আছে এক যুগের বাস্তবতা। নব্বইয়ের ঝলমলে পর্দার আড়ালে যে নীরবতা ছিল, আজকের ডিজিটাল যুগ সেই নীরবতাকে ভেঙে দিয়েছে। আর সেই পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সেই সময়ের তারকারাই।