13/06/2026
ট্রাভেল সেক্টরে কেন ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা?
সম্প্রতি বাংলাদেশের ট্রাভেল সেক্টর বেশকিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনার দায়ে বেশ সমালোচিত। নেপালে তমালের নারী কেলেংকারী থেকে শুরু করে টাঙ্গুয়ার হাওরে বোট মালিকের হামলায় যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেশ উত্তাল সময় পার করছে দেশের ট্রাভেল সেক্টর। বর্ষা ইসলাম, তৌফিক আহমেদ তমাল, ফাহাদ বায়েজিদ হিমু। বাংলাদেশের ট্রাভেল সেক্টরের বেশ আলোচিত তিনটি নাম। ট্রাভেল গ্রুপের সাথে ঘুরাঘুরি করা মোটামুটি সকলেই এদেরকে চিনেন হয়তো। বর্তমানে ট্রাভেল সেক্টরের এই করুণ দশার পিছনে তাদের তিনজনের পাশাপাশি আমাদের প্রত্যেকেরই দায় রয়েছে।
বর্ষা ইসলাম
Tour Expert গ্রুপের স্বত্বাধিকারী বর্ষা ইসলাম। আলীকদমে নিজের স্বামী রাফির মৃত্যু ও ২০২৫ সালে তৈনখালে ২ জনের মৃত্যু ও ১ জনের নিখোঁজের ঘটনায় বেশ পরিচিত পায়। ২০২২ সালের ভারী বৃষ্টির পর আলীকদমের সাইংপ্রা ঝর্ণায় ঘুরতে গিয়ে পাহাড় থেকে স্লিপ খেয়ে মর্মান্তিক দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেন রাফি, ঐ ট্যুরে বর্ষাও উপস্থিত ছিলো এবং চোখের সামনেই নিজ স্বামীর মৃত্যু বরণ করতে হয় তাকে। তার কয়েক মাস পরেই “Trek with Rafi” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে এবং সেখান থেকেই অফিশিয়ালি বর্ষার হোস্টিং জীবন শুরু হয়। রাফির যেহেতু ট্রাভেল সেক্টরে বেশ পরিচিতি ও সুনাম ছিলো, সে হিসেবে রাফির পরিচয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্ষার গ্রুপটি পরিচিত পায়। গ্রুপের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্ষাও পল্টি নিয়ে নেয়। রাফির নামের উপর ভিত্তি করে জনপ্রিয়তা পাওয়া গ্রুপের নামের সাথে রাফির নাম রাখা যাবে না! পাল্টাতে হবে নাম। “Trek with Rafi” থেকে পরিবর্তন করে নাম রাখা হলো আজকের “Tour Expert”। অতিরিক্ত ইভেন্ট ফি, অদক্ষ হোস্টিং সহ নানা সমালোচনার মধ্য দিয়েই চলতে থাকলো ট্যুর এক্সপার্ট গ্রুপের কার্যক্রম।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২২ জনের একটা টিম নিয়ে রুংরাং ক্রিসতং পাহাড় সামিটের জন্য লোকাল গাইড ছাড়া হাসান কে পাঠায় হোস্টিং করতে। ঐ ট্রিপেই শামুক ঝিরিতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায় ৩ জন। তাদের মধ্যে ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা গেলেও বাকী একজন আজও নিখোঁজ!
ঐ ঘটনার পর নিহতের পরিবার থেকে বর্ষার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত বর্ষা ইসলামকে গ্রেফতারও করা হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশী আইনে সে মুক্তিও পেয়ে যায়। একদিকে অনভিজ্ঞ হোস্ট, লোকাল গাইড না নিয়ে টাকা বাঁচানোর দায় ও আনপ্রফশানিলিজমের কারণে ৩টা জীবন্ত প্রাণ ঝরে গেলো, অথচ আরেকদিকে একদল দালাল তখনও বর্ষার হয়ে গুণগান গেয়ে যাচ্ছিলো, বর্ষার সাপোর্ট নিয়ে রচনা লিখছিলো।
তৌফিক আহমেদ তমাল
বাংলাদেশী মাউন্টেনিয়ারদের মধ্যে আগামীর সম্ভাবনাময়দের একজন ধরা হতো তাকে। “Altitude Hunter” নামক গ্রুপ থেকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নেপালে ট্যুর অপারেট করছে বেশ কয়েক বৎসর যাবত। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মালেশিয়ান তরুণীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে নেপাল পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়ার পর তার আসল রূপ বেরিয়ে আসছে!
তমাল একজন সেক্সচুয়ালি পার্ভাট। সে দীর্ঘদিন যাবত এধরণের নোংরা কার্যকলাপে জড়িত। তার সাথে নেপাল ভ্রমণে যাওয়া মেয়েদের সাথে নানাপ্রকার অশালীন আচরণ করতো এবং এটা নিয়ে তার গ্রুপের প্রধান ফজলুর রহমান শামীমের কাছে বেশ কয়েকজন অভিযোগ করলেও ফজলুর রহমান শামীম তার বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন না নিয়ে বরং তমালের এরূপ কর্মকাণ্ডকে মৌন সমর্থন দিয়েছে।
নেপালে তমালের কর্মকাণ্ডের পর যখন তার টিম মেম্বার ও প্রত্যক্ষদর্ষীরা তার বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দিলো এবং পূর্বে তমালের স্বীকার হওয়া মেয়েরা কথা বলা শুরু করলো তখনও একদল দালাল তমালের পক্ষ হয়ে কথা বলা শুরু করছে, প্রমাণ হওয়ার অপেক্ষা করছে। প্রত্যক্ষদর্ষীরা যখন স্বাক্ষ্য দিলো, পূর্বের ঘটনার স্বীকার নারীরা যখন ঘটনা তুলে ধরলো এরপরও তোদের কিসের প্রমাণ লাগবে? তোরাই ধর্ষক তৈরী করিস ছাগলের বাচ্চারা!
ফাহাদ বায়েজিদ হিমু
KBT গ্রুপের প্রধান ও টাঙ্গুয়ার হাওরে নিহত যুবক হত্যা মামলার প্রধান আসামি। কেবিটির সাথে ভ্রমণে গিয়ে বাস ডাকাতির সম্মুখীন হয়ে পুরো বাসের সকলের ফোন/ক্যামেরা/মানিব্যাগ হারানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে স্বল্প টাকার ট্যুরের বিজ্ঞাপন দিয়ে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের। যদিও কেবিটির এ সংক্রান্ত অভিযোগ গুলোর মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেবিটির হোষ্টভেদে ভালো অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
কেবিটির হিমুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। বেশকিছু নিউজ পোর্টাল সেটার নিউজও কাভার করেছে কিন্তু এটা নিয়ে কথা বলা যাবে না। কথা বললেই আরেকদল দালাল এসে কান্নাকাটি শুরু করে দিবে।