24/01/2016
শহিদুল ইসলাম সাগরঃ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিহাস ঐতিহ্য বলতে বাংলা সংস্কৃতি বা বাঙ্গালির সংস্কৃতি বুজায়। আর বাঙ্গালির সংস্কৃতির গোঁড়া পত্তন হয়ে ছিল আজকের বগুড়ায় অর্থাৎ প্রাচীন নগরী পুন্ড্রবর্ধন থেকে। এই প্রাচীন বাংলা সংস্কৃতির সাধ নিতে সুদূর আফ্রিকার তানজানিয়া থেকে ছুটে এসেছিলেন বিশ্বখ্যাত মহাপর্যটক দার্শনিক ইবনে বতুতা, চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং, রাজা জয়পীড় সহ পৃথিবীর অনেক মহা মানব। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বগুড়া জেলার সুনাম সব সময় ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে একমাত্র সরকারী টেলিভিশনে সুনামের সহিত অংশগ্রহণ করত বগুড়া ইয়থকয়ার সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ৯০ আর দশক পর্যন্ত। কিন্তু তার পর থেকে আর সেভাবে দেখা যায়না সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বগুড়া জেলার অবস্থান। তবে কি আমরা ধরে নিতে পারি যে আমরা বগুড়াবাসীরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের ঐতিহ্যকে। গত ২/৩ বছর আগে সংগীত শিল্পী মিলার ফোক গান “ হাজার দর্শক মন মজাইয়া নাচেগো সুন্দরী কমলা/ প্রেমিক পুরুষ আরে রহিম মিয়া রুপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া। আসলে এটা ফোক গান হলেও বাঙ্গালীর তাল ঝুমুরের নর্তকী কমলা ও রুপবান এর সাংস্কৃতিক অঙ্গন বগুড়াতে এবং বাঙ্গালির সংস্কৃতির গোঁড়া পত্তন বগুড়াতে। কালের আবর্তে ইথারের ঢেউয়ে ভেসে আসা পশ্চিমা সংস্কৃতির কবলে নুতুন প্রজন্ম ভুলতে বসেছে নিজের সংস্কৃতিকে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সহ সবাইকে অনুরধ করবো আপনারা যদি পারেন, যদি সম্ভব হয়, তবে কমলা ও রুপবান ফিরিয়ে দিন নতুন প্রজন্মের মাঝে। এবার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শেকড়ের সন্ধান করা যাক।
করতোয়া বিধোত প্রাচীন নগরী পুন্ড্রবর্ধনের রাজ নর্তকী সেবাদাসী কমলার নেউরে যে তাল সৃষ্টি হয়েছিল তা মহিত করেছিল সদূর কাশ্মির থেকে আগত রাজা জয়াপীড়কে নৃত্য পটিয়োসী সুন্দরী কমলার অনুপম তালে কেঁপে কেঁপে উঠতো নীল অম্বর। হৃদি পদ্মদলে আলোকের আনন্দ সঙ্গীতে মূর্ত হয়েছিল স্কন্ধ দেবতা। কাশ্মীররাজ জয়াপীড় কমলার নৃতের ছন্দে তার অশান্তমনে ফিরে পেয়েছিল হৃদয়ের ভাষা, নির্মল ধারাস্রোতে জাগ্রত হয়েছিল প্রনয়। সেই হাজার হাজার বছর আগে প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধনে এক রূপসী নৃত্য বিভঙ্গে প্রকৃতির চাঞ্চল্যের কথা কলহনের ‘রাজতরঙ্গিনীতে লিখিত আছে। রাজ তরঙ্গিনী’র সেই উপজীব্য কাহিনী থেকে আবিস্কৃত হয় এজনপদের প্রথম নৃত্য শিল্পী নৃত্যকী কমলার।
শ্যামল বঙ্গে নৃত্যের অনুপম ছন্দে সেই কবে বেজেছিল নৃত্যকী কমলার পায়ের ঘুঙ্ঘুর, জানি না আমরা। হাজার বছরের ঐতিহ্য বিমূখ এই জাতি কখনও এ জনপদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে অনুপম উপাখ্যানে তুলে আনতে পারেনি। খনন হয়নি এদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জমি। অবহেলা আর অবহেলিত থেকেছে আমাদের উৎসের সন্ধান। উত্তাল নদীর তীরে একদা যে চিরায়ত বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে ওঠেছিল,কালের চক্রে আজ তা লুপ্ত। প্রাচীন নগরী পুন্ড্রবর্ধনের জলকাদায় আর প্রাচীন নদী কলতু (আজকের করতোয়া)’র সমাতটে লৌকিক উৎসব কিংবা ধর্মীয় বা প্রাত্যেহিক জীবনের বিচিত্র জীবন ভাষ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছিল যে অনুপম উপাখ্যানের ধারা,আজ হারিয়ে গেছে নি:শব্দে এই চরাচরে। অথচ আমাদেরও ছিলো সহস্র বছরের প্রবহমানতায় একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। আর সেই সমৃদ্ধশীল নিজস্ব সংস্কৃতির শিকড়ের সন্ধানে প্রয়োজন পৌন্ড্রনগরের লুপ্ত প্রায় ইতিহাসের অনুসন্ধান।
“পৌন্ড্র বর্ধনং ক্ষেত্রং নৈব মুনচতি কেশব
ধারিত্রা নাভি কমলাং প্লুতং করজৈলম
করতোয়া সদানীরে সবিৎ সুশ্রিতে
পৌন্ড্রান প্লায়েসে নিত্যং পাপং করোদ্ভাবে”
সেই ঐতিহাসিক পৌন্ড্রবর্ধন। কত অতীত ঠিক করে বলা যাবেনা। প্রাচীনতম মহাকাব্যে বর্নিত আছে এর কথা। এর বর্ননা করেছেন এক অজ্ঞাত কবি” করতোয়া মহাত্ম গ্রন্থে। কাশ্মীরের কবি কালহনের ‘রাজতরঙ্গিনীতে লেখা আছে পৌন্ড্রবর্ধনের সামাজিক,রাজনৈতিক এবং সংস্কৃতির উত্থ্যান পতনের কথা। প্রত্নতান্ত্রিক গবেষনা হতে জানা যায়,খৃষ্ট পূর্ব ৩য় শতাব্দীরও পূর্বে এই নগরের পত্তন হয়েছিল। এই নগরীতে এসেছিলেন ভগবান তথাগত ধর্ম প্রচারের জন্য। বিশ্বখ্যাত মহাপর্যটক দার্শনিক ইবনে বতুতা ও চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং, অভিভুত হয়েছিলেন পৌন্ড্রবর্ধনের ঐশ্বর্য দেখে। নাথ সিদ্ধাচার্য মৎসন্দ্রে বা মিনাথের সাধন ক্ষেত্র ‘যৌগীর ভবন’ আজও কালের ভ্রু”কুটি এড়িয়ে টিকে আছে। সুধুর বল্লখ দেশ থেকে ইসলাম প্রচার করার জন্য এসেছিলেন আরেক সাধক হযরত শাহ সুলতান বল্লখী মাহীসাওয়ার। ইতিহাসের অসংখ্য টানা পোড়নের স্বাক্ষী,অমিত শৌর্য বীর্য অদৃষ্ট পূর্ব বিস্ময়কর, জয়পরাজয়, কমলার অমেয় প্রেম কাহিনী , লৌকিক উৎসব, সঙ্গীত, নৃত্য, আর সভ্যতার চিহ্ন নিয়ে ধংসস্তপের মধ্যে এখনো টিকে আছে প্রাচীন নগরী পৌন্ড্রবর্ধন, আজকের বগুড়া জেলার ‘মহাস্থানগড়’।
অনবরত সংগ্রামূখর পৌন্ড্রনগরের মানুষের বিচিত্র কর্ম কাহিনী নিয়ে সৃষ্টি হতে পারতো আমাদের সমৃদ্ধ, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির উৎস। পৌন্ড্রবর্ধনের পাদপীঠেই সর্বপ্রথম পরিবেশিত হয়েছিল গীতনৃত্য আর নাটক। স্কন্দ মন্দিরের নাট মন্দিরে এসব অনুষ্ঠান হতো। এখানেই ধর্ম প্রচারের কারনে ধর্মের আচার/আচরনে স্তরে স্তরে একদিন জমে ওঠেছিল সমৃদ্ধশীল সংস্কৃতির। রন্ধে রন্ধে তার স্পন্দমান ছিলো সংগীত,দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য প্রার্থনারত নর্তকীর সবল শরীরের ভঙ্গিমাসহ রমনীর পায়ের নূপুর ধ্বনি।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি পৌন্ড্রনগর এ জনপদের প্রাচীন নগরী। খ্রীষ্ট পূর্ব ৩য় শতাব্দীতে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন জনপদ ইতিহাসের অন্যান্য সভ্যতার নিদর্শন নগরী থেকে অনেক পুরনো। প্রকৃত ইতিহাস অনুসন্ধান করলেই প্রকাশিত হবে আমাদের কাংখিত অনুপম সংস্কৃতির পরিচয়। দু:খজনক হলেও সত্য আজ পর্যন্ত পৌন্ড্রনগরের পুঞ্জভুত সংস্কৃতিজনেরা যে চর্চা করে যাচ্ছেন তাতে কোন দিনই এ জনপদের ঐশ্বর্যশালিনী, সমৃদ্ধশীল সংস্কৃতির চিত্র তেমনভাবে প্রকাশিত হয়নি। এজন্য প্রয়োজন শিকড় সন্ধানী অভিযাত্রী দলের। তবে আশার কথা বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার দেশের বিশিষ্ট নাট্যকার ড.সেলিম আল দীন এর চেতনায় প্রখ্যাত নিদের্শক নাসির উদ্দিন ইউসুফের নেতৃত্বে সারা দেশে সংস্কৃতির শিকড় সন্ধানী অভিযাত্রীরা কাজ করে যাচ্ছে। গ্রাম থিয়েটারের সাহসী সৈনিকরা আলোক বর্তিকা হয়ে সমস্ত আধারদূর করে শানিত করছে আমাদের শুভ চেতনাকে। আমার এ নিবন্ধে আমি বলতে চাই মহাভারতে লিখিত প্রাচীন পূণ্যনদী করতোয়ার মহাত্ত প্রকাশিত হোক। পৌন্ড্র নগরীর জলমাটিতে যে সভ্যতার আলো দেখা দিয়েছিল তা অনুসন্ধান করা হোক। এ জনপদের রন্ধে রন্ধে যে গীত রচিত হয়েছিল তা উঠে আসুক আমাদের সংস্কৃতিতে। অভয় অরণ্যে পর্বতে, নাট মন্দিরে শরব ডোমনীরা, সেবাদাসীরা ফুলের মালা খোঁপায় জড়িয়ে, মাথায় ময়ূরের পাখ গুজে নেচেছিল। ৬৪টি মূদ্রার সেই অনুপম নৃত্য-তা বেজে উঠুক আমাদের নৃত্য শিল্পীর পায়ের ঘুঙ্ঘুরে। তবেই আমরা ফিরে পাব আমাদের নিজস্বতা, ফিরে পাব হাজার বছরের ঐতিহ্যকে। এখন বড় প্রয়োজন এ জনপদের মানুষের সংস্কৃতির শিকড় সন্ধানী অভিযাত্রীর।
উত্তরবঙ্গের প্রান কেন্দ্র,ঐতিহ্য সংস্কৃতির ধারক বগুড়া জেলায় রয়েছে বেশ কয়কটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। রয়েছে ১৫/২০টি দৈনিক আর সাপ্তাহিক পত্রিকা। এতোগুলো পত্রিকা ঢাকার বাহিরে আর কোথাও প্রকাশিত হয় না।
সেদিক থেকে বগুড়া জেলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বলিষ্ঠতা প্রকাশ পায়। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রমে উত্তর জনপদের ঐতিহ্য আর গর্বিত সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কোন কোন সংগঠন তার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এরমধ্যে বগুড়া থিয়েটার ‘হাতের মুঠোয় হাজার বছর আমরা চলেছি সামনে’ শ্লোগানে নিজস্ব সংস্কৃতির ধারা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একের পর এক নাটক মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে। এর মধ্যে তৌফিক হাসান ময়না রচিত ‘কথা পুন্ড্রবর্ধন’ উল্লেখযোগ্য। এ নাটকটি বৃটিশ থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই প্রথম বগুড়া জেলা থেকে দেশের বাইরে ভারতে মঞ্চস্থ হয়েছে এবং ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে বগুড়া থিয়েটার আরো একটি নাটক ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ মঞ্চস্থ করে যাচ্ছে এবং ‘দ্রোহ’ এর মহড়া দিয়ে যাচ্ছে। যার কাহিনী গড়ে ওঠেছে এ উত্তর জনপদের জলকাদায়। এ ধারায় বগুড়া ইয়ৃথ কয়্যার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। বগুড়া জেলার প্রাচীন নাট্য সংগঠন বগুড়া নাট্যগোষ্ঠীরও সংস্কৃতি অঙ্গনে আছে বলিষ্ঠ অবদান। গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান আন্দোলনে বিশ্বাসী এ নাট্যদল সর্বপ্রথম বগুড়ায় সুস্থ্য নাট্য চর্চা শুরু করে। বগুড়া নাট্যগোষ্ঠী বগুড়া জেলার নাট্যজগতের পথিকৃত। দেশের অন্যতম নাট্য সংগঠক শ্যামল ভট্রাচার্য এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন। সংশপ্তক থিয়েটার,বগুড়া নাট্যদল,নান্দনিক নাট্যদল,করতোয়া নাট্যগোষ্ঠী নাট্য আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। শিশুদের নিয়ে প্রদর্শিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে উচ্চারন একাডেমী,লিটল থিয়েটার,আইডিয়াল থিয়েটার,সিডিএল,শিশু একাডেমী, ও নৃত্যে আমরা ক’জন শিল্পীগোষ্ঠী,ক্রিয়েটিভ কালচারাল,নৃত্যছন্দম অনেক ভাল কাজ করছে। এরমধ্যে আমরা ক’জন শিল্পীগোষ্ঠী ও ক্রিয়েটিভ কালচারাল একাডেমী পরপর দু’টি নৃত্য উৎসব করেছে। যা অত্র জেলার সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে। দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালুর প্রধান পৃষ্ঠপোষতায় আমরা ক’জন নৃত্য উৎসব ভিন্ন মাত্রার যোগ করেছে। বগুড়া লেখক চক্র সাহিত্য অঙ্গনে নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছে।
সংগীতে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ,উদীচী,অনুশীলন’৯৫,চর্চা একাডেমী,সুরের ছোয়া ও বন্ধন শিল্পীগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সন্মিলন পরিষদ বছর দুয়েক আগে বগুড়া জেলায় সার্থক ও প্রশংসিতভাবে ‘জাতীয় রবীন্দ্র মেলা’ অনুষ্ঠিত করেছিল। আশার কথা আগামীতে বিদ্রোহী কবি নজরুল মেলা আয়োজন করার প্রস্তুতি চলছে। পদাতিক গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য যাত্রা পালার উৎসবের আয়োজন করে দারুন প্রশংসিত হয়েছে। এতো আয়োজন এতো সাফল্য তবুও যেন বগুড়া জেলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূল লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারছেনা। ভাল মঞ্চের অভাব,যে কয়েকটা আছে তার অতিরিক্ত হারে ভাড়া, আধুনিক লাইট,সাউন্ড এর কোন ব্যবস্থা নেই। নেই সরকারী/বেসরকারী কোন পৃষ্টপোষকতা। আর্থিক দৈন্যতার জন্য বগুড়ার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ইচ্ছা থাকলেও ভাল কোন অনুষ্ঠান করতে পারছেনা। নাটকে মহিলা শিল্পীর অভাব এখনও আগের মতোই রয়ে গেছে। খুব কম মহিলা শিল্পী নাটকে অভিনয়ে আগ্রহী হয় তবুও যে কয়েকজন নারী শিল্পী সাহস নিয়ে এগিয়ে আসে,তবে তাদের ওপর আসে নানা বাধা বিপত্তি। তবে আশার কথা সংগীতে এবং নাচে মেয়েদের অংশগ্রহন আগের তুলনায় বেড়েছে। একটা পেশা ভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে যা অনেকটা সফলও হয়েছে। আর একটা দিক বগুড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দেখা যায়, যেন তেন ভাবে আর কেউ অনুষ্ঠান করেনা বা অংশগ্রহন করতে চায় না। সবার মধ্যে একটা ভাল পারফমেন্স করার ইচ্ছা আছে যা বগুড়া জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরো গতিশীল আর উজ্জলতা বাড়াবে। এতো কিছুর পরেও বগুড়া জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরো উজ্জীবিত হতে পারছেনা,সকল সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে ঐক্য আর সহনশীলতার অভাব। ঈর্ষা,সিনিয়ারদের অসম্মান.বেশী মাত্রা বানিজ্যিকতাসহ আরো অন্যান্য কারনে এ জনপদের সংস্কৃতিক অঙ্গন মাঝে মাঝে ঝিমিয়ে পরছে। সিনিয়র সম্মানীয় সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বগনের–দুরে সরে যাওয়ার ফলেও এ সংকট আরো বাড়ছে। এ ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সংকট দলগতভাবে কমিটমেন্টের অভাব। বেশীর ভাগ দলেই কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কার্যক্রম করেনা,নেই তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। কিভাবে শুরু কোথায় শেষ জানা নেই কারো। ফলে দিকহীন হয়ে একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রাচীন জনপদ পৌন্ড্রবর্ধনের এই বগুড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তাই থেকে যাচ্ছে আধাঁরের গহ্বরে। অত্যান্ত সমৃদ্ধশীল এই সংস্কৃতি ভান্ডার প্রকাশিত হচ্ছেনা বগুড়া জেলার সংস্কৃতি অঙ্গনে।
আমাদের কথাঃ আমরা নিউজবিডিএন এর প্রকাশক, সম্পাদক সহ নিউজবিডিএন পরিবারের সকল সদস্য বগুড়া জেলার সম্ভাবনাময় সকল বিষয়কে পর্যটন শিল্পের স্বার্থে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই এই পর্বে বগুড়া জেলার সংস্কৃতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠক, নাট্যকার, শিল্পনির্দেশক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠক, রাজনিতিবীদ সহ সবাইকে অনুরোধ করবো তিন হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ইতিহাস বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার পাশা পাশী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ঐতিহ্যে বিকশিত করুন। ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বগুড়া সার্ক এর রাজধানী। এসময়ে বেশ কিছু প্রোগ্রাম হবে যৌথভাবে আমরা যেন অগ্রিম তৈরি থাকি কমলা ও রুপবানকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার জন্য। সেই সাথে বগুড়া জেলার সিনিয়র সম্মানীয় সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বগনের কাছে নিউজবিডিএন ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করব অভিমান ভুলে সামনে আসুন। আপনারা নবপ্রজন্মের আলোর দিশারী।
১৮৬০ – খেমটাওয়ালী (এক ধরনের আদি-রসাত্মক নাচ, তখনকার বাঙালি উচ্চবিত্তদের বিনোদন ) ও তার দল।