15/04/2026
একটা ছেলে জানে—পরিবার ছেড়ে দূর দেশে থাকা কতটা কঠিন। এই কথাটা শুধু একটা বাক্য নয়, এটা হাজারো প্রবাসীর বুকের ভেতরের চাপা কান্না।
প্রবাস জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝকঝকে মনে হয়, ভেতরটা ঠিক ততটাই নিঃসঙ্গ। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস—নিজের মানুষদের মুখ না দেখে কাটানো সহজ নয়। মা অসুস্থ, বাবা বয়সে নুয়ে পড়ছেন, ছোট ভাই বা বোন বড় হয়ে যাচ্ছে—সবকিছুই সে জানে, কিন্তু পাশে থাকতে পারে না। ফোনের ওপাশে কণ্ঠ শুনেই দায়িত্ব শেষ করতে হয়।
একজন প্রবাসী ছেলে যখন রাতের বেলা ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় যায়, তখন তার ঘুম আসে না—কারণ মনে পড়ে যায় ঘরের কথা। মায়ের রান্নার গন্ধ, বাবার কঠোর অথচ স্নেহময় কথাগুলো, পরিবারের সাথে বসে খাওয়ার সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো। তখন বুঝতে পারে—টাকা দিয়ে সব কেনা যায়, কিন্তু নিজের মানুষদের পাশে থাকার সুখটা কেনা যায় না।
অনেকেই ভাবে, প্রবাসে মানেই সুখের জীবন। কিন্তু তারা জানে না—এই সুখের আড়ালে কতটা ত্যাগ লুকিয়ে থাকে। নিজের ইচ্ছা, নিজের স্বপ্ন, নিজের আনন্দ—সবকিছু বিসর্জন দিয়ে শুধু পরিবারের হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করে একজন প্রবাসী। নিজের কষ্টগুলো কাউকে দেখায় না, কারণ সে জানে—তার কষ্ট দেখলে পরিবারের মন ভেঙে যাবে।
সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত আসে তখন, যখন পরিবারের কোনো জরুরি সময়ে সে পাশে থাকতে পারে না। কোনো অসুস্থতা, কোনো দুঃসংবাদ—সবকিছুই তাকে দূর থেকেই সহ্য করতে হয়। সেই অসহায়ত্বটাই প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা।
তবুও সে হাল ছাড়ে না। কারণ তার স্বপ্ন থাকে—একদিন পরিবারের জন্য কিছু করবে, তাদের মুখে হাসি ফোটাবে। সেই স্বপ্নটাই তাকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার শক্তি দেয়।
প্রবাসী ছেলেরা আসলে শুধু টাকা উপার্জন করে না, তারা নিজের জীবনটাই একটু একটু করে বিলিয়ে দেয় পরিবারের জন্য। তাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাজারো না বলা গল্প, অজস্র ত্যাগ আর অগণিত নির্ঘুম রাত।
এই জন্যই বলা যায়—প্রবাসীদের কষ্ট চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করলে বুকটা ভারী হয়ে আসে।