10/01/2024
আলহামদুলিল্লাহ আমাদের অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম উমরাহ যাত্রীদের তাওয়াফ সম্পন্ন করছেন।
💥উমরার আলোচনা💥
উমরার হুকুম : যার সামর্থ আছে তার জন্য জীবনে কমপক্ষে একবার উমরা করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। অনেকে উমরাকে ওয়াজিবও বলেছেন। (মানাসিক পৃ.৪৬৩)
উমরার সময় : উমরার জন্য কোনো নির্ধারিত সময় নেই। বছরের যেকোনো সময়ই উমরা করা যায়। তবে ৯ ই যিলহজ্জ থেকে ১৩ ই যিলহজ্জ এর মধ্যে উমরা করা মাকরূহ। কারণ এসময় হজ্জের কার্যক্রম চলতে থাকে। (মানাসিক পৃ.৪৬৪)
উমরার উত্তম সময় : উমরার জন্য উত্তম সময় হলো রমযান মাস। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রমযান মাসে উমরা করলে একটি হজ্জের সমপরিমাণ সাওয়াব পাওয়া যায়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, রমযান মাসে উমরা করলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ত্তয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ করার মত ছাওয়াব পাওয়া যায়। (বুখারী হা. নং ১৭৮২, সহীহ মুসলিম হা.নং ১২৫৬)
উমরার ফরয দুইটি : ১. ইহরাম বাঁধা ২. তাওয়াফ করা।
উমরার ওয়াজিবও দুইটি : ১. সা’ঈ করা ২. মাথা মুন্ডানো বা সমস্থ চুল ছোট করা। উমরার প্রথম ফরয ইহরামের আলোচনা ইতিপূর্বে করা হয়েছে, তাই এখন শুধু দ্বিতীয় ফরয তাওয়াফের আলোচনা করা হচ্ছে।
তাওয়াফের প্রস্তুতি
তাওয়াফের জন্য পবিত্রতা জরুরী। সুতরাং উযূ না থাকলে উযূ করে নেবে, আর গোসল ফরয হলে গোসল করে নেবে। মসজিদে হারামে প্রবেশের পূর্বেই (বাসায় বা হোটেলে) উযু-গোসল সেরে নিতে হবে। কাপড় বা শরীরে নাপাকি থাকলে পাক করে নিতে হবে। বাহ্যিক নাপাকিসহ তাওয়াফ করা মাকরূহ। মহিলারা হায়েয নেফাস অবস্থায় তাওয়াফ করতে পারবে না। গুনইয়াতুন নাসিক পৃ.১২২
মসজিদে হারাম সংশ্লিষ্ট মাসায়েল
* পবিত্রতা অর্জনের পর প্রথমে মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে। মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় মসজিদে প্রবেশের সুন্নাতগুলো যথা নিয়মে পালন করবে। অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলবে, দুরূদ শরীফ পড়বে, এরপর এই দু’আটি পড়বে।
اللهم اغفرلى ذنوبي وافتح لى ابواب رحمتك
এই তিনটি দু’আ একত্রে এভাবে পড়া যায়-
بسم الله و الصلاة والسلام على رسول الله اللهم اغفرلى ذنوبي وافتح لى ابواب رحمتك
তারপর ডান পা মসজিদের সীমানায় রাখবে এবং ই‘তিকাফের নিয়ত করে মসজিদে প্রবেশ করবে।
* মসজিদে হারামে প্রবেশের পর বাইতুল্লাহর উপর নজর পড়ার সাথে সাথে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। এরপর একবার বা তিনবার ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়বে। অনন্তর নিজের ভাষায় প্রাণখুলে দু’আ করবে। এই সময় দু’আ কবূল হয়। এই দু’আর সময় হাত না উঠানো ভালো। মানাসিক-১২৮,৫৬৪
* মক্কায় অবস্থানকালে মসজিদে হারামেই নামায পড়ার চেষ্টা করবে। কারণ মসজিদে হারামে নামায পড়লে প্রতি রাকা’আতে এক লক্ষ রাকা`আতের নেকি পাওয়া যায়। মাযমাউয যাওয়ায়েদ হা. নং ৫৮৫৮
* মসজিদে হারামে যেখানেই নামায পড়া হোক নামায অবস্থায় সিনা একেবারে কাবা শরীফ বরাবর থাকা জরুরী। কাবা শরীফ বরাবর সীনা না থাকলে নামায হবে না। বাদায়েউস সানায়ে ১/৩১২
* মসজিদে হারামে জামা’আতে নামায পড়ার সময় মহিলার পাশে বা সরাসরি মহিলার পিছনে নামায আদায় করবে না। তবে নামায অবস্থায় যদি কোনো মাহিলা পাশে দাঁড়িয়ে নামাযে শরীক হয়ে যায়, তাহলে পুরুষের নামায নষ্ট হবে না।
* বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকাও সাওয়াবের কাজ। তাই ইশক-মুহাব্বতের সাথে গুনাহ মাফের আশায় বেশি-বেশি তাকিয়ে থাকুন।
* মসজিদে প্রবেশের পর কোনো প্রয়েজনে বাইরে যেতে হলে জায়নামায বা অন্য কিছু রেখে জায়গা দখল করে যাবে না কিংবা কারো সাহায্যে জায়গা ধরে রাখবে না। মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে আসারও চেষ্টা করবে না। যেকোনোভাবে অন্যকে কষ্ট দেওয়া গুনাহের কাজ। এই মহা পবিত্র স্থানে সবধরণের গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জুরুরী।
* মসজিদে গল্প করবে না এবং উচ্চ স্বরে কথাও বলবে না।
তাওয়াফ: মসজিদে হারাম অতিক্রম করার পর তাওয়াফের স্থান শুরু হয়। তাওয়াফের স্থানকে মাতাফ বলে। মাতাফে পৌঁছে তাওয়াফ করবে। তাওয়াফ শুরু করার আগে ইজতিবা করে নেবে। যে তাওয়াফের পর সা’ঈ করতে হয় (যেমন: উমরার তাওয়াফ, তাওয়াফে কুদূম, তাওয়াফে যিয়ারাহ) সেই তাওয়াফের মধ্যে ইজতিবা করা সুন্নাত। ইজতিবা হল, গায়ে জড়ানো কাপড়টি ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রেখে দেওয়া। তথা ডান কাঁধ খোলা রাখা। সম্পূর্ণ তাওয়াফে ইজতিবা অবস্থায় থাকা সুন্নাত। নফল তাওয়াফে ইজতিবা নেই। ইজতিবার হুকুম পুরুষদের জন্য। মহিলাদের জন্য নয়। (মানাসিক-১৩০)
* যে তাওয়াফের পর সা’ঈ থাকে সে তাওয়াফের মধ্যে রমলও করতে হয়। উমরার তাওয়াফের পর যেহেতু সা’ঈ আছে তাই উমরার তাওয়াফে রমল করতে হবে। পুরুষদের জন্য তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। রমল হল, কাঁধ হেলিয়ে একটু দ্রত ও বীরদর্পে হাঁটা। মহিলারা রমল করবে না। প্রচন্ড ভিড়ের সময় রমল করার দ্বারা অন্যের কষ্ট হওয়ার আশংকা থাকলে রমল বন্ধ রাখবে , স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে। অন্তত প্রথম তিন চক্করের মধ্যে সুযোগ পেলে রমল করবেন। অন্যথায় করতে হবে না। মানাসিক-১৩৩
* হজ্জে তামাত্তুকারীগণ উমরার তাওয়াফ শুরু করার আগে তালবিয়া পড়া বন্ধ করে দিবে। পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধার আগে আর তালবিয়া পড়ার অনুমতি নেই।
* তাওয়াফ শুরু করার আগে হাজরে আসওয়াদের বরাবর দাঁড়িয়ে তার দিকে সীনা ও চেহারা ফিরিয়ে দাঁড়াবে।
অভিজ্ঞতা: ভিড়ের মধ্যে হাজরে আসওয়াদ বরাবর আসতে পেরেছে কিনা তা বুঝার সহজ উপায় হল, মসজিদে হারামের এক দিকে শুধু একটি মিনার আছে, সেই মিনার থেকে একটু সামনে অগ্রসর হবে। কিংবা ঐ দিকেই মসজিদে হারামের দ্বিতীয় তলায় সবুজ বাতি জ্বলে থাকতে দেখবে, ঐ বাতি বরাবর দাঁড়িয়ে বাইতুল্লাহমুখী হলেই হাজরে আসওয়াদ বরাবর হয়ে যাবে।
* হাজরে আসওয়াদ বরাবর এসে তাওয়াফের নিয়ত করবে। অর্থাৎ এভাবে বলবে- হে আল্লাহ! আমি উমরার তাওয়াফ করছি। আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।
* এরপর নামাযে তাকবিরে তাহরীমা বলার সময় যেভাবে হাত উঠানো হয় সেভাবে উভয় হাতের তালু হাজরে আসওয়াদ ও বাইতুল্লাহর দিকে ফিরিয়ে বলবে
بسم الله الله اكبر، لااله الاالله و لله الحمد، والصلاة والسلام على رسول الله ـ
শুধু بسم الله الله اكبر বললেও চলবে। (মানাসিক-১৩০)
আজকাল ভিড়ের কারণে যেহেতু হাজরে আসওয়াদের কাছে যাওয়া যায় না, তাছাড়া ওখানে খোশবু লাগানো থাকে তাই ইশারায় হাজরে আসওয়াদ চুমু খাওয়াই ভালো। হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাঁড়িয়ে উভয় হাতের তালু হাজরে আসওয়াদের উপর রাখার মতো করে ইশারা করবে। অত:পর তালুতে শব্দ করা ছাড়া চুমু খাবে। কেউ যদি কখনো হাজরে আসওয়াদকে সরাসরি চুমু খাওয়ার সুযোগ পায় তাহলে হাজরে আসওয়াদের উপর দুই হাত রেখে দুই হাতের মাঝে পাথরের উপর নি:শব্দে চুমু খাবে। যদি এভাবে চুমু খেতে না পারে তাহলে সম্ভব হলে হাতদিয়ে স্পর্শ করে হাতে চুমু খাবে। মানাসিক-১৩১
* হাজরে আসওয়াদ চুম্বন শেষে সীনা সোজা করে। কাবা শরীফকে বামে রেখে বীরদর্পে হাটতে শুরু করবে। প্রথম তিন চক্করে রমল করবে।
* বাইতুল্লাহ সংলগ্ন উত্তর দিকে দেয়ালঘেরা স্থানকে হাতীম বলে । হাতীম বাইতুল্লাহরই অংশ। তাই হাতীমের বাহির থেকে তাওয়াফ করবে। হাতীমের ভিতর থেকে তাওয়াফ করলে তাওয়াফ হবে না। মানাসিক-১৫৩
* তাওয়াফ করা অবস্থায় বাইতুল্লাহর দিকে সীনা করা নিষেধ। তখন কোনো কারণে বাইতুল্লাহর দিকে সীনা ফিরে গেলে, যতটুকু স্থান সীনা ফিরা অবস্থায় তাওয়াফ করা হয়েছে ততটুকু স্থান পুনরায় সহীহভাবে তাওয়াফ করতে হবে। রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৪
* পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করতে অক্ষম ব্যক্তি হুইল চেয়ার বা অন্য কোনো বাহনে চড়ে তাওয়াফ করতে পারবে। মানাসিক-১৫২
* তাওয়াফের সময় ফরয নামায বা জানাযা নামাযের জামা’আত শুরু হলে তাওয়াফ স্থগিত করে জামা’আতে শরীক হবে। নামায শেষে যেখানে তাওয়াফ স্থগিত করা হয়েছিলো সেখান থেকে তাওয়াফ শুরু করবে। তবে বিরতির আগে তিন চক্কর বা তার চেয়ে কম তাওয়াফ করে থাকলে এই চক্করগুলি না ধরে নতুন করে তাওয়াফ শুরু করা উত্তম। রদ্দুল মুহতার-২/৪৯৭
* তাওয়াফের সময় বাইতুল্লাহর দিকে ইচ্ছা করে তাকানো মাকরূহ। আনওয়ারে মানাসেক পৃ.৩৭৬
* সাত চক্করে এক তাওয়াফ পূর্ণ হয়। এক তাওয়াফে স্বেচ্ছায় সাতের অধিক চক্কর দেওয়া নিষেধ। যদি কেউ স্বেচ্ছায় সাতের অধিক চক্কর দেয় তাহলে অষ্টম চক্কর নতুন তাওয়াফ বলে গণ্য হবে এবং তাকে ঐ অতিরিক্ত চক্করসহ সাত চক্কর পুরা করতে হবে। তবে ভুলবশত সাতের অধিক হয়ে গেলে অসুবিধা নেই। রদ্দুল মুহতার-২/৪৯৬
* রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছে সম্ভব হলে দুই হাত বা শুধু ডান হাত দ্বারা তা স্পর্শ করবে। সম্ভব না হলে করবে না। রুকনে ইয়ামানীকে ইশারায় স্পর্শ করার কোনো বিধান নেই। (হাজরে আসওয়াদকে সামনে নিয়ে দাড়ালে বাইতুল্লাহর বাম দিকের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ রুকনে ইয়ামানী। এই কোণের নিচের দিকের কিছু অংশ কাবা শরীফের গেলাফমুক্ত রাখা হয়েছে। ) রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করতে গিয়ে যদি সীনা বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে যায় তাহলে ঐ স্থানটুকুর তাওয়াফ পুনরায় করতে হবে। রদ্দুল মুহতার-২/৪৯৮
* হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে পুনরায় হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছলে এক চক্কর পূর্ণ হবে। হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছে তার দিকে ফিরে দাঁড়াবে। এর পর ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে সম্ভব হলে সরাসরি অন্যথায় ইশারায় হাজরে আসওয়াদকে চুমু খাবে। অন্তত বাইতুল্লাহকে বামে রেখে নতুন চক্কর শুরু করবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী চক্কর পুরা করবে। এভাবে সাত চক্করে এক তাওয়াফ হবে। খেয়াল রাখবে, তাওয়াফের সাত চক্করে আটবার হাজরে আসওয়াদ চুমু খেতে হবে। তাওয়াফ শুরু করার সময় একবার আর প্রত্যেক চক্কর শেষে একবার। রদ্দুল মুহতার-২/৪৯৮
* তাওয়াফ করাকালীন প্রয়োজনে পানি পান করা যাবে। মানাসিকÑ১৬৪
* তাওয়াফের সময় যদিও কথাবার্তা বলা জায়িয কিন্তু একান্তই প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বলবে না। যিকির ও দু’আর মধ্যে মশগুল থাকবে। তাওয়াফ অবস্থায় কিতাব দেখে কোনো দু’আ পড়ার প্রয়োজন নেই। তাওয়াফের মধ্যে এমন কোনো নির্দিষ্ট দু’আ নেই যা না পড়লে তাওয়াফ সহীহ হবে না। তাওয়াফের সময় যেকোনো দু’আ ও যিকির করা যায়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাওয়াফ অবস্থায় দুই স্থানে দু’টি দু’আ পড়ার কথা বর্ণিত আছে। যারা পারবে তারা ঐ দুই স্থানে দু’আ দু’টি পড়বে। যথা:
ক. রুকনেইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তিনি এই দু’আ পড়তেন:
ربنا اتنا فى الدنيا حسنة وفى الاخرة حسنة وقنا عذاب النار
অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হা.নং -৩০২৪৮)
খ. হাজরে আসওয়াদ এবং মাকামে ইবরাহীমের মাঝে এই দু’আ পড়তেন:
اللهم قنعنى بما رزقتنى و بارك لى فيه واخلف على كل غائبة لى بخير.
‘হে আল্লাহ! আপনার প্রদত্ত রিযিকে আমায় তুষ্ট রাখুন এবং তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন। আর আমার যাবতীয় অজ্ঞাত বিষয়াদিতে কল্যাণ নিহিত রাখুন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হা.নং- ৩০২৪৯
অভিজ্ঞতা: এমন কিছু যিকির আছে যেগুলো তাওয়াফের সময় আদায় করলে যিকিরের আমলও হয়ে যাবে সাথে সাথে কত চক্কর হল এবং এখন কততম চক্কর চলছে তাও মনে থাকবে ইনশাআল্লাহ। তবে এগুলোকে সুন্নাত মনে করবে না, শুধু বৈধ মনে করবে। যিকিরগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:
১ম চক্করেسبحان الله পড়তে থাকা।
২য় চক্করেالحمد لله পড়তে থাকা।
৩য় চক্করেلااله الاالله পড়তে থাকা।
৪র্থ চক্করেالله اكبر পড়তে থাকা।
৫ম চক্করে سبحان الله و بحمده سبحان الله العظيم পড়তে থাকা।
৬ষ্ঠ চক্করে যে কোনো সহীহ দুরূদ শরীফ পড়তে থাকা।
৭ম চক্করে যে কোনো ইস্তিগফার পড়তে থাকা।
উল্লেখ্য, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাওয়াফ অবস্থায় পড়ার দু’আ দুটি নির্দিষ্ট দুই স্থানে পড়বে। আর অন্যান্য স্থানে এই যিকিরগুলো করবে। তাহলে দু’আ-যিকির উভয়টির উপর আমল করা হবে এবং চক্করের নাম্বারও মনে থাকবে। তাছাড়া তাওয়াফ অবস্থায় প্রত্যেকে মনের আবেগ ও প্রয়োজন মোতাবেক নিজ ভাষায় যে কোনো দু’আই করতে পারবে। স্মরণ রাখবে তাওয়াফ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে যিকির করা উত্তম। আনওয়ারে মানাসেক পৃ.৩৮২
তাওয়াফ শেষে করণীয়
প্রথমে ইযতিবা খুলে ফেলবে। অর্থাৎ ডান বগলের নিচ থেকে কাপড় বের করে ডান কাঁধ ঢেকে নেবে। কারণ তাওয়াফ ছাড়া অন্য স্থানে ইযতিবা করা নিষেধ। রদ্দুল মুহতার-২/৪৯৫
* তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকা’আত ওয়াজিবুত তাওয়াফ নামায পড়তে হবে। তাওয়াফ নফল, ওয়াজিব, ফরয যাই হোক তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকা’আত নামায পড়া ওয়াজিব। এই দুই রাকা’আত নামায মাকামে ইবরাহীমকে সামনে রেখে পড়া মুস্তাহাব। তাওয়াফের স্থান ছেড়ে মাতাফের এক কোণে এমনভাবে দাঁড়াবে যাতে মাকামে ইবরাহীম এবং বাইতুল্লাহ উভয়টি সামনে থাকে। যদি এভাবে দাঁড়ানো সম্ভব না হয় তাহলে হারামের সীমানার মধ্যে যেকোনো জায়গায় এই নামায আদায় করা যাবে। রদ্দুল মুহতার-২/৪৯৮
* মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে এই দুই রাকা’আত নামায তাওয়াফ শেষ করে সাথে সাথে আদায় করে নেয়া উত্তম। মানাসিক- ১৫৫
* এই দুই রাকা’আতের প্রথম রাকা’আতে সূরা কাফিরূন আর দ্বিতীয় রাকা’আতে সূরা ইখলাস পড়া উত্তম। তবে অন্য যে কোনো সূরা দিয়েও তা আদায় করা যাবে। মানাসিক-১৫৭
* আসরের পর তাওয়াফ করলে তাওয়াফের নামায মাগরীবের ফরযের পর সুন্নাতের আগে পড়বে। মানাসিক- ১৫৭
* তাওয়াফের নামায শেষে দু’আ করবে। এখন দু’আ কবূলের সময়। তাই প্রাণ খুলে দু’আ করবে।
* এরপর পেট ভরে-তৃপ্তিসহকারে যমযমের পানি পান করবে। নামায শেষে এই মুবারাক পানি পান করা মুস্তাহাব। দাঁড়িয়ে কিংবা বসে যেভাবে সম্ভব পান করা যাবে। পান করার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। অত:পর এই দু’আ পড়বে:-
اللهم انى اسئلك علما نافعا، ورزقاواسعا، وشفاء من كل داء. ’
পান শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে। মানাসিক পৃ. ১৩৯
উমরার প্রথম ওয়াজিব: সা’ঈ করা
ফরয তাওয়াফের পরে সা’ঈ করা।
সা’ঈর আলোচনা:
সা’ঈর প্রস্তুতি: সা’ঈ হল, ‘সাফা-মারওয়ার’ এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার চক্কর দেওয়া। সাফা থেকে সা’ঈ শুরু করে মারওয়াতে পৌঁছলে এক চক্কর হবে। এরপর মারওয়া থেকে সাফায় আসলে দ্বিতীয় চক্কর হবে। এভাবে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর দেওয়াকে সা’ঈ বলে। সা’ঈ শুরু হবে সাফা থেকে শেষ হবে মারওয়ায়।
* তাওয়াফের পর দেরি না করে সা’ঈ করে নেওয়া সুন্নাত। অবশ্য ওযরের কারণে দেরি হলে কোনো সমস্যা নেই। মানাসিক পৃ.১৭০
* উযূ অবস্থায় সা’ঈ করা এবং সা’ঈর সময় কাপড় পবিত্র থাকা মুস্তাহাব। মহিলাদের জন্য হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র অবস্থায় সা’ঈ করা সুন্নাত। গোসল ফরয হলে গোসল করে পবিত্র হয়ে সা’ঈ করা সুন্নাত। মানাসিক পৃ.১৮০
* সা’ঈর নিয়ত করবে। অর্থাৎ এভাবে বলবে:‘হে আল্লাহ! আমি সা’ঈ করার ইচ্ছা করছি তুমি তা সহজ করে দাও এবং কবূল করে নাও’।
* এরপর তাওয়াফ শুরু করার সময় যেভাবে ইশারার মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা হয়েছিলো সেভাবে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করবে। সা’ঈ শুরু করার পূর্বে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা মুস্তাহাব।মানাসিক পৃ.১৪০
* এরপর মসজিদে হারামের বাবুস সাফা দিয়ে সাফা পাহাড়ে উঠবে। সা’ঈর জন্য সাফা বা মারওয়া পাহাড়ের চুড়ায় উঠার প্রয়োজন নেই; বরং ৭/৮ হাত উপরে উঠাই যথেষ্ট।
সা’ঈর পদ্ধতি
সাফা পাহাড়ে উঠে বাইতুল্লাহমুখী হয়ে দাঁড়াবে। সম্ভব হলে এখান থেকে কাবা শরীফ দেখার চেষ্টা করবে। এরপর দু’আর জন্য হাত উঠাবে। তিনবার তাকবীর ও তাহমীদ পড়বে। তথা আল্লাহু আকবার এবং আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এরপর তাহলীল তথা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও দুরূদ শরীফ পড়ে নিজের জন্য এবং সমস্থ মুসলমানের জন্য দু’আ করবে। এখানে দু’আ কবূল হয়। মানাসিক পৃ. ১৭১-৭২
* সাফা পাহাড়ে চড়ার সময় এ আয়াতটি পড়তে পারেন-
ان الصفا و المروة من شعائر الله فمن حج البيت او اعتمرفلا جناح عليه ان يطوف بهما (সূরা বাকারা:১৫৮)
* এরপর ডান দিকের রাস্তা ধরে স্বাভাবিকভাবে মারওয়া পাহাড়ের দিকে হাটতে শুরু করবে। সাফা-মারওয়ার মাঝে যে স্থানে সবুজ বাতি জ্বলে আছে সেই স্থানে পুরুষদের জন্য খুব দ্রুত হাঁটা মুস্তাহাব। মহিলারা এখানেও স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে। মানাসিক পৃ. ১৭২
* সা’ঈ করার সময় বিশেষত যে স্থানটুকু জুড়ে সবুজ বাতি জ্বলে আছে সেই স্থান অতিক্রম করার সময় সম্ভব হলে এই দু’আ পড়বে-
رب اغفر وارحم, وتجاوزعما تعلم, انك انت الاعزالاكرمমানাসিক পৃ. ১৭২
* মারওয়ায় পৌঁছে কাতারের দাগ দেখে কেবলা নির্ধারণ করে এক কিনারে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াবে। এখানেও হাত তুলে দু’আ করবে। সাফা পাহাড়ে যেসব যিকির বা দু’আ করা হয়েছিলো মারওয়ায়ও সেগুলো করবে। এখানেও দু’আ কবূল হয়। সাফা থেকে মারওয়ায় আসার মাধ্যমে সা’ঈর এক চক্কর পূর্ণ হলো। মানাসিক পৃ. ১৭৩
* মারওয়া থেকে আবার সাফায় গেলে দ্বিতীয় চক্কর পূর্ণ হবে। প্রত্যেক বার সাফা-মারওয়ায় উঠে যিকির ও দু’আ করবে এবং সবুজ বাতিযুক্ত স্থানে দ্রুত হাঁটবে। এভাবে সাত চক্কর পুরা করবে। সপ্তম চক্কর মারওয়ায় শেষ হবে। মানাসিক পৃ. ১৭৩
* সপ্তম চক্কর শেষে মসজিদুল হারামে বা হারামের যে কোনো স্থানে দুই রাকা’আত নফল নামায পড়া মুস্তাহাব। মানাসিক পৃ. ১৮০
* সা’ঈ করার সময় যদি কোনো নামায শুরু হয়ে যায় তাহলে সা’ঈ স্থগিত করে নামাযে শরীক হবে। নামায শেষে যেখানে স্থগিত করা হয়েছিলো সেখান থেকে সা’ঈ শুরু করবে।
* সা’ঈ করার সময় কাঁধ ঢাকা থাকবে। ইহরামের কাপড় বগলের নিচে রাখা যাবে না।
* সা’ঈ করার সময় উযূ ভেঙ্গে গেলে পুনরায় উযূ করা জরুরী নয়। কারণ সা’ঈর জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়।
অভিজ্ঞতা: তাওয়াফের সাত চক্করে যে সাত ধরণের যিকিরের কথা বলা হয়েছিল, সা’ঈর সাত চক্করেও সেগুলো আদায় করতে পারেন। এতে যিকির করাও হবে আবার চক্করের নাম্বারও মনে থাকবে। কোনো ধরণের যিকির না করলেও সা’ঈ সহীহ হবে।
অনেকে সাফা থেকে মারওয়া এবং মারওয়া থেকে সাফা যাওয়াকে এক চক্কর মনে করে, এ ধারণা ভুল। সা’ঈ করার স্থানটা চার তলা। প্রত্যেক তলায়ই সা’ঈ করা যায়। তাই বেশি ভীড়ের মধ্যে সা’ঈ না করে যেখানে ভীড় কম সেখানে সা’ঈ করা ভালো। সা’ঈর স্থানে সাফা পাহাড়সংলগ্ন দক্ষিণ দিকে চলন্ত সিড়ি আছে, সুতরাং তৃতীয় বা চতুর্থ তলায় উঠতেও কোনো কষ্ট হবে না।
উমরার দ্বিতীয় ওয়াজিব: হলক বা তাকসীর
চুল মুন্ডানো বা ছোট করার আলোচনা।
* সা’ঈ করার পর উমরার এ কটি কাজ বাকী থাকে। তা হলো মাথা মুন্ডানো বা চুল ছাঁটা। যাদের চুল এক করের কম আছে তাদের জন্য মাথা মুন্ডানো জরুরী। আর যাদের চুল এক করের বেশি আছে তারা মুন্ডাতে না চাইলে পুরো মাথার কিংবা কমপক্ষে মাথার একচতুর্থাংশের চুল অন্তত এক কর পরিমাণ ছাঁটবে। আর মহিলাদের সমস্থ চুলের অগ্রভাগ থেকে কমপক্ষে এক ইঞ্চি পরিমাণ কাটতে হবে। রদ্দুল মুহতার ২/৫১৫
* চুল ছাঁটা বা মুন্ডানোর সময় কেবলামুখী হয়ে বসা উত্তম এবং যিনি কাটবেন তিনি মাথার ডান পাশ থেকে শুরু করবেন।
অভিজ্ঞতা: যখন দলের কয়েক জনের সা’ঈ শেষ হয়ে যাবে, তখন সেলুনে না গিয়ে একজন অন্যজনের চুল কেটে দিবে। অনেকে মনে করে, প্রথমে একজনের সেলুন থেকে চুল কেটে আসতে হবে অত:পর সে অন্যদের চুল কাটতে পারবে। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। মক্কার বাজারে ১৫০-২০০রিয়ালে চুল কাটার উন্নত মানের মেশিন পাওয়া যায়, একা কিনতে না পারলে কয়েকজনে মিলে একটা কিনে নিবে। মেশিন কিনে বাসায় বসে চুল কাটবে। এতে খরচও বাঁচবে, আর চুল কাটার সুন্নাতও আদায় করা সম্ভব হবে। যেমন: কেবলামুখী হয়ে বসা, ডান দিক থেকে কাটতে শুরু করা। তাছাড়া অন্য ভাইকে ইকরামও করা যাবে।
* চুল কাটা শেষে তামাত্তু হজ্জকারী সম্পূর্ণ হালাল হয়ে যাবে। এখন গোসল করে সেলাই করা কাপড় পরতে পারবে এবং সব ধরণের হালাল কাজ করতে পারবে। তবে হারামের সীমানার মধ্যে যে-সব কাজ নিষেধ তা করতে পারবে না। যেমন: ঝগড়া করা, মারপিট করা, শিকার করা, গাছ কাটা ইত্যাদি। (হারামের সীমানা হলো: কাবা ঘর থেকে পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে নয় মাইল করে।আর উত্তর দিকে তিন মাইল।)মানাসিক পৃ.১৮২
* উমরা শেষে মক্কায় থাকা যায় আবার মদীনায়ও যাওয়া যায়। তবে যারা মক্কায় থাকবে তাদের কিছু করণীয় আছে। যেমন:
১.পুরুষদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায মসজিদে গিয়ে জামা’আতের সাথে আদায় করা।
উল্লেখ্য, মক্কা শহর অনেক আগেই মিনা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে আরাফাকেও মক্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আরাফার বাহিরেও মক্কা শহর সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই মক্কায় আসার পর মিনা, মুযদালিফা ও আরাফায় অবস্থানের দিনসহ মক্কা থেকে বিদায়ের পূর্ব পর্যন্ত যদি কারো ১৫ দিন থাকা হয় তাহলে সে মুকীম বলে গণ্য হবে এবং চার রাকা’আত বিশিষ্ট ফরয নামায চার রাকা’আতই পড়বে।অতএব যদি কেউ মুসাফির ইমামের পিছনে নামায পড়ে তাহলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর নিজে নিজে দুই রাকা’আত পড়ে নিবে।
আর যদি মক্কায় আসার পর মিনা মুজদালিফা ও আরাফা মিলিয়ে ১৫ দিন থাকা না হয় তাহলে, মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুযদালিফায় কসর করবে। অর্থাৎ নিজেরা জামা’আত করলে বা একাকী পড়লে চার রাকা’আত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকা’আত পড়বে। তবে মুকীম ইমামের পিছনে নামায আদায় করলে চার রাকাতই পড়তে হবে। ( মুফতী তকী উসমানীসহ আরো অনেক বড় বড় মুফতীগণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ফাতাওয়াই দিয়ে থাকেন, দ্রষ্টব্য. মাসাইলুল হজ্জ ওয়াল উমরাহ পৃ.১০৭)
২. নামাযের জন্য মহিলাদের মসজিদে না যাওয়া। তারা বাসায় নামায পড়লেই মসজিদে পড়ার চেয়ে বেশি সাওয়াব পাবে। তবে কেউ যদি তাওয়াফের জন্য মসজিদে যায় আর তখন নামায শুরু হয়ে যায়, তাহলে মসজিদেই জামা’আতে শরীক হয়ে যাবে। পুরুষরা নিজ নিজ মহিলাদেরকে তাদের নামাযের জন্য নির্ধারিত স্থানে পাঠিয়ে দেবে। যদি নামাযের আগে তাদেরকে বলে রাখা হয় যে, নামাযের পর আমি অমুক স্থানে থাকবো তুমি ওখানে আসবে, তাহলে নামাযের পর তাদের খুঁজে পেতে কষ্ট হবে না।
৩. প্রত্যেকবার মসজিদে প্রবেশ করা ও বের হওয়ার সময় উভয় ক্ষেত্রের সুন্নাতগুলি আদায় করবে। এসব সুন্নাত মুখস্থ না থাকলে ‘নবীজীর সুন্নাত’ নামক কিতাব থেকে দেখে নিবে।
৪. সকল গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা, বিশেষ করে কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরী।
৫. মহিলাদের বে-পর্দা না হওয়া বিশেষ করে চেহারা খুলে না রাখা। চেহারা খুলে রাখলে নিজেরও গুনাহ হয় অন্য পুরুষদেরকেও গুনাহের কাজে সাহায্য করা হয়। তামাত্তু হজ্জকারী মহিলা উমরার ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পর পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধার আগ পর্যন্ত স্বাভাবিক নেকাব পড়তে পারবে।
৬. টিভি না দেখা।
৭. মোবাইল, ক্যামেরা বা এজাতীয় অন্য কিছু দিয়ে মানুষ কিংবা অন্যকোনো প্রাণীর ছবি না তুলা। ভিডিও ও না করা।
৮. দাড়ি না কাটা। যারা এখনও পর্যন্ত দাড়ি রাখতে পারেনি তারা ঐ পবিত্র স্থানে গিয়ে দাড়ি রাখার পাক্কা নিয়ত করবে। আর ওখানে থাকা অবস্থায় দাড়িতে হাত দেওয়ার চিন্তাও করবে না। দাড়ি পুরুষের পৌরুষ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই। স্ত্রী অপছন্দ করলেও দাড়ি রাখতে হবে। দাড়ি অপছন্দ করার অর্থ হলো নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ত্তয়াসাল্লাম এর সুন্নাতকে অপছন্দ করা। আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ত্তয়াসাল্লাম এর কোনো সুন্নাতকে অপছন্দ করলে ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা আছে।
৮. বেশি-বেশি নফল তাওয়াফ করা। মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বেঁধে নফল উমরাও করা যেতে পারে।
তাওয়াফ ও সা’ঈ সংক্রান্ত মহিলাদের বিশেষ মাসায়েল
* উমরাহ ও হজ্জের সকল কাজ নির্বিঘ্নে করার জন্য ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে এমন ওষুধ সেবন করতে পারবে। তবে এ কারণে যেহেতু শরীরের ক্ষতি হয় তাই এরূপ না করা উত্তম।
* হায়েয ও নেফাস অবস্থায় তাওয়াফ করা নিষেধ। এ অবস্থায় মসজিদে হারামেও প্রবেশ করা যাবে না। তাই ঐ দিনগুলোতে হোটেল বা বাসায় অবস্থান করবে এবং যিকির-আযকার, দু’আ ইত্যাদিতে মশগুল থাকবে। বাজে ও বেহুদা কথাবার্তা থেকে সম্পূর্ণ বেঁচে থাকবে।
* হায়েয অবস্থায় কুরআন মাজীদ দেখে কিংবা মুখস্ত পড়া নিষেধ। তবে তালবিয়াসহ সব ধরণের যিকির-আযকার করা যাবে।
* হায়েয বন্ধকারী ওষুধ সেবন করার পর তা বন্ধ থাকলে হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলোতেও তাওয়াফ করা যাবে।
* ভিড়ের মধ্যে মহিলাগণ নফল তাওয়াফ করতে যাবে না। যখন ভিড় কম থাকে তখন পুরুষ থেকে যথাসম্ভব পৃথক হয়ে তাওয়াফ করবে। অন্যথায় নফল তাওয়াফ করার প্রয়োজন নেই।
* বর্তমানে হাজরে আসওয়াদে পুরুষদের ভিড় লেগেই থাকে। তাই মহিলাদের জন্য সরাসরি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে যাওয়া ঠিক নয়। মনে রাখতে হবে নেকী অর্জন করতে গিয়ে যেন গুনাহ না হয়ে যায়। মানাসিক পৃ.১১৫
* মহিলাদের তাওয়াফে রমল ও ইযতিবা নেই। তাছাড়া মহিলারা এতদ্রুত হাঁটবে না যাতে শরীরের অবকাঠামো ও সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। মানাসিক পৃ.১১৫
* ভিড় থাকলে তাওয়াফের দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামায মাকামে ইবরাহীমের পিছনে পড়ার প্রয়োজন নেই; বরং যেখানে সহজ হয় সেখানেই আদায় করবে। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে নামায পড়াই ভালো। মানাসিক পৃ.১১৫
* মুলতাযামে পুরুষদের ভিড় থাকলে সেখানেও যাবেন না। আজ-কাল সর্বক্ষণ ভিড় লেগেই থাকে সুতরাং মূলতাযামে না যাওয়া উচিত।
* তাওয়াফ করা অবস্থায় হায়েয শুরু হয়ে গেলে তাওয়াফ বন্ধ করে মসজিদের বাইরে (বাসায় বা হোটেলে) চলে যাওয়া জরুরী। সেক্ষেত্রে তিন চক্কর বা তার চেয়ে কম হয়ে থাকলে পবিত্র হওয়ার পর নতুন করে তাওয়াফ শুরু করবে। চার বা চারের অধিক চক্কর হয়ে থাকলে তাওয়াফের ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। তাই পবিত্র হওয়ার পরে বাকীগুলো পুরা করা উত্তম জরুরী নয়। কিতাবুল মাসাইল ৩/৪০৩
* সা’ঈর সময় সবুজ বাতিযুক্ত স্থানে যেখানে পুরুষরা খুব দ্রুত হাঁটে মহিলারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে। মানাসিক পৃ.১১৫
* মহিলারা হায়েয-নেফাস অবস্থায় তাওয়াফ করতে না পারলেও সা’ঈ করতে পারবে। কারণ সা’ঈর জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়। মানাসিক পৃ.১৭৭