16/11/2025
স্বামী-স্ত্রীর মিল ও মুহাব্বাত বৃদ্ধির কিছু সুন্নত
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো ভালোবাসা, দয়া, এবং পারস্পরিক সম্মানের এক অপূর্ব নিদর্শন। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে শান্তি ও সুখের একটি পরিবার গড়ে ওঠে। কুরআন ও হাদিসে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের উন্নতি ও মুহাব্বাত বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সুন্নতি আমলের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, যা তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সমঝোতাকে আরও সুদৃঢ় করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً...
তর্জমা:
“তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা রূম: ২১)
১. পরস্পরের জন্য দোয়া করা:
রাসুলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দোয়া ও কল্যাণ কামনার গুরুত্ব। একে অপরের জন্য দোয়া করলে আল্লাহর রহমত নাজিল হয় এবং সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
২. পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُخْبِرْهُ.
তর্জমা:
“তোমাদের কেউ যদি অন্যকে ভালোবাসে, তবে তাকে তা জানিয়ে দাও।”
(মুসনাদে আহমদ: ১৩৯)
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশ করা সুন্নত। এতে সম্পর্ক মধুর হয় এবং ভুল বোঝাবুঝি কমে যায়।
৩. একে অপরের জন্য সাজ-সজ্জা করা:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন:
إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَتَزَيَّنَ لِلْمَرْأَةِ كَمَا أُحِبُّ أَنْ تَتَزَيَّنَ لِي.
তর্জমা:
“আমি যেমন চাই আমার স্ত্রী আমার জন্য সাজগোজ করুক, তেমনি আমিও তার জন্য সাজগোজ করি।”
(মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২৫৯২৭)
৪. খাবার খাওয়ার সময় একসঙ্গে বসা:
রাসুলুল্লাহ ﷺ স্ত্রীদের সাথে বসে খাওয়ার প্রতি উৎসাহ দিতেন। একসঙ্গে খাবার খেলে মুহাব্বাত বৃদ্ধি পায়। হাদিসে এসেছে, একসঙ্গে খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।
৫. হাসিমুখে কথা বলা ও মিষ্টি ব্যবহার করা:
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ.
তর্জমা:
“তোমার ভাইয়ের মুখে হাসিমুখে কথা বলা সদকা।”
(তিরমিজি: ১৯৫৬)
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাসিমুখে কথা বলা ও মিষ্টি ব্যবহার করলে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে।
৬. মিষ্টি কথা ও প্রশংসা করা:
স্বামী-স্ত্রীর একে
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালবাসা, দয়া, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে বলা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কিছু মূল দিক:
🌸 ১. ভালোবাসা ও স্নেহ
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আল্লাহর নেয়ামত ভেবে ভালোবাসবে।
কথা, ব্যবহার ও আচরণে মমতা থাকা উচিত।
🌸 ২. সম্মান ও মর্যাদা
উভয়েই পরস্পরের সম্মান রক্ষা করবে।
কটু কথা, অপমান বা হেয় প্রতিপন্ন করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
🌸 ৩. ধৈর্য ও সহনশীলতা
মতভেদ হলে ধৈর্য ধরে সমাধান করতে হবে।
রাগ হলে চুপ থাকা উত্তম, পরে শান্তভাবে আলোচনা করা ভালো।
🌸 ৪. দায়িত্ব ও সহযোগিতা
স্বামী সংসারের ভরণ-পোষণ করবে, স্ত্রী গৃহস্থালির যত্ন নেবে।
তবে একে অপরকে সাহায্য করাও বড়ো সওয়াবের কাজ।
🌸 ৫. গোপনীয়তা রক্ষা
স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত কথা অন্য কাউকে বলা হারাম ও গোনাহ।
নিজেদের দাম্পত্য জীবনের সম্মান বজায় রাখা উচিত।
🌸 ৬. একে অপরের প্রতি দয়া ও ক্ষমাশীলতা
ভুল হলে ক্ষমা করা এবং ছোটখাটো ভুলে চোখ বুজে থাকা উত্তম।
কঠোরতা নয়, কোমল ব্যবহার সম্পর্ককে মজবুত করে!