26/07/2026
✈️ থাইল্যান্ড থেকে অন্য দেশে যাচ্ছেন, আবার ফিরবেন? Re-Entry Permit ভিসা কিভাবে নিবেন ?
Bangkok Suvarnabhumi International Airport (BKK) থেকেই ফেরার সময় আপনি চাইলে ইমিগ্রেশনের আগেও এবং ইমিগ্রেশনের পরে যে কোনো টাইমেই আপনি Re-Entry Permit করতে পারবেন। অনেকে মনে করে ইমিগ্রেশনের আগে করা যায় না আবার কেউ মনে করে ইমিগ্রেশন করলে আর করতে পারবেন না। এমনটা ভাবার দরকার নেই ইমিগ্রেশনের আগে বা পরে যে কোনো সময় করা যাবে এবং খরচ পরবে ১২০০ বাথ Single Re-Entry Permit। সেক্ষেত্রে আপনার শুধু পাসপোর্ট নিয়ে গেলেই হবে বাকি কাজ তারা করে দেবে। আর যদি ১০০০ থাই বাতে করতে চান তাহলে আপনাকে TM.8 আবেদনপত্র পূরণ, ৪×৬ সেন্টিমিটার পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। বাকিটা চলুন বিস্তারিত লেখায় পড়ি-
অনেক বাংলাদেশি পর্যটক থাইল্যান্ডকে শুধু একটি গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলো ঘোরার একটি হাব হিসেবে ব্যবহার করেন। যেমন- ঢাকা থেকে ব্যাংকক, তারপর কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম বা মালয়েশিয়া ঘুরে আবার ব্যাংককে ফিরে বাংলাদেশে ফেরা। পরিকল্পনাটা শুনতে যত সহজ, বাস্তবে একটি ছোট ভুলের কারণে পুরো ট্রিপই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। সেই ভুলটির নাম Re-Entry Permit। অনেকেই মনে করেন, থাই ভিসা থাকলেই যতবার খুশি থাইল্যান্ডে ঢোকা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আপনার ভিসার ধরন এবং থাকার অনুমতির ওপর নির্ভর করে দেশ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনুমতি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই আপনি যদি থাইল্যান্ড ভ্রমণের পাশাপাশি আশপাশের আরও এক বা একাধিক দেশ ঘোরার পরিকল্পনা করেন, তাহলে Re-Entry Permit সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণকারীদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় রুট হলো- থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম কিংবা মালয়েশিয়া একসঙ্গে ঘুরে দেখা। অনেকেই ব্যাংককে কয়েকদিন থেকে সড়কপথ বা বিমানে অন্য দেশে যান এবং পরে আবার থাইল্যান্ডে ফিরে এসে দেশে ফেরেন। কিন্তু এখানেই অনেকের ভুল হয়। তারা মনে করেন, ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকবে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনুমতির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। ফলে আবার প্রবেশ করতে গেলে নতুন ভিসা বা নতুন Entry Permission-এর প্রয়োজন হতে পারে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, Re-Entry Permit হলো এমন একটি অনুমতি, যা আপনার বর্তমান থাই ভিসা বা Permission to Stay-কে থাইল্যান্ডের বাইরে গিয়েও বৈধ রাখে। অর্থাৎ, আপনি সাময়িকভাবে অন্য দেশে ঘুরে আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থাইল্যান্ডে ফিরলে আগের অনুমতিটিই ব্যবহার করতে পারবেন। এটি নতুন ভিসা নয়; বরং আপনার বিদ্যমান থাকার অনুমতিকে সংরক্ষণ করার একটি ব্যবস্থা।
তবে এখানে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে সব ভিসাধারীর জন্য Re-Entry Permit বাধ্যতামূলক নয়। এটি মূলত নির্ভর করে আপনার ভিসার ধরন এবং ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া থাকার অনুমতির ওপর। তাই ভ্রমণের আগে নিজের ভিসার শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেয়া এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থাই ইমিগ্রেশন বা দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
Re-Entry Permit সাধারণত দুই ধরনের হয়। Single Re-Entry Permit এবং Multiple Re-Entry Permit। যদি আপনি শুধুমাত্র একবার থাইল্যান্ড ছেড়ে আবার একবার ফিরে আসেন, তাহলে Single Re-Entry Permit-ই যথেষ্ট। কিন্তু যদি একই ট্রিপে দুই বা তার বেশি বার থাইল্যান্ডের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে Multiple Re-Entry Permit নেওয়া বেশি সুবিধাজনক। ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক অপশন বেছে নিলে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা ও অতিরিক্ত খরচদুটিই এড়ানো যায়।
অনেকেই মনে করেন, Re-Entry Permit করার জন্য অবশ্যই ব্যাংককের ইমিগ্রেশন অফিসে যেতে হবে। বাস্তবে বিষয়টি আরও সহজ। আপনি চাইলে Bangkok Suvarnabhumi International Airport (BKK) থেকেই যাত্রার দিন Re-Entry Permit সংগ্রহ করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চেক-ইন সম্পন্ন করার পর, Security Check পার হয়ে কিন্তু Passport Control-এর আগে, Departure Hall 2-এর ইমিগ্রেশন এলাকায় Re-Entry Permit Counter রয়েছে। এস্কেলেটর দিয়ে নিচে নেমে ডান পাশে গেলেই কাউন্টারটি দেখতে পাবেন। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, এই কাউন্টার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তবে ফ্লাইট ধরার তাড়াহুড়ো এড়াতে অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিত।
বর্তমানে সরকারি ফি Single Re-Entry Permit-এর জন্য ১,০০০ থাই বাত এবং Multiple Re-Entry Permit-এর জন্য ৩,৮০০ থাই বাত। যদি আগে থেকেই TM.8 আবেদনপত্র পূরণ করা থাকে, ৪×৬ সেন্টিমিটার পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যান, তাহলে শুধু সরকারি ফিই দিতে হবে। তবে বিমানবন্দরে ছবি তোলা বা ফর্ম পূরণের সহায়তা নিলে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ থাই বাত সার্ভিস চার্জ লাগে। তাই সম্ভব হলে আগে থেকেই সব কাগজপত্র প্রস্তুত করে নেয়াই সবচেয়ে ভালো।
Re-Entry Permit করার সময় সাধারণত সঙ্গে রাখতে হবে আপনার পাসপোর্ট, পূরণ করা TM.8 আবেদনপত্র, একটি ৪×৬ সেমি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং সরকারি ফি পরিশোধের জন্য থাই বাত। অনেক সময় কাউন্টারে শুধুমাত্র ক্যাশ গ্রহণ করা হয়, তাই আগে থেকেই কিছু থাই বাত সঙ্গে রাখাই নিরাপদ।
আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় একটি পরামর্শ দিই, যদি আপনার থাইল্যান্ড ভ্রমণের সঙ্গে কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সফর যুক্ত থাকে, তাহলে টিকিট বুক করার আগেই নিজের ভিসার ধরন এবং প্রবেশের শর্ত যাচাই করে নিন। কারণ বিমানবন্দরে পৌঁছে বুঝতে পারা যে আপনার Re-Entry Permit লাগবে, সেটি ভ্রমণের সবচেয়ে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত খরচ, সময় নষ্ট, এমনকি পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনাও পরিবর্তন করতে হয়।
ভ্রমণের আনন্দ শুধু সুন্দর গন্তব্যে নয়, বরং ঝামেলামুক্ত যাত্রাতেও। আর সেই ঝামেলামুক্ত ভ্রমণের জন্য ছোট ছোট নিয়মগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Re-Entry Permit হয়তো খুব বড় কোনো বিষয় মনে হবে না, কিন্তু সঠিক সময়ে এটি আপনার পুরো ট্রিপকে সহজ করে দিতে পারে। তাই আপনি যদি থাইল্যান্ডকে কেন্দ্র করে একাধিক দেশ ঘোরার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে এই বিষয়টি কখনোই অবহেলা করবেন না। একটু সচেতনতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলেই আপনার পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভ্রমণ হবে আরও নিশ্চিন্ত, আরও উপভোগ্য। ✈️🧳
# copy paste