তৌহিন হাসান

তৌহিন হাসান Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from তৌহিন হাসান, Mohammadpur, Dhaka.

যা যা দেখি এবং শুনি, যা আমাকে ভাবায় এবং মগজে প্রশ্ন তৈরি করে- সেইসব আমি লিখি গল্পের ভাষায়, কখনো কখনো কবিতায়। আপনি পাঠক, যেকোনো লেখা পড়ে আপনার সমালোচনা জানাতে পারেন নির্দ্বিধায়... ভালো হোক, কিংবা মন্দ। পরিচয়ে লেখক এবং চিত্রশিল্পী। জন্ম শরীয়তপুর জেলায়। বাবার সরকারি চাকরিসূত্রে ছোটবেলা থেকে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের নানা অঞ্চল। পরবর্তী কর্মজীবনের ছোট ছোট অবসরে, ঘুরেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে। বর্তমানে

বাস করছেন ঢাকায়।
পড়াশোনায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন চারুকলা অনুষদ থেকে, ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগে।
কর্মজীবনের নানা সময়ে, নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন নানা বৈচিত্র্যময় পেশায়। কাজ করেছেন সংবাদপত্রে ও বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। দীর্ঘ সময় লিখেছেন টেলিভিশন নাটক। লিখেছেন বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন ও জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীতে। চিত্রশিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শনীতে।
শিল্পের নানা শাখায় পেয়েছেন কাজের স্বীকৃতি ও পুরস্কার।

প্রকাশিত বই
নজরুলের পত্রাবলী: বিবিধ প্রসঙ্গ (গবেষণা), ২০০১
রাষ্ট্রের ঘুণপোকা ও বিবিধ ঝিঁ ঝিঁ (গল্প), ২০০৬
উড়ালপঙ্খী (উপন্যাস), ২০২১

রাত বেশি হয়নি। শিবনারায়ণ পোদ্দার এবং রোবায়েত হাসান প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বারে এসে একত্রিত হন। আড্ডা দেন, মাঝরাত ...
25/03/2025

রাত বেশি হয়নি। শিবনারায়ণ পোদ্দার এবং রোবায়েত হাসান প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বারে এসে একত্রিত হন। আড্ডা দেন, মাঝরাত অবধি দুজন হুইস্কি পান করেন। কারণ, পরদিন শুক্রবার ছুটির দিন। সাপ্তাহিক এই আড্ডা তাদের বহু বছরের পুরানো অভ্যাস। হুইস্কি খেয়ে মাতাল হতে হতে তারা যে তর্কে-বিতর্কে কথা-কাটাকাটি করেন না- এমন না। কখনো কখনো মৃদু হাতাহাতিও হয়। এমনকি, মতের অমিল হলে, আধা গ্লাস হুইস্কি টেবিলে রেখে কাউকে রাগ করে উঠে চলে যেতেও দেখা যায় মাঝে মাঝে। বহুদিনের পুরানো অভ্যাসের কারণে, বর্তমানে এসব গা সওয়া হয়ে গেছে। পরদিন সকালে আবার সব ঠিকঠাক হয়ে যায় তাদের মধ্যে অথবা তারা সেসব কথা-কাটাকাটি আর মনে রাখেন না, কিংবা তাদের মনেই থাকে না আগের রাতে কী কী ঘটেছিল বারের টেবিলে। পরের বৃহস্পতিবার আবার তারা হাসিমুখে একত্রিত হন- একই সময়ে, একই বারে, একই টেবিলে। কারণ, তারা দুজন ভালো বন্ধু।

-‘বুঝলেন ভাই, সব হচ্ছে পুঁজিবাদের ফল,’ সামান্য দুলে দুলে বললেন শিবনারায়ণ পোদ্দার, ‘মানুষ কখনোই মানবিক ছিল না। আদিকাল থেকেই মানুষ পুঁজিবাদী। দিনশেষে মানুষ একটা জিনিসই অর্জন করতে চায়- তা হলো প্রফিট।’ কুণ্ডলি পাকিয়ে ধীরে ধীরে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়লেন তিনি।

-‘তাই বলে ওষুদে ভেজাল মেশাবে? শেম! শেম!’ ধিক্কারের সুরে মাথা নেড়ে বললেন রোবায়েত হাসান।

-‘ওষুদে ভেজাল মেশায় কিনা জানি না। তবে কোম্পানিগুলো চায়, এ রোগের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষেধক আবিস্কার না হোক।’

-‘ধুরো মশাই। তাহলে ওষুদ বানায় কেন?’

-‘ব্যবসার জন্য। যত বেশি রোগ- তত বেশি বিনিয়োগ, তত বেশি ওষুদের উৎপাদন, তত বেশি প্রফিট। বুঝলেন ভাই, ডারউইনের সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট তত্ত্ব এখন আর প্রযোজ্য নেই,’ গ্লাসের বাকি অর্ধেক হুইস্কি গলায় ঢেলে বললেন শিবনারায়ণ পোদ্দার, ‘এক সময় মানুষ টিকে থাকার জন্য প্রকৃতিতে লড়াই করত। মানুষ শেষতক টিকে গেছে। এখন মানুষের লড়াই ক্যাপিটাল এন্ড প্রফিটের জন্য। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সবাই তার নিজ নিজ প্রফিটের জন্য ইনভেস্ট করে, পুঁজি তৈরি করে। আমাদের কথাই ধরুন। আমরা সন্তান উৎপাদন করি কিন্তু নিজেদের প্রফিটের কথা চিন্তা করেই। এখানে সন্তান হচ্ছে পুঁজি, সন্তানকে বড় করতে আমরা বিনিয়োগ করি, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে আমরা তার প্রফিট ঠিকই আদায় করে নিই। একটা কথা এখানে মনে রাখবেন, পুঁজি মানেই কিন্তু অর্থ না- মনের আবেগ, ভালোবাসা, স্নেহও এক ধরণের পুঁজি।’
---
'সামাজিক ভাইরাস' গল্প থেকে অংশবিশেষ
গল্পগ্রন্থ : পুঁজিবাদী বিড়াল
প্রকাশক : পুণ্ড্র প্রকাশন
---
অনলাইনে বইটি পাওয়া যাবে
https://www.rokomari.com/book/457618/pujibadi-biral

বাসরঘরের আয়োজনটা তিমিরের পছন্দ হয়নি। প্রথাগত যে-কোনো সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা এমনিতেই তিমিরের ভালো লাগে না। আর বিয়ের ব্যাপার...
23/03/2025

বাসরঘরের আয়োজনটা তিমিরের পছন্দ হয়নি। প্রথাগত যে-কোনো সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা এমনিতেই তিমিরের ভালো লাগে না। আর বিয়ের ব্যাপারে কিছু রীতি তো তিমিরের কাছে অসহ্যকর মনে হয়। যেমন বিয়ের আগে কনে দেখার যে সামাজিক রীতিগুলো, তিমিরের কাছে খুব ঘিনঘিনে লাগত। তেমনি বাসরঘরের প্রথাটাও। বিয়ের আগে পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে একটা মেয়েকে দেখার পর যে-কোনো পুরুষের যে-কোনো কারণে পছন্দ নাও হতে পারে। পছন্দ খুবই আপেক্ষিক বিষয়। তখন মেয়ের পরিবারকে সরাসরি ‘মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়নি ভাইসাহেব’-জানিয়ে দেওয়াটা যে একটা মেয়ের জন্য কী লজ্জা, অপমান ও অসম্মানের-তিমিরের ভাবতেই গা গুলিয়ে উঠত। ফলে এ কাজটা তিমিরের পক্ষে কখনোই করা সম্ভব ছিল না। ফলে মায়ের করুণ চাপাচাপিতেও সে কখনও বিয়ের পাত্রী দেখতে যায়নি। জীবনটা তার। সে কীভাবে জীবনটাকে সাজাবে, কাকে নিয়ে সাজাবে-এটা নিতান্তই তার অভিরুচি। এসব নিয়ে অনেক আগে মায়ের সঙ্গে তার খুব কথা কাটাকাটি হতো। এখন অবশ্য সেসব পাট চুকে গেছে। আজকের বাসরঘর তিমিরের কাছে একটা হাস্যকর আয়োজন মনে হলো। আদি সমাজব্যবস্থা থেকে এই ‘বাসররাত-বাসরঘর’ রীতির উদ্দেশ্য ছিল একটাইÑসমাজকে জানিয়ে দেওয়া যে, আজ এই ঘরে আমাদের প্রথম শারীরিক বৈধ মিলনের রাত। তাই ফুল ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজাও পালঙ্ক, সাজাও ঘর-কী ভীষণ অশ্লীল একটা রীতি, মনে হতো তিমিরের কাছে। তাই তাদের নিয়ে সায়মার সাজানো বাসরঘরে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তিমির। সে পঙ্খীকে নিয়ে ওই ঘরে আজ রাতযাপন করতে পারবে না, অন্তত নিজের কাছে এতটা রুচিহীন হতে পারবে না সে। তাই সে রাশেদকে বলেছিল ছাদে একটা পাটি বিছিয়ে রাতে তাদের দুজনের থাকার আয়োজন করে দিতে।

-সারারাত ছাদে কাটাবি? তাও আজকের রাতে?
তিমিরের কথা শুনে রাশেদের মুখ হাঁ হয়ে গিয়েছিল।
-হুম। কাটাব। কোনো সমস্যা?
-না সমস্যা না। থাকা যাবে। কিন্তু সায়মা যে বাসরঘর সাজাল তোদের জন্য?
-ওঘরে আমি যে থাকব না, সেটা তোর বোঝা উচিত ছিল। বরং তোরাই আজ থাক ওই ঘরে।
-ও। বুঝতে পেরেছি। আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি ছাদে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
-তা ছাড়া আজ পূর্ণিমা। জানতিস এটা?
-না তো।

তিমির শুধু রাশেদের মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হেসেছিল।

পঙ্খী অবাক হয়ে শুধু ভাবছিল, আজ রাতে পূর্ণিমা নাকি? সে এরকম বিশেষ দিনগুলো মনে রাখতে পারে না। কিন্তু তিমির বিশেষ বিশেষ দিনগুলো কীভাবে যেন খেয়াল রাখত। আর সেসব দিনে একটা করে কবিতা পোস্ট করত ফেসবুকের ওয়ালে। আজ কিছু লেখেনি সে?-না মনে হয়, পঙ্খীর সেরকম মনে হলো। খুব ব্যস্ত একটা দিন কেটেছে আজ। কিছু লেখার মতো সময় পাওয়ার কথা না। হয়ত পরে লিখবে। তিমিরের হঠাৎ করে বিয়ের প্রস্তাবে সে গতকাল বুঝতেই পারেনি, তিমির তাকে সত্যিকারে বিয়ে করার কথা বলেছিল কি না। সে জানত, তিমির মাঝে মাঝে খুব উদ্ভট ধরনের কথা বলে। সেসব কথা পঙ্খী খুব একটা বুঝত না, শুধু শুনে যেত। কিন্তু কাল তিমিরের বিয়ে করতে চাওয়া তার কাছে উদ্ভট মনে হয়নি। তাই সে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল। তারপর একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিল সে। তিমির যে তাকে বিয়ে করতে চাইতে পারে-এটা পঙ্খীর কল্পনায় ছিল না কখনও। সে নিজে কখনও তিমিরকে বিয়ে করতে চাইতে পারত না-সেরকম মানসিক ক্ষমতা পঙ্খীর নেই। যেমন ফরহাদকে সে কোনোদিন চাইতে পারেনি, সুমন্তকেও না। ওরাও পঙ্খীকে চায়নি কখনও, শুধু চেয়েছিল তিমির। তাই পঙ্খী আর বেশি কিছু ভাবেনি তখন। সে শুধু একটা বিষয়ই ভেবেছিল-তার মুক্তি দরকার, ভীষণ দরকার। যে-কোনো শর্তেই হোক, তার মুক্তি চাই।
---
উপন্যাস থেকে অংশবিশেষ
উপন্যাস : উড়ালপঙ্খী
প্রকাশক: পেন্সিল পাবলিকেশনস
---
অনলাইনে বইটি পাওয়া যাবে
https://www.rokomari.com/book/212961/uralpongkhi

উড়ালপঙ্খীধরণ: উপন্যাসপ্রকাশক: পেন্সিল পাবলিকেশনসপ্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০২১অনলাইনে অর্ডার করা যাবেhttps://www.rokomari....
23/03/2025

উড়ালপঙ্খী
ধরণ: উপন্যাস
প্রকাশক: পেন্সিল পাবলিকেশনস
প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০২১
অনলাইনে অর্ডার করা যাবে
https://www.rokomari.com/book/212961/uralpongkhi

পঙ্খী দুপুরে খাবারের পর, বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফেসবুক লগইন করতেই তিমিরের একটা পোস্ট চোখে পড়ল। একটা কবিতা,আমি এসেছি নক্ষত্রের...
22/03/2025

পঙ্খী দুপুরে খাবারের পর, বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফেসবুক লগইন করতেই তিমিরের একটা পোস্ট চোখে পড়ল। একটা কবিতা,

আমি এসেছি নক্ষত্রের দেশ থেকে, আলোকপুঞ্জ পেরিয়ে
নীহারিকা, এন্ড্রোমিডা কিংবা কোনো এক কৃষ্ণগহ্বর,
আমি ক্লান্ত নই-সতেজ, মগজে সহস্র কোটি হুল্লোড়
হাতের আয়ুরেখায় লিখে চলি কেবল কাল বোশেখি ঝড়।
তোমাকে দেখি, তোমাদের। ফিরে এসো আমাদের মাঝে
শতকোটি হাত বদলে দিয়ে রাঙাতে পারি জীবন রঙিন,
তোমার চোখে দেখিনি কখনও প্রেম, দেখেছি কেবল বিপ্লব
তুমি-আমি মিলে হবে নতুন পৃথিবী, বদলে যাওয়া দিন।

পঙ্খীর কবিতা পড়তে ভালো লাগে-এমন না। কিন্তু তিমিরের লেখা কবিতাগুলো অন্য রকম লাগে পঙ্খীর কাছে। পড়তে ভালো লাগে। সেখানে তুমি-আমি ধরনের প্রেমের ন্যাকামি নেই। তিমির যেন কবিতায় কিছু একটা বলতে চায়। ঠিক কী বলতে চায়-পঙ্খী প্রায় সময় ধরতে পারে না। কিন্তু তার পড়তে ভালো লাগে-এটুকুই। তিমির তার ফেসবুক ওয়ালে কবিতা ছাড়া অন্য কিছু পোস্ট করে না। প্রথম প্রথম কবিতাগুলো পঙ্খীর চোখ এড়িয়ে গেলেও এখন সবসময় তিমিরের লেখাগুলো চোখে পড়ে। কিংবা কে জানে, পঙ্খী হয়ত তিমিরের লেখা পড়ার জন্যই মনে মনে অপেক্ষা করে থাকে ফেসবুকে। মাঝে মাঝে পঙ্খী ভাবত, তিমির চাইলে আরেকটু সহজ করেও লিখতে পারে। তাহলে পঙ্খী অনেক লেখাই বুঝতে পারত। কিন্তু সে কথা তিমিরকে কখনোই সে জানায়নি। পঙ্খীর শুধু ফেসবুকে লেখা পড়তেই ভালো লাগে, কাউকে জ্ঞান দিতে ভালো লাগে না।
---
উপন্যাস থেকে অংশবিশেষ
উপন্যাস : উড়ালপঙ্খী
প্রকাশক: পেন্সিল পাবলিকেশনস
---
অনলাইনে বইটি পাওয়া যাবে
https://www.rokomari.com/book/212961/uralpongkhi

-‘শুনলাম, এ বছর সরকার নাকি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কম দামে আলু কিনে গুদামজাত করবে।’ বললেন বাজারের বণিক মালিক সমিতির নেতা ...
20/03/2025

-‘শুনলাম, এ বছর সরকার নাকি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কম দামে আলু কিনে গুদামজাত করবে।’ বললেন বাজারের বণিক মালিক সমিতির নেতা মাহতাব মিয়া।

মাঝরাতে গুদামঘর লাগোয়া অফিসরুমে, টেবিলের উপর রাখা চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উড়ছিল। গুদামঘরের বাইরে সারি সারি ট্রাক থেকে খালাস হচ্ছিল দেশের নানা জেলা থেকে আসা নানা রকম পণ্য। ছেলে-ছোকরা-যুবক খালাসীদের হৈ-হট্টগোল শুনতে শুনতে চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিলেন মাহতাব মিয়া।

-‘কোথা থেকে শুনলেন?’ জানতে চাইলেন আনোয়ার পাঠান।

-‘মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হচ্ছিল। গতবছর বাজারে আলুর দাম বেড়ে গিয়েছিল অনেক। পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল, মনে আছে নিশ্চয়ই?’

-‘তা মনে আছে। কিন্তু বাজার চালায় কারা? আমরা না মন্ত্রণালয়?’ আনোয়ার পাঠান বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘তারা চালাবে দেশ। আমাদের ব্যবসা করতে না দিলে তো বাজারও ঠিক থাকবে না-দেশও চলবে না।’

মাহতাব মিয়া মাথা নেড়ে সায় দিলেন এবং বললেন, ‘সচিব সাহেবের তৎপরতাই বেশি মনে হচ্ছিল। উনিই মন্ত্রীকে প্রায়সময় নানা বিষয়ে উস্কে দেন। এর মধ্যে বলা শুরু করেছেন, আলু নাকি গরীবের খাদ্য। এর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের দায়িত্ব- পত্রিকায় সেই খবর বেরিয়েছে।’

-‘আমি পত্রিকা-টত্রিকা পড়ি না।’ মাছি তাড়ানোর মতো হাত নেড়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললেন আনোয়ার পাঠান।

-‘তাছাড়া আলুর বাম্পার ফলন নিয়েও নিউজ করেছে কয়েকটি পত্রিকা।’ মাহতাব মিয়া তথ্য যোগ করলেন।

-‘পত্রিকার কথা ছাড়ুন। আসল ঘটনা হলো টাকা। সেটা ম্যানেজ করে ফেলব, দেখে নিয়েন। কোথায়, কীভাবে, কী দিয়ে ব্যবসা করতে হয়, তা আমি ভালোই জানি।’ মুখ খানিকটা বিকৃত করে বললেন আনোয়ার হোসেন।

কিন্তু, মনে মনে তিনি এ বছরের আলুর উৎপাদন নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছিলেন। কী পরিমাণ আলু মজুত করলে তার মুনাফার অংশ কাটায় কাটায় পূর্ণ হবে, তার হিসাবটা বেশ জটিল। আবার বেশিদিন আলু স্টোরেজে রাখতে গেলে খরচ বেড়ে গিয়ে মুনাফায় ভাটা পড়তে পারে। তার আগে, এ বছরের আলুর মোট উদপাদন জানা খুব জরুরি। দেশে মোট চাহিদা আর বাজারে তার যোগান, মাঝে একটা শূন্যস্থান তৈরি করতে না পারলে, আনোয়ার পাঠানের আলুর ব্যবসায় মুনাফা কমে যাবে। আবার শূন্যস্থান বেশি বড় হয়ে গেলে সরকার শুল্ক কমিয়ে দিয়ে অন্য দেশ থেকে আলু আমদানীর অনুমতি দিয়ে দিতে পারে। তখন কম দামে মজুদ খালি করা ছাড়া তার উপায় থাকবে না। হিসাবটা বেশ জটিল। বাইরের অন্ধকারে, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে আলোয় ট্রাকগুলো দেখতে দেখতে আপনমনে ঠোঁট কামড়াতে লাগলেন আনোয়ার পাঠান।
---
'পুঁজিবাদী বিড়াল' গল্প থেকে অংশবিশেষ
গল্পগ্রন্থ : পুঁজিবাদী বিড়াল
প্রকাশক : পুণ্ড্র প্রকাশন
---
অনলাইনে বইটি পাওয়া যাবে
https://www.rokomari.com/book/457618/pujibadi-biral

-‘বিড়াল হারিয়ে গেছে? কিভাবে?’ পুলিশ অফিসার সরু চোখে নিজাম উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন।-‘সেটা জানলে তো থানায় আসতাম ...
19/03/2025

-‘বিড়াল হারিয়ে গেছে? কিভাবে?’ পুলিশ অফিসার সরু চোখে নিজাম উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন।

-‘সেটা জানলে তো থানায় আসতাম না আমরা।’ নিজাম উদ্দিন বিরক্তি নিয়ে উত্তর দিলেন।

-‘হু।’ পুলিশ অফিসার মাথা ঝাঁকালেন। বললেন, ‘তা ঠিক! আমরা এখন কি করতে পারি আপনার জন্য?’

-‘পুলিশের যেটা কাজ, সেটা করবেন। বিড়াল খুঁজে বের করবেন।’ নিজাম উদ্দিন গজগজ করতে করতে বললেন।

আয়শা খাতুনের দুই চোখের লালচে ভাব তখনো কমেনি, বরং কাঁদতে কাঁদতে চোখ দুটো অনেকটাই ফুলে গেছে তার। তিনি পুলিশ অফিসারকে কাঁদো কাঁদো চোখে বললেন,

-‘কিটি আমার সন্তান। বিশ্বাস করুন অফিসার, মাই পিওর চাইল্ড। যেভাবে পারুন, আমার কিটিকে খুঁজে বের করুন প্লিজ।’

পুলিশ অফিসার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। নাকের ওপর মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে হাত নাড়িয়ে বললেন,

-‘বুঝতে পারছি, খুব শখের পোষা বিড়াল।’

-‘আপনি এভাবে বলতে পারেন না অফিসার। আমার স্ত্রী তো বলল, ও আমাদের সন্তান, নট অ্যা পেট।’ নিজাম উদ্দিন কিছুটা রেগে প্রতিবাদ জানালেন।

-‘আমি দুঃখিত নিজাম সাহেব,’ আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন পুলিশ অফিসার এবং একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে বললেন, ‘এই ছোট দেশের জনসংখ্যা কত জানেন? প্রতিদিন কত মানুষ এ দেশে নিখোঁজ হয়, খুন হয়, খুঁজে পাওয়া যায় না-তার কোনো সঠিক তথ্য আমাদের হাতে নেই। এসব খুঁজতে খুঁজতে আমাদের কত যে হিমশিম খেতে হয়, কোনো ধারণা আছে আপনাদের?’ পুলিশ অফিসার একটু দম নিয়ে হাতের ইশারায় আরেকজন অধস্তন অফিসারের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন,

-‘ওখান যান, আপনাদের বিড়াল বা আপনাদের সন্তান-যাই বলুন না কেন, একটা হারিয়ে যাওয়ার জিডি করুন। এরপর দেখি আমরা কি করতে পারি।’ পুলিশ অফিসার তার টেবিলে থাকা ফাইলের স্তুপ থেকে একটা ফাইল নিজের কাছে টেনে নিয়ে পাতা ওল্টাতে লাগলেন। কিন্তু মন দিতে পারলেন না, তার আগেই নিজাম উদ্দিন বলে উঠলেন,

-‘আপনি বোধহয় আন্দাজ করতে পারছেন না অফিসার, কিটি, আই মিন এই বিড়ালের দাম কত? তার পিছনে আমরা প্রতি মাসে কত খরচ করি!’
পুলিশ অফিসার ফাইল ওল্টানো বন্ধ করলেন এবং নিচের ঠোঁট কিছুক্ষণ কামড়ালেন। তারপর চোখ দুটো ভীষণ সরু করে, নিজাম উদ্দিনের দিকে মুখটা সামান্য বাড়িয়ে জানতে চাইলেন,

-‘একটা মানুষের জীবনের চাইতেও বেশি?’

প্রশ্নটা শুনে নিজাম-আয়শা দম্পতি একটু থমকে গেলেন এবং একবার নিজেরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলেন।

-‘না। আমি আসলে সেরকম কিছু মিন করিনি।’ বিব্রত চেহারায় উত্তর দিলেন নিজাম উদ্দিন।

-‘শুনুন নিজাম সাহেব। বিভিন্ন সময় পোষা বিড়াল-কুকুর হারানোর অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। ইদানিং বোধহয় একটু বেশিই আসছে। গত মাসে এসেছে চারটি, এ মাসে আপনিসহ দুটো, তার আগের মাসে এসেছিল ছয়টি। কে বা কারা চুরি করে, কেন চুরি করে-আমাদের ঠিক জানা নেই।’

আয়শা খাতুন একটু চঞ্চল হয়ে উঠলেন। বললেন, ‘খুঁজে পেয়েছিলেন ওদের?’

পুলিশ অফিসার মাথা নাড়লেন, ‘না।’

আয়শা খাতুনের মুখটা সঙ্গে সঙ্গে বিষন্ন হয়ে গেল।

পুলিশ অফিসার নিজাম উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনি নামী-দামী ব্যবসায়ী মানুষ। বুঝতে পেরেছি, আপনার কিটির অনেক দাম, মানে অনেক মূল্যবান বিড়াল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব খুঁজে বের করার। আপনি প্লিজ একটা জিডি করে আপাতত বাসায় যান।’
---
'পুঁজিবাদী বিড়াল' গল্প থেকে অংশবিশেষ
গল্পগ্রন্থ : পুঁজিবাদী বিড়াল
প্রকাশক : পুণ্ড্র প্রকাশন
---
অনলাইনে বইটি পাওয়া যাবে
https://www.rokomari.com/book/457618/pujibadi-biral

চতুর্থ দফার হুইস্কির গ্লাস শেষ করে পঞ্চম গ্লাস হাতে নিয়ে শ্যামল দত্ত বললেন, ‘বিজনেসের মূল সূত্র কি জানেন নিজাম বাবু? মেথ...
19/03/2025

চতুর্থ দফার হুইস্কির গ্লাস শেষ করে পঞ্চম গ্লাস হাতে নিয়ে শ্যামল দত্ত বললেন, ‘বিজনেসের মূল সূত্র কি জানেন নিজাম বাবু? মেথড অব প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন।’

-‘তা তো বটেই। সেটা আপনার চেয়ে আর কে বেশি জানে!’ বিগলিতভাবে একটু হাসলেন নিজাম উদ্দিন।

-‘এনাদার রুলস ইজ, মোর ইনভেস্টমেন্ট মেকস্ মোর প্রফিট।’ পুরো গ্লাস এক ঢোকে গলায় ঢেলে বললেন শ্যামল দত্ত। তারপর ভুরু দুটো কুঁচকে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, ‘গার্মেন্টের কর্মীরা নাকি বেতন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছে?’

-‘সে তেমন কিছু নয়। আমি সামলে নিবো।’ নিজাম উদ্দিন আশ্বাস দিলেন।

-‘দেরী করবেন না মশাই। শ্রমিকের বেতন বাড়াতে গেলে প্রফিটে টান পড়ে যাবে। সেটা করা যাবে না। কিছু পয়সা ঢেলে পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ঠান্ডা করে দিন।’

-‘সে আমি দেখব দাদা। আপনি নিশ্চন্ত থাকুন।’

শ্যামল দত্তের গলা একটু একটু করে ভারি হয়ে আসছিল, জিহ্বায় জড়িয়ে যাচ্ছিল কথা। হাঁসের মতো ফ্যাসফ্যাসে গলায় কথা বলছিলেন তিনি। চোখ দুটো ঘোলা হয়ে গেছে অনেক আগেই। তবুও নিজাম উদ্দিনের আশ্বাসে তিনি নিশ্চিন্ত হলেন এবং চোখ দুটো বন্ধ করে আপনমনে কিছুক্ষণ দুললেন। তারপর শরীরের দুলুনি থামিয়ে নিজাম উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে, একটু চোখ নাচিয়ে বললেন,

-‘শুনুন নিজাম বাবু, কুকুর পুষুন। খুব কাজের প্রাণী। আদরও পাবেন, আবার হিং¯্রতাও দেখাতে পারবেন। সমাজের মানুষ আপনাকে সমীহ করবে। তাই না ডালিং?’ শ্যামল দত্ত ঘোলা চোখে তাকালেন স্ত্রী শ্রাবণী দত্তের দিকে।

মিসেস দত্তের কোলে টাইগার ততক্ষণ পর্যন্ত বেশ আরামে শুয়ে ছিল। শ্যামল দত্তের ঘোলা চোখের দিকে চোখ পড়তেই, টাইগার এক ঝটকায় মাথা তুলে উঠে বসল এবং ডাক ছাড়ল, ‘ঘেউ ঘেউ’।
শ্যামল দত্তের কথায় সায় দিল কিনা, কে জানে!
---
'পুঁজিবাদী বিড়াল' গল্প থেকে অংশবিশেষ
গল্পগ্রন্থ : পুঁজিবাদী বিড়াল
প্রকাশক : পুণ্ড্র প্রকাশন
---
অনলাইনে বইটি পাওয়া যাবে
https://www.rokomari.com/book/457618/pujibadi-biral

একুশে বইমেলা ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছেতৌহিন হাসানের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'পুঁজিবাদী বিড়াল'প্রকাশ করেছে পুণ্ড্র প্রকাশনবইটি অনল...
18/03/2025

একুশে বইমেলা ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছে
তৌহিন হাসানের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'পুঁজিবাদী বিড়াল'
প্রকাশ করেছে পুণ্ড্র প্রকাশন
বইটি অনলাইনে অর্ডার করা যাবে
https://www.rokomari.com/book/457618/pujibadi-biral

শহরে আসার পর, আব্দুল বাতেনের কাছে মরিয়ম শুধু একটা আবদারই করেছিলেন, একটা টেলিভিশন। বিষয়টা যে আব্দুল মতিনের মাথায় ছিল না- ...
17/03/2025

শহরে আসার পর, আব্দুল বাতেনের কাছে মরিয়ম শুধু একটা আবদারই করেছিলেন, একটা টেলিভিশন। বিষয়টা যে আব্দুল মতিনের মাথায় ছিল না- এমন নয়। তিনি সারাদিন থাকেন অফিসে, ফেরেন রাত করে। কখনো কখনো বেশি রাতও হয়। বাসায় একা একা সময় কাটানোর জন্য তেমন কিছু ছিল না মরিয়মের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট টাকা সঞ্চয়ে না থাকার কারণে, আগে থেকে টেলিভিশন কিনে রাখতে পারেননি আব্দুল বাতেন। অথচ, মরিয়মকে শহরে নিয়ে আসার আগে, বাসার প্রয়োজনীয় সবকিছু কিনে রেখেছিলেন তিনি- রান্নাঘরের হাড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে শোবার ঘরে খাট, মরিয়মের ড্রেসিংটেবিল, আলনা, আলমারি, এমনকি টুথপেস্ট-টুথব্রাশ পর্যন্ত। ফলে, মরিয়মের মুখে একটা টেলিভিশনের আবদার শুনে আব্দুল মতিন মনে মনে লজ্জা পেয়ে গিয়েছিলেন এবং মরিয়মকে সেটা বুঝতে না দিয়ে, পরদিন তিনি মাসিক কিস্তিতে ছোট একটা টেলিভিশন কিনে এনেছিলেন বাসায়, মরিয়মের জন্য।

“যেকোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সাধারণ গোসলের সাবানই যথেষ্ট নয়। অনেক অতিথিদের ভীড়ে নিজেকে উপস্থাপন করুন মোহনীয় রূপে আর সুবাসিত সৌরভে। বিয়ে, জন্মদিন, বেড়ানো কিংবা যেকোনো পার্টিতে যোগ দিতে ‘টগর’ নিয়ে এল অনন্য সুবাসের বিশেষ সাবান ‘টগর পার্টি সোপ’।“

বিজ্ঞাপনে চিত্রনায়িকা জয়া আহসানকে দেখা গেল অপরূপ সাজে। ঝলমলে পোশাকে, একটা পার্টির মঞ্চে, গানের তালে তালে খানিকটা নেচে হাতের মুঠোয় তুলে ধরল টগর সাবানের মোড়ক।

“আজই নিন ‘টগর পার্টি সোপ’
নজরকাড়া রূপ আর সৌরভে চমকে দিন অনুষ্ঠানের সবাইকে।“

এরপর থেকে, শুধু চিত্রনায়িকা জয়া আহসানকে দেখতে, সারাদিন টেলিভিশন ছেড়ে ঘরের কাজ করতেন মরিয়ম এবং কিছুক্ষণ পর পর টেলিভিশনের সামনে গিয়ে উঁকি দিতেন। কখন আবার বিজ্ঞাপনটি দেখায়, কখন আবার জয়া আহসানকে একটু দেখা যায়- তার জন্য। আর মরিয়মের মাথার ভিতর সারাক্ষণ বাজতে থাকত, “আজই নিন টগর পার্টি সোপ- নজরকাড়া রূপ আর সৌরভে চমকে দিন অনুষ্ঠানের সবাইকে।”
---
'বিজ্ঞাপন' গল্প থেকে অংশবিশেষ
গল্পগ্রন্থ : পুঁজিবাদী বিড়াল
প্রকাশক : পুণ্ড্র প্রকাশন
---
অনলাইনে বইটি অর্ডার করা যাবে
https://www.rokomari.com/book/457618/pujibadi-biral

চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনে অনেক শিল্পী, শিল্পরসিক, দর্শনার্থী, সংগ্রাহক ও শিল্প সমালোচকদের আনাগোনায় ভরপুর থাকে গ্যাল...
17/03/2025

চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনে অনেক শিল্পী, শিল্পরসিক, দর্শনার্থী, সংগ্রাহক ও শিল্প সমালোচকদের আনাগোনায় ভরপুর থাকে গ্যালারি। কেউ কেউ অযথাই চলে আসেন প্রদর্শনীতে, ঘুরেফিরে পেইন্টিং দেখতে দেখতে সময় কাটান। সমাজে নিজেকে শিল্পমনা প্রমাণ করতেও অনেকে প্রদর্শনী চত্ত্বরে ঘোরাফেরা করেন- বন্ধুসমেত আড্ডায় মশগুল থাকেন তারা। পত্রিকা ও টেলিভিশনের সাংবাদিকরা কদাচিৎ আসেন শিল্পীর ইন্টারভিউ নিতে কিংবা প্রদর্শনীর খবর ছাপতে। যারা চিত্র প্রদর্শনী দেখতে আসেন, সবার যে সব পেইন্টিং ভালো লাগে- এমনটাও না। একজন সুন্দরী নারী, যিনি হয়তো তার প্রেমিক কিংবা বরের হাত ধরে ঘুরে ঘুরে প্রদর্শনী দেখছিলেন আর কপাল কুঁচকে বলছিলেন,

-‘কি এঁকেছে এসব! ছাতার মাথা। এর চেয়ে আমিও ভালো আঁকতে পারি।’

এরকম মন্তব্যগুলো সাধারণত গোপনে কিংবা ফিসফিস স্বরে করা হয় এবং তা কখনোই শিল্পীর কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।

-‘পেইন্টিংগুলো ঘরে ঠিক মানাবে না। কালারগুলো বাসার ফার্নিচারের সঙ্গে ম্যাচ করে না।’ মনে মনে ভাবছিলেন জনৈক ভদ্রমহিলা।

-‘কী এঁকেছেন শিল্পী- কিছুই তো বোঝা যায় না।’ আরেকজন নারী দর্শক মন্তব্য করেছিলেন ফিসফিস স্বরে।

-‘পেইন্টিংগুলো কেমন ম্যাড়ম্যড়ে- ক্যানভাসজুড়ে কেমন অন্ধকার অন্ধকার একটা ভাব।’ ঠোঁট উল্টে বলতে বলতে গ্যালারি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন দুজন তরুণী ।

-‘পেইন্টিংগুলো মন্দ না, কিছুটা রহস্য আছে কাজের মধ্যে। কিন্তু অনেক দাম। টাকা খরচ করে এসব কেনার কোনো মানে হয় না।’ সমবয়সী সঙ্গীকে মন্তব্য করে, পেইন্টিংগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলেন মাঝবয়সী একজন ভদ্রলোক।

-‘পেইন্টিংগুলোতে কোনো বিউটি নেই। অনেক শিল্পী সুন্দর সুন্দর গ্রামের ছবি আঁকেন, ফুল-পাখি-পাহাড়-নদী আঁকেন, নিউ মার্কেটে পাওয়া যায়, দামও কম। ওসব পেইন্টিং ঘরের ড্রইংরুমে দেখতেও ভালো লাগে।’ দুজন শিল্পপতির স্ত্রী নিজেদের মধ্যে আলাপ করছিলেন পেইন্টিংগুলো দেখতে দেখতে।

-‘আচ্ছা, আপনি পেইন্টিংয়ে কি বোঝাতে চেয়েছেন? শিল্পীকে এমন প্রশ্নও করেছিলেন কেউ কেউ।

শিল্পী কি আঁকেন, কেন আঁকেন, ক্যনভাসে কী বোঝাতে চানÑ এসব প্রশ্নের উত্তর চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসানের কাছে নেই। কারণ, তিনি ছবি আঁকেন না, বরং সময় তাকে দিয়ে ছবি আঁকিয়ে নেয় ক্যানভাসে। তৌহিন হাসান প্রতিমুহূর্ত অনুভব করেন- সময় ঘটমান এবং ঘটনাবহুল, যা মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত ঘটতেই থাকবে এবং তিনি সময়ের একজন পুতুল চরিত্রমাত্র।

-‘কী যে ভালো লাগল আপনার শিল্পকর্ম দেখে! অভূতপূর্ব!’ গ্যালারি থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বললেন জনৈক সেই ভদ্রমহিলা।

-‘আপনার কাজ অসাধারণ! আপনার পেইন্টিং দেখে আমি মুগ্ধ! আমি কি আপনার ফোন নাম্বার পেতে পারি?’ তরুণী দুজনের একজন শিল্পীর ফোন নাম্বার নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।

-‘অনেকদিন পর আপনার চিত্রকর্ম দেখলাম, অনেক ভালো লেগেছে। শুভকামনা রইল।’ মাঝবয়সী ভদ্রলোক দুজন বিদায় নিলেন শিল্পীর কাছ থেকে।

-‘একদিন আপনার পেইন্টিং আমার ঘরে শোভা পাবে- এটা কিন্তু আমার একটা স্বপ্ন। আমি পরে যোগাযোগ করব।’ আশ্বাস দিয়ে গ্যালারি থেকে বেরিয়ে গেলেন জনৈক শিল্পপতির স্ত্রী।
---
'হঠাৎ শকুন' গল্প থেকে অংশবিশেষ
গল্পগ্রন্থ : পুঁজিবাদী বিড়াল
প্রকাশক : পুণ্ড্র প্রকাশন
---
অনলাইনে বইটি পাওয়া যাবে
https://www.rokomari.com/book/457618/pujibadi-biral

Address

Mohammadpur
Dhaka
1207

Telephone

+8801319677567

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তৌহিন হাসান posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share