24/04/2026
জামরায় পাথর মারায় ভুলভ্রান্তি
চলার পূর্বে সে সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নেয়া তার জন্য কি উচিৎ নয়?
৬। আরো একটি ভুল হচ্ছে, তাদের অনেকে সাতটি পাথর এক মুষ্টিতে নিয়ে একবারেই মেরে দেয়। ইহা বড় মারাত্মক ভুল। কারণ, আলিমগণ বলেছেন যে, একসাথে একাধিক পাথর মারলে তা একটি বলে গণ্য হবে। আর মনে রাখবেন যে, নাবী (সা.)-এর সুন্নাত মুতাবেক এক একটি করে পাথর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।
৭। জামরায় কংকর মারার সময় বাড়তি কিছু দু‘আ পাঠ করা, যা নাবী (সা.) থেকে মোটেই প্রমাণিত নয়। যেমন তারা অনেকে বানোয়াট দু‘আ বলে,
‘আল্লাহুম্মা ইজ্আলহা রিযান লিররাহমান, ওয়া গাযাবান লিশশায়তান’
অনেকে এ বিদআতী দু‘আ পড়ে কিন্তু নাবী (সা.) থেকে প্রমাণিত তাকবীর ছেড়ে দেয়। অথচ বাড়তি বা ঘাটতি না করে নাবী (সা.) থেকে বর্ণিত তাকবীরেই খ্যান্ত করা আবশ্যক।
৮। আরো একটি ভুল হচ্ছে, জামরায় পাথর নিজ হাতে মারার ক্ষেত্রে অনেকের অবহেলা করা। তারা নিজে কংকর মারতে সক্ষম হলেও অপর ব্যক্তিকে উকীল বানিয়ে ভীড়ের অবস্থায় কংকর মারার কষ্ট থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চায়। অথচ ইহা মহান আল্লাহর এ বাণীর পরিপন্থী, যাতে তিনি হাজ্জ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
وَأَتِمُّواْ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّهِ
তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ ও উমরা সম্পূর্ণ কর।[6] তাই কষ্ট ও ক্লেশ বরদাশ্ত করে কংকর নিক্ষেপ করায় সক্ষম ব্যক্তির নিজ হাতে কংকর মারা আবশ্যক। কারণ, হাজ্জ এক প্রকারের জিহাদ, যাতে কষ্ট-ক্লেশ হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই হাজীগণ যেন আল্লাহকে ভয় করেন এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী স্বয়ং নিজেই যথাসাধ্য হজ্জের কার্যাবলী সম্পাদন করেন।