01/01/2017
ছেড়া দ্বীপ ...
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩.৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ৭.৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ছেড়া দ্বীপ যার জনসংখ্যা প্রায় চার হাজার। এই দ্বীপটি প্রায় পুরোটাই সমতল যেখানে শামুকের খোলসের সাথে পানির সাথে বয়ে আসা বালু মিশে থাকে। মূল দ্বীপের সাথে এখানে কিছু পৃথক ছোট চর রয়েছে যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘ছেড়া দ্বীপ’ অর্থাৎ পৃথক দ্বীপ নামে পরিচিত। দ্বীপের উত্তর অংশে অবস্থিত জলাধারটি না দেখলে আপনি উল্ল্যেখযোগ্য কিছু দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন। জোয়ারের সময় এই জলাধারটি পশ্চিম উপকুলে একটি সরু চ্যানেলের মাধ্যমে সাগরের সাথে যুক্ত হয়। গবেষকরা এখানে ১৮২ প্রজাতির জীব বৈচিত্রের সন্ধান পেয়েছেন যার মধ্যে রয়েছে ৪ প্রজাতির উভচর, ১৩০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং প্রায় ৩৩,২৩৮ বছরের পুরান একটি প্রবালের ফসিল যেটি এই দ্বীপেই পাওয়া গিয়েছে। শীতকালে এই দ্বীপে প্রচুর অতিথি পাখি এসে থাকে। এতে করে দ্বীপের পারিপার্শ্বিক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি পায়।
কিভাবে যাবেনঃ
টেকনাফ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আরামদায়ক জাহাজ কিয়েরি সিন্দবাদে করে দুই ঘণ্টা অথবা তার চাইতে কম সময়ে সেন্ট মারটিন’স দ্বীপে পৌছাতে পারবেন। কিয়েরি সিন্দবাদে যাওয়ার সময় আপনি নাফ নদীর একদিকে টেকনাফের পাহাড় এবং অপরদিকে মায়ানমারের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
কিয়েরি সিন্দবাদ বিকাল ৩টার দিকে সেন্ট মারটিন’স দ্বীপ থেকে ছেড়ে যায়। আপনি কিয়েরি সিন্দবাদে যাওয়া আসাসহ উভয় পথের টিকেট কিনতে পারবেন। আপনি ওইদিনই ফিরে আসতে পারেন অথবা দুই একদিন পরও ফিরতে পারবেন। আপনি যখনই ফিরুন না কেন টিকেটের দাম একই পড়বে।
কিভাবে পৌঁছাবেন: কক্সবাজার জেলা
চট্রগ্রাম বিভাগের এগারোটি জেলার অন্যতম বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কক্সবাজার জেলার উত্তরে রয়েছে চট্রগ্রাম জেলা, পূর্বে মায়ানমার ও বান্দরবান, এবং দক্ষিন ও পশ্চিমে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।
◘ রাস্তা যোগে
◘ আকাশ পথে
ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাসে করে আপনি ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌছাতে পারবেন। আপনার সুবিধার্থে ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ
১। গ্রিন লাইন, যোগাযোগঃ ০৩৪১-৬২৫৩৩
২। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, যোগাযোগঃ ০৩৪১-৬৪১৭০
৩। শ্যামলী পরিবহন, যোগাযোগঃ ০৪৪৩৪৪৯৯৩৪
৪। সোহাগ পরিবহন, যোগাযোগঃ ০৩৪১-৬৪৩৬১
৫। এস আলম পরিবহন, যোগাযোগঃ ০৩৪১-৬২৯০২
৬। শাহ বাহাদুর, যোগাযোগঃ ০১৬৭৮০৬৪৮৮০
৭। সেইণ্ট মারটিন্স, যোগাযোগঃ ০১৭২৬৫২০০৯৫
বাস ভাড়াঃ
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিতঃ ১৫০০/- টাকা
নন এসিঃ ৭০০/- টাকা
কোথায় থাকবেনঃ
কক্সবাজারে থাকার ব্যবস্থা খুবই উন্নত। এখানে পাঁচ তারকা মানের বেশ কয়েকটি হোটেলসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন মানের প্রচুর হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। আপনার সুবিধার্থে কক্সবাজারের হোটেল ও গেস্টহাউজগুলো সম্পর্কে নিম্নে তথ্য প্রদান করা হলোঃ
১। হোটেল সীগাল
হোটেল মোটেল জোন
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার
ফোনঃ +৮৮-০৩৪১-৬২৪৮০-৯০
মোবাইলঃ +৮৮০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, +৮৮০১৭৬৬৬৬৬৫৩
২। হোটেল সী প্যালেস
কলাতলি রোড, কক্সবাজার
ফোনঃ +৮৮-০৩৪১-৬৩৬৯২, ৬৩৭৯২, ৬৩৭৯৪, ৬৩৮২৬, ৬৩৮৫৩
মোবাইলঃ +৮৮-০১৭১৪৬৫২২২৭-৮, ০১৯৭৯৪০৫০৫১-২
৩।সেইণ্ট মারটিন রিসোর্ট
প্লটঃ ১০, ব্লকঃ এ, কলাতলি রোড, কক্সবাজার, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮-০৩৪১-৬২৮৬২, ৬৪২৭৫
৪। হোটেল সায়মন
হোটেল সায়মন রোড, কক্সবাজার
মোবাইলঃ +৮৮-০১৭১১-০২২৮৮
ফোনঃ +৮৮-০৩৪১-৬৩৯০০-৪, ৬৩৭০৩-৭
৫। হোটেল সী ক্রাউন
মেরিন ড্রাইভ, কলাতলি, নিউ বীচ
মোবাইলঃ +৮৮-০১৮১৭০৮৯৪২০
ফোনঃ +৮৮-০৩৪১-৬৪৭৯৫, ৬৪৪৭৪
কি করবেন
দ্বীপের পূর্ব অংশে সূর্যোদয় দেখে সারাদিন কাটানোর পর দ্বীপের পশ্চিম অংশে সূর্যাস্ত দেখতে পারবেন। সূর্যাস্ত দেখার স্থানটি মূলত পাথুরে এলাকা যেটি দ্বীপের উত্তর পশ্চিমে সেন্ট মারটিন’স রিসোর্টের কাছেই অবস্থিত। এই স্থানটি শুধুমাত্র ভাটার সময় দেখা যায়। ভাটা এবং সূর্যাস্ত একই সময় হলে এই স্থানটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়।
এখানকার গ্রামের জীবন অনেকটাই ধীরগতিসম্পন্ন। সকালে ও সন্ধ্যায় এখানকার মানুষ কর্মমুখর থাকলেও দুপুরবেলা এখানকার মানুষেরা মূলত শুটকি মাছ ও নারিকেল বিক্রি করে অথবা ছায়ায় বসে পান চিবিয়ে সময় কাটায়।
দ্বীপের পশ্চিম অংশে সীমানা পেরিয়ে রিসোর্টের দক্ষিণে একটি কচ্ছপের হ্যাচারি রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত না হলেও এটির দরজা খোলাই থাকে এবং এখানে খুব একটা ভিড় পরিলক্ষিত হয় না। ডিম পাড়ার মৌসুম হলে এখানকার বাঁশের খাঁচায় বালুর মধ্যে ডিম দেখতে পাবেন। এই হ্যাচারিতে দেখার বেশিকিছু না থাকলেও কচ্ছপদের প্রজনন করার চেষ্টা দেখতে পেরে ভালো লাগবে আপনার। সাগরের কচ্ছপ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এস টিইউআর সি এনইটি (সি টারটেল কনজারভেশন নেটওয়ার্ক) এই হ্যাচারিটি পরিচালনা করছে। আকাশে চাঁদ না থাকলেও এই দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় আপনি আকাশে তারাদের উপভোগ করতে পারবেন।