17/12/2023
আপনি যদি সার্বিয়া যেতে ইচ্ছুক হন, তাহলে আজকের আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়বেন। কারণ আজকে আমরা সার্বিয়া কাজের ভিসা, সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, সার্বিয়া দেশ কেমন, সার্বিয়া ভিসা ফর বাংলাদেশী ও সার্বিয়া কাজের ভিসা খরচ সম্পর্কে আলোচনা করবো।
সার্বিয়া কাজের ভিসাঃ
বর্তমান সময়ে সার্বিয়া সরকার অনেক জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। আপনিও চাইলে আমাদের দেশ থেকে সার্বিয়া কাজের ভিসা নিয়ে যেতে পারেন। সার্বিয়া সরকার মূলত হোটেল বয় ও নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে। আপনি যদি সার্বিয়া গিয়ে এ দুটি কাজ করতে চান। তাহলে অবশ্যই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
এছাড়াও যাদের রান্নার কাজের অভিজ্ঞতা আছে। তারা খুব সহজে সার্বিয়া কাজের ভিসা নিয়ে যেতে পারবে। কারণ সার্বিয়া দেশে অভিজ্ঞ সেফ এর অনেক অভাব। আপনি যদি একজন অভিজ্ঞ শেফ হয়ে থাকেন, তাহলে সার্বিয়া যাওয়া আপনার জন্য কোন কঠিন বিষয় হবে না। আবার আপনার যদি রান্নার বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকে। তাহলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে রান্না বিষয়ক কাজকর্ম শিখে নিতে পারেন।
সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসাঃ
সার্বিয়া কাজের ভিসা ও সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা মূলত একই ভিসা। বাংলায় আমরা বলি কাজের ভিসা আর ইংরেজিতে বলি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। আপনি সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে শেফের কাজ, ড্রাইভিং এর কাজ, নির্মাণ শ্রমিক, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট এর কাজ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ থেকে সার্বিয়া যাওয়ার জন্য আপনাকে ভিসার জন্য এপ্লাই করতে হবে। আপনি যদি সার্বিয়া কাজের ভিসা নিয়ে যেতে চান, তাহলে অবশ্যই সরকারি একটি সংস্থার সাথে কথা বলবেন। এছাড়াও আপনাকে সার্বিয়া ভিসার খরচ জোগাড় করতে হবে। ভিসার সকল টাকা পয়সার জোগাড় করার পর,বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
সার্বিয়া কাজের ভিসা খরচঃ
আমাদের অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন,সার্বিয়া কাজের ভিসা খরচ কত। সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ও কাজের ভিসার খরচ মূলত একই। আপনি যদি নির্মাণ কর্মী হিসেবে সার্বিয়া নিযুক্ত হতে চান, তাহলে আপনার খরচ পড়বে সর্বনিম্ন ৬ লক্ষ টাকা। আবার আপনি যদি রেস্টুরেন্ট কিংবা হোটেলে চাকরি করতে চান,তাহলে আপনার খরচ পড়বে মোট সাত লক্ষ টাকা। আমরা আপনাদের সামনে আনুমানিক একটি হিসাবের ধারণা দিলাম। সময় ও পরিস্থিতি উপর ভিসার খরচ নির্ভর করবে।
সারভিয়া দেশ আপনি যে ভিসা নিয়ে যান না কেন। আপনার প্রথম কাজ হল একটি বৈধ পাসপোর্ট তৈরি করা। বৈধ পাসপোর্ট তৈরি করার পর এখন আপনাকে সরকার স্বীকৃত ভিসা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমানে সার্বিয়া কাজের ভিসার কথা বলে বলে ভুয়া সংস্থা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এগুলো ভুয়া ভিসায় এসেছি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকবেন।
সার্বিয়া ভিসা ফর বাংলাদেশীঃ
বর্তমান সময়ে করোনা মহামারী কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার কারণে,সার্বিয়া সকল ভিসা উন্মুক্ত করা হয়েছে। সার্বিয়া কাজের ভিসা থেকে শুরু করে যেকোনো ভিসার জন্য বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে পারবেন। সার্বিয়া ভিসা ফর বাংলাদেশী জন্য সরাসরি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
তারপর আপনি সার্বিয়া যে ভিসার জন্য যেতে চান, সেই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, সার্বিয়া কাজের ভিসা, সার্ভেয়ার টুরিস্ট ভিসা ও সার্ভে স্টুডেন্ট ভিসা খোলা রয়েছে। চাইলে যে কোন পেশার যেন আবেদন করতে পারেন।
সার্বিয়া কাজের বেতনঃ
অন্যান্য দেশের তুলনায় আপনি সার্বিয়া কাজের বেতন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পাবেন। কিন্তু সার্বিয়া কাজের বেতন নির্ধারিত কেউ বলতে পারবে না। আপনার নিজের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করবে আপনি কত টাকা বেতন পাবেন। নির্মাণ শ্রমিক ও হোটেলে কাজের বেতন ৪০-৫০ হাজার টাকা। ড্রাইভিং কাজের বেতন ৬০-৮০ হাজার টাকা।
শেষ কথাঃ
এই ছিল আমাদের সার্বিয়া কাজের ভিসা ও সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আপনি যদি সার্বিয়া কাজের জন্য যেতে চান, তাহলে আপনাকে সরকারিভাবে সার্বিয়া দেশে অবস্থান করতে হবে। এজন্য আপনাকে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
এছাড়াও আপনার কোন আত্মীয় যদি সার্বিয়া দেশে অবস্থান করে। তাহলে সেই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আবার কোন আত্মীয় যদি না থাকে। তাহলে সরাসরি বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করুন। বর্তমান সময়ে সার্বিয়া ভিসা নিয়ে অনেক দুর্নীতি চলছে। তাই সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন। সার্বিয়া কাজের ভিসা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
ধন্যবাদ!