28/03/2026
এই ছবিটা ফিলিপাইনের। ফিলিপাইনে তেল সংকটের কারণে ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার করা হয়েছে। তেলের অভাবে যানবাহন সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে মানুষ হেঁটে হেঁটে অফিসে যাচ্ছে।
পাকিস্তানে অকটেন এখন ৩২২ রুপি। যুদ্ধ শুরুর পর এক লাফে লিটারে ৫৫ রুপি দাম বাড়ানো হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে তেলের জন্য লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। ভারতেও ২০ মার্চ তেলের দাম ২ থেকে আড়াই রুপি বাড়ানো হয়েছে।
এবারের পরিস্থিতি আনপ্রেসিডেন্টেড। কারণ এবার মিডল ইস্টের প্রতিটি দেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। মিডল ইস্ট সারা পৃথিবীর প্রায় ৩০% তেলের যোগান দেয়। বাংলাদেশ তার প্রায় শতভাগ তেল মিডল ইস্ট থেকে আমদানি করে।
মাত্র এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধে এ বছর বাংলাদেশকে তেলের জন্য অতিরিক্ত ৬২ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। ইয়েস, ৬২ হাজার কোটি টাকা। এই যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘ হয়, তাহলে এই অঙ্ক আরও বাড়বে।
এই টাকা শেষ পর্যন্ত কে পরিশোধ করবে? আমি, আপনি—আমাদের ইনকাম, আমাদের সেভিংস থেকেই
পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, আগে যেখানে দিনে সর্বোচ্চ ১০০০ লিটার তেল বিক্রি হতো, এখন ৫০০০-১০,০০০ লিটার তেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তেলের চাহিদা তো হুট করে বাড়েনি। তাহলে এই তেলগুলো কিনছে কারা?
পেট্রোল পাম্পে এত লম্বা লাইন কেন হচ্ছে? তেলগুলো যাচ্ছে কোথায়?
একটু আগে দেখলাম, একটি বাসা থেকে ৩০ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। কোথাও ৫০০০ লিটার, কোথাও ১০,০০০ লিটার পাওয়া যাচ্ছে।
গতকাল ঢাকা-খুলনা হাইওয়ের একটি পাম্পে অকটেন দেখলাম না। কিন্তু কিছু জায়গায় বেশি দামে খোলা অকটেন বিক্রি হচ্ছে।
সরকার এখন পর্যন্ত তেলের দাম না বাড়ানো ছাড়া জনগণের সঙ্গে এ বিষয়ে তেমন কোনো কার্যকর যোগাযোগ করেনি। তারা যথেষ্ট কঠোর অবস্থানও নিচ্ছে না।
যে পাম্পগুলোতে বেশি ভিড় হচ্ছে, সেখানে মোবাইল কোর্ট পাঠানো উচিত। বাইক ও গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। যে সিএনজি চালিত গাড়ির সারা মাসে ২ লিটার অকটেন লাগার কথা, সে কেন বারবার ট্যাংক ভর্তি করছে?
একই বাইক ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পাম্প থেকে কেন রিফিল করছে? এই তেলগুলো যাচ্ছে কোথায়?
রবিবার থেকে অফিস-স্কুল-কলেজ পুরোদমে খুলছে। তখন পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে? এভাবে চলতে থাকলে লাখ লাখ লিটার তেল আমদানি করেও কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব?
শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যেই একটি অ্যাপ চালু করেছে। সেখানে গাড়ি বা বাইকের নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে পাম্পে সিরিয়াল নিতে হয়, এবং প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।
আপনি যদি এই ইমার্জেন্সি সংকট সামাল দিতে যথেষ্ট পরিমাণে আগ্রাসী, সিরিয়াস ও ইনোভেটিভ না হন, তাহলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ—দয়া করে সিরিয়াস এবং কঠোর হোন। অন্যথায় বাংলাদেশের সংকট আরও গভীর হবে।