24/07/2013
এক হুযূর রাস্তার
ধারে দাঁড়ায়ে ছাত্রদের
উদ্দেশ্যে একদিন বলতেছিলো-
"চুরি করো, হারাম খাও;
নাচতে নাচতে বেহেশতে যাও।"
এইটা শুনে ফেললো এক দোকানদার।
সে ভাবলো - সে নিজে গরীব মানুষ, তাই
বড়লোক খদ্দেরগো থেকে একটু-আধটু
বেশি টাকা রাখলে আর ওজনে কম
দিয়ে সে মনে মনে এতদিন অল্পসল্প
অনুতপত থাকতো, কিন্তু হুযূরের
কথা চিন্তা করলে প্রমাণ হয় যে এই
চুরিটা তার জন্যে জায়েজ।
রাস্তার ঐ পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো এক
ঘুষখোর। সে ভাবলো - বৌ-পোলাপান
নিয়ে এই যুগে চলতে গেলে একটু-আধটু
ঘুষ না খাইলে আজকাল চলেনা, আর
তাছাড়া ক্লায়েন্টদেররেও তো সে জোর
করেনা। তাই জোর না করে যেই ঘুষ
পাওয়া যায় সে টাকায় খাওয়া হারাম না।
হুযূরে যা কইতেছিলো -
তা পুরাটা আসলে এটা -
চুরি করা বলতে লোকদেখানো ইবাদতব
বরং লুকায়েলুকায়ে ইবাদত করাই
উচিত। আর "ক্রোধ" এর
বশবর্তী হয়ে ফিতনা-ফ্যাসাদ
করা হারাম। গ্রামের দিকে কেউ
রেগে গেলে অনেকেই বলে- "রাগ
খাইয়া ফেলো"। তো এই হারাম খাওয়ার
কথাই বলা হইছে। অথচ যে যার যার মত
জ্ঞান দিয়াই হুযূরের কথারে জাজ
করে নিজের নিজের পাপকর্ম কমানোর
বদলে বাড়ায়া দিলো।
শুদ্ধ হাদিস আর জাল হাদিস বলে কিছু
ব্যাপার আছে। শুদ্ধ বোধহয় ৬০০০টা,
আর জাল হাদিসের সঙ্খ্যা বোধহয় ২০
থেকে ৫০ হাজার।
তো ইদানিং বহুজনে হাদিস শেয়ার
করতে করতে ফেসবুকের
ওয়ালরে মক্তব,মাদ্রাসা বানায়া ফেলছে
কিন্তু আপনার একটা শেয়ারকৃত
হাদিস, সেটা কি জাল না শুদ্ধ,
সেটা শিওর হয়ে নিন। আর আপনার
শেয়ারকৃত হাদীসটি যদি ভুল হয়, আর
সেই হাদীসের সূত্র ধরেই
যদি একটা বিশেষ
চুলকানীওয়ালা শ্রেণীর আক্রমণের
শিকার হন - তখন
তারে গুষ্টিশুদ্ধা গালাগালি করা এবং ক
আপনার সাজেনা আর তার
হাতে উপর্যুপরি ধর্ষিত হইলেও
আপনেরে শহীদের
মর্যাদা দিবোনা কেউ। আর
আপনারে শহীদী মর্যাদা না দিয়া "বে
কইলে আমারেও মডারেট
কইয়া গাইলাইয়েন্না।
এতই যদি সওয়াব কামাইতে চান
তাইলে নিজের ঘরের কোরানটা খুলেন,
বঙ্গানুবাদটা পড়েন, শানে নুযূলটাও
পড়েন আর মাথাটা দিয়া চিন্তাও
করেন। আবার চিন্তা কইরা হুটহাট
টাইমমেশিন থিওরি পাইছেন
ভেবে "ইউরেকা" কইয়া ফাল পাইরেন্না,
আগে আপ্নের ফিজিক্সের
এবিসিডি জ্ঞান আছে কিনা শিউর
হয়ে নিয়েন। শিউর হয়ে নিন - কোরানের
ইন্টার্নাল মিনিং এবং ফিজিক্স-
কেমিস্ট্রির জ্ঞান- এই ২টাই
বুঝে থিওরি ঝাড়ার মত যোগ্য হইছেন
কিনা আপনি। নিজেরে প্রস্তুত করেন
মস্তিষ্ক দিয়া, চাপাতি দিয়া না।