03/06/2025
গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী ভিসা প্রসেসিং নীতিমালায় বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ নীতিমালায় কড়াকড়ি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ এবং অভিবাসন বিষয়ক উদ্বেগের কারণে অনেক দেশেই ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে নিচে কিছু সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরা হলো:
থাইল্যান্ড: আগে যেখানে ভিসা প্রসেসিং সময় ছিল প্রায় ৭ দিন, এখন থাই দূতাবাস অফিসিয়ালি জানিয়েছে, সেটি বেড়ে ৪৫ দিনে পৌঁছেছে (সূত্র: থাই কনস্যুলেট অফিসিয়াল নোটিস, ২০২৫)।
ইন্দোনেশিয়া: আগে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ। পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাক্ষাৎকার বা আবেদন ডেট পেতে ১ মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। সাম্প্রতিক সফরে ইন্দোনেশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা ভিসা নীতিমালা পুনঃবিবেচনা করছে।
সিঙ্গাপুর: বর্তমানে সিঙ্গাপুর ভিসার ক্ষেত্রে অনেক বেশি রিজেকশন দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে।
ভিয়েতনাম: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।
মালয়েশিয়া: অধিকাংশ ভিসা আবেদনকারীদেরকে এখন ইন্টারভিউয়ের জন্য কল করা হচ্ছে, যা আগে নিয়মিত ছিল না।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই): বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া খুব সীমিত এবং নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির বাইরে কার্যত বন্ধ বলা যায়।
ভারত: ট্যুরিস্ট ভিসা পুরোপুরি বন্ধ, এবং এটি আবার চালু হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
শ্রীলঙ্কা: কিছু সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশের জন্য পুনরায় ভিসা চালু করার কথা বিবেচনা করছে (সূত্র: Daily Mirror Sri Lanka, ২০২৫)।
যুক্তরাষ্ট্র: সাধারণ ভিজিট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেছে। আবেদনকারীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ইন্টারভিউ ডেট পাচ্ছেন না। স্টুডেন্ট ভিসা এপোয়েন্টমেন্ট বন্ধ।
ইউরোপের দেশসমূহ: গত ১০ মাসে ইউরোপীয় দেশগুলো ৫০,০০০-এর বেশি স্টুডেন্ট ভিসা রিজেক্ট করেছে বলে গণমাধ্যমে জানা গেছে (সূত্র: Euronews, ২০২৪)।
কেন এই কঠোরতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মূল কারণ এর পেছনে রয়েছে:
অতিরিক্ত অভিবাসন প্রবণতা ও অবৈধ স্থায়ী হওয়া নিয়ে উদ্বেগ
আবেদনকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ প্রোফাইল বা ভুল তথ্য প্রদান
কিছু ক্ষেত্রে ভিসার ব্যবহার অনুচিতভাবে হওয়া
আন্তর্জাতিকভাবে কিছু দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা।
একটি দৃষ্টিভঙ্গি
আমরা বাংলাদেশিরা বহু বছর ধরে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ও কাজ করে এসেছি। তবে সাম্প্রতিক কড়াকড়ি আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে—নিজ দেশেই উন্নয়ন ও বিনোদনের ব্যবস্থা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আছে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, পর্যটন স্থান, সংস্কৃতি এবং হসপিটালিটি—সবই আমাদের দেশে আছে। হয়তো এখন সময় এসেছে, পৃথিবীর মানুষ আমাদের দেশেই আসুক, আমরা যেন অতিথি নয়, আমন্ত্রণকারী জাতি হয়ে উঠি।