Explore Bangladesh

Explore Bangladesh Our mission is to build a global concern and positive mindset in favor of BD Tourism. Website: https://sites.google.com/site/explorebangladesh123/home

We are student of North South University, Bangladesh. This page and website are made for MIS105. And our course instructor is Mirza Ferdous (MzF) sir. To know Bangladesh is to love Bangladesh - a country where Muslim, Hindu, Buddha, Christian and many other ethnic groups live together in peace and harmony. Our multiculturalism has made the country a gastronomical paradise and home to hundreds of c

olorful festivals. Our mission is to build a global concern and positive mindset in favor of Bangladeshi Tourism by exploring the travel prospects for national and international travelers and tourists etc. The website is accumulation of all travel related information . By visiting this website anyone can find the places where they wanted to go & information's about all the hotels, resorts, travel agencies & their packages.

ঘুরে আসুন ঢাকার কাছাকাছি প্রাচীন কয়েকটি জমিদার বাড়ি থেকে
01/04/2018

ঘুরে আসুন ঢাকার কাছাকাছি প্রাচীন কয়েকটি জমিদার বাড়ি থেকে

সুজলা, সুফলা, শস্য- শ্যামলা বাংলাদেশের ভূমি। বাংলাদেশের বুক জুড়ে রয়েছে মন হরণ করা প্রাকৃতিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্....

01/04/2018

্রিল_ঐতিহাসিক_তেলিয়াপাড়া_দিবস
#তেলিয়াপাড়া_বাংলোয়_মুক্তিযুদ্ধের_প্রথম_বৈঠক: মহান মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস রয়েছে। এখান থেকেই যেমন মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রথম পাঠের অনুশীলন হয় তেমনি এখানে সংগঠিত হয়েছে বহু সম্মুখ সমর। ২৮ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সময়ে এখানে সংগঠিত নানা বিষয় যেমন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ইতিহাসের অমূল্য উপাদান; তেমনি সম্মুখ সমরক্ষেত্র হিসেবেও এ স্থানের রয়েছে অতুলনীয় গৌরব-গাঁথা।
২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের অধীন বিভিন্ন বাহিনীর বাঙালি সদস্যরা যার যার অবস্থান থেকে বিদ্রোহ করে শত্রুর মোকাবেলা করতে থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সকল সুবিধাপ্রাপ্ত একটি সুসজ্জিত বিশাল সামরিক বাহিনীকে তৎকালীন সমস্যাসঙ্কুল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও খুবই সীমিত সামর্থ নিয়ে প্রতিহত করা সহজসাধ্য ছিল না। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন ছিল একটি সরকার এবং কেন্দ্রীয় নেতেৃত্বের অধীন সম্মিলিত সামরিক প্রয়াশ। কিন্তু তখন পর্যন্ত কোনো সরকার গঠিত না হওয়ায় সে সুযোগ ছিল না। এসব দিক বিবেচনায় সর্ব প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ বিদ্রোহী সেনা ইউনিটগুলোকে একটি একক কমান্ডে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতেই তেলিয়াপাড়া মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
তেলিয়াপাড়াকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিসাক্ষী হিসেবে পরিচিত করার মূল ভূমিকা পালন করেন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ। ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থানরত ৪র্থ বেঙ্গলের মেজর শাফায়াত জামিল কর্তৃক অবাঙ্গালি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খিজির হায়াত খানসহ ৩জন পাকঅফিসারকে বন্দী এবং সাধারণ অবাঙালি সেনাদের হত্যার পর পরই শমসেরনগর থেকে ফিরে এসে সহ-অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ ইউনিটের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে টেলিফোনে বিভিন্ন স্থানে তাঁর বিদ্রোহের সংবাদ প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করলে সেখানকার তৎকালীন এসডিও কাজী রকিব উদ্দিন আহমদেসহ স্থানীয় ইপিআর ও মহকুমা পুলিশ অফিসার সর্বাত্বক সহযোগিতা করেন।১
অতঃপর সম্ভাব্য বিমান হামলা এড়াতে তিনি ঐদিন মধ্য রাতেই (২৮ এপ্রিল) ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের সদর দপ্তর প্রথমে মাধবপুর ডাকবাংলায় এবং পরদিন ২৯ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থানান্তর করেন।২ সেখান থেকে পূর্ব যোগাযোগের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় তেলিয়াপাড়া বিওপি-এর কাছে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষের আলোচনায় ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।৩ তিনি ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডের সহযোগিতায় বাংলাদেশেরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সেনা কর্মকর্তা ও ভারতীয় সরকারের প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করেন। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে প্রথমে ২য় ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক মেজর কে এম সফিউল্লাহ ১ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া এসে ৪র্থ বেঙ্গলের সাথে যৌথভাবে সদর দপ্তর স্থাপন করেন।৪ ইতোমধ্যে তেলিয়াপাড়ায় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা সমবেত হন। ১ এপ্রিল বিকেলে ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে তেলিয়াপাড়া হেড কোয়ার্টারে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম রেজা, মেজর কে এম সফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশাররফ ও মেজর শাফায়াত জামিলের সঙ্গে দেখা করে কর্নেল ওসমানীর সীমান্ত অতিক্রম ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গলের বিদ্রোহে নেতৃত্বদানকারী মেজর জিয়াউর রহমানের রামগড়ে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে যাবার সংবাদ দেন।৫ ২ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া সীমান্তের ‘নো ম্যানস্ ল্যান্ডে’বিএসএফ-এর আইজি এবং আগরতলার ডিসি মি. সায়গল এসে মেজর খালেদ এবং শাফায়াতের সাথে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য-সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।৬ ৪ এপ্রিল সকালের মধ্যেই সেনা কর্মকর্তাদের সকলে তেলিয়াপাড়া বাংলোতে উপস্থিত হন। ১০টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে ও আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে সঙ্গে নিয়ে তেলিয়াপাড়াস্থ সেনা সদরে এসে উপস্থিত হন।৭ সকাল ১১টায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
ঐতিহাসিক এ সভায় কর্নেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানী এমএনএ, লেঃ কর্নেল (অবঃ) এম এ রব এমএনএ, লেঃ কর্নেল সালাউদ্দীন মোহাম্মদ রেজা, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কে এম সফিউল্লাহ, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর শাফায়াত জামিল, মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্রোহী মহকুমা প্রশাসক কাজী রকিব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে এবং আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল উপস্থিত ছিলেন।
সভার কার্যক্রম শুরু হলে এর লক্ষ্য ও বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ।৮ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তসমূহ ছিল নিম্নরূপ :৯
#এক. কনফারেন্সে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাগণ সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্রিগেডিয়ার পান্ডের কাছে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং রেশন সরবরাহের আবেদন জানান। এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সীমিত আকারে হালকা অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহের আশ্বাস দেন।
#দুই. মুক্তিকামী হাজার হাজার ছাত্র ও যুবকের সামরিক প্রশিক্ষণদানের লক্ষে সীমান্তবর্তী ভারতীয় ভূখ- ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ব্যাপারে সভায় উপস্থিত আগরতলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব সায়গাল ভারতীয় ভূখন্ডে মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং শরনার্থী শিবির স্থাপনের ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
#তিন. সভায় বিদ্রোহী বাহিনীর সদস্যদের একটি কমান্ড চ্যানেলে এনে সমম্বিত প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল ওসমানীকে সমম্বয় সাধনের দায়িত্ব দেয়া হয়।
#চার. ব্রিগেডিয়ার পান্ডে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধরত বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে কোথায় কী ধরনের সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম চলছে তা নিয়মিত মনিটরিং করার দায়িত্ব নেন। তিনি সীমান্তবর্তী বিএসএফ-এর কর্মকর্তাদের বিদ্রোহী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সাহায্যের নির্দেশ দিবেন বলেও আশ্বাস দেন।
#পাঁচ. উপস্থিত বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাগণ এদিনের কনফারেন্সে দেশটিকে ৪টি সামরিক অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রতিটি অঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১ জন করে সেনা কর্মকর্তা নির্বাচিত করেন।
#ছয়. বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার পূর্বাঞ্চল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয় মেজর জিয়াউর রহমানকে। বৃহত্তর কুমিল্লা, ঢাকা ও নোয়াখালী জেলার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফকে। বৃহত্তর সিলেট এবং ময়মনসিংহ জেলার পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় মেজর সফিউল্লাহকে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুর জেলা নিয়ে গঠিত অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে।
#সাত. চট্টগ্রাম বিদ্রোহে নেতৃত্বদানকারী মেজর জিয়াউর রহমানের সাহায্যার্থে ঐদিনই ক্যাপ্টেন মতিনের নেতৃত্বে ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘বি’ কোম্পানি এবং ক্যাপ্টেন এজাজের নেতৃত্বে ২ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কোম্পানি রামগড়ের উদ্দেশ্যে পাঠাবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ব্রিগেডিয়ার পান্ডে ঐ রাতেই বিএসএফ-এর গাড়ি দিয়ে এ দু’টি কোম্পানিকে ভারতীয় এলাকা হয়ে রামগড়ে পৌঁছানোর দায়িত্ব নেন।
#আট. উক্ত সভায় বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বাঙালি সেনা সদস্যদের বিদ্রোহকে আইনানুগ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সীমান্ত অতিক্রমকারী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
#নয়. সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কর্নেল এম এ জি ওসমানী একজন নির্বাচিত এমএনএ বিধায় তাঁকে শীঘ্রই সীমান্ত অতিক্রমকারী অন্যান্য গণপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। ভারতীয় বিএসএফ প্রধান রুস্তামজী, ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে এবং আগরতলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এ ব্যাপারে কর্নেল ওসমানীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে জানান।
#দশ. কনফারেন্সে আলোচ্য বিষয়গুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য ১০ এপ্রিল একই স্থানে আরেকটি কনফারেন্স অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সরকার গঠনের আগে। তাই নিকট অতীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার উদাহরণ বিশ্লেষণ করে সভার লিখিতাকারে কোনো সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করা হয়নি। ‘মৌখিকভাবে বাহিনীর সংগঠন, নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পায়। ১১ এপ্রিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেতার ভাষণে এই সভার সিদ্ধান্তের কিছু অংশ উচ্চারিত হয়েছিল। পরে এই সভার সিদ্ধান্তগুলোকে পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন, সংযোজনের মাধ্যমে আরও সময়োপযোগী করে তোলা হয়’।১০ ‘এ সভা আমাদের বাহিনীকে সাংগঠনিক ধারণা দেয় এবং তা মুক্তিবাহিনী পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করে’।১১
সভা শেষে কর্নেল ওসমানী তাঁর রিভলভার থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।’১২
তেলিয়াপাড়ায় দ্বিতীয় সেনা বৈঠক :
৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী ১০ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় ২য় সেনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১ম সভায় উপস্থিত প্রায় সকলেই উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ সভাটি ১ম সভার সিদ্ধান্ত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। উক্ত সভার সিদ্ধান্ত ছিল : ১৩
সভার প্রথমেই কর্নেল এম এ জি ওসমানীর কাছে গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে তিনি কতদূর অগ্রসর হয়েছেন, তা জানাতে অনুরোধ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রমকারী বেশ কিছু সংখ্যক এমএনএ এবং এমপিএ-এর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ গণপ্রতিনিধিই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন। জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ শীঘ্রই একটি ‘বাংলাদেশ সরকার’গঠনের ঘোষণা দিবেন বলে তাঁকে আশ্বস্থ করেছেন।
বিক্ষিপ্ত সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধটিকে সমম্বিত এ্যাকশনে রূপ দেয়া এবং কমান্ড চ্যানেলে আনার লক্ষ্যে এদিন পুরো দেশটিকে ৪টির স্থলে ৬টি সামরিক অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন দু’টি সামরিক অঞ্চলের মধ্যে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত অঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিনকে। বৃহত্তর রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলা নিয়ে গঠিত অঞ্চলের সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে নেবার দায়িত্ব দেয়া হয় মেজর নাজমুল হককে। ৬টি অঞ্চলের কমান্ডারদেরকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার বিদ্রোহী বাহিনীর সদস্যদেরকে একটি কমান্ড চ্যানেলে এনে সমম্বিত এ্যাকশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।
সভায় ভারতীয় প্রতিনিধিগণ জানান যে, এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার ছাত্র ও যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করার লক্ষ্যে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেছে। এদের জন্য ইতোমধ্যেই অস্থায়ীভাবে বেশ কিছু ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে। শরনার্থীদের জন্যও ক্যাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন রণাঙ্গনে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে এরই মধ্যে মুক্তিবাহিনীকে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বিএসএফ-এর সৈন্যরা বিদ্রোহী বাহিনীর সহযোগিতায় অপারেশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর পরই ভারতীয় পক্ষ থেকে সাহায্যের পরিমাণ বাড়বে বলে ব্রিগেডিয়ার পান্ডে সকলকে অবহিত করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টির ব্যাপারটিও ঐ দিনের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ব্যাপারে ভারতীয় প্রচার মাধ্যমগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে জানানো হয়।
তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত ক্রান্তিকালের সেই সভাদু’টি কেবল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন বাঙালি কর্মকর্তাদের প্রথম সমম্বয় সভাই নয় বরং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ভিত রচনা প্রথম মাইলফলক হিসেবেও চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রবন্ধ : মুহম্মদ সায়েদুর রহমান তালুকদার-এর ‌‌'মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিসাক্ষী তেলিয়াপাড়া' থেকে সংকলিত।
তথ্যসূত্র :https://bn.wikipedia.org/wiki/তেলিয়াপাড়া_স্মৃতিসৌধ(উইকিপিডিয়া)

সবাইকে বিজয় দিবস এর শুভেচ্ছা।
15/12/2013

সবাইকে বিজয় দিবস এর শুভেচ্ছা।

Address

Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Explore Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share