13/10/2021
ওর্য়াক পারমিট ভিসায় দেশের বাহিরে যারা যাবেন, তাদের জন্য যেসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে বিমানবন্দরে 🇧🇩
বাংলাদেশ ছেড়ে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ শ্রমিক হিসাবে বিদেশে পাড়ি জমায়। শ্রমিক হিসাবে ইউরোপ, আফ্রিকা কিংবা মধ্যেপ্রাচ্যের যেকোনো দেশে আপনাকে বাংলাদেশ সরকারের কিছু ফরমালিটিজ ফলো করতে হবে। ওর্য়াক পারমিট পাবার পরের কাজ গুলো সবাই জানেন কমবেশী। ভিসা করা, তারপর নিজ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি অফিস থেকে ফিংঙ্গারপ্রিন্ট এবং কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে ৩ দিনের ট্রেনিং লাগে। তারপর আপনি তাদের মাধ্যমে ভিসা যাচাই বাচাইয়ের পর অরিজিনাল হলে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেয়া জন্য যাবেন।
এটা গেল জব ভিসায় বিদেশ যাবার প্রথম ধাপের কাজ। এবার কেনাকাটা, টিকেটিং এর কাজ শেষ করার পালা। ধরেন সব কিছু হয়ে গেছে। আপনার ফ্লাইট আপনি বিমানবন্দরে যাবেন। এর আগে করনীয় কি?
বিদেশে প্রস্থানের আগে আপনাকে ৭২ ঘন্টার আগে করোনা নেগেটিভ সনদ নিতে হবে সরকার অনুমোদন প্রাপ্ত হসপিটাল বা টেস্ট সেন্টার থেকে। ধরেন আপনার রাতে ফ্লাইট আপনি অবশ্য ই দিনের ফাস্ট প্রহরে যেয়ে সাম্পল দিয়ে দিবেন যাতে রাতের মধ্যে ই আপনি রিপোর্ট পেয়ে যান। আরো বেটার হয় আগের দিন বিকালে করে রাখলে। ভেক্সিন দিলে ২ ডোজ আপনাকে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ সাথে নিয়ে বিমানবন্দরে যেতে হবে। এমিরেটস এয়ারলাইন্স এর ফ্লাঈট হলে আরো একটা বিষয় মাথায় রাখবেন কোন কারনে দুবাই যেন ট্রানজিট ১০ ঘন্টার বেশি না হয়। যদি বেশি হয় তাহলে আপনাকে ট্রানজিট পেসেঞ্জার হিসাবেও Rapid PCR Test করে ঢাকা বিমানবন্দরে থেকে ফ্লাইটে উঠতে হবে। অন্য এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে সমস্যা নাই, এবার আসি বিমানবন্দরের ফরমালিটিজ গুলো কি হবে যদি আপনি জব ভিসায় জান।
বিমানবন্দর টারমিনালে যাবার পর গেট নাম্বার দেখে চেক করে গেট দিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করবেন। প্রবেশ পথেই বাঙালি আজব মেশিন বসায়া রাখবে। সেটা বুঝতেই পারছেন কি বুঝাইলাম! স্কান করে লাগেজ ১ নং ছবির মত হাতের বাম পাশে একটা বুথ দেখবেন, কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ যাচাই করে সিল নিয়ে নিবেন। ভুলেও সিল ছাড়া বোর্ডিংপাস নিতে কাউন্টারে যাবেন না। আপনি ২য় ছবি দেখেন স্পেসিফিক এয়ারলাইনসের বোর্ডিং কাউন্টারে যাবেন। পাসপোর্ট, টিকেট দিবেন বোর্ডিংপাস এর জন্য। দুনিয়ার সবচেয়ে বাটপার গুলো এখানে বসে, আপনাকে আটকানো প্রথম ধাপ তাদের দিয়ে শুরু হবে। সো কথাবার্তায় স্মার্ট না হলে তাদের পেচ থেকে উদ্ধার হওয়া যাবে না। টিকেট ওয়ানওয়ে কেন, কি কাজে যাচ্ছে, কারা কাজ করে দিসে বাংলাদেশে, কত টাকা নিয়েছে, থাকবেন না পালিয়ে যাবেন? মোট কথা সব কথা তাদের মাথায় থাকবে! যদিও আপনি এখনও ইমিগ্রেশন অফিসার এর কাছে যান নি 🤭
সব শেষ তারা বোর্ডিংপাস দিয়ে দিসে মনে করেন। আপনি বহির্গমন ফরম পুরন ইমিগ্রেশন গেটের দিকে আগাবেন। একজন পুলিশ আপনার ফর্মটা আর পাসপোর্ট টা দেখে ভেতরে যেতে দেবে। ডুকেই আবার আপনার কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ যাচাই করবে আরেক দল। সেখান থেকে যাবেন বিএমইটি কার্ড চেক করতে। হাতের ছাপ দিয়ে যাচাই বাচাই করে নানা কথা শুনিয়ে তারাও অকে রিপোর্ট দিবে। তারপর বড় স্যারের কাছে 😋 মানে ইমিগ্রেশন অফিসার এর কাছে যাবেন। তারা আপনাকে এক প্রকার আনুষ্ঠানিক হয়রানি করবে ধরে নেন। আপনার সব ঠিক আছে বলে আপনি লাস্ট স্টেজ অব্দি যেতে পারছেন। সো রিলাক্স মুডে তাদের সাথে ডিল করেন। আপনি কাজ করতে যাচ্ছে এটা সত্য, আর বাকি কথার উত্তর শটকাটে দিবেন। যত বেশি কথা বলবেন, আপনি বেশি সময় তাদের সাথে পেচাল পারবেন। বেটার কিপ কোয়াইট, যা জিগাবে উত্তর দিবেন শটকাটে।। সব কিছু অকে তারা সিল দিয়ে ছেড়ে দিবে, আপনি কাউন্টার ছাড়ার আগে সব পেয়েছেন কিনা নিজ দায়িত্বে চেক করে নিবেন, ইমিগ্রেশন ক্রস করার পথে আরেক পুলিশ আপনার পাসপোর্ট বোর্ডিংপাস দেখবে। তারপর মনিটর দেখে চলে যাবেন গেট নাম্বারে। সিরিয়ালে দাড়াবেন, সিকিউরিটি চেক এগেইন, জুতা, ঘড়ি, বেল্ট খুলে ফরমালটিজ শেষ করে যাবেন ফাইনাল বোর্ডিং এর জন্য। যার যার সিট নাম্বার দেখে বসবেন যারা প্রথমবার ভ্রমন করতেছেন তারা বিমান বালা, ক্রিউ এর সাহায্য নিবেন সিট না পেলে। যাত্রার লাস্ট স্টেপ। প্লেন ছেড়ে দিলে নেক্সট গন্তব্য পর্যন্ত তারাই টেক কেয়ার করবেন। একটা আফসোস এর বিষয় বাংলাদেশে যাওয়া কিংবা বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীরা এত বেশি প্লেন, প্লেনের টয়লেট নোংরা করে যা অকল্পনীয়। আমাদের দায়িত্ব এই কাজ গুলোর দিকে খেয়াল রাখা।
✍️প্লেনে বসে যা করবেন নাঃ
√প্লেন ছাড়ার আগ মুহুর্তে হইচই, বা মোবাইল ফোনে জুড়ে কথা বলবেন না।
√প্লেনে বসার ১০/১৫ মিনিট পরেই ওয়াসরুম ব্যাবহারের অনুমতি চাইবেন না।
√মুজা খুলে প্লেনে বসবেন না দয়াকরে।
√বিমান থেকে সরবরাহ করা খাবার ডাবল, বা অতিরিক্ত চাইবেন না (পানি ড্রিংকস ছাড়া)
√টয়লেট ইউজ করে ফ্লাস না করে বের হবে না। তাতে নেক্সট পার্সন খুবই বিরক্তি বোধ করবে।
√প্লেনে ঘুমালে খেয়াল করবেন আরেক জনের গায়ে মাথা, হাত যেন না যায়।
ট্রানজিটে করনীয় কি?
প্লেনে ঘুমিয়ে পড়লে নামার আগ মুহুর্তে দরকারী সব ডকুমেন্টস, ক্যাবিন ব্যাগ সাথে নিয়ে নামবেন। নেমেই মনিটর দেখে ফ্লাইট নাম্বার চেক করে গেট নাম্বার ফলো করবেন। লোকজন যাচ্ছে একদিকে আপনিও যাচ্ছেন তাদের পিছনে বেপার টা এমন না৷ তাদের গেট আপনার গেট এক হবে তা না।। সো দেখে দেখে নিজের গেটের সামনে গিয়ে নেক্সট ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করবেন। ফ্লাইটের টাইম লম্বা সময় পর হলে লাউঞ্জ আছে, ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন কোথাও বসে। সো মনিটর দেখে দেখে টাইম মত গেটে চলে যাবেন।
ফাইনাল ডেস্টিনেশনে নামার পর করনীয় কি?
বোর্ডিংপাস, পাসপোর্ট এবং ভেক্সিন সার্টিফিকেট, কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ, তাদের দেয়া লোকেটর ফর্ম এক সাথে ফিলাপ করে ইমিগ্রেশন এর দিকে যেতে থাকবেন। রোমানিয়া ক্রোয়েশিয়ার বুলগেরিয়ার ইমিগ্রেশন অফিসার গুলো আমাদের চুর মনে করে দেখলেই, সো মাথায় রাখবেন যা জিজ্ঞেস করবে সরাসরি না পেচিয়ে উত্তর দিবেন।
যে জিনিস গুলো উপেক্ষা করবেন / ইমিগ্রেশন অফিসার এর কাছে না উত্তর দিবেন!
√ আপনি কি কারো পাসপোর্ট, ডকুমেন্টস নিয়ে আসছেন কি না? (বন্ধুর পাসপোর্ট, ড্রাইভার লাইসেন্স, ইত্যাদি)
√আর কোন দেশের পাসপোর্ট আছে কি না সাথে?
√ ডিক্লার করার মত টাকা ক্যাশ নিয়ে আসছেন কি না? ( ১০ হাজার ইউরো পরিমান বৈধ ভাবে নিতে পারবেন? এর বেশি হলে কাস্টমস কে জানাতে হয় ইউরোপে। সো এর বেশি কেউ নিবেন না দয়াকরে। না ডিক্লেয়ার করে যদি ধরা খান তখন সব টাকা ছিনিয়ে নিবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বি কেয়ারফুল।
যা যা বলবেল যদি জিজ্ঞেস করে ইমিগ্রেশন অফিসারঃ
√ কোম্পানির লোকেশন, কি কাজে যাচ্ছে, কত সেলারি, থাকা খাওয়া দিবে কিনা, ইত্যাদির উত্তর দিতে পারেন সমস্যা নেই।
এসবের উত্তর আপনার কন্ট্রাক্ট পেপারে, একোমোডেশান পেপারে পাবেন সব।
ধন্যবাদ,
ওর্য়াক পারমিট ভিসায় দেশের বাহিরে যারা যাবেন
আপনাদের জন্য শুভকামনা।
ওসেনিক্স ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস
০১৭০০৭৭৩৯৩৩, ০১৭৮০৩৫৫৬৫৫।