08/04/2018
ওয়ার সিমেট্রি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এই সমাধিসেৌধ প্রতিষ্ঠা করে। সূচনালগ্নে এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রায় ৪০০টি সমাধি ছিলো। তবে বর্তমানে এখানে ৭৩১টি সমাধি বিদ্যমান যার ১৭টি অজানা ব্যক্তির। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাতীয় বিদেশী সৈন্যদের প্রায় ২০টি (১জন ওলন্দাজ এবং ১৯জন জাপানি) সমাধি বিদ্যমান। এছাড়াও এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) চট্টগ্রাম-বোম্বের একটি স্মারক বিদ্যামান।
যুদ্ধ চলাকালীন সময় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ১৫২ নং ব্রিটিশ জেনারেল হাসপাতালের সুবিধার কারণে চট্টগ্রামে মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর এই পথিকৃৎ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাসপাতালটি ডিসেম্বর ১৯৪৪ থেকে অক্টোবর ১৯৪৫ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো। প্রাথমিকভাবে এই সমাধিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০০ মৃতদেহ সমাহিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও যুদ্ধ শেষে অতিরিক্ত মৃতদেহ লুসাই, ঢাকা, খুলনা, যশোর, কক্সবাজার, ধোয়া পালং, দোহাজারি, রাঙ্গামাটি, পটিয়া এবং অন্যান্য অস্থায়ী সমাধিস্থান থেকে এই সমাধিস্থানে স্থানান্তর করা হয়।
প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই প্রথম চোখে পড়বে একটি দৃষ্টিনন্দন ক্রুশ চিহ্নিত বেদি। রয়েছে দেবদারু, গর্জন, মেহগনি, ইউক্যালিপ্টাস, পাম গাছ। এ ছাড়া গন্ধরাজ, বেলি, পাতাবাহার, লেনথেনা, গোলাপ লেটারলিফসহ কয়েক শতাধিক দেশি-বিদেশি ফুলের গাছ।
কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে ওয়ার সিমেন্ট্রি যেতে হলে আপনাকে আগে চট্টগ্রাম যেতে হবে।
ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে করে চট্টগ্রাম এ পৌঁছান। এরপর রিক্সা কিংবা অটো রিক্সায় চড়ে আপনি মেহদীবাগের ওয়ার সিমেন্ট্রিতে পৌছাতে পারবেন।
পঞ্চাশের দশকের প্রথমার্ধে নির্মিত এ সিমেট্রির বাইরের আংশে খোলা মাঠ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং বিকেল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত, তবে শীতকালীন মৌসুমে এ সময়সূচির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে থাকে
কোথায় থাকবেনঃ
চট্টগ্রামে বিভিন্ন মানের অনেক হোটেল আছে। সুবিধা মত যে কোন একটা তে উঠতে পারেন।
Cemetery
কার্টেসিঃ Nishu Nishan
Plan My Tour