02/09/2026
মণিপুরি সম্প্রদায়ের রাস উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আচার বা আধ্যাত্মিক আরাধনা নয়, এটি তাদের সমাজ জীবনের সবচেয়ে বড় মেলবন্ধন, সাংস্কৃতিক অহংকার এবং অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব। কার্তিক পূর্ণিমার এই তিথিতে মণিপুরি সমাজ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক সুতোয় গেঁথে নেয়।
মনিপুরিদের এই রাস উৎসব ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি তাদের ধ্রুপদী নৃত্য ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় বার্ষিক আয়োজন।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর এবং আদমপুর এই উৎসবের মূল কেন্দ্র।
সকাল থেকে রাতব্যাপী আয়োজনটি দুটি অংশে বিভক্ত-
১. রাখালরাস বা গোষ্ঠলীলাঃ
এটি দিনের বেলা মণ্ডপের খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মণিপুরি শিশু-কিশোররা রাখাল বালকের সাজে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের বাল্যকালের গোচারণ, বাঁশি বাজানো এবং বকাসুর দমনের মতো নানান কীর্তি নৃত্য ও গীতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে।
২. মহারাসলীলাঃ এটি উৎসবের মূল আকর্ষণ, যা গভীর রাতে শুরু হয়ে পরদিন ভোর পর্যন্ত চলে। রাধা ও কৃষ্ণের ঐশ্বরিক প্রেমলীলা এবং গোপিনীদের মণ্ডলাকার ধ্রুপদী নৃত্য।
রাস নৃত্যের পোশাক অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন, রঙিন ও শৈল্পিক-
গোপিনী ও রাধার পরনে থাকে উজ্জ্বল রঙের গোল ঘাগরা (যাকে 'কুমিন' বলা হয়), যা কাঁচ ও চুমকির কারুকাজে ঝলমল করে। মাথায় থাকে বিশেষ ওড়না ও মুকুট।
কৃষ্ণ ও রাখাল বালকদের মাথায় থাকে ময়ূরপুচ্ছের 'চূড়া', পরনে রঙিন ধুতি এবং হাতে থাকে বাঁশি।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপের চারপাশে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা তাত ও হস্তশিল্পের জিনিসপত্র, মণিপুরি চাদর, শাড়ি, ব্যাগ এবং লোকজ খাবারের পসরা বসে। রাত বাড়ার সাথে সাথে এটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নেয়।