12/05/2020
🔯 বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস(COVID-19) ছড়িয়ে পড়ার আগে পৃথিবীর আকাশে প্রতিদিন গড়ে ১১০০০০ ফ্লাইট ✈ পরিচালনা করা হতো, এখন সেই সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি❗ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এয়ারক্রাফটগুলো এখন কোথায় রাখা হচ্ছে❓
🔯 Aircraft নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো কখনো ভাবেনি এমনও একদিন আসবে, যখন সব এয়ারক্রাফটগুলোকে একসাথে মাটিতে রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন হবে, আর সেই সংকট দেখা দিয়েছে এখন!
🔯 প্রতিদিন প্রায় ২০০০০ বিমান ✈ পৃথিবীর আকাশে বিভিন্ন উচ্চতায় উড়তে থাকে, এদের বেশিরভাগই যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমান। যেহেতু এরা উপরে উপরেই থাকে, তাই মাটিতে বিমান রাখার ব্যবস্থাটা হলো Musical Chair এর মতো❗একটি উঠলো তো আরেকটি বিশ্রামের জায়গা পাবে!
🔯 আমেরিকার প্রধান বিমানসংস্থা Delta Air Lines ও তার অধীনস্হ কোম্পানিগুলো মিলে দৈনিক প্রায় ৫০০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাদের এয়ারক্রাফটের তুলনায় পার্কিং অর্ধেক, ফলে এয়ারক্রাফটগুলো নিয়ে বিশাল বিপদে আছে সংস্থাটি❗
🔯 কেবল পার্কিং সংকট নয়, পার্ক করে রাখা বিরাট খরচের বিষয়ও বটে। ইউরোপের 🇪🇺 যেকোনো এয়ারপোর্টে একটি Aircraft পার্কিংয়ের জন্য ঘন্টাপ্রতি ২৮৫ মার্কিন ডলার গুনতে হয়❗
🔯 এই "বোঝার ওপর শাকের আঁটি" হিসেবে রয়েছে এয়ারক্রাফটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উচ্চব্যয়❗মাটিতে থাকা অবস্থায়ও এসব এয়ারক্রাফটের ইঞ্জিনকে এমনভাবে দেখেশুনে রাখতে হয়, যেন যেদিনই উড়ুক, সেই উড়াল যেন ত্রুটিহীন হয়। এজন্য প্রতিদিন বাতাসের আদ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যন্ত্রগুলো সযত্নে রক্ষা করা হয়। কোথাও কোথাও মূল্যবান যন্ত্রগুলো খুলে চিরদিনের মতো ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এয়ারক্রাফটগুলোকে।
🔯 এতসব খরচ মাথায় রেখে Aircraft কোম্পানিগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্তে আসতে হয়েছে। আকাশে ঠিকঠাকভাবে উড়তে সক্ষম এয়ারক্রাফটগুলোকে অবসরে পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা। Delta Air Lines তার MD-80, 90 ও Boeing 747 মডেলের সবগুলো এয়ারক্রাফটকে অবসরে পাঠিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার Qantas এয়ারলাইন্স প্রায় ১৫০টি এয়ারক্রাফট অবসরে পাঠিয়েছে।
🔯 অবস্থা বিবেচনায় এখন এটাই স্পষ্ট যে, শুধু সেইসব এয়ারক্রাফটের পেছনেই খরচ করা হবে যেগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খরচ তুলে আনতে সক্ষম। ফলে করোনাকালে এয়ারক্রাফটের জন্য ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বই প্রতীয়মান হচ্ছে, "Survival of the fittest"
বি.দ্রঃ অবসরে দেওয়া মানেই যে বিমান ভাঙ্গারি হয়ে গেছে, বিষয়টা এমন নয়। সামরিক ভাষাতে এই অবসরকে 'গ্রাউন্ডেড' বলা হয়। যদি বিমান/যুদ্ধট্যাংক/জাহাজ ইত্যাদির প্রয়োজন না থাকে বা ক্ষতির মুখে থাকে তবে সেগুলিকে আপাতত অবসরে পাঠানো হয়। কারন দরকার না হলেও বাইরে রেখে দিলে আবহাওয়া, ধুলাবালিতে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। অবসরে পাঠানো বিমান ভবিষ্যতে দরকার পড়লে পুনরায় সার্ভিসে আনা যায়। আমেরিকায় 'গ্রাউন্ডেড' করা প্রায় ১৫০০০ যুদ্ধ বিমান আছে, যা কোন যুদ্ধের সময় পুনরায় Active করা যাবে❗বাংলাদেশ কিছু দিন আগে ইংল্যান্ডের 'গ্রাউন্ডেড' বিমান Eurofighter Typhoon কেনার জন্য কথা বলেছিল।
(সগ্রহীত)