17/02/2020
চটকদার উমরার প্যাকেজ থেকে সাবধান!
দয়া করে একটু পড়ুন ও সচেতন হন
*******************************************
মো. আবেদিন ফারুক। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার খুব ইচ্ছা উমরা পালন করার। সে লক্ষে তিনি খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করলেন। কিন্তু বিভিন্ন উমরা এজেন্সির ঘোষণাকৃত নানা প্যাকেজ দেখে তিনি হয়রান। সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, কী করবেন।
দুই-তিন দিন খোঁজ নিয়ে তিনি যে ধারণা পেলেন, তার সারমর্ম হলো- টাকা বেশি সেবা বেশি, এটা মূখ্য নয়। মূখ্য উমরা এজেন্সি অর্থাৎ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের মনোভাব। তারা ইচ্ছা করলেই তবে আরামে-স্বচ্ছন্দে উমরা পালন করা সম্ভব; অন্যথায় নয়।
উমরার সফর কয়দিনের হবে, শেয়ারিং বেড, এয়ারলাইনস নির্বাচন ও রোড নির্ধারণ, সৌদি আরবের অভ্যন্তরের বিভিন্ন পরিবহন সেবা, মিটার হিসেবে কাছে কিংবা দূরের হোটেলে থাকা, হোটেল মানের বিষয়ে মতামত দেওয়া, সকালের নাস্তা ও দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা, মক্কা-মদিনার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখানোর ব্যবস্থা, এজেন্সির গাইডের সেবা, ভিসার জন্য সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে আবেদিন ফারুক বেশ চিন্তিত। কারণ, একেক এজেন্সি বিষয়গুলোকে নানাভাবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন প্যাকেজ অফার করছে। ভিআইপি, এক্সক্লুসিভ, ডিলাক্স, প্রিমিয়াম ও স্ট্যান্ডার্ডসহ অনেক নাম। আখেরে কোন প্যাকেজটা বেছে নেবেন আবেদিন ফারুক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না
এভাবে আবেদিন ফারুকের মতো হজ-উমরা পালনকারীর ৯০ ভাগ বাধ্য হয়ে স্মরণাপন্ন হন, আগে হজ-উমরা পালনকারী কারো। তিনি দেখিয়ে দেন কোনো হজগাইড অথবা স্থানীয় মুয়াল্লিম বা এজেন্সির প্রতিনিধিকে। তিনি বুঝিয়ে, এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে হজ-উমরার ব্যবস্থা করেন। এভাবে নিজের অজান্তেই আবেদিনরা কোনো না কোনো হজগাইডের সেবা নেন। অর্থাৎ হজ-উমরার ক্ষেত্রে গাইড পদ্ধতি বেশ সনাতন, আপাতত এর কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ, সরাসরি এজেন্সির কাছে উমরা বা হজ পালনকারী আসে খুব কম। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এজেন্সি কর্তৃপক্ষও দেশের বিভিন্ন জায়গায় এজেন্সির প্রতিনিধি ও পার্টনারসহ নানা পরিচয়ে হজগাইডদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন।