04/05/2026
টানা এক সপ্তাহ দুইটা কোটেশন রেডি করতে ১০০ এর বেশি মানুষের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা, দুইদিন মেয়েকে আপুর কাছে রেখে মার্কেটে কয়েক ঘন্টা হেটে, আর অনেকের সাথে বিনা স্বার্থে সরাসরি রিকোয়েস্ট করে হেল্প নিয়ে।
সোর্সদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে, তাদেরকেও একই কাজ করতে হয়েছে এই দুই কোটেশনের জন্য। এরপর টানা কয়েক ঘন্টা হিসেব করে মিটিং করে যখন কোটেশন রেডি করলাম জমা দেয়ার জন্য তখন বলে ভাই এইটার সময় আর নেই, কারণ কক্সবাজার জমা দিতে হবে তাই ডেইটের একদিন আগেই পাঠাতে হয়। জমা দিয়েছি কাজ পেলে অবশ্যই আপনার সাথে যোগাযোগ করবো আর একটা সময়ের জন্য ডকুমেন্টস ঠিকঠাকভাবে জমা করতে পারিনি।
অসংখ্য টেন্ডারের মাঝে কিছু টেন্ডার থাকে ভালো কিন্তু এরেঞ্জ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং এই জন্যই আমার জন্য ভালো ।
তবে আমি যেমন যানতামনা যে সময়ের একদিন আগে কোটেশন জমা দিতে হবে আবার কোটেশন রেডি করতে সময়ও কম দিতে পারছি নিজে।
আবার দেড় বছর পর সোর্সদের সাথে যোগাযোগ করে সময়মত তাদের পাওয়া যায়না। কেউ বিদেশ, কেউবা আগের কোম্পানি ছেড়ে দিয়েছে।
আবার আগের প্রসেসিং থাকলে প্রথম দিন থেকেই হয়তো জানতাম যে একদিন আগে জমা দিতে হবে।
সব কিছু একা করতে হচ্ছে তাই অফিস ওয়ার্কে ঘাটতি হয়ে যাচ্ছে এটাও অনেক বড় কারণ বা সবচেয়ে বড় কারণ।
যে পরিমাণ কোটেশন এখন সে পরিমাণ সময় ফ্রেস মাইন্ড নিয়ে দিতেও পারছিনা।
গত মাসে একটা কাজ পেয়েও হারিয়েছি ফ্যাক্টরির ছোট্ট অথছ গুরুতর ভুলে। আগের প্রসেসিং থাকলে হয়তো এমন হতো না।
কয়দিন একটানা আমানুষিক টেনশান নিয়ে কাজ করে, কিছু মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করে কোটেশন ঠিকভাবে ড্রপ করতে না পারার জন্য বড্ড বেশি অশান্তি লাগছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভালো সোর্স ঠিক রাখা। ইম্পোর্টার আর হোলসেল মার্কেটের লোকজন তো প্রাইসের কথা বললেই সময় দিতে চায়না। ১০ জনের মাঝে একজন এরেঞ্জ করাই যুদ্ধের সামিল।
কাজ না পেলেও এর ১০০ ভাগের একভাগ হতাশা লাগেনা এবং লাগতোও না।
কাজের জন্য আমার পর্যাপ্ত সময় এবং শান্ত মন জরুরী অনেক কিন্তু এর কোনটাই নাই আমার।
পরশু কাজে যখন বাইরে ছিলাম তখন মা আমার ফোন দিয়ে ক্ষুদার কথা বলে কান্না করে দিয়েছে। কারন সকাল আর দুপুরের খাবার একসাথে খেলে বিকেলে আবার ভরপেট ক্ষুদা লাগে। আমার মার ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। খাবারের অভাব নাই কিন্তু আমি খাওয়াতেও পারিনি। বাসে বসে বসে ক্ষুদার জন্য মেয়ের চোখের পানি দেখেছি নিজে কিছু না করতে পারার যন্ত্রনা নিয়ে।
গত দুই সপ্তাহ এইভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।
অবশ্য দৃড় বিশ্বাস আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।