19/08/2026
ডে-ট্রিপ প্ল্যান: এক দিনেই পুরান ঢাকার ১০টি ঐতিহাসিক স্পট! 🧭🎒
ছুটির দিনে ঘরে বসে নেটফ্লিক্স দেখে সময় নষ্ট না করে, ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন! ঢাকার আসল ঐতিহ্য আর ইতিহাসের খোঁজে ঘুরে আসুন পুরান ঢাকা। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা—কোনটার পর কোন জায়গায় যাবেন, তার একটা রেডিমেড রুটম্যাপ নিচে দিয়ে দিলাম। জাস্ট স্ক্রিনশট নিন অথবা পোস্টটি সেভ করে রাখুন, আর আপনার ট্রিপ পার্টনারকে মেনশন করতে ভুলবেন না! 🚌👇
🕒 সকাল ৭:৩০ মিনিট — বলধা গার্ডেন
ভোরবেলা ফাঁকা রাস্তা দিয়ে সোজা চলে যান ওয়ারীর বলধা গার্ডেনে (টিকিট ৩০ টাকা)। ১৯০৬ সালের এই বাগানে রয়েছে ৮০০ প্রজাতির প্রায় ১৮ হাজার গাছ। হেঁটে ক্লান্ত হয়ে বসতে পারেন বিখ্যাত শঙ্খনাদ পুকুরপাড়ে, যেখানে পা বাড়ালেই ছুটে আসবে রঙিন মাছ আর কচ্ছপ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত 'জয় হাউজ' এবং বিখ্যাত ‘ক্যামেলিয়া’ গাছ দেখতে ভুলবেন না কিন্তু!
🕒 সকাল ৮:০০ মিনিট — ছানা-মাঠা, মালাই চা ও কলম্বো সাহেবের সমাধি
বলধা থেকে বের হয়েই টিপু সুলতান রোডের মাদানী চায়ের বাড়িতে মাটির খুড়িতে খান চমৎকার মালাই-চা। আসার পথে নারিন্দা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ছানা ও মাঠার স্বাদ নিতে পারেন। চায়ের বাড়ির উল্টো দিকেই রয়েছে রহস্যময় মোগল স্থাপত্যের 'কলম্বো সাহেবের সমাধি' এবং সামান্য দূরত্বেই ঢাকার প্রাচীনতম স্থাপনা 'বিনত বিবির মসজিদ' (১৪৫৭ খ্রিষ্টাব্দ)।
🕒 সকাল ৯:০০ মিনিট — জয়কালী মন্দির ও রাজকীয় প্রাতরাশ
ওয়ারী ও ঠাটারিবাজারের মাঝে অবস্থিত ১৫৯৩ সালের প্রাচীন জয়কালী মন্দিরটি দর্শন করে চলে যান ফুটপাতের 'হোটেল সুপার স্টার'-এ। সকাল সকাল পৌঁছাতে পারলে পেয়ে যেতে পারেন তাদের বিখ্যাত নেহারি-পরোটা, নতুবা গরম গরম সবজি, ডাল, মাটন আর সুজির হালুয়া দিয়ে সেরে নিন দারুণ এক প্রাতরাশ!
🕒 সকাল ১০:৩০ মিনিট — রোজ গার্ডেন
টিকাটুলির কে এম দাস লেনের এই ধবধবে সাদা প্রাসাদটি যেন এক টুকরো ইউরোপ। ১৯৩০ সালে নির্মিত করিন্থীয় ও গ্রিক স্থাপত্যশৈলীর এই প্রাসাদে আছে মার্বেল মেঝে, নাচঘর ও সবুজ বেলজিয়ান কাচ। ২২ একর জুড়ে থাকা নানা জাতের গোলাপের কারণেই এর নাম 'রোজ গার্ডেন'।
🕒 দুপুর ১২:০০ মিনিট — বিউটি বোর্ডিং
শ্রীশ দাস লেনের ঐতিহাসিক বিউটি বোর্ডিং। ১৯৪৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বাড়িটি ছিল কবি শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, জহির রায়হানদের মতো গুণী মানুষদের আড্ডাস্থল। ১৯৭১ সালের রক্তঝরা ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহ্য।
🕒 দুপুর ১২:৩০ মিনিট — নর্থব্রুক হল ও ঢাকা কেন্দ্র
ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত ১৮৭৪ সালের দৃষ্টিনন্দন লাল ভবন 'নর্থব্রুক হল', যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংর্বধনা দেওয়া হয়েছিল। পাশেই ফরাশগঞ্জের 'ঢাকা কেন্দ্র' পাঠাগারে দেখতে পাবেন ঢাকাবিষয়ক দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ, প্রাচীন তৈজসপত্র ও অলংকারের দারুণ সংগ্রহ।
🕒 দুপুর ১:৩০ মিনিট — শাঁখারীবাজার
রিকশা ছেড়ে দিয়ে হেঁটে ঢুকে পড়ুন শাঁখারীবাজারের অলিগলিতে। দুই ধারে চুড়ি, বালা, টিপ আর বাদ্যযন্ত্রের মেলা। চোখের সামনেই দেখতে পাবেন শঙ্খ কেটে কীভাবে নিখুঁত হাতের কাজে চুড়ি তৈরি করা হচ্ছে।
🕒 দুপুর ২:১৫ মিনিট — মধ্যাহ্নভোজ ও লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লার চারপাশের ঐতিহ্যবাহী রয়েল হোটেল, জান্নাত বা আরসালান থেকে পেটপুরে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। এরপর প্রবেশ করুন ১৬৭৮ সালের মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন লালবাগ কেল্লায়। বিকেলের নরম আলোয় লালবাগ কেল্লার দুর্গ প্রাচীর, পরী বিবির মাজার এবং শাহী মসজিদ দেখতে অসাধারণ লাগে।
🕒 বিকেল ৩:৪৫ মিনিট — আর্মেনিয়ান চার্চ
আরমানিটোলার ১৭৮১ সালের এই ঐতিহাসিক গির্জা ও তার শঙ্খনীল মিনার আপনাকে মুগ্ধ করবেই। চারপাশের শান্ত পরিবেশ আর শত বছরের পুরোনো এপিটাফগুলোর মাঝে কাটবে চমৎকার কিছু সময়।
🕒 বিকেল ৪:৩০ মিনিট — আহসান মঞ্জিল
পুরান ঢাকা ভ্রমণ বুড়িগঙ্গার তীরের আহসান মঞ্জিল ছাড়া অসম্পূর্ণ! ১৮৭২ সালে সমাপ্ত হওয়া নওয়াবদের এই রাজকীয় প্রাসাদে রয়েছে ৪ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন। (মনে রাখবেন, বৃহস্পতিবার এটি বন্ধ থাকে)।
🕒 সন্ধ্যা ৬:০০ মিনিট — ইমরান হেরিটেজ হোমে নৈশভোজ
ভ্রমণ শেষে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই খাবারের স্বাদ নিতে বুকিং করতে পারেন বেচারাম দেউড়ির 'ইমরান'স হেরিটেজ হোম'-এ। দেড় শ বছরের পুরোনো এই 'সাহেব বাড়ি'-তে একসময় পা রেখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ও এস এম সুলতান। নজরুলের শোবার খাটসহ নানা নিদর্শন দেখার পাশাপাশি আতিথেয়তায় মুগ্ধ হতে বাধ্য আপনি।
📌 জরুরি টিপস:
ছুটির দিনে রাস্তা ফাঁকা থাকে, তাই সকাল সকাল বের হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা বা ফোন ফুল চার্জ করে নিন।
হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো পরুন।
পরবর্তী ছুটির দিনে আপনার ট্রিপ পার্টনার কে হচ্ছে? কমেন্টে এখনই তাকে মেনশন করুন! 🙋♂️👇