13/05/2026
ঢাকার বিভিন্ন এরিয়ার রাস্তায় ট্রাফিক আইন মানাতে এআই ক্যামেরা লাগিয়েছিল পুলিশেরা।
এই ক্যামেরাগুলো সাধারণত বাইরের দেশের রাস্তায় লাগানো থাকে। ট্রাফিক আইন মানাতে ক্যামেরাগুলো বেশ কাজেও দেয়।
তাই বাংলাদেশের রাস্তায় দূর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক পুলিশরাও কয়েকটা রোডে ক্যামেরাগুলো লাগিয়েছিল।
এই ক্যামেরাগুলো এতটাই দক্ষ যে কোন গাড়িচালক হেলমেট না পড়লে কিংবা কোন ট্রাফিক আইন অমান্য করলে ক্যামেরাটা সাথে সাথে সেই গাড়ির নাম্বার প্লেটের ছবি তুলে ফেলবে।
তারপর সেই গাড়ি যার নামে নিবন্ধন করা সেই মালিকের মোবাইল নাম্বারে জরিমানার মেসেজ নোটিশ আকারে পাঠিয়ে দিবে।
যে গাড়িচালক আইন অমান্য করেছিল সে হয়তো মনের খুশিতে মজমাস্তি করেই বাসায় যাবে, কিন্তু বাসায় যাওয়ার আগেই জরিমানার নোটিশ মোবাইলে চলে যাবে। কি নিয়ম ভঙ্গ করেছে চাইলে সেটার ভিডিও ও সে দেখতে পারবে।
ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে গাড়িচালককে এই মামলাটা যদি পুলিশ দিতো তাহলে পুলিশ হয়তো ঘুষ খেয়ে ছেড়ে দিতে পারতো। অথবা কোন রাজনৈতিক নেতা কিংবা সহসভাপতি কল দিলে বাধ্য হয়েই ছেড়ে দিতে হতো।
কিন্তু এআই ক্যামেরার কারণে সেটা আর পারবে না।
এই জরিমানাটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতেই হবে। না করলে আরও বেশি জরিমানা জমতে থাকবে।
এভাবে প্রতিটা ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২ পয়েন্ট করে থাকবে। আইন ভাঙতে ভাঙতে যদি ১২ পয়েন্ট শেষ করে ফেলে তাহলে তার লাইসেন্সটাও বাতিল হয়ে যাবে।
বিদেশের মতো এই নিয়মটা মাত্র কয়েক মাস চললেই সব গাঁজাখোর গাড়ি চালকরা একদম সোজা হয়ে যাবে , রাস্তার দূর্ঘটনাও কমে যাবে। এমনকি ট্রাফিক পুলিশরাও আর ঘুষ খেয়ে নিজেদের পকেট ভারি করতে পারবে না।
এই মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই ট্রাফিক বিভাগের লোকজন বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার এবং বিজয় সরণিসহ ৮ টা জায়গায় এআই ক্যামেরাগুলো লাগিয়েছিল। কিছুদিন পরই আরও ৩০ টা জায়গায় লাগানোর কথা ছিল।
কিন্তু ক্যামেরাগুলো লাগানোর একদিন পরই ৩০০ ফিটসহ কয়েকটা জায়গা থেকেই ক্যামেরাসহ সব যন্ত্রপাতি চুরি করে নিয়ে গেছে।
একটাবার চিন্তা করুন আমাদের জনগণের ভালোর জন্যে ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল অথচ সেই ক্যামেরাই চুরি করে নিয়ে গেছে।
এখন ট্রাফিক বিভাগের লোকজন চিন্তায় পড়ে গেছে বাকি ক্যামেরাগুলো লাগাবে কিনা। যদি সেগুলোও চুরি করে নিয়ে যায় তাহলে দেশের কোটি কোটি টাকা লস হয়ে যাবে।
অবস্থাটা এমন যে- ক্যামেরা পাহারা দেয়ার জন্যেই হয়তো একজন পুলিশ নিয়োগ দিতে হবে।
দেশে কোনকিছু হলেই সবসময় আমরা সরকারের সমালোচনা করি, গা*লি দেই, অথচ যখন একটা ভালো উদ্যেগ নেয়া হয়েছে তখন সেই যন্ত্রপাতিই জনগণরা চুরি করে নিয়ে গেছে।
শত শত খারাপের মধ্যে আপনি জনগণের জন্যে একটু ভালো কিছু করতে চাইবেন কিন্তু পারবেন না কারণ এদেশে শুধু নেতারাই চোর না, জনগণরাও চোর।
সুযোগ পেলে এরা ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করে নেয়, রাস্তার লাইট চুরি করে নেয়, ক্যামেরা চুরি করে নেয়। এমনকি ৫০০ টাকার বিনিময়ে নিজের মূল্যবান ভোটটা বিক্রি করে দিতেও দুইবার ভাবে না।
অথচ আমরাই আবার আফসোস করে বলি- আমাদের দেশটা কেন ঠিক হয় না, কেন ইউরোপ-আমেরিকার মতো হয় না?
হবে কিভাবে? এদেশের জনগণরা তো সামান্য কয়টাকার ম্যানহোলের ঢাকনার লোভই সামলাতে পারে না।
দেশের এতসব দুর্নীতি ,রাস্তাঘাটে এক্সিডেন্টে শতশত মানুষকে মরতে দেখার পর আপনার মনঃক্ষুণ্ণ হয়, কষ্ট পান।
তারপরও আপনি হয়তো মনে মনে সামান্য একটু আশায় থাকেন, ভাবেন- হয়তো এই দেশটা একদিন পরিবর্তন হবে, হয়তো আরেকটু ভালো হবে।
কিন্তু দিনশেষে সে সামান্য আশাটুকুও আর পূরণ হয় না।
কারণ যে দেশের জনগণরাই নিজেদের ভালো চায় না সে দেশ কোনদিন পরিবর্তন হবে না, কোনদিনও না
সংগৃহীত