জীবন দর্শন

জীবন দর্শন Thoughts on life, humanity, knowledge and spirituality — inspiring awareness, self-learning and positive change. 🌿

সাংবাদিকতা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্বব্যাংক হয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদ মুহিউদ্দীনখালেদ মুহিউদ্দীনের কর্মজীবন একাধিক ...
16/09/2026

সাংবাদিকতা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্বব্যাংক হয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদ মুহিউদ্দীন

খালেদ মুহিউদ্দীনের কর্মজীবন একাধিক পেশাগত পরিচয়ের সমন্বয়ে গড়া। সাংবাদিকতা দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে আবার গণমাধ্যমে ফিরেছেন। শিক্ষকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা, পরামর্শকতা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নেতৃত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন মাত্রার পরিচিতি দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি সংবাদপেশায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে একই বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। সাংবাদিকতা বিষয়ে আরও উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

তাঁর শুরুর কর্মজীবনের একটি বড় অংশ ছিল প্রিন্ট ও অনলাইন সাংবাদিকতায়। দৈনিক প্রথম আলোয় কাজের সময়ে নগরজীবন, আইন-আদালত এবং খনিজ সম্পদসহ নানা বিষয়ে প্রতিবেদন করেছেন। পরে বিডিনিউজ২৪ ডটকমে সংবাদ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।

সাংবাদিকতার বাইরে গিয়ে তিনি ২০তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত করে। তবে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকার পরও সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর আগ্রহ অটুট ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি আবার গণমাধ্যমকেই নিজের প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।

বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবে স্বল্প সময় কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এই কাজ তাঁকে উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী প্রযোজক ও ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন।

২০১৯ সালে তিনি জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব নেন। এই পদে থেকে বাংলা ভাষাভাষী দর্শক-শ্রোতার জন্য আন্তর্জাতিক মানের সংবাদ, বিশ্লেষণ ও সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরার কাজে নেতৃত্ব দেন। ২০২৪ সালে ডয়চে ভেলের দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত হন।

খালেদ মুহিউদ্দীনের কর্মজীবন দেখায়, একটিমাত্র পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখেও সাফল্যের পথ তৈরি করা যায়। সাংবাদিকতা, প্রশাসন, উন্নয়নসংক্রান্ত কাজ, শিক্ষকতা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম—সব ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তাঁর যাত্রা তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে: নতুন দক্ষতা অর্জন এবং নিজের আগ্রহের জায়গায় ফিরে আসার সাহস পেশাগত জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

বুয়েটে প্রথম সেমিস্টারে ২.৯৩, দ্বিতীয় সেমিস্টারে ২.৪২, স্নাতক শেষে ৩.০২—  আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপ...
16/09/2026

বুয়েটে প্রথম সেমিস্টারে ২.৯৩, দ্বিতীয় সেমিস্টারে ২.৪২, স্নাতক শেষে ৩.০২—
আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল প্রত্যাশামতো না হলে অনেক শিক্ষার্থীই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে বুয়েটের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ৩.০০-এর কাছাকাছি সিজিপিএ অনেকের কাছে ভবিষ্যতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মনে হতে পারে। তবে মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের শিক্ষাজীবন ভিন্ন এক বার্তা দেয়—শুরুর ফলাফল নয়, ধারাবাহিক চেষ্টা ও দক্ষতার বিকাশই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

বুয়েটে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার সময় তাঁর শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। প্রথম সেমিস্টারে তাঁর সিজিপিএ ছিল ২.৯৩, দ্বিতীয় সেমিস্টারে তা নেমে আসে ২.৪২-এ। পরবর্তী সময়ে উন্নতি হলেও স্নাতক শেষে তাঁর মোট সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.০২। ১২৫ জনের ব্যাচে সিজিপিএর ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান ছিল ৮৮তম।

এই ফলাফলকে শেষ কথা না ভেবে তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার দিকে মনোযোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম থেকে কম্পিউটার ও তথ্যবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন, যেখানে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৩৬। এরপর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি করেন; সেখানে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৮০।

বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মারকোসের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাদান ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা, মানব আচরণ এবং সাইবার হুমকি বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করছেন।

তাঁর পথচলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। ২০১০ সালে তিনি এডুকেশন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বুয়েটে পড়ার সময় থেকেই নিজ এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের শিক্ষা ও কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

২০২৫ সালে বগুড়ার জিয়ানগর ইউনিয়নে তিনি হিউমেন স্কুল জিয়ানগর প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো গ্রামের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি আরবি শিক্ষা, নৈতিকতা এবং চরিত্র গঠনের সুযোগ তৈরি করা। তাঁর ভাবনায় শিক্ষা কেবল পরীক্ষার ফল নয়; শিক্ষা মানুষের দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার মাধ্যম।

মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের গল্প তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার গল্প নয়। এটি এমন একজন শিক্ষার্থীর গল্প, যিনি তুলনামূলক কম সিজিপিএ দিয়েও থেমে যাননি। নিজের পরিশ্রম, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে তিনি নতুন পরিচয় নির্মাণ করেছেন। তাঁর যাত্রা শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেয়—একটি ফলাফল কখনোই পুরো ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

একই পরিবারের চার সন্তান,  প্রশাসন থেকে আইন ও সেনাবাহিনী, চার ভিন্ন পথে সাফল্যের যাত্রাএকটি পরিবারের চার সন্তান—চারটি আলা...
16/09/2026

একই পরিবারের চার সন্তান,
প্রশাসন থেকে আইন ও সেনাবাহিনী, চার ভিন্ন পথে সাফল্যের যাত্রা

একটি পরিবারের চার সন্তান—চারটি আলাদা স্বপ্ন, চারটি ভিন্ন কর্মক্ষেত্র। কেউ প্রশাসনের দায়িত্বে, কেউ আইনপেশায়, কেউ সেনাবাহিনীতে, আর কেউ আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথে। আবেদ রাজা ও জাহেদা আবেদ দম্পতির সন্তানদের এই বহুমাত্রিক পথচলা শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

পরিবারের বড় মেয়ে আবিদা সুলতানা বর্তমানে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি ৩৮তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁর এই অবস্থানে পৌঁছানো অধ্যবসায় ও যোগ্যতার পরিচয় বহন করে।

একমাত্র ছেলে ব্যারিস্টার জাবেদ পুলক আইনকে নিজের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। উচ্চশিক্ষা ও ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করে তিনি আইনপেশায় যুক্ত হয়েছেন। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট হওয়ায় আইনজগতের সঙ্গে পারিবারিক পরিচয় থাকলেও, জাবেদ পুলক নিজের মেধা ও পেশাগত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলছেন।

আরেক মেয়ে ক্যাপ্টেন আসফিয়া সুলতানা বেছে নিয়েছেন শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের পথ। ৭৭তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দেশের সেবায় নিবেদিত এই পেশায় তাঁর অবস্থান পরিবারটির সাফল্যের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য রিদিমা সুলতানা বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি এখনো শিক্ষাজীবনে থাকলেও ভবিষ্যতে আইনপেশায় এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বড় ভাইয়ের পথের সঙ্গে তাঁর আগ্রহের মিল থাকলেও, তিনি নিজের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছেন।

সন্তানদের এমন ভিন্ন ভিন্ন সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা ও জাহেদা আবেদ তাঁদের সন্তানদের নির্দিষ্ট কোনো পথে বাধ্য না করে নিজ নিজ আগ্রহ ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পরিবারে শিক্ষা, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পরিশ্রমের যে চর্চা ছিল, সেটিই সন্তানদের আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

একজন প্রশাসক, একজন ব্যারিস্টার, একজন সেনা কর্মকর্তা এবং একজন ভবিষ্যৎ আইনজীবী—একই পরিবারের চার সন্তানের এই যাত্রা দেখায়, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রম থাকলে এক পরিবার থেকেই তৈরি হতে পারে বহুমুখী সাফল্যের গল্প।

পাবনা থেকে MIT, এরপর LIGO:  মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কারের গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সেলিম শাহরিয়ারবাংলাদেশের পাবনার সন্তান...
16/09/2026

পাবনা থেকে MIT, এরপর LIGO:
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কারের গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সেলিম শাহরিয়ার

বাংলাদেশের পাবনার সন্তান অধ্যাপক সেলিম শাহরিয়ার বিশ্ববিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে নিজের অবদান রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি আলোকবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হন।

বর্তমানে তিনি নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপনা ও গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম সংকেত শনাক্ত করার প্রযুক্তি উন্নয়ন। এই ধরনের প্রযুক্তি মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত যন্ত্রকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ হলো মহাবিশ্বে সংঘটিত বিশাল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার ফলে স্থান-কালের বুননে তৈরি হওয়া অতি ক্ষীণ কম্পন। দুটি কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ বা নিউট্রন তারকার মিলনের মতো ঘটনার সংকেত পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে কোটি কোটি বছর পরে। সেই অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করাই লিগোর মতো পর্যবেক্ষণাগারের বড় চ্যালেঞ্জ।

সেলিম শাহরিয়ার লিগো সায়েন্টিফিক কোলাবোরেশনের সঙ্গে যুক্ত গবেষণায় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কাজের লক্ষ্য ছিল এমন অপটিক্যাল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তকারী যন্ত্রের কার্যক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। এই গবেষণা মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

পাবনা থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাযাত্রা আজ আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিসরে পৌঁছেছে। অধ্যাপক সেলিম শাহরিয়ারের সাফল্য বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি বার্তা বহন করে—বিজ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম এবং বিশ্বমানের শিক্ষা মানুষের পথকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

হরিজন সম্প্রদায় থেকে সরকারি কলেজের বিভাগীয় প্রধান সুমা বাঁসফোরমৌলভীবাজারের একটি প্রান্তিক হরিজন পরিবার থেকে উঠে এসে শিক্...
15/09/2026

হরিজন সম্প্রদায় থেকে সরকারি কলেজের বিভাগীয় প্রধান সুমা বাঁসফোর

মৌলভীবাজারের একটি প্রান্তিক হরিজন পরিবার থেকে উঠে এসে শিক্ষা ও দৃঢ়তায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সুমা বাঁসফোর। বর্তমানে তিনি জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক এবং একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের জন্যও এটি এগিয়ে যাওয়ার শক্তিশালী প্রেরণা।

মৌলভীবাজার পৌরসভার ক্লাব রোড এলাকায় তাঁর জন্ম। বাবা বুধু বাঁসফোর ও মা তারাবতী বাঁসফোর সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও মেয়ের শিক্ষার প্রতি উৎসাহ ও সমর্থন ধরে রেখেছিলেন। পরিবারের সেই সহযোগিতা এবং সুমার নিজের লক্ষ্যপূরণের ইচ্ছাই তাঁকে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে নিয়েছে।

১৯৯৮ সালে মৌলভীবাজার আলী আমজাদ সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পাস করেন সুমা। এরপর মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। একই কলেজ থেকে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি লাভের পর তিনি ২০১০ সালে জামালপুরের আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। বর্তমানে ইসলামপুর সরকারি কলেজে শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিভাগ পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে তাঁর নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছে।

সুমা বাঁসফোরের জীবন দেখায়, জন্মপরিচয় কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতা কখনোই স্বপ্ন পূরণের চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না। প্রয়োজন নিজের লক্ষ্য স্থির রাখা, শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার এবং প্রতিকূলতার মুখেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস। তাঁর সাফল্য বিশেষ করে প্রান্তিক পরিবারের শিশু-কিশোরদের সামনে একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তরুণদের প্রতি তাঁর বার্তা সহজ কিন্তু গভীর—অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যে থেমে না গিয়ে নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের ওপর ভরসা রাখতে হবে। শিক্ষা মানুষকে শুধু কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা দেয় না; আত্মমর্যাদা, সচেতনতা এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থানও তৈরি করে। সুমা বাঁসফোরের পথচলা সেই সত্যেরই উজ্জ্বল প্রমাণ।

মা ছিলেন প্রথম মুসলিম নারী পিএইচডিধারী, দুই মেয়ে কেমব্রিজপড়ুয়া—  শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামউল্লাহর অনন্য উত্তরাধিকারশায়...
13/09/2026

মা ছিলেন প্রথম মুসলিম নারী পিএইচডিধারী, দুই মেয়ে কেমব্রিজপড়ুয়া—
শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামউল্লাহর অনন্য উত্তরাধিকার

শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামউল্লাহ এমন এক নারী, যাঁর জীবন শিক্ষার শক্তি ও সাহসী নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জনকারী প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধু শিক্ষাবিদ হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না; সাহিত্য, রাজনীতি ও কূটনীতিতেও তিনি রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া শায়েস্তা পড়াশোনা করেন লরেটো কলেজে। পরে উর্দু কথাসাহিত্যের বিকাশ নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এমন সময়ে তিনি এই অর্জন করেছিলেন, যখন অধিকাংশ মুসলিম নারীর জন্য উচ্চশিক্ষার পথ ছিল কঠিন ও সীমিত।

রাষ্ট্রীয় পরিসরেও ছিল তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদে নারী প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে তিনি কাজ করেন। জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং মরক্কোয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তিনি দেখিয়েছেন, নারী শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসের শক্তিতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নেতৃত্ব দিতে পারেন।

তাঁর দুই মেয়ে সালমা সোবহান ও প্রিন্সেস সারওয়াত এল হাসানও মায়ের এই শিক্ষার উত্তরাধিকার বহন করেছেন। সালমা সোবহান কেমব্রিজে আইন পড়ে ব্যারিস্টার হন এবং পরবর্তী সময়ে আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। অন্যদিকে প্রিন্সেস সারওয়াত এল হাসান কেমব্রিজ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকেন।

শায়েস্তা ও তাঁর দুই মেয়ের জীবন তিনটি আলাদা পথের গল্প হলেও তাদের মূল শক্তি এক—শিক্ষা। একজন নারী যখন নিজে এগিয়ে যান, তখন তাঁর প্রভাব শুধু একটি প্রজন্মে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি দিতে চায়নি, তিনিই হলেন প্রথম নারী এমএ— ১৮৮৩ সালেই গ্র্যাজুয়েট, বাঙালি নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে...
13/09/2026

বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি দিতে চায়নি, তিনিই হলেন প্রথম নারী এমএ— ১৮৮৩ সালেই গ্র্যাজুয়েট, বাঙালি নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ খুলে দিলেন চন্দ্রমুখী বসু

চন্দ্রমুখী বসুর জীবন নারীশিক্ষার ইতিহাসে এক অসাধারণ সংগ্রামের নাম। উনিশ শতকের সেই সময়ে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে সমাজ সহজভাবে মেনে নিত না। এমনকি মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির জন্য লড়াই করতে হয়েছিল।

চন্দ্রমুখী বসু ১৮৭৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু নারী হওয়ার কারণে তাঁর নাম সফল পরীক্ষার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দীর্ঘকাল পরে, ২০১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সেই বৈষম্যের কথা স্বীকার করে তাঁকে মরণোত্তর স্বীকৃতি দেয়।

সব বাধা অতিক্রম করে ১৮৮৩ সালে চন্দ্রমুখী বসু ও কাদম্বিনী বসু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা ছিলেন উপমহাদেশে নারী উচ্চশিক্ষার প্রথম দিকের উজ্জ্বল প্রতীক। পরের বছর চন্দ্রমুখী বসু এমএ ডিগ্রি লাভ করে নতুন ইতিহাস গড়েন—ভারতীয় নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এমএ ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচিত হন।

তাঁর সংগ্রাম কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাঙালি নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরে তিনি বেথুন কলেজে শিক্ষকতা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষও হন। তাঁর পথচলা প্রমাণ করে, শিক্ষা অর্জনের অধিকার কারও অনুগ্রহ নয়—এটি যোগ্যতা, সাহস ও দৃঢ়তার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।

চন্দ্রমুখী বসুর নাম আজও নারীর আত্মমর্যাদা, শিক্ষার অধিকার এবং অসমতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, বাংলাপিডিয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট লীলা নাগ—  যে নারী ভেঙেছিলেন উচ্চশিক্ষার প্রথম দেয়াললীলা নাগ ছিলেন নারীশিক্ষ...
13/09/2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট লীলা নাগ—
যে নারী ভেঙেছিলেন উচ্চশিক্ষার প্রথম দেয়াল

লীলা নাগ ছিলেন নারীশিক্ষা ও নারীজাগরণের এক অগ্রদূত। এমন এক সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে এসেছিলেন, যখন সমাজে মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষা গ্রহণ ছিল অত্যন্ত কঠিন ও বিরল ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্নে তাঁর শিক্ষা গ্রহণের পথ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না; তা ছিল নারীকে জ্ঞানের সমান অধিকার দেওয়ার এক সাহসী ঘোষণা।

লীলা নাগ, যিনি পরে লীলা রায় নামেও পরিচিত হন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি এর প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট। সে সময় ছাত্রীদের জন্য আবাসনের অভাব এবং সামাজিক রক্ষণশীলতা নারীশিক্ষার পথে বড় বাধা ছিল। তবু তাঁর দৃঢ়তা পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য নারীর জন্য উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে দেয়।

শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই তিনি থেমে থাকেননি। ১৯২৩ সালে তিনি ‘দীপালি সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নারীকে আত্মনির্ভরশীল, সচেতন ও সমাজে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তাঁর সংগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য।

লীলা নাগের জীবন আমাদের শেখায়, একটি সাহসী সিদ্ধান্ত কখনো কখনো পুরো সমাজের গতিপথ বদলে দিতে পারে। উচ্চশিক্ষার প্রথম দেয়াল ভেঙে তিনি যে পথ তৈরি করেছিলেন, সেই পথ ধরে আজ অসংখ্য নারী স্বপ্ন দেখছেন, শিখছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া

বিমান আসছে, যুদ্ধবিমান আসছে, বেতনও বাড়ছে—জনগণের ভাগ্যে কী আসছে?একটু থামুন।একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে বোয়...
04/09/2026

বিমান আসছে, যুদ্ধবিমান আসছে, বেতনও বাড়ছে—জনগণের ভাগ্যে কী আসছে?

একটু থামুন।

একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে বোয়িং বিমান কেনার আলোচনা।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ।
আর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তুষ্ট রাখতে বাড়ছে বেতন-ভাতার আলোচনা।

সবই দরকার হতে পারে।
রাষ্ট্রের বিমান দরকার, প্রতিরক্ষা দরকার, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতনও দরকার।

কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।

আমাদের জন্য কী?

যে মানুষটা প্রতিদিন বাজারে গিয়ে হিসাব মেলাতে পারছে না—তার জন্য কী আসছে?

যে তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি হাতে নিয়ে চাকরির অপেক্ষায় বসে আছে—তার জন্য কী আসছে?

যে কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম নিয়ে চিন্তিত—তার জন্য কী আসছে?

যে পরিবার একজন অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার খরচের চিন্তায় পড়ে যায়—তাদের জন্য কী আসছে?

আর যে মধ্যবিত্ত পরিবার মাসের শেষ সপ্তাহে এসে সংসারের বাজেট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে—তাদের জন্য কী?

জনগণ কি শুধু ভোট দেওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ?

নির্বাচনের সময় জনগণই রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
তখন তাদের একটি ভোটের মূল্য অনেক।

কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা যদি অগ্রাধিকারের তালিকায় পিছিয়ে যায়—তাহলে প্রশ্ন তো উঠবেই।

আমরা চাই সরকার শক্তিশালী হোক।
আমরা চাই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হোক।
আমরা চাই বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকুক।
আমরা চাই সরকারি কর্মচারীরাও সম্মানজনক জীবনযাপন করুন।

কিন্তু একই সঙ্গে আমরা চাই সাধারণ মানুষও স্বস্তিতে বাঁচুক।

কারণ একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার বিমানবাহিনীতে নয়—
তার শক্তি থাকে তার মানুষের পকেটে, ঘরে, কর্মস্থলে এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তায়।

তাই সরকারের কাছে বিরোধিতার জন্য নয়,
জানার জন্য একটি প্রশ্ন—

আমেরিকা খুশি হলো কি না, চীন খুশি হলো কি না, আমলারা খুশি হলো কি না—এসবের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কতটা খুশি, সেই হিসাবটা কোথায়?

যে জনগণ ভোট দিয়ে আপনাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে,
তাদের জীবনে এমন কী পরিবর্তন এসেছে—
যার জন্য তারা একদিন গর্ব করে বলতে পারবে,

“হ্যাঁ, এই সরকার আমাদের জন্য কাজ করেছে।”

কারণ শেষ পর্যন্ত ইতিহাস শুধু মনে রাখে না—
কী কেনা হয়েছিল।

ইতিহাস মনে রাখে,
মানুষের জীবন কতটা বদলেছিল।

#জীবনদর্শন #জনগণেরকথা #জনস্বার্থ #বাংলাদেশ

মানুষের শরীরে বিষের প্রতিকার অনেক সময় চিকিৎসায় সম্ভব হলেও, কানে ঢোকানো কুৎসা, অপবাদ ও বিদ্বেষের কথা মনের গভীরে দীর্ঘস্থা...
04/09/2026

মানুষের শরীরে বিষের প্রতিকার অনেক সময় চিকিৎসায় সম্ভব হলেও, কানে ঢোকানো কুৎসা, অপবাদ ও বিদ্বেষের কথা মনের গভীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে। কারও সম্পর্কে না জেনে বলা নেতিবাচক কথা সম্পর্কের বিশ্বাস নষ্ট করে, ভুল বোঝাবুঝি বাড়ায় এবং মানুষের মনে সন্দেহ জন্ম দেয়।

গুজব বা একপক্ষের কথা শুনে কাউকে বিচার করা তাই খুবই বিপজ্জনক। কারণ আমরা অনেক সময় সত্য যাচাই না করেই শোনা কথাকে বিশ্বাস করি। এতে নির্দোষ মানুষ কষ্ট পান, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং পরিবেশ বিষিয়ে ওঠে।

কোনো কথা শোনার আগে তার সত্যতা যাচাই করা দরকার। অন্যের সম্পর্কে মন্দ কথা ছড়ানোর বদলে সরাসরি কথা বলা, প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সহানুভূতিশীল হওয়াই শ্রেয়। সুন্দর ভাষা ও ন্যায্য মনোভাব মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে; আর কুৎসা সেই আস্থাকেই নষ্ট করে দেয়।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জীবন দর্শন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share