অনন্ত লোকের স্পর্শ

অনন্ত লোকের স্পর্শ Follow for more important content
(2)

ভারতের বিজেপি এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের ধর্মীয় পরিচয় আলাদা, ইতিহাস আলাদা, রাষ্ট্রীয় বাস্তবতাও আলাদা। একপক্...
12/05/2026

ভারতের বিজেপি এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের ধর্মীয় পরিচয় আলাদা, ইতিহাস আলাদা, রাষ্ট্রীয় বাস্তবতাও আলাদা। একপক্ষ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে, অন্যপক্ষ ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বহুদিন ধরেই একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—ধর্ম ভিন্ন হলেও তাদের রাজনীতির কিছু কৌশল ও মানসিকতায় কি মিল আছে

সাদৃশ্যের জায়গাগুলো মূলত এখানেই দেখা যায়।

দুই দলই ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। তারা শুধু রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, নিজেদের একটি “আদর্শিক আন্দোলন” হিসেবেও তুলে ধরতে চায়। ফলে সমর্থকদের কাছে রাজনীতি শুধু ভোটের বিষয় থাকে না, এটি বিশ্বাসের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

আরেকটি মিল হলো
দুই পক্ষই নিজেদের সংস্কৃতি বা ধর্মকে “হুমকির মুখে” দেখানোর ভাষা ব্যবহার করে। বিজেপি হিন্দু পরিচয় রক্ষার কথা বলে, আর জামায়াত ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার কথা বলে। এই ধরনের রাজনীতি মানুষের আবেগকে দ্রুত প্রভাবিত করে।

তবে এখানেই শেষ না।
দুই দলের বিরোধীরাও প্রায়ই অভিযোগ করে—তারা সমাজকে “আমরা বনাম তারা” বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়। অর্থাৎ ভিন্ন মত বা ভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে অনেক সময় সন্দেহ বা বিরোধিতার জায়গায় দাঁড় করানো হয়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও আছে।

বিজেপি বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন বৃহৎ জাতীয় দল, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই সরাসরি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মূলধারার ক্ষমতায় কখনো এককভাবে আসেনি এবং তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় গড়ে উঠেছে।

আরেকটি বড় পার্থক্য হলো
ভারতের রাজনীতি বহুদিন ধরেই শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক বাস্তবতা আবার ভিন্ন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন বড় ভূমিকা রাখে।

তাই বিজেপি আর জামায়াতকে পুরোপুরি “এক” বলা যেমন ভুল হবে, তেমনি তাদের রাজনীতির কিছু মিল একেবারে অস্বীকার করাও কঠিন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো
যখনই কোনো রাজনীতি মানুষের পরিচয়কে অতিরিক্ত আবেগের জায়গায় নিয়ে যায়, তখন সমাজে বিভাজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়
যখন ধর্ম, মত, পরিচয় ভিন্ন হলেও মানুষ একে অপরকে শত্রু না ভেবে সহনাগরিক হিসেবে দেখতে শেখে।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি মানুষকে বেশি এক করে
নাকি আরও বেশি বিভক্ত করে?

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা না, এটি মানুষের মানসিক পরিবর্তনেরও একটি বড় বার্তা। দীর্ঘ ১৫ ...
12/05/2026

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা না, এটি মানুষের মানসিক পরিবর্তনেরও একটি বড় বার্তা। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ২০০ এর বেশি আসন পেয়েছে, আর তৃণমূল অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে
হঠাৎ এমন পরিবর্তন কেন হলো

সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মানুষের ক্লান্তি। দীর্ঘদিন একই দল ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গেও অনেক মানুষ মনে করছিলেন রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতির অভিযোগ, দলীয় প্রভাব আর স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়ে গেছে।

বিশেষ করে চাকরি দুর্নীতি, শিক্ষা নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীরা যেভাবে প্রচার চালিয়েছে, তা মানুষের মনে বড় প্রভাব ফেলেছে। অনেক ভোটার মনে করেছেন পরিবর্তন দরকার।

আরেকটি বড় কারণ ছিল বিজেপির সংগঠন। কয়েক বছর আগেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছিল তুলনামূলক দুর্বল। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা গ্রাম পর্যন্ত নিজেদের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এই নির্বাচনে প্রচুর সময় ও কৌশল ব্যয় করেছে।

তৃণমূলের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা ছিল সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় মুসলিম ভোট আগের মতো একদিকে যায়নি। ফলে তৃণমূলের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকে প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি “পরিবর্তন” শব্দটাকেই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা মানুষকে বোঝাতে পেরেছে যে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন রাজনৈতিক দিক দরকার।

তবে এই ফলাফল শুধু তৃণমূলের হার না, বিজেপির জন্যও বড় পরীক্ষা। কারণ মানুষ শুধু রাগ থেকে ভোট দেয় না, প্রত্যাশা নিয়েও ভোট দেয়। এখন মানুষ দেখতে চাইবে
সহিংসতা কমে কি না
দুর্নীতি কমে কি না
এবং সাধারণ মানুষের জীবন কতটা বদলায়

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই
মানুষ যখন চায়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতাকেও বদলে দিতে পারে

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

09/05/2026

এখানে সব কিছু সুখের মতো তবে এতোটুকু সুখ নেই....

ভীষণ জটিল এক টানাপোড়েনের নাম সেই সম্পর্ক—না পুরোপুরি নিজের, না পুরোপুরি হারানো।পুরনো স্মৃতিগুলো আজও নরম থাকে,কামনা-বাসনা...
28/04/2026

ভীষণ জটিল এক টানাপোড়েনের নাম সেই সম্পর্ক—
না পুরোপুরি নিজের, না পুরোপুরি হারানো।

পুরনো স্মৃতিগুলো আজও নরম থাকে,
কামনা-বাসনা হীন এক ভালোবাসায় মোড়া—
যেখানে ছিল শুধু আদর, যত্ন, আর নিঃশব্দে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি।

সময় বদলে দেয় অবস্থান,
মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়,
কিন্তু কিছু অনুভূতি জায়গা বদলায় না।

না ফেলা যায়,
না ভোলা যায়—
শুধু বয়ে নিয়ে চলতে হয়।

হয়তো সব সম্পর্ক শেষ হওয়ার জন্য না,
কিছু সম্পর্ক শুধু মনে থেকে যাওয়ার জন্যই জন্মায়…

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

জিয়াম্বাতিস্তা ভিকো ১৬৬৮ সালে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৪৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন এমন একজন দার্শনিক, যিনি ইত...
27/04/2026

জিয়াম্বাতিস্তা ভিকো ১৬৬৮ সালে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৪৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন এমন একজন দার্শনিক, যিনি ইতিহাসকে নতুনভাবে বোঝার পথ দেখিয়েছেন।

ভিকোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল
মানুষ যা তৈরি করে, মানুষ সেটাকেই সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারে

তার বিখ্যাত গ্রন্থ
The New Science
যেখানে তিনি দেখিয়েছেন
মানবসভ্যতা কোনো হঠাৎ তৈরি কিছু না
এটি মানুষের চিন্তা, কাজ, সংস্কৃতি আর অভিজ্ঞতার ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা ফল

তিনি বিশ্বাস করতেন
ইতিহাস শুধু ঘটনা না
ইতিহাস হলো মানুষের চিন্তার প্রতিফলন
একটি জাতি যেমন ভাবে, তেমনই তার সমাজ গড়ে ওঠে

ভিকো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন
সভ্যতা বারবার ওঠে, আবার পড়ে
মানুষ ভুল করে, আবার শেখে
এভাবেই ইতিহাস এগিয়ে চলে

তার দর্শনের সবচেয়ে বড় অবদান হলো
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন ইতিহাস মুখস্থ করার বিষয় না
ইতিহাস বোঝার বিষয়
কারণ আমরা যদি অতীতকে বুঝতে না পারি
তাহলে একই ভুল বারবার করব

আজকের পৃথিবীতে যেখানে মানুষ নিজের শিকড় ভুলে যাচ্ছে
সেখানে ভিকোর চিন্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়
আমরা আমাদের ইতিহাসের ফল
আর ভবিষ্যৎও আমরা নিজেরাই তৈরি করছি

তুমি কি মনে করো
আমরা ইতিহাস থেকে শিখি
নাকি শুধু একই ভুল বারবার করি

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

সম্প্রতি একটি ভিডিও ঘিরে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন শিক্ষক ও একজন রাজনৈতিক ...
24/04/2026

সম্প্রতি একটি ভিডিও ঘিরে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন শিক্ষক ও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ—যেখানে দুজনই সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছেন। এই দৃশ্য শুধু একটি ঘটনা না, এটি আমাদের সমাজের ভেতরের অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি।

একটি কলেজ, যেখানে জ্ঞান, শৃঙ্খলা আর সম্মানের চর্চা হওয়ার কথা—সেখানেই যদি মারামারি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে আমাদের থেমে ভেবে দেখা দরকার আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো
কেন আমরা এত দ্রুত উত্তেজিত হয়ে পড়ি
কেন আমরা সংলাপের বদলে সংঘর্ষ বেছে নিই
কেন আমরা ক্ষমতার অবস্থানকে দায়িত্ব নয়, আধিপত্য হিসেবে দেখি

আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে
এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় কেউ এগিয়ে আসে না
প্রশাসনিক ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ে
আইনের প্রয়োগ নিয়ে মানুষের আস্থা কমে যায়

একটি সুস্থ সমাজে
একজন শিক্ষক হবেন সম্মানের প্রতীক
একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হবেন দায়িত্বের প্রতীক
কিন্তু যখন আচরণে এই পার্থক্য মুছে যায়
তখন বোঝা যায় সমস্যা শুধু ব্যক্তির না, পুরো ব্যবস্থার

আমাদের সমাজে ধীরে ধীরে সহনশীলতা কমছে
মানুষ দ্রুত বিচার করছে, দ্রুত রেগে যাচ্ছে
আর ছোট একটি ঘটনারও বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে

সমাধান কোথায়
সমাধান শুরু হতে পারে খুব ছোট জায়গা থেকে
নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা
অন্যকে সম্মান করা
ভিন্ন মতকে সহ্য করা
এবং আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা

একটা দেশ তখনই এগোয়
যখন তার মানুষ নিজেদের আচরণের জন্য দায় নেয়

আমরা কি সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত
নাকি অস্থিরতাকেই নতুন স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিচ্ছি

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

রিচার্ড রর্টি ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন একজন মার্কিন দার্শনিক, যিনি প্রচলিত দর্শ...
24/04/2026

রিচার্ড রর্টি ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন একজন মার্কিন দার্শনিক, যিনি প্রচলিত দর্শনের ধারণাকে ভেঙে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন।

তার সবচেয়ে আলোচিত গ্রন্থ
Philosophy and the Mirror of Nature
Contingency Irony and Solidarity
Achieving Our Country

এই বইগুলোর মাধ্যমে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন
মানুষ যে সত্য খুঁজে বেড়ায়, সেটি কোনো স্থির বা চিরন্তন জিনিস না
বরং আমরা যে ভাষায় কথা বলি, যে সমাজে বড় হই, যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাই
সেইসব মিলিয়েই আমাদের কাছে সত্য তৈরি হয়

রিচার্ড রর্টি বিশ্বাস করতেন
সত্যের চেয়ে মানুষের প্রতি সহানুভূতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ
কারণ মানুষকে বোঝা, মানুষের কষ্টকে অনুভব করা
এটাই একটি মানবিক সমাজ গড়ার মূল ভিত্তি

তার দর্শনের সবচেয়ে বড় অবদান হলো
তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন ভিন্ন মতকে সম্মান করতে
নিজের ভাবনাকে একমাত্র সত্য না ভাবতে
এবং মতের ভিন্নতাকে সংঘর্ষ নয়, আলোচনার জায়গা হিসেবে দেখতে

আজকের এই পৃথিবীতে
যেখানে সবাই নিজের কথাকেই শেষ সত্য মনে করে
সেখানে রর্টির চিন্তা আমাদের থামিয়ে দেয়
আর মনে করিয়ে দেয়
সত্য একা না, সত্য অনেক রকম হতে পারে

তুমি কি মনে করো
আমরা সত্য খুঁজি
নাকি নিজের মতো করে সত্য তৈরি করি

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

চার্লস টেলর জন্ম ১৯৩১ সালে, কানাডার একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যিনি মানুষের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং সমাজ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ক...
23/04/2026

চার্লস টেলর জন্ম ১৯৩১ সালে, কানাডার একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যিনি মানুষের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং সমাজ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছেন। তার দর্শনের মূল কথা—মানুষ কে, তা শুধু সে নিজে ঠিক করে না, তার চারপাশের সমাজ, ভাষা আর সংস্কৃতিও তাকে গড়ে তোলে।

তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ
Sources of the Self
The Ethics of Authenticity
A Secular Age

এই বইগুলোর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন—
মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো “আমি কে”
আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মানুষ সারাজীবন লড়াই করে

চার্লস টেলর বিশ্বাস করতেন
মানুষ একা কোনো সত্তা না
সে তার পরিবার, সমাজ, ইতিহাস আর সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে থাকে

আমরা অনেক সময় ভাবি নিজের মতো বাঁচাই স্বাধীনতা
কিন্তু টেলর বলছেন
নিজেকে বুঝতে হলে আগে নিজের শিকড়কে বুঝতে হবে

তার দর্শনের সবচেয়ে বড় অবদান হলো
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন পরিচয় কোনো একা যাত্রা না
এটা এক ধরনের সংলাপ
নিজের সাথে, সমাজের সাথে, সময়ের সাথে

আজকের এই পৃথিবীতে যেখানে মানুষ নিজের পরিচয় নিয়েই বিভ্রান্ত
সেখানে টেলরের চিন্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়
নিজেকে খুঁজে পাওয়া মানে শুধু নিজের ভেতর দেখা না
বরং চারপাশকেও বোঝা

তুমি কি জানো তুমি আসলে কে
নাকি এখনো খুঁজে চলেছো নিজের পরিচয়

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

মার্থা নুসবাম একজন সমসাময়িক প্রভাবশালী দার্শনিক, জন্ম ১৯৪৭ সালে, যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি মূলত নৈতিক দর্শন, মানবাধিকার এবং সা...
22/04/2026

মার্থা নুসবাম একজন সমসাময়িক প্রভাবশালী দার্শনিক, জন্ম ১৯৪৭ সালে, যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি মূলত নৈতিক দর্শন, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়ের বিষয়ে তার গভীর চিন্তার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

তার কাজের মূল কথা খুব সহজ কিন্তু গভীর
মানুষের জীবন শুধু বেঁচে থাকার জন্য না,
মানুষের মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

তার সবচেয়ে আলোচিত ধারণা “Capabilities Approach”
যেখানে তিনি বলেন, একটি সমাজ তখনই উন্নত,
যখন সেই সমাজের প্রতিটি মানুষ তার সম্ভাবনা অনুযায়ী বাঁচতে পারে
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্মান, স্বাধীনতা—এইগুলোই আসল উন্নতির মাপকাঠি

তার কিছু উল্লেখযোগ্য বই হলো
Creating Capabilities
Frontiers of Justice
Not for Profit

এই বইগুলোর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন
শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে একটি দেশকে বিচার করা যায় না
মানুষ কতটা সম্মান নিয়ে বাঁচছে সেটাই আসল বিষয়

মার্থা নুসবামের সবচেয়ে বড় অবদান হলো
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন অন্যের কষ্টকে অনুভব করতে
সহানুভূতিকে দুর্বলতা না ভেবে শক্তি হিসেবে দেখতে
এবং সমাজকে এমনভাবে গড়ে তুলতে
যেখানে সবাই সমানভাবে বাঁচার সুযোগ পায়

তার দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়
মানুষ হওয়া মানে শুধু নিজের জন্য বাঁচা না
বরং অন্যের জীবনের মূল্য বোঝা

আজকের পৃথিবীতে যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে সংবেদনশীলতা হারাচ্ছে
সেখানে নুসবামের চিন্তা আমাদের আবার মানবিক হতে শেখায়

তুমি কি মনে করো
একটা সমাজ শুধু উন্নত হলেই যথেষ্ট
নাকি মানুষের মর্যাদা আর সহানুভূতিই আসল উন্নতি

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

20/04/2026

ধর্মান্ধদের বিকৃত কথা বার্তায় লক্ষ লক্ষ মানুষ নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে...

যে ভালোবাসার জন্য নিজেকে বদলাতে হয়,নিজের স্বাভাবিকতাকে লুকিয়ে রাখতে হয়,প্রতিটা মুহূর্তে “পারফেক্ট” দেখাতে হয়—সেটা ভালোবা...
18/04/2026

যে ভালোবাসার জন্য নিজেকে বদলাতে হয়,
নিজের স্বাভাবিকতাকে লুকিয়ে রাখতে হয়,
প্রতিটা মুহূর্তে “পারফেক্ট” দেখাতে হয়—
সেটা ভালোবাসা না, সেটা একটা অভিনয়।

ভালোবাসা তখনই সত্যি,
যখন তুমি নিজের মতো থাকতে পারো—
এলোমেলো চুল, ক্লান্ত মুখ,
অপূর্ণতা আর ছোট ছোট ভুলগুলো নিয়েই।

কারণ সত্যিকারের প্রেম কখনো সাজানো সৌন্দর্য খোঁজে না,
সে খোঁজে মানুষের ভেতরের সত্যটাকে।

যে তোমার ত্রুটি ঢাকতে বলে না,
বরং সেই ত্রুটিগুলো নিয়েই তোমাকে গ্রহণ করে—
সেই মানুষটাই তোমার জন্য ঠিক।

আমরা অনেকেই ভালোবাসা খুঁজি,
কিন্তু খুব কম মানুষই খুঁজে পাই এমন কাউকে,
যার সামনে নিজেকে বদলাতে হয় না।

তাই মনে রাখো—
যে ভালোবাসা তোমাকে নিজের মতো থাকতে দেয় না,
সেটা ধরে রাখার কোনো মানে নেই।

আর যে ভালোবাসা তোমার এলোমেলো দিকগুলোও ভালোবেসে ফেলে—
সেটাই সত্যিকারের প্রেম।

#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ

Address

Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অনন্ত লোকের স্পর্শ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share