16/09/2026
সাংবাদিকতা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্বব্যাংক হয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদ মুহিউদ্দীন
খালেদ মুহিউদ্দীনের কর্মজীবন একাধিক পেশাগত পরিচয়ের সমন্বয়ে গড়া। সাংবাদিকতা দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে আবার গণমাধ্যমে ফিরেছেন। শিক্ষকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা, পরামর্শকতা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নেতৃত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন মাত্রার পরিচিতি দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি সংবাদপেশায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে একই বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। সাংবাদিকতা বিষয়ে আরও উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
তাঁর শুরুর কর্মজীবনের একটি বড় অংশ ছিল প্রিন্ট ও অনলাইন সাংবাদিকতায়। দৈনিক প্রথম আলোয় কাজের সময়ে নগরজীবন, আইন-আদালত এবং খনিজ সম্পদসহ নানা বিষয়ে প্রতিবেদন করেছেন। পরে বিডিনিউজ২৪ ডটকমে সংবাদ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।
সাংবাদিকতার বাইরে গিয়ে তিনি ২০তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত করে। তবে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকার পরও সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর আগ্রহ অটুট ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি আবার গণমাধ্যমকেই নিজের প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবে স্বল্প সময় কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এই কাজ তাঁকে উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী প্রযোজক ও ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন।
২০১৯ সালে তিনি জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব নেন। এই পদে থেকে বাংলা ভাষাভাষী দর্শক-শ্রোতার জন্য আন্তর্জাতিক মানের সংবাদ, বিশ্লেষণ ও সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরার কাজে নেতৃত্ব দেন। ২০২৪ সালে ডয়চে ভেলের দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত হন।
খালেদ মুহিউদ্দীনের কর্মজীবন দেখায়, একটিমাত্র পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখেও সাফল্যের পথ তৈরি করা যায়। সাংবাদিকতা, প্রশাসন, উন্নয়নসংক্রান্ত কাজ, শিক্ষকতা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম—সব ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তাঁর যাত্রা তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে: নতুন দক্ষতা অর্জন এবং নিজের আগ্রহের জায়গায় ফিরে আসার সাহস পেশাগত জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে।