12/05/2026
ভারতের বিজেপি এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের ধর্মীয় পরিচয় আলাদা, ইতিহাস আলাদা, রাষ্ট্রীয় বাস্তবতাও আলাদা। একপক্ষ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে, অন্যপক্ষ ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বহুদিন ধরেই একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—ধর্ম ভিন্ন হলেও তাদের রাজনীতির কিছু কৌশল ও মানসিকতায় কি মিল আছে
সাদৃশ্যের জায়গাগুলো মূলত এখানেই দেখা যায়।
দুই দলই ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। তারা শুধু রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, নিজেদের একটি “আদর্শিক আন্দোলন” হিসেবেও তুলে ধরতে চায়। ফলে সমর্থকদের কাছে রাজনীতি শুধু ভোটের বিষয় থাকে না, এটি বিশ্বাসের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
আরেকটি মিল হলো
দুই পক্ষই নিজেদের সংস্কৃতি বা ধর্মকে “হুমকির মুখে” দেখানোর ভাষা ব্যবহার করে। বিজেপি হিন্দু পরিচয় রক্ষার কথা বলে, আর জামায়াত ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার কথা বলে। এই ধরনের রাজনীতি মানুষের আবেগকে দ্রুত প্রভাবিত করে।
তবে এখানেই শেষ না।
দুই দলের বিরোধীরাও প্রায়ই অভিযোগ করে—তারা সমাজকে “আমরা বনাম তারা” বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়। অর্থাৎ ভিন্ন মত বা ভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে অনেক সময় সন্দেহ বা বিরোধিতার জায়গায় দাঁড় করানো হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও আছে।
বিজেপি বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন বৃহৎ জাতীয় দল, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই সরাসরি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মূলধারার ক্ষমতায় কখনো এককভাবে আসেনি এবং তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় গড়ে উঠেছে।
আরেকটি বড় পার্থক্য হলো
ভারতের রাজনীতি বহুদিন ধরেই শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক বাস্তবতা আবার ভিন্ন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন বড় ভূমিকা রাখে।
তাই বিজেপি আর জামায়াতকে পুরোপুরি “এক” বলা যেমন ভুল হবে, তেমনি তাদের রাজনীতির কিছু মিল একেবারে অস্বীকার করাও কঠিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো
যখনই কোনো রাজনীতি মানুষের পরিচয়কে অতিরিক্ত আবেগের জায়গায় নিয়ে যায়, তখন সমাজে বিভাজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়
যখন ধর্ম, মত, পরিচয় ভিন্ন হলেও মানুষ একে অপরকে শত্রু না ভেবে সহনাগরিক হিসেবে দেখতে শেখে।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি মানুষকে বেশি এক করে
নাকি আরও বেশি বিভক্ত করে?
#অনন্ত_লোকের_স্পর্শ