14/07/2021
👉আসুন একটু নেপাল ঘুরে আসি✋
🇧🇩🚌সড়ক পথে ঢাকা টু নেপাল ভ্রমন🚌🇳🇵
✋আগেই বলে রাখা ভালো যারা ভ্রমন প্রিয় ও ধৈর্যশীল তাদের জন্যই আমার এই লেখাটি👉
☑️সড়ক পথে যারা বাংলাদেশ থেকে নেপাল ভ্রমন করবেন তাদের জন্য কিছু বিষয় জেনে রাখা খুব প্রয়োজন। সড়ক পথে নেপাল যেতে হলে সর্ব প্রথম ইন্ডিয়ার ট্রান্সিট ভিসা নিতে হবে। আর ট্রান্সিট ভিসা নিতে হলে আগে অবশ্যই নেপাল ভিসা থাকতে হবে।
কিন্তু এখানে বলে রাখা খুব প্রয়োজন যে আপনে যখন নেপাল ভিসা করতে যাবেন তারাও অনেক সময় আপনাকে বলতে পারে আগে ইন্ডিয়ান ভিসা নিয়ে আসেন আর ঝামেলা তখনই হয় কারন ইন্ডিয়া নেপাল ভিসা ছাড়া কখনই আপনার আবেদন গ্রহন করবে না।
☑️এবার জেনে নেই নেপাল ভিসার আবেদনের জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়।
* নেপাল এম্বাসি ঢাকা এর ওয়েবসাইড এ ভিসা অপশন এ একটা আবেদন ফর্ম দেওয়া আছে সেটা ডাউনলোড করে হাতে লিখতে হবে।
* জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি
* পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
* পাসপোর্ট এর প্রথম দুই পাতার কপি।
* আপনি যদি চাকুরিজীবী হোন অবশ্যই NOC লেটার লাগবে। স্টুডেন্ট হলে ভেলিড স্টুডেন্ট ID কার্ড এবং যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছেন তার সত্যায়িত সনদ পত্র ও রিকোমেন্ডেশন লেটার।
* যাওয়া ও আসার দুইটা টিকিটি। ( ঢাকা টু বুড়িমারি)
* হোটেল বুকিং এর পেপার। ( বুকিং ডট কম বা যেকোন ভাল সাইড থেকে)
সব ঠিক থাকলে ১ম কার্যদিবসে নেপাল ভিসা দিয়ে দেয়। নেপাল এম্বাসিতে ডকুমেন্টস জমা দেওয়ার সময় সকাল ১০-০২ দুপুর টার মধ্যে। এবং ডেলিভারি বিকাল ০৩-০৫ টা।
নেপাল ভিসার জন্য কোন ভিসা ফি দিতে হয় না।তবে একই বছর যদি দ্বিতীয়বার ভ্রমন করলে ভিসা দিতে হবে।
★১৫ দিনের মাল্টিপল ভিসার জন্য ফি ২০০০টাকা
★ ৩০ দিনের মাল্টিপল ভিসার জন্য ফি ৩০০০ টাকা
★ ৯০ দিনের মাল্টিপল ভিসার জন্য ফি ৪০০০ টাকা
☑️ এর পর ইন্ডিয়ার ভিসা
ট্রান্সিট ভিসার জন্য এপ্লাই আর এর জন্য মুটামুটি নরমাল টুরিষ্ট ভিসার মতই ডকুমেন্টস সাথে শুধু বাসের রিটার্ন টিকিট ও টিকিট কপি ও হোটেল বুকিং পেপার। আর অনলাইন ফরমে পোর্ট সিলেকশন এ অবশ্যই বাই রোড চেংরাবান্দা&রানীগঞ্জ সিলেক্ট করতে হবে এন্ট্রি&এক্সিট। এবং যাত্রার তারিখ ও ভ্রমন এর তারিখ মিল থাকতে হবে এটার উপর আপনার ভিসা পাওয়া অনেকংশে নির্ভির করবে। ভিসার সকল কার্যক্রম শেষ হলে ভিসার জন্য অপেক্ষা করুন এবং যথাসময় ভিসা নিয়ে চলে যান✋
☑️এবার আসা যাক কিভাবে চেংরাবান্দা & রানীগঞ্জ বর্ডার এ পৌচ্ছাবেন
ঢাকা থেকে আপনার বাসার কাছাকাছি যে বাসস্ট্যান্ড আছে খোঁজ নেন চেংরাবান্দার উদ্দেশ্যে কোন কোন বাস ছেড়ে যায়... ঢাকা থেকে শ্যামলি, এস এ, হানিফ, পিংকি, মানিক, শাহপরান, লালন ইত্যাদি পরিবহন চেংরাবান্দার উদ্দেশ্যে রাত ৭-১০ টার মধ্যে ছেড়ে যায় ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা সময় লাগবে ৮-১০ ঘন্টা। এবার চেংরাবান্দা বর্ডার থেকে আপনি চাইলে টেক্সি বা জিপে করে(লোকসংখার উপর নির্ভর করে) গাড়ি নিয়ে চলে যান রানীগঞ্জ বর্ডার ভাড়া নেবে ২০০০-২৫০০রুপি সময় ৩-৪ ঘন্টা। অথবা বর্ডার থেকে ৩০ রুপি করে অটো দিয়ে চলে যান শিলিগুড়ি কুচবিহার হাইওয়ে সেখান থেকে বাসে করে পানির ট্যাংকি পর্যন্ত ভাড়া ১০০-১৫০ রুপি সময় লাগবে ৩-৪ ঘন্টা। সেখানে পৌচ্ছে কয়েক মিনিট পায়ে হাটার পথ রানীগঞ্জ বর্ডার। ইমেগ্রেশন করে অটো ধরে চলে যান নেপালের কাকড়ভিটা বর্ডার ভাড়া ১০ রুপি। এরপর ইমেগ্রেশন কমপ্লিট করে কয়েক মিনিট হাটলে কাঠমুন্ড ও পোখরাগামী বাস পেয়ে যাবেন। যদি কাঠমুন্ড যান তাহলে ভাড়া পরবে ১০০০-১২০০ রুপি। সময় লাগবে ১২-১৪ ঘন্টা। অনেক সময় বেশিও লাগতে পারে। নেপাল ভ্রমন এর ক্ষেত্রে সময়ের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। নেপাল কাকড়ভিটা বর্ডার থেকে শেষ বাস ছেড়ে যায় বিকেল ৫ টায় এটা মনে রাখতে হবে।
☑️ইমেগ্রেশন কার্যক্রমঃ
নেপাল ভ্রমনে আপনাকে ইমেগ্রেশন এর কিছু গুরত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমে বাংলাদেশ বর্ডার (বুড়িমারি)এর ভ্রমন টেক্স ও উন্নয়ন ফি সহ ৫৪৫ টাকা দিতে হবে তবে ইচ্ছে করলে আপনে ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে দিয়ে যেতে পারেন। আর বাংলাদেশ সাইডে সকল কার্যক্রম আপনে যে বাসে যাবেন সে বাসের লোকেরাই করে দিবে এর জন্য আলাদা ১০০ টাকা দিতে হবে আর নিজে চাইলে করতে পারবেন বাট ইমেগ্রেশন এ অনেক দেরি করবে সাজেস্ট সামান্য টাকার জন্য কয়েক ঘন্টার প্যারা নিতে গিয়ে ঝামেলা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। আরেকটা বিষয় যারা চাকুরীজীবী তারা অবশ্যই NOC লেটার নিয়ে যাবেন, না হয় বাংলাদেশ বর্ডার ঝামেলা করে যার বিপরীতে কিছু টাকা ফাও উপোঢৌকন দিতে হবে😂। এবার বাংলাদেশ ইমেগ্রেশন শেষ করে ভারতে ইমেগ্রেশন চেংরাবান্দা সাইডে গিয়ে সেখানে সকল কার্যক্রম শেষ করুন এখানেও ১০০ টাকা লাগবে। এরপর কিছু টাকা বা ডলার রুপি করে নেন এখানে রেট ভাল পাবেন। তারপর রানীগঞ্জ বর্ডার এ ইমেগ্রশন শেষ করুন এখানে ২০০ রুপি দিতে হবে,রানীগঞ্জ কিভাবে পৌচ্ছাবেন আগেই বলেছি। ভারতের সাইডে সকল কার্যক্রম শেষ হলে নেপালের কাকড়ভিটা বর্ডার ইমেগ্রেশন করুন এখানে আপনাকে দিতে হবে ৩০০ রুপি। এবার বর্ডার থেকে কিছু নেপালি রুপি করে নিন। নেপালের মুটামুটি সব জায়গায় ইন্ডিয়ান রুপি চলে কিছু কিছু জায়গা বাদে। আর ফিরে আসার সময় অবশ্যই কাকড়ভিটা বর্ডার থেকে নেপালি রুপি একচেঞ্জ করে ইন্ডিয়ান রুপি করে নিবেন, কারন ভারতে নেপালি রুপি চলে না। আরেকটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন ইন্ডিয়ান ট্রান্সিট ভিসা ১৫ দিনের জন্য দেয় হয় এবং এন্ট্রির ৭২ ঘন্টার মধ্যে ইন্ডিয়া থেকে বের হতে হবে সেম রিটার্ন ইন্ডিয়াতে ঢুকার সময় ৭২ ঘন্টার মধ্যে বের হতে হবে। না হয় প্রত্যেক দিনের জন্য বিপুল পরিমান অর্থ জরিমানা গুনতে হবে✋
আরেকটা বিষয় বাংলাদেশ বুড়িমারি বর্ডার ওপেন ও শেষ হয় সকাল ০৮-০৭ সন্ধ্যা পর্যন্ত চেংরাবান্দা ও সেম আর রানীগঞ্জ ও কাকড়ভিটা বর্ডার সকাল ০৬-০৬ সন্ধ্যা পর্যন্ত।
☑️কখন নেপাল ভ্রমন করবেন
নেপাল ভ্রমনের জন্য উত্তম সময় হচ্ছে অক্টোবর ও নভেম্বর এই সময় শীতের শুরু তাই আবহাওয়া ভাল থাকে আকাশ পরিস্কার থাকে। ডিসেম্বর - এপ্রিল পর্যন্ত শীতকাল এই সময় প্রচুর শীত থাকে বরফ পরে না হিমালয় রেঞ্জ ছাড়া। কিন্তু কোন কোন সময় তাপমাত্রা মাইনাস হয়ে যায় আর আর মে-সেপ্টেম্বর গ্রীস্ম ও বর্ষাকাল বৃষ্টিপাত ভূমি ধসের জন্য পাহাড়ি রাস্তা চলাচল এসময় রিস্ক ও প্রায় সময় বন্ধ থাকে।
☑️নেপালে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?
নেপালে ঘুরার মধ্যে প্রধান শহর হচ্ছে কাঠমুন্ড, পোখরা ও এভারেস্ট রেঞ্জ বেইজ ক্যাম্প তবে সবাই কাঠমুন্ড ও পোখরাতেই ঘুরে থাকে।
★কাঠমুন্ড🏞️
কাঠমুন্ড হলো নেপালের প্রধান শহর ও রাজধানী। গত কয়েক বছর আগে ভূমিকম্পের ফলে কাঠমুন্ডু সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে বেশ কিছু পর্যটন স্থাপনা ধংস হয়ে যায়। তবুও এখানে দেখার মত অনেক কিছু আছে।এর মধ্যে জনপ্রিয় কিছু জায়গা হলো 👉
* দরবার স্কায়ার
* পশুপতিনাথ
* সম্ভভুনাথ
* বোধনাথ
* শাঙ্কু
*এভারেস্ট ভিউ পয়েন্ট
*ভক্তপুর
*পাটান
* লুম্বিনী
*জনকপুর
* কিছু গুহা আছে নাম মনে নেই।
এই সকল জায়গা ঘুরার জন্য আপনে কাঠমুন্ডুর থামেল যা কাঠমুন্ডুর মিডেল পয়েন্ট।এখান থেকে ট্যাক্সি ও লোকাল ট্রান্সপোর্ট পেয়ে যাবেন।ভাড়া ট্যাক্সি সারাদিনের জন্য ১৫০০-২৫০০ নেপালি রুপি সিজেন ভেদে। লোকাল ট্রান্সপোর্ট সরকার নির্ধারিত ভাড়া এছাড়া কিছু জায়গা পায়ে হেটেই ঘুরতে পারবেন।এর পর কাঠমুন্ড ঘুরে পোখরা চলে যাবেন আর এজন্য আগের দিন টিকিট কেটে রাখতে হবে। পোখরা যাওয়ার জন্য কাটমুন্ডুর নিউ বাস পার্ক টার্মিনালে যেতে হবে সেখান থেকে পোখরাগামী বাসের টিকিট কেটে নিন ভাড়া ৫৫০-৬৫০ নেপালি রুপি সময় লাগবে ৮-৯ ঘন্টা শেষ বাস সকাল ৭ টায়।
★পোখরা⛰️
ছিমছাম গুছানো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শহর পোখরা। এখানে সাইট সিন এর জন্য গাড়ি ভাড়া নেবে সিজেন ভেদে ৩০০০-৫০০০ নেপালি রুপি। পোখরাতে কি কি দেখবেন?পোখরার
জনপ্রিয় কিছু জায়গা হলো
* সারেংকোট
* ফেওয়া লেক
* বিন্ধিয়া বাসনি টেম্পেল
* ডেভিস ফলস
* পিচ প্যাগোডা
* সানরাইস ভিউ পয়েন্ট
অপরুপ সুন্দর ফেওয়া লেকে ১ ঘন্টা বোটিং করতে আপনাকে গুনতে হবে ৫০০-৬৫০ নেপালি রুপি। পুরো নেপালে অনেক ট্রেভেল এজেন্সি আছে তবে চেষ্টা করবেন বাস টার্মিনাল থেকে টিকিট কাটার আর নিজে নিজে ঘুরতে না হলে যে হোটেল এ উঠবেন তাদের হেল্প নিতে পারেন। এর পর পোখরার পৃথিবী চত নামাক স্থান থেকে কাকড়ভিটাগামী বাস পেয়ে যাবেন ভাড়া নিবে ১৬০০-১৮০০ নেপালি রুপি সময় লাগবে ১২-১৪ ঘন্টা বাস ছাড়ার সময় বিকেল ৫ টা।
আপনে চাইলে পোখরা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে এভারেস্ট বেইজ ক্যাম্প যেতে পারেন এইজন্য আপনাকে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। আর এই বিষয় সাহায্য করার জনহ পোখরাতে অনেক এজন্সি রয়েছে।এই বিষয় আরেকদিন বিস্তারিত জানাবো✋
☑️এক্টিভিটিস
আপনে নেপালে বিভিন্ন জায়াগায় নানা রকম এক্টিভিটিস করতে পারেন এই ধরুন বোটিং, প্যারারাইডিং, জিপলিং, ট্রেকিং, রাফটিং আর এজন্য আপনাকে ৫০০-৩০০০ রুপি পর্যন্ত নেয়ালি রুপি খরচ করতে হবে✋
☑️নেপালে কোথায় থাকবেন✋
কাঠমুন্ডুর থামেলে প্রচুর হোটেল ও হোস্টেল রয়েছে যার মূল্য ৮০০-৩০০০ নেপালি রুপি পর্যন্ত, তবে বাজেট ট্রেভলার ৮০০-১৫০০ টাকায় ভাল হোটেল এ প্রতি রুম পেয়ে যাবেন। থাকতে পারবেন ২-৪ জন আর সলো ট্রাভলার হোস্টলে থাকতে পারবেন ৩০০-৫০০ নেপালি রুপি এর মধ্যে প্রতিজন। আর পোখরাতে হোটলে থাকতে পারবেন ৫০০-১৫০০নেপালি রুপি এর মধ্যে। সিঙ্গেলদের জন্য ৩০০-৫০০ নেপালি রুপি।
☑️কি খাবেনঃ
নেপাল একটি হিন্দুধর্মীয় রাষ্ট্র এখানে খাবারে থালির প্রচলন বেশি থালিতে মাছ/চিকেন, ভাত, সবজি, ডাল,চাটনি,পাপড় পাবেন। নেপালের সব জায়গায় ভাত, মাছ, চিকেন, ও বিভিন্ন মুসলিম খাবার পাবেন। থালি ১০০-২০০নেপালি রুপি এর মধ্য পেয়ে যাবেন। আর সকালের নাস্তা আলু পরটা, রুটি সবজি, ডাল পাবেন মূল্য ৫০- ১৫০নেপালি রুপি। অর্থাৎ প্রতিদিন একজনের খরচ পরবে ৩০০-৪০০ নেপালি রুপি।এছাড়া জনপ্রিয় খাবার মমো খেতে পারবেন সাথে চা, কফি পাবেন এখানে বিভিন্ন ফুলের পাতা থেকে তৈরি চা পাবেন।নেপালের খাওয়া খরচ তুলামূলক অনেক বেশি।
☑️কেনাকাটাঃ
নেপালে কেনাকাটার মত তেমন কিছুই নেই ( ব্যক্তিগত মতামত) তবে আপনে নেপালি ঐতিহ্যপূর্ন বিভিন্ন সুফেনিওর আনতে পারেন এছাড়া পোখরাতে কিছু সুন্দর সুন্দর হেন্ডিক্র্যাফট পাওয়া যায় তাও আনতে পারেন।
☑️কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রিপসঃ
★বাইরোডে নেপাল ভ্রমন করতে চাইলে এক্সট্রেম লেভেলের ট্রাভলার হতে হবে কারন আপনাকে প্রায় ২৮-৩০ ঘন্টা বাস ও রাস্তায় থাকতে হবে।
★পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে
নেপালে প্রচুর ঠান্ডা তাই ভাল গরম কাপড় সাথে রাখতে হবে।
★জ্বর, মাথা ব্যাথা, বমির ঔষধ, স্যালাইন, নেসেল ড্রপ সাথে রাখতে পারেন বিশেষ করে বমির ঔষধ কারন আঁকাবাঁকা পথে অনেকের এই প্রবলেম হয়ে থাকে। ★কাকড়ভিটা টু কাঠমুন্ড পাহাড়ি রাস্তা খুবই বিপদজনক সেটা মাথা রাখতে হবে ও মনোবল শক্ত রাখতে হবে।
★কাগজপত্র, পাসপোর্ট সাবধানে রাখতে হবে।
★নেপাল ইমেগ্রেশন এ ট্রান্সিট ভিসা ও ইডিয়া এন্ট্রি এক্সিট সিলের পাতা কপি চাইবে তাই ইন্ডিয়া এন্টির পর ফটোকপি করে নিতে হবে।
★পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমন এর সময় ড্রাক চকলেট বিস্কেট, বাদাম সাথে রাখতে পারেন।
★প্রচুর পানি পান করবেন।
★সব জায়গায় দামাদামি করবেন।
★স্থানীয়দের সাথে কোন ঝামেলায় জড়াবেন না।
★টাকা ও রুপি বর্ডার এ ভাঙ্গাবেন আর ডলার কাঠমুন্ড ভাঙ্গবেন রেট ভাল পাবেন।
★গ্রুপ করে যাওয়ার চেষ্টা করুন খরচ কমবে
★নেপালিদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখুন
★সিঙ্গেল টুর দিলে ঘুরার জন্য লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন খরচ অনেক কম হবে।
★নেপালের মানুষ হেল্পফুল জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে সব।
★টাকা পয়সা লেনদেনের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
★এন্টি এক্সিট এর ৭২ ঘন্টা কাজে লাগিয়ে দার্জিলিং বা শিলিগুড়ি একদিন ঘুরে আসতে পারেন।
☑️এবার আসুন দেখি পারপারসন খরচ কেমন হতে পারে✋
★খরচ
বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু
★টাকা হিসেব- বাস - ঢাকা টু চেংরাবান্দা ৬৫০ টাকা
রাস্তায় খাবার ১০০ টাকা
ভ্রমন টেক্স+উন্নয়ন ফি+স্পিডমানি ৬৪৫টাকা
সকালের নাস্তা ৫০টাকা
চেংরাবান্দা স্পিড মানি ১০০টাকা
★রুপি হিসেব
বাইবাস অটো ভাড়া+বাস ভাড়া পানির ট্যাংকি পর্যন্ত ১০০-১২০রুপি
ফটোকপি আনুশাঙ্গিক ২০-৫০ রুপি
রানীগঞ্জ বর্ডার ফি ২০০ রুপি
অটোভাড়া ১০ রুপি
কাকড়ভিটা ফি ৩০০ রুপি
★নেপালি রুপি হিসেব
কাকড়ভিটা খাবার ১৫০ নেপালি রুপি
বাস ভাড়া কাকেভিটা টু কাঠমুন্ড ১২০০ নেপালি রুপি
রাস্তায় খাওয়া ১৫০ নেপালি রুপি
কাঠমুন্ড দুইদিন থাকা খাওয়া ঘুরা আনুমানিক ২০০০ নেপালি রুপি।
পোখরা বাস ভাড়া ৫৫০ নেপালি রুপি
রাস্তায় খাওয়া ১০০ নেপালি রুপি
পোখরা দুইদিন থাকা খাওয়া ঘুরা ২৫০০ নেপালি রুপি।
পোখরা টু কাকড়ভিটা বাস ভাড়া ১৬০০ রুপি
রাস্তায় খাওয়া ১০০
কাকড়ভিটা টু চেংরাবান্দা টোটাল ভাড়া ১৫০ রুপি
রাস্তায় খাওয়া ১০০রুপি
বর্ডার টিপস ১০০ টাকা
বুড়িমারি টু ঢাকা ৬৫০ টাকা
রাস্তায় খাওয়া ১০০।
☑️মূদ্রার রেট অনুযায়ী টোটাল খরচ আসে বাংলা টাকা প্রায় ১৫৪০০ টাকার মত। এটা আমি বেশি বেশি ধরই আসছে।
মূদ্রা রেট নেপালি রুপি ১ = বাংলা ১.৩৮ টাকা
ইন্ডিয়ান রুপি ১ = বাংলা ১.২ ধরে।
তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে ১৪০০০ টাকার বেশি না যাওয়ার সম্ভবনা✋ গ্রুপে গেলে ১২০০০ টাকার বেশি লাগাবে না আশা করি👌
☑️কিছু প্রয়োজনীয় নাম্বার
পুলিশ( ইমার্জেন্সি) ১০০
টুরিষ্ট পুলিশ ৪২৪৭০৪১
ইমার্জেন্সি এম্বুলেন্স ১০২
ডিপার্টমেন্ট অফ ইমেগ্রেশন ৪২২৩৫০৯
নাইট টেক্সি ৪২২৪৩৭৪
☑️সর্বশেষ কিছু কথা✋
পৃথিবীটা আমাদেরেই তাই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর সুস্থ পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদেরই দায়িত্ব তাই পৃথিবীর যে প্রান্তে যেখানেই ঘুরতে যান না কেন পরিবেশের কথা মাথায় রাখবেন পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পরে এমন কাজ করবেন না 🙏🙏
লেখায় কোন ভুল হলে ও কোন ইনফরমেশন মিসিং বা ভুল হলে ক্ষমা🙏 সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ও কমেন্টস এ বলে দিবেন তাতে সবার উপকার হবে। লেখাটি ভাল লাগলে আপনার ট্রাভলার বন্ধু- রিলেটিভ এর সাথে শেয়ার করবেন তাতে একটু হলেও সবার উপকারে আসবে ✋
☑️ ব্যক্তিগত মতামত সড়কপথে নেপাল ভ্রমন জার্নি খুব কষ্টের আর ভূটানের মত সড়ক ভ্রমন আনন্দদায়ক না কারন ভূটানের মত ১% ভিউ পাবেন না। এই রাস্তায় ধূলাবালি ভাঙ্গা রাস্তা। তাই সব জেনে শুনে যাবেন✋