15/01/2026
উমরাহ করছেন কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা, ঊমরাহ পালনে সব থেকে বড় ইবাদত হলো পবিত্র কাবা তাওয়াফ করা। সেটা ঠিকমতো পালন না করে আমরা শপিং ও অন্য কাজে মনোনিবেশ করি।
ঊমরাহ পালনের সংক্ষিপ্ত নিয়ম নিচে দেয়া হল :
তাওয়াফ নিয়ম :
উমরাহ ফরজ দুটি :
১.ইহরাম বাধা বা পরিধান করা নিধারিত মীকাত থেকে।
২.আল্লাহর বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা।
ওয়াজিব দুটি :
১.সাফা মারওয়া সাঈ করা।
২.চুল মুন্ডন করা।
কাবা শরীফ তাওয়াফ করা ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এটি হজ ও উমরার প্রধান রুকন।
নিচে তাওয়াফ করার সঠিক নিয়ম ও পর্যায়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
১. প্রস্ততি ও নিয়ত:
পবিত্রতা:
তাওয়াফ করার জন্য শরীর ও কাপড় পবিত্র থাকা এবং ওজু থাকা জরুরি।
ইজতিবা (পুরুষদের জন্য):
যদি এটি এমন তাওয়াফ হয় যার পর সাঈ (সাফা-মারওয়া দৌড়ানো) আছে, তবে পুরুষরা তাদের ইহরামের চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের ওপর রাখবেন।
একে 'ইজতিবা' বলে।
নিয়ত:
মনে মনে তাওয়াফের নিয়ত করতে হবে (যেমন: হে আল্লাহ, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য উমরার তাওয়াফ করছি)।
২. শুরু করা (হাজরে আসওয়াদ থেকে)
শুরু করার স্থান:
তাওয়াফ শুরু হয় হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে। বর্তমানে মেঝেতে একটি সবুজ বাতি বা রেখা দিয়ে এই স্থানটি চিহ্নিত করা থাকে।
ইসতিলাম:
সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে চুম্বন করা।
ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে সেদিকে হাত উঁচিয়ে ইশারা করে
হাতে চুমু খাওয়া।
এটি করার সময় বলতে হয়:
"বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার" (আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান)।
৩. তাওয়াফ চলাকালীন করণীয়:
সাত চক্কর:
কাবা ঘরকে বাম দিকে রেখে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে মোট ৭ বার প্রদক্ষিণ করতে হবে।
রমল (পুরুষদের জন্য):
উমরা বা হজের প্রথম তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের বীরদর্পে দ্রুত পদক্ষেপে চলা সুন্নত।
বাকি চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হবে।
জিকির ও দোয়া:
তাওয়াফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই।
আপনি কুরআন তিলাওয়াত, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বা নিজের ভাষায় যেকোনো দোয়া করতে পারেন।
৪. রুকনে ইয়ামানি ও দোয়া:
কাবা ঘরের তৃতীয় কোণটিকে 'রুকনে ইয়ামানি' বলা হয়।
এটি অতিক্রম করার সময় সম্ভব হলে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন
(চুমু দেবেন না)।
রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত যাওয়ার সময় এই দোয়াটি পড়া সুন্নত:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
(উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া কিনা আজাবান নার)
৫. তাওয়াফ শেষ করা:
সাত চক্কর পূর্ণ হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে তাওয়াফ শেষ করুন।
ইজতিবা শেষ করা:
পুরুষরা তাদের ডান কাঁধ ঢেকে ফেলবেন।
৬. তাওয়াফ পরবর্তী আমল:
মাকামে ইব্রাহিম:
তাওয়াফ শেষ করে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে (জায়গা না পেলে হারামের যেকোনো স্থানে) দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করুন।
জমজমের পানি:
নামাজ শেষে তৃপ্তি সহকারে জমজমের পানি পান করা এবং
নিজের জন্য দোয়া করা মুস্তাহাব।
জরুরি মনে রাখুন:
তাওয়াফ অবস্থায় কথা বলা জায়েজ, তবে অপ্রয়োজনীয় কথা না বলাই উত্তম।
নারীদের জন্য রমল বা ইজতিবা করার প্রয়োজন নেই,
তারা স্বাভাবিকভাবে তাওয়াফ করবেন।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে কাবা ঘর সঠিকভাবে তাওয়াফ করার তৌফিক দান করুন।